ডেরেক শ্যাকলটন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ডেরেক শ্যাকলটন
ডেরেক শ্যাকলটন.jpg
১৯৬৫ সালের গৃহীত স্থিরচিত্রে ডেরেক শ্যাকলটন
ব্যক্তিগত তথ্য
জন্ম(১৯২৪-০৮-১২)১২ আগস্ট ১৯২৪
টডমর্ডেন, ইয়র্কশায়ার, ইংল্যান্ড
মৃত্যু২৮ সেপ্টেম্বর ২০০৭(2007-09-28) (বয়স ৮৩)
ক্যানফোর্ড ম্যাগনা, ডরসেট, ইংল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি মিডিয়াম
ভূমিকাবোলার
সম্পর্কজুলিয়ান শ্যাকলটন (পুত্র)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৩৫০)
২০ জুলাই ১৯৫০ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
শেষ টেস্ট২২ আগস্ট ১৯৬৩ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৪৮–১৯৬৯হ্যাম্পশায়ার
১৯৫০–১৯৫৭মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব
১৯৭৩ডরসেট
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ৬৪৭ ৩৭
রানের সংখ্যা ১১৩ ৯,৫৭৪ ১০৪
ব্যাটিং গড় ১৮.৮৩ ১৪.৬১ ১৩.০০
১০০/৫০ –/– –/২০ –/–
সর্বোচ্চ রান ৪২ ৮৭* ২০
বল করেছে ২,০৭৮ ১৫৯,০৪৩ ২,০৭০
উইকেট ১৮ ২,৮৫৭ ৪১
বোলিং গড় ৪২.৬৬ ১৮.৬৫ ২১.২৬
ইনিংসে ৫ উইকেট ১৯৪
ম্যাচে ১০ উইকেট ৩৮
সেরা বোলিং ৪/৭২ ৯/৩০ ৪/১১
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১/– ২২১/– ৯/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ডেরেক শ্যাকলটন (ইংরেজি: Derek Shackleton; জন্ম: ১২ আগস্ট, ১৯২৪ - মৃত্যু: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০০৭) ইয়র্কশায়ারের টডমর্ডেন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা ছিলেন।[১] ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৫০ থেকে ১৯৬৩ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে হ্যাম্পশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি মিডিয়াম বোলার হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে পারদর্শী ছিলেন।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

ইংল্যান্ডের ল্যাঙ্কাশায়ার ও ইয়র্কশায়ারের সীমানায় অবস্থিত টডমর্ডেন এলাকায় ডেরেক শ্যাকলটনের জন্ম। পিতা-মাতা উভয়েই তাঁতী ছিলেন। রুমফিল্ড স্কুলে ভর্তি হন। সেখানেই ক্রিকেটফুটবল খেলায় অংশ নিতেন তিনি।

ইয়র্কশায়ারে খেলোয়াড়ী জীবন শুরু করেন। ল্যাঙ্কাশায়ার লীগে অল-রাউন্ডার হিসেবে মিডিয়াম পেস বোলিং করতেন। তবে, লেগ স্পিনের দিকেই মনোনিবেশ ঘটানোর সিদ্ধান্ত নেন। এছাড়াও, বার্নলে এফ.সি’র পক্ষে গোলরক্ষক হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। ১৯৪২ সালে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। পাইওনিয়ার কোরের সদস্য হিসেবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এ সময় সার্ভিসেস দলের সদস্যরূপে ক্রিকেট ও ফুটবল খেলতেন।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৪৮ থেকে ১৯৬৯ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর কাউন্টি ক্রিকেটে হ্যাম্পশায়ারের পক্ষে ৫৮৩ খেলায় অংশ নিয়েছেন। এ পর্যায়ে ২,৬৬৯টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট লাভ করেছেন যা অদ্যাবধি হ্যাম্পশায়ার ক্রিকেট ক্লাবের রেকর্ডরূপে চিহ্নিত হয়ে আছে। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে উপর্যুপরী ২০ মৌসুম শতাধিক উইকেট লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করেছেন ডেরেক শ্যাকলটন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ডেরেক শ্যাকলটন হ্যাম্পশায়ার দলের অসাধারণ বোলিং মেরুদণ্ডের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছিলেন ভিক্টর ক্যানিংস। তবে, ১৯৫৫ সালের পূর্ব-পর্যন্ত তারা দলের ভাগ্য পরিবর্তনে প্রয়োজনীয় সহায়তার হাত প্রসারিত করতে পারেননি। ১৯৫৫ সালে দলটি নিজেদের ইতিহাসের তৎকালীন সর্বোচ্চ তৃতীয় স্থান অধিকার করে। এ পর্যায়ে ড্যারেক শ্যাকলটন ১৬০ উইকেটসহ ভিক্টর ক্যানিংস ও পিটার সেইন্সবারির শতাধিক উইকেটের পাশাপাশি রয় মার্শালের ন্যায় কয়েকজন ব্যাটসম্যান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

যুদ্ধের পর ১৯৪৮ সালে হ্যাম্পশায়ারের কোচ স্যাম স্ট্যাপলসের সুনজরে পড়েন ও হ্যাম্পশায়ারের পক্ষে খেলার জন্য চুক্তিনামায় স্বাক্ষর করেন তিনি। ব্যাটসম্যান হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হলেও পরবর্তীতে পেস বোলিংয়ের দিকে ধাবিত হন। প্রথম মৌসুমে খুব কমই যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন। তবে, ১৯৪৯ সালে অনুপযোগী পিচ থাকা স্বত্ত্বেও হ্যাম্পশায়ারের প্রধান আক্রমণ পরিচালনকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ১৯৪৯ থেকে ১৯৬৮ সালে অবসর গ্রহণের পূর্ব-পর্যন্ত উপর্যুপরী ২০ মৌসুমে শতাধিক উইকেট লাভে সবিশেষ দক্ষতা প্রদর্শন করেন।[১] কেবলমাত্র উইল্ফ রোডসই সর্বাধিক ২৩ মৌসুম শতাধিক উইকেট লাভের দৃষ্টান্ত গড়েন; তবে তা ধারাবাহিকভাবে ছিল না।[১]

প্রথম মৌসুমে ব্যাটসম্যান হিসেবে সহস্র রান সংগ্রহের ন্যায় মাইলফলকের কাছাকাছি অবস্থানে ছিলেন। কিন্তু, ১৯৫০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করায় তা আর সম্ভব হয়ে উঠেনি। ১৯৪৯ সালে কাউন্টি ক্যাপ লাভ করেন। তার কাউন্টি রেকর্ড উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ হচ্ছিল। ১৯৫৩ সালে ২০.৪৬ গড়ে ১৫০ উইকেট পান। ১৯৫৫ সালে ১৫৯টি ও ১৯৫৮ সালে ১৬৫ উইকেট পেয়েছিলেন ডেরেক শ্যাকলটন। তন্মধ্যে, ১৯৫৫ সালে অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেন। ওয়েস্টন-সুপার-মেয়ারে সমারসেটের বিপক্ষে খেলায় ১৪/২৯ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান। প্রথম ইনিংসে তিনি ৮/৪ পেয়েছিলেন ও দ্বিতীয় ইনিংসে পেয়েছেন ৬/২৫।

চার রানের বিনিময়ে আট উইকেট প্রাপ্তি বিংশ শতাব্দীতে কাউন্টি ক্রিকেটে সর্বাপেক্ষা স্মরণীয় বোলিং পরিসংখ্যানরূপে বিবেচিত হয়ে আসছে।[১] ঘরোয়া ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননায় ভূষিত হন তিনি।

১৯৫৮ সালে দলকে দ্বিতীয় স্থানে উপনীত করেন। ভিক্টর ক্যানিংসের পরিবর্তে ম্যালকম হিথ ডেরেক শ্যাকলটনের সাথে বোলিং জুটি হন। ১৯৬০ সালে পোর্টসমাউথে ওয়ারউইকশায়ারের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন ৯/৩০। ওয়ারউইকশায়ারের সংগ্রহ ১৯৬/৪ থাকা অবস্থায় খেলা ড্র হবার ৪৫ মিনিট পূর্বে দলীয় অধিনায়ক কলিন ইঙ্গলবি-ম্যাকেঞ্জি বোলিং করার জন্য ডেরেক শ্যাকলটনকে আমন্ত্রণ জানান। নতুন বলে চার রান দিলেও পরবর্তী ২৬ বলে কোন রান না দিয়ে ৬ উইকেট তুলে নেন। ইনিংসে তিনি আরও তিনবার নয় উইকেট পেয়েছিলেন। এছাড়াও, ১৯৫০ সালে লিচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে নয় বলের ব্যবধানে পাঁচ উইকেট লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করেছেন। তবে, হ্যাট্রিক লাভের সৌভাগ্য হয়নি তার।

পরের বছরগুলোয় ডেরেক শ্যাকলটন কাজের চাপ বাড়িয়ে দিয়ে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান। দুই বছর ব্যর্থ হলেও ১৯৬১ সালে হ্যাম্পশায়ারকে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের পরম আকাঙ্খিত শিরোপার সন্ধান দেন। ১৯৬১ সালের শুষ্ক গ্রীষ্মে ৯,০০০-এর অধিক বল করেন। ঐ বছরেই হ্যাম্পশায়ার দল প্রথমবারের মতো কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা লাভ করে। ১৯৬২ সালে সর্বশেষ বোলার হিসেবে এক মৌসুমে ১০,০০০ বল করেছেন।

২০০৭ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে উইকেট লাভের দিক দিয়ে সপ্তম স্থানে অবস্থান করছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর খেলোয়াড়ী জীবন শুরু করে সর্বাধিক প্রথম-শ্রেণীর উইকেট লাভ করেছেন তিনি। এছাড়াও, হ্যাম্পশায়ারের খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়ে সর্বাধিক উইকেট লাভের রেকর্ড নিজের করে রেখেছেন তিনি। জে. টি. হার্নমরিস টেটের পর তৃতীয় পেসার হিসেবে এ কৃতিত্ব গড়েন। এছাড়াও, ১৭২ উইকেট পেয়েছিলেন তিনি।

টেস্ট ক্রিকেট[সম্পাদনা]

প্রায় চৌদ্দ বছর টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করলেও মাত্র সাত টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন তিনি। ২০ জুলাই, ১৯৫০ তারিখে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক ঘটে ডেরেক শ্যাকলটনের।

ঘরোয়া ক্রিকেটে শ্যাকলটনের প্রতিভা খুব দ্রুত বিচ্ছুরিত হয়ে পড়ে ও ১৯৫০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টেস্ট ক্রিকেট খেলার সুযোগ পান। পিচ নিস্তেজ থাকায় ও ব্যাটসম্যানদের মারমুখীতায় শ্যাকলটন খুব কমই সফলতা পান। অভিষেক খেলায় ফ্রাঙ্ক ওরেল দ্বি-শতক ও এভারটন উইকস শতরান করেন। এছাড়াও, একমাত্র অ্যাশেজ সিরিজে অংশগ্রহণেরও সুযোগ হাতছাড়া করেন তিনি। ১৯৫১ সালে আরও একটি সফলতম মৌসুম অতিবাহিত করার পর ভারত গমনের সুযোগ পান। ১৯৫১-৫২ মৌসুমের ঐ ভারত সফরে নিখুঁত বোলিং করলেও ধীরগতির ভারতীয় টার্ফ উইকেটে সুবিধা আদায় করতে ব্যর্থ হন।

প্রথমে অ্যালেক বেডসার এবং পরবর্তীতে ফ্রেড ট্রুম্যান, ব্রায়ান স্ট্যাদামফ্রাঙ্ক টাইসনের পেস বোলিংয়ে ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণ পরিচালিত হলে শ্যাকলটনকে টেস্ট অঙ্গনে পুণরায় অংশগ্রহণের জন্য এক দশকের অধিক সময় অপেক্ষা করতে হয়েছিল।[১] ১৯৬৩ সালে কাউন্টি ক্রিকেটে তিনি তার খেলার ধারা অব্যাহত রাখেন। ফলশ্রুতিতে, আশ্চর্য্যজনকভাবে টেস্ট দলে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। লর্ডসে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ট্রুম্যানের সহযোদ্ধা হিসেবে খেলেন। এ খেলায় চার বলে তিন উইকেট লাভ করেন তিনি। খেলায় তিনি ১৬৫ রান দিয়ে ৭ উইকেট দখল করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন। জয়ের জন্য তখন দুই বলে ছয় রানের দরকার ছিল। কলিন কাউড্রে ভাঙ্গা হাত নিয়ে ব্যাট হাতে ফিরে আসেন ও ডেভিড অ্যালেন শেষ দুই বল আটকিয়ে খেলাটিকে ড্রয়ের দিকে নিয়ে যান।

তৃতীয় টেস্টে অস্থির স্বভাবের ট্রুম্যানকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতেন ডেরেক শ্যাকলটন। কিন্তু শেষ দুই খেলায় তুলনামূলকভাবে বেশ অকার্যকর ছিল তার বোলিং। ফলশ্রুতিতে, ইংল্যান্ড দলের পক্ষে আর তাকে খেলানো হয়নি।[১]

অবসর[সম্পাদনা]

১৯৬২ থেকে ১৯৬৫ সালের মধ্যে সবগুলো বছরেই ডেরেক শ্যাকলটন শীর্ষস্থানীয় প্রথম-শ্রেণীর উইকেট সংগ্রাহক ছিলেন। তবে, সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তার বোলিং বেশ অকার্যকর ছিল। তাস্বত্ত্বেও, ১৯৬৮ সালে অবসর গ্রহণের পূর্ব-পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে বেশ মিতব্যয়ী বোলিং করেছিলেন। অদ্যাবধি কাউন্টি দলের পক্ষে উইকেট লাভের দিক দিয়ে শীর্ষ দশে অবস্থান করছেন।

১৯৬৯ ও ১৯৭০ সালে কয়েকটি সীমিত ওভারের খেলায় অংশ নেন। এরপর কয়েক বছর ডরসেটের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৭৩ সালে জিলেট কাপে তিনি তার দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। ২০০৭ সাল পর্যন্ত উইলফ রোডস, টিচ ফ্রিম্যান, চার্লি পার্কার, জ্যাক হার্ন, টম গডার্ডঅ্যালেক কেনেডি’র পর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সপ্তম সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক ছিলেন।

মূল্যায়ন[সম্পাদনা]

বিখ্যাত ক্রিকেট লেখক কলিন বেটম্যান তার সম্পর্কে মূল্যায়ণ করেছেন যে, তার বোলিং অনেকাংশেই তার চুলের মতো যা সদা-সর্বদা পরিপাটি ছিল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পুরো খেলোয়াড়ী জীবন পূর্ণ করা খেলোয়াড়দের মধ্যে তিনি সর্বাধিক প্রথম-শ্রেণীর উইকেট লাভকারী ছিলেন।[২] মিতব্যয়ী বোলার হিসেবেও তার সুনাম রয়েছে। বোলিংকৃত ওভারগুলোর ৩৫% মেইডেন ছিল ও ওভারপ্রতি তিনি মাত্র দুই রান প্রদান করেছেন।

অধিকাংশ সময়ই ইন-সুইঙ্গার মারতেন। মাঝেমধ্যে আউট-সুইঙ্গারও এর অংশ ছিল। উভয় ক্ষেত্রেই বল দেরীতে ঘুরতো। ধ্রুপদী উচ্চতা ও মসৃণতায় উভয়দিকের বোলিং ভঙ্গীমায় বিদ্যমান ছিল। লেগ কাটার, ইয়র্কার সহযোগে অফের দিকে সিম বোলিং করতেন ও ধীরগতির বলে অফ স্পিন করতেন। বিস্ময়করভাবে নিখুঁতভাবে বোলিং করতেন। কোন কারণে ব্যাটসম্যান বল মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হলে স্ট্যাম্পে আঘাত হানতো। ফলশ্রুতিতে, প্রাপ্ত উইকেটগুলোর অধিকাংশই ছিল বোল্ড নতুবা এলবিডব্লিউ। সারাদিন ধরেই বোলিং করতেন।

জন আরলট তার সম্পর্কে মন্তব্য করেন যে, ইংরেজ পরিবেশে বোলিংয়ের আধুনিক শিক্ষক ছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

ক্রিকেট খেলা থেকে দূরে থাকার পর শ্যাকলটন কোচআম্পায়ার হিসেবে বেশ কয়েক মৌসুম অংশগ্রহণ করেছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ফার্নডাউন এলাকায় বসবাস করতেন তিনি। এ সময় ডরসেটের ক্যানফোর্ড স্কুলের কোচ ও মাঠকর্মীর দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও, ১৯৭৯ থেকে ১৯৮২ সময়কালে বেশ কয়েকটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় আম্পায়ারের দায়িত্বে ছিলেন। অবশেষে ১৯৯০ সালে অবসর গ্রহণ করেন। ১৯৯৪ সালে মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) সম্মানীয় সদস্যের মর্যাদা লাভ করেছিলেন।

১৯৫১ সালে ক্যাথি নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন ডেরেক শ্যাকলটন। ক্যাথিও টডমর্ডেন এলাকায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। এ দম্পতির এক পুত্র ও এক কন্যা ছিল। তার পুত্র জুলিয়ান শ্যাকলটন প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ারের পক্ষে অংশগ্রহণ করেছেন।

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০০৭ তারিখে ডরসেটের ক্যানফোর্ড ম্যাগনা এলাকায় ৮৩ বছর বয়সে ডেরেক শ্যাকলটনের দেহাবসান ঘটে। তার পূর্বেই তদ্বীয় পত্নী ক্যাথি’র দেহাবসান ঘটেছিল।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Bateman, Colin (১৯৯৩)। If The Cap Fits। Tony Williams Publications। পৃষ্ঠা 145। আইএসবিএন 1-869833-21-X 
  2. Cricinfo.com

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]


আরও পড়ুন[সম্পাদনা]