স্যাম স্ট্যাপলস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
স্যাম স্ট্যাপলস
স্যাম স্ট্যাপলস.jpg
আনুমানিক ১৯২৮ সালের গৃহীত স্থিরচিত্রে স্যাম স্ট্যাপলস
ক্রিকেট তথ্য
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি অফ ব্রেক
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ২৩২)
২১ জানুয়ারি ১৯২৮ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
শেষ টেস্ট৪ ফেব্রুয়ারি ১৯২৮ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৩৮৫
রানের সংখ্যা ৬৫ ৬৪৭০
ব্যাটিং গড় ১৩.০০ ১৭.০২
১০০/৫০ -/- ১/১৯
সর্বোচ্চ রান ৩৯ ১১০
বল করেছে ১১৪৯ ৭৫৬০৯
উইকেট ১৫ ১৩৩১
বোলিং গড় ২৯.০০ ২২.৮৫
ইনিংসে ৫ উইকেট ৭২
ম্যাচে ১০ উইকেট ১১
সেরা বোলিং ৩/৫০ ৯/১৪১
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং -/- ৩৩৫/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৯ এপ্রিল ২০১৯

স্যামুয়েল জেমস স্ট্যাপলস (ইংরেজি: Sam Staples; জন্ম: ১৮ সেপ্টেম্বর, ১৮৯২ - মৃত্যু: ৪ জুন, ১৯৫০) নটিংহ্যামশায়ারের নিউস্টিড কোলিয়েরিতে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা ছিলেন। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি।[১] ১৯২৮ সময়কালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি অফ ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং করতেন স্যাম স্ট্যাপলস

কাউন্টি ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সেপ্টেম্বর, ১৮৯২ সালে নটিংহ্যামশায়ারের নিউস্টিড কোলিয়েরিতে স্যাম স্ট্যাপলসের জন্ম। ১৯২০-এর দশক থেকে শুরু করে ১৯৩০-এর দশকের শুরুরদিক পর্যন্ত নটিংহ্যামশায়ারের পক্ষে নিয়মিতভাবে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলেছেন। নটিংহ্যামশায়ারের সংরক্ষিত বোলার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তাঁর নিখুঁতধর্মী মিডিয়াম পেস বোলিং ১৯২০-এর দশকে দলের অগ্রযাত্রায় ব্যাপক ভূমিকায় রাখে। গতিদানব হ্যারল্ড লারউড ও শারীরিকভাবে স্পর্শকাতরতায় ভোগা টিচ রিচমন্ডকে আরও কার্যকর করে তুলতে বোলিংয়ের মাধ্যমে চাপ কমিয়ে দিতেন। মাঝে-মধ্যেই অফ ব্রেক বোলিং থেকে রাউন্ড দি উইকেট পর্যায়ের বোলিং করে প্রতিপক্ষীয় ব্যাটম্যানদেরকে বিভ্রান্তিতে ফেলে দিতেন ও তাঁর বল মোকাবেলা করা বেশ দুষ্কর ছিল। বোলারদের উপযোগী গ্রীষ্মেও ব্যতিক্রমধর্মী গড়ে উইকেট পেয়েছেন। তাসত্ত্বেও নটিংহ্যামশায়ারের বোলিং বিভাগে তাঁর অবদানে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত।

১৯২০ সালে নটিংহ্যামশায়ারের পক্ষে প্রথম খেলতে নামেন। ওভালে শক্তিধর সারের বিপক্ষে ৬/৮১ বোলিং পরিসংখ্যান গড়লেও খুব কমই সফলতা পেয়েছিলেন। এ জাতীয় সফলতা প্রাপ্তি খুব কম ছিল। অবশেষে ১৯২১ সালে দলের স্থায়ী সদস্যের মর্যাদা লাভে সক্ষমতা দেখান। ৭৬ উইকেট পেলেও বর্ণাঢ্যময় খেলোয়াড়ী জীবনে যথেষ্ট প্রভাবের কথা বলা হয়েছিল। তাসত্ত্বেও, ১৯২২ সালে এক পর্যায়ে বেশ ভালো বোলিং করেন। দ্রুততার সাথে চার উইকেট লাভের মাধ্যমে ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে নাটকীয়ভাবে দলকে জয় এনে দিয়েছিলেন তিনি। শেষ উইকেটে রিচমন্ডের সাথে ১৪০ রানের জুটি গড়েন। এ সময়ে তিনি ৮৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। এরফলে ইয়র্কশায়ার দলকে চ্যাম্পিয়নশীপের খেলায় ঐ মৌসুমে একমাত্র পরাজয়ের স্বাদ গ্রহণ করতে হয়েছিল ও শত উইকেট লাভের দোরগোড়ায় উপনীত হয়েছিলেন তিনি। তবে, ১৯২৩ সালের পূর্ব-পর্যন্ত দলে তেমন একটা ভূমিকা রাখতে পারেননি। আগস্ট ব্যাংক হলিডের খেলায় সারের বিপক্ষে ১১০ রানের ইনিংস খেললে সকলে বিস্ময়াভিভূত হয়ে পড়েন।

১৯২৪ সালের গ্রীষ্মে অত্যন্ত উইকেট উপযোগী পিচেও স্ট্যাপলসের গড় উইকেট প্রতি ২৩ রানে চলে যায়। তাসত্ত্বেও, ১৯২৫ সালে নটিংহ্যামশায়ারের অন্যান্য বোলার - রিচমন্ড, লারউড ও বারাটের তুলনায় বেশ উচ্চ গড়ে পৌঁছে। বোলিংয়ের ভার স্কন্ধে নেয়ায় দলের সফলতার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন তিনি। এ ধারাটি ১৯২৬ সাল পর্যন্ত বহমান রাখেন। ঐ মৌসুমে ১১৩ উইকেট পান স্যাম স্ট্যাপলস। ১৯২৭ সালে পূর্বকার খেলাগুলোয় জয়বিহীন অবস্থায় থাকা গ্ল্যামারগনের কাছে স্মরণীয় পরাজয়ের ফলে চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা থেকে বঞ্চিত হয় তাঁর দল। ১৩২ উইকেট নিয়ে নিজস্ব সেরা মৌসুম অতিবাহিত করেন। তন্মধ্যে, কেন্টের বিপক্ষে ৯/১৪১ পেয়েছিলেন। অন্যদিকে, কার ব্যাট হাতে দলের অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখেন।

ঘরোয়া ক্রিকেটে অসামান্য ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯২৯ সালের উইজডেন সংস্করণে অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননা লাভ করেন।[২] ১৯২৯ সালে ক্রিকেট খেলা থেকে কিছুটা দূরে থাকলেও ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করতে পেরেছিলেন।

১৯৩০ সালে গ্রীষ্মের ভেজা আবহাওয়ায় তিন অঙ্কের কোটা স্পর্শে ব্যর্থ হন। তবে, ট্রেন্ট ব্রিজের পোতানো উইকেটে লিচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ৭/২৪ পেয়েছিলেন। ১৯৩১ সালে গাড়ী দূর্ঘটনায় নটিংহ্যামশায়ারের অধিকাংশ খেলা থেকে দূরে থাকেন ও লারউডের অনুপস্থিতিতে দলের বোলিং বিভাগ বেশ দূর্বল হয়ে পড়ে।

টেস্ট ক্রিকেট[সম্পাদনা]

ম্যাটিং উইকেটে মিডিয়াম পেস বোলিং উপযোগী হওয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের জন্যে তিনি মনোনীত হন। সেখানে তিনি মাঝারিমানের সফলতা পান। ১৯২৭-২৮ মৌসুমে ইংল্যান্ড দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ২১ জানুয়ারি, ১৯২৮ তারিখে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে স্যাম স্ট্যাপলসের। তবে, ম্যাটিং উইকেটে আশাতীত সাফল্য পাননি তিনি।

১৯২৮ সালে স্ট্যাপলস ঘরোয়া ক্রিকেটে অত্যন্ত চমৎকার বোলিং করেছিলেন। ১৯২৮-২৯ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া গমনের উদ্দেশ্যে ইংরেজ দলের সদস্য হিসেবে তাঁকে রাখা হয়। কিন্তু, অসুস্থতার কারণে অস্ট্রেলিয়া গমন থেকে সফরের পূর্বে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন।

অবসর[সম্পাদনা]

১৯৩২ সালে হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে খেলায় ১০/২১ পান যা পূর্বেকার চেয়ে বেশ ভালো ছিল। ১৯৩৩ সালে আকস্মিকভাবে খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এরপর তিনি দলের কোচের দায়িত্বভার লাভ করেন। ১৯৩৪ সালে আর্থার কার খেলায় অনুপস্থিত থাকলে একটি খেলায় অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর স্যাম স্ট্যাপলসে কোচের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ১৯৪৯ সালের পূর্ব-পর্যন্ত হ্যাম্পশায়ারের কোচ ছিলেন। এরপর আরও এক মৌসুম প্রথম-শ্রেণীর আম্পায়ার হিসেবে খেলা পরিচালনা করেছিলেন। কিন্তু দূর্বল স্বাস্থ্যের কারণে এক মৌসুম শেষে অব্যহতি নেন।

৪ জুন, ১৯৫০ তারিখে ৫৭ বছর বয়সের অল্প কিছুদিন পর নটিংহ্যামশায়ারের স্ট্যান্ডার্ড হিল এলাকায় স্যাম স্ট্যাপলসের দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. [১] ESPNcricinfo, ESPN, সংগ্রহের তারিখ: ২১ নভেম্বর, ২০১৮
  2. "Wisden's Five Cricketers of the Year"ESPNcricinfoESPN। ২৩ মার্চ ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ এপ্রিল ২০১৫ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]