নিখিল চোপড়া

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
নিখিল চোপড়া
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামনিখিল চোপড়া
জন্ম (1973-12-26) ২৬ ডিসেম্বর ১৯৭৩ (বয়স ৪৭)
এলাহাবাদ, উত্তরপ্রদেশ, ভারত
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি অফ ব্রেক
ভূমিকাবোলার, ধারাভাষ্যকার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
একমাত্র টেস্ট
(ক্যাপ ২২৭)
২ মার্চ ২০০০ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ১১৬)
২৮ মে ১৯৯৮ বনাম কেনিয়া
শেষ ওডিআই১ জুন ২০০০ বনাম শ্রীলঙ্কা
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ৩৯ ৬১ ৮৮
রানের সংখ্যা ৩১০ ১৯৪০ ৭৬০
ব্যাটিং গড় ৩.৫০ ১৫.৫০ ২৭.৭১ ১৭.২৭
১০০/৫০ ০/০ -/১ ১/১১ -/২
সর্বোচ্চ রান ৬১ ১৩২* ৬১
বল করেছে ১৪৪ ১৮৩৫ ১২৬০৪ ৪৪২৪
উইকেট ৪৬ ১৫১ ১০১
বোলিং গড় ২৭.৯৫ ৩৫.০০ ৩০.৭১
ইনিংসে ৫ উইকেট -
ম্যাচে ১০ উইকেট - - - -
সেরা বোলিং - ৫/২১ ৭/৬৬ ৫/১০
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং -/– ১৬/– ৩০/– ৩৭/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৮ অক্টোবর ২০২০

নিখিল চোপড়া (এই শব্দ সম্পর্কেউচ্চারণ ; হিন্দি: निखिल चोपड़ा; জন্ম: ১৯ আগস্ট, ১৯৭৩) উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক ভারতীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। ভারত ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৯০-এর দশকের শেষদিকে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।[১][২][৩]

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশ দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতে অফ ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন তিনি।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৯৩-৯৪ মৌসুম থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত নিখিল চোপড়া’র প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। একদিনের আন্তর্জাতিকে সবিশেষ দক্ষ ছিলেন নিখিল চোপড়া। ভারতের সাবেক অফ-স্পিনার হিসেবে একটিমাত্র টেস্টে অংশ নেয়ার পাশাপাশি ৩৯টি একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশ নিয়েছেন। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ক্রিকেট বিশ্বকাপের তৃতীয় আসরে ভারত দলের সদস্য ছিলেন। সীমিত ওভারে ভালোমানের বোলিং করার পাশাপাশি নিচেরসারির কার্যকরী ব্যাটসম্যান ছিলেন।

ইনিংসের শেষদিকে মারমুখী ভঙ্গীমা ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি দ্রুতলয়ে রান সংগ্রহে সবিশেষ তৎপরতা প্রদর্শন করতেন। অংশগ্রহণকৃত ২৬টি ওডিআই ইনিংসে ১৫.৫০ গড়ে ৩১০ রান সংগ্রহ করেছেন। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ করেছেন ৬১ রান। বলের উপর বেশ নিয়ন্ত্রণ রেখে নির্দিষ্ট নিশানা বরাবর বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। বৈচিত্রমূখী বোলিংয়ে পারদর্শী হলেও বড় ধরনের খেলায় তেমন সফল হননি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে একটিমাত্র টেস্ট ও ঊনচল্লিশটি একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশগ্রহণ করেছেন নিখিল চোপড়া। ২ মার্চ, ২০০০ তারিখে বেঙ্গালুরুতে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। এটিই তার একমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল। এরপর আর তাকে কোন টেস্টে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়নি। অন্যদিকে, ২৮ মে, ১৯৯৮ তারিখে গোয়ালিয়রে সফরকারী কেনিয়া দলের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিকে অভিষেক ঘটে তার। ১ জুন, ২০০০ তারিখে ঢাকায় শ্রীলঙ্কা দলের বিপক্ষে সর্বশেষ ওডিআইয়ে অংশ নেন তিনি।

সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দলের প্রথম পছন্দের স্পিনার হিসেবে ভারত দলে যুক্ত ছিলেন। তার বোলিংয়ে আক্রমণাত্মক ভাব বজায় থাকতো। টেস্টের তুলনায় একদিনের আন্তর্জাতিকেই তার সপ্রতিভ পদচারণা ছিল। ১৯৯৯ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতায় ভারত দলের পক্ষে খেলেছেন।

২০০০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ২৪ ওভার বোলিং করলেও ৭৮ রান খরচ করে কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। সবমিলিয়ে সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ৪৬টি ওডিআই উইকেট পেয়েছেন। ১৯৯৯ সালে টরন্টোয় তৃতীয় ওডিআইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেরা বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। ৫/২১ লাভ করে ভারতের সংগৃহীত ২২৫ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় অগ্রসর হওয়া প্রতিপক্ষকে ১৩৭ রানে গুটিয়ে দেন।

১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে তার খেলায় ছন্দ পতন লক্ষ্য করা যায়। নয়টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়ে তিনি কেবলমাত্র ১০ উইকেট সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। ২০০০ সালের এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বশেষ অংশ নেন। ঐ খেলায় ভারত দল পরাজিত হয় ও তাকে দলের বাইরে রাখা হয়।

অবসর[সম্পাদনা]

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর টেলিভিশনে ক্রিকেট বিশ্লেষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ইএসপিএন-স্টারের ক্রিকেট ক্রেজি, টাইমড আউট ও ক্রিকেট এক্সট্রায় নিয়মিতভাবে অতিথি হিসেবে অংশ নিচ্ছেন। বর্তমানে তিনি আজতক এন্ড ইন্ডিয়া টুডে’র পক্ষে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়াও, ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন তিনি।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. List of India Test Cricketers
  2. "India – Test Batting Averages"। ESPNCricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৮ অক্টোবর ২০২০ 
  3. "India – Test Bowling Averages"। ESPNCricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৮ অক্টোবর ২০২০ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]