আবৃত্তি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

আবৃত্তি (ইংরেজি: Recitation) সাধারণ ধারণায় শ্রোতার সম্মুখে কোন কবিতা বা বক্তব্য ইত্যাদি আকর্ষনীয়ভাবে উপস্থাপন করার একটি শিল্প।[১][২] মূলত বাংলাদেশ, কলকাতা ও জাপান-এ আবৃত্তির চর্চা হয়ে থাকে।[৩]

আবৃত্তির সংজ্ঞা[সম্পাদনা]

সাহিত্য পদবাচ্যের (কবিতা এবং গদ্য) সামগ্রিক রূপকে কণ্ঠস্বরে যথাযথ প্রয়োগ ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ভাষায় প্রমিত উচ্চারণ অক্ষুণ্ণ রেখে বিষয়ে ধারণকৃত অনুভূতি, আবেগ, ভাব, গতি, বিরাম, ছন্দ ইত্যাদির সমন্বিত ও ব্যঞ্জনার প্রকাশই আবৃত্তি।[৪]

সর্ব শাসত্রানাং বোধাদপি গরীয়সী। যারা আবৃত্তি করবেন তারা এই কথাটি বেশির ভাগ লেখায় দেখে থাকবেন। আবৃত্তি বিষয়ে গবেষক রামচন্দ্র পাল দাবী করছেন ইদানিং এ কথাটি দিয়ে আবৃত্তিকাররা বোঝাতে চাইছেন যে শাস্ত্রের মধ্যে আবৃত্তি শাস্ত্র প্রধান। ধারনাটি বর্মের মত আবৃত্তিকারকে বাঁচাচ্ছে। এতে আত্মতৃপ্তি রয়েছে তবু এটি অনুসন্ধান যোগ্য। প্রবচন টি বাংলা করলে দাঁড়ায় সকল শাস্ত্রের মধ্যে বোধ অপেক্ষা আবৃত্তি শ্রেষ্ঠতর। এবারে দেখুন অধ্যাপক অসিত বন্দোপাধ্যায় কি বলছেন। তিনি বলছেন, সর্ব শাস্ত্রের মধ্যে একটা জিনিষ কে বোঝবার আগে আবৃত্তি করা দরকার, আবৃত্তিতে এর রূপ মূর্ত হবে। আবার এই কথাটিকে ব্যাখ্যা করলেন শ্রী গোবিন্দ গোপাল এই ভাবে যে প্রাচীণ কালে বেধ পাঠের ব্যাপার ছিল। অর্থের দিকে ততটা দৃষ্টি দেয়া হতো না। তাদের মত ছিল যথাযথভাবে উচ্চারণ করে আবৃত্তি বা পাঠ করলেই মন্ত্রের ফল পাওয়া যায়।

প্রায় তিন হাজার বছর পূর্বে আবৃত্তি শব্দটির একটি বিশেষ অর্থ ছিল। শব্দটির বুৎপত্তিগত অর্থ-বারংবার পাঠ। প্র, পরা, অপ, সম ইত্যাদি যে বিশটি উপসর্গ বাংলায় পাওয়া যায় "আ" তার একটি। "আ" মানে সম্যকভাবে বা সর্বতোভাবে। সেক্ষেত্রে আবৃত্তির প্রাচীন অর্থটা হয় এরকম- সম্যকভাবে বা সর্বতোভাবে যা পঠিত বা উচ্চারিত। বৈদিক ভাষা যখন রচিত হয়, তখন লেখার কোন পদ্ধতি আমাদের জানা ছিল না। বৈদিক কবিরা রচনা করতেন মুখে মুখে এবং সে রচনা কাগজে লিখে রাখবার মতোই ধরে রাখতেন মুখে মুখে, আবৃত্তির সাহায্যে। বৈদিক সাহিত্য আবৃত্তির মাধ্যমে যুগে যুগে বাহিত হবার আরো একটি কারণ ছিল। এ প্রসঙ্গে সুকুমার সেন বলেন- "সে হল লেখাপড়ার চেয়ে আবৃত্তির উৎকর্ষ। লেখাতে ভাষার সবটুকু ধরা পরে না। না কন্ঠস্বর, না সুরের টান, না ঝোঁক। কিন্তু আবৃত্তিতে এসবই যথাযথ বজায় থাকে।"

আবৃত্তির উপাদান[সম্পাদনা]

  1. বিষয়বস্তু (কবিতা, গল্প, গল্পাংশ, সাহিত্য মান সমৃদ্ধ চিঠি, প্রবন্ধ, নাট্যাংশ, বিখ্যাত কোন ভাষণ ইত্যাদি)
  2. প্রমিত উচ্চারণ
  3. পাঠের গতি
  4. স্বচ্ছতা
  5. শ্বাসাঘাত
  6. স্বর প্রক্ষেপণ
  7. গড় গতি
  8. বিরতি
  9. ভাব, অনুভূতি, আবেগ
  10. অণুরণন
  11. স্বর বৈচিত্র্য
  12. স্বর বর্ণভেদ
  13. আবৃত্তির কবিতা
  14. ধ্বনি
  15. ছন্দ

আবৃত্তির ধরন[সম্পাদনা]

দুই ধরনের আবৃত্তি প্রচলিত রয়েছে

  • ১ আবৃত্তি অনুষ্ঠান
  • ২ আবৃত্তি প্রযোজনা

উল্লেখিত দুটি ধরনের মধ্যে আবৃত্তি প্রযোজনা কে অধিকতর শিল্প সম্ভাবনাময় মনে করা হয়।।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. recitation. CollinsDictionary.com. "Collins English Dictionary" - Complete & Unabridged 11th Edition. Retrieved December 07, 2012.
  2. "Recitation" in Collins Cobuild Advanced Learner’s English Dictionary. New Digital Edition 2008 © HarperCollins Publishers 2008
  3. দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, অমিয় চট্টোপাধ্যায় "বিষয়ঃআবৃত্তি " [[[আন্তর্জাতিক মান পুস্তক সংখ্যা|আইএসবিএন]] ৮১-৭০৭৯-২৮৮-৬], দে'জ পাবলিশিং, কলকাতা, ১৯৯১, ৫৫-৫৯.
  4. নীরদবরণ হাজরা"[[[আন্তর্জাতিক মান পুস্তক সংখ্যা|আইএসবিএন]] ৮১-৭০৭৯-২৮৮-৬]." আবৃত্তিকোষ, দে'জ পাবলিশিং, কলকাতা, ১৯৯৭, ২-৪.