"জৈন ধর্ম" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
কোনো কোনো গবেষক আরও দুটি শ্রেণী যুক্ত করেছেন: ‘পুণ্য’ (স্তবনীয়) ও ‘পাপ’ (স্তবের অযোগ্যতা)। এগুলি কর্মের সঙ্গে যুক্ত ক্রিয়া।
===স্যাদবাদ===
[[File:Mahavra 1900 art.jpg|thumb|মহাবীর জৈন দার্শনিক ধারণাগুলি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিস্তারিতভাবে ‘অনেকান্তবাদ’ ব্যবহার করেছিলেন ([[রাজস্থান|রাজস্থানের]] চিত্রকলা, ১৯০০ খ্রিস্টাব্দ)।]]
স্যাদবাদ হল [[অনেকান্তবাদ]] ধারণা থেকে উৎসারিত একটি মতবাদ। এই মতবাদে প্রতিটি শব্দবন্ধ বা অভিব্যক্তির শুরুতে ‘স্যাদ’ উপসর্গটি যুক্ত করে অনেকান্তকে ব্যাখ্যা করেছে।<ref>{{harvnb|Sangave|2006|p=48}}</ref> সংস্কৃত ভাষায় ‘স্যাদ্‌’ শব্দমূলটির অর্থ ‘হয়তো’। তবে স্যাদবাদের ক্ষেত্রে এই শব্দটির অর্থ ‘কোনো কোনো উপায়ে’ বা ‘কোনো কোনো মতে’। সত্য যেহেতু জটিল, তাই কোনো একক উপায়ে এটির পূর্ণ প্রকৃতিটিকে প্রকাশ করা যায় না। সেই কারণে একটি অনির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি বোঝাতে এবং বক্তব্যের মধ্যে থেকে রক্ষণশীলতাকে বাদ দিতে প্রতিটি অভিব্যক্তিমূলক শব্দের গোড়ায় ‘স্যাৎ’ কথাটি যুক্ত করা হয়েছে।<ref>{{harvnb|Koller|2000|pp=400–407}}</ref> স্যাদবাদের সাতটি অনির্দিষ্ট ধারণা বা [[সপ্তভঙ্গি]] হল:<ref name = "grimes">{{harvnb|Sangave|2006|pp=48–50}}</ref>
#''স্যাদ্‌-অস্তি''—কোনো কোনো উপায়ে, এটি আছে;
#''স্যাদ্‌-নাস্তি''—কোনো কোনো উপায়ে, এটি নেই;
#''স্যাদ্‌-অস্তি-নাস্তি''—কোনো কোনো উপায়ে, এটি আছে এবং এটি নেই;
#''স্যাদ্‌-অস্তি-অবক্তব্যঃ''—কোনো কোনো উপায়ে এটি আছে এবং এটি বর্ণনার অতীত;
#''স্যাদ্‌-নাস্তি-অবক্তব্যঃ''—কোনো কোনো উপায়ে এটি নেই এবং এটি বর্ণনার অতীত;
#''স্যাদ্‌-অস্তি-নাস্তি-অবক্তব্যঃ''—কোনো কোনো উপায়ে এটি আছে, এটি নেই এবং এটি বর্ণনার অতীত;
#''স্যাদ্‌-অবক্তব্যঃ''—কোনো কোনো উপায়ে এটি অবক্তব্য।
 
সাতটি অভিব্যক্তির মাধ্যমে সময়, স্থান, বস্তু ও আকারের দৃষ্টিকোণ থেকে সত্যের জটিল ও বহুমুখী প্রকৃতিটিকে প্রকাশ করা হয়েছে।<ref name="grimes" /> সত্যের জটিলতাকে অস্বীকার করা হল গোঁড়ামি-প্রসূত বিপথগামিতা।<ref name="kollerjurno"/>
 
স্যাদবাদ হল আংশিক দৃষ্টিভঙ্গির তত্ত্ব।<ref name="Grimes202">{{harvnb|Sangave|2006|pp=50–51}}</ref> ‘নয়বাদ’ কথাটি দুটি [[সংস্কৃত]] শব্দ নিয়ে গঠিত: ‘নয়’ (আংশিক দৃষ্টিভঙ্গি) ও ‘বাদ’ (দর্শন মতবাদ বা বিতর্ক)। এই মতে একটি দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায়। প্রতিটির বস্তুর অনন্ত দিক রয়েছে। কিন্তু যখন আমরা সেটি কোনো একটি মতের দৃষ্টিকোণ থেকে বর্ণনা করি, আমরা শুধুমাত্র সেই মতের সঙ্গে যুক্ত দিকগুলি নিয়েই আলোচনা করি এবং অন্যান্য দিকগুলি অগ্রাহ্য করি।<ref name="Grimes202" /> নয়বাদের মতে দার্শনিক বিবাদের উৎপত্তির কারণ দৃষ্টিভঙ্গির বিভ্রান্তি এবং আমরা সেই দৃষ্টিভঙ্গিগুলিই গ্রহণ করি যেগুলি ‘আমাদের অনুসরণের উদ্দেশ্যে সৃষ্টি’। আমরা হয়তো তা বুঝতে পারি না। ভাষা ও সত্যের জটিল প্রকৃতির বোধগম্যতার সীমাবদ্ধতার মধ্যে কথা বলতে গিয়ে মহাবীর নয়বাদের ভাষা ব্যবহার করেন। নয়বাদ সত্যের একটি আংশিক অভিপ্রকাশ। এটি আমাদের সত্যকে অংশ ধরে ধরে উপলব্ধি করতে সাহায্য করে।<ref>{{harvnb|Shah|1998b|p=80}}</ref>
 
অনেকান্তবাদে অধিকতর পোষাকিভাবে দেখানো হয়েছে যে, বস্তু তাদের গুণাবলি ও অস্তিত্বের ধরণ অনুসারে অনন্ত। মানুষের সীমাবদ্ধ ধারণাশক্তি দিয়ে তার সকল দিক ও সকল রূপের ধারণা করা যায় না। শুধুমাত্র কেবলবাদীরাই বস্তুর সকল দিক ও রূপের ধারণা করতে পারেন। অন্যরা শুধু আংশিক জ্ঞান অর্জন করতে পারে।<ref>{{harvnb|Jaini|1998|p=91}}</ref> এই মত অনুসারে, একজন মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি সর্বোচ্চ সত্যের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না।<ref name="Dundas2002"/>
 
===গুণস্থান===
==ইতিহাস==

পরিভ্রমণ বাছাইতালিকা