পিটার সেইন্সবারি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
পিটার সেইন্সবারি
পিটার সেইন্সবারি.jpg
১৯৬৯ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে পিটার সেইন্সবারি
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামপিটার জেমস সেইন্সবারি
জন্ম(১৯৩৪-০৬-১৩)১৩ জুন ১৯৩৪
চ্যান্ডলার্স ফোর্ড, হ্যাম্পশায়ার, ইংল্যান্ড
মৃত্যু১২ জুলাই ২০১৪(2014-07-12) (বয়স ৮০)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনস্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৫৪–১৯৭৬হ্যাম্পশায়ার
১৯৫৫–১৯৬০মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ৬১৮ ১৬৫
রানের সংখ্যা ২০১৭৬ ২০৭৯
ব্যাটিং গড় ২৬.৮৬ ১৯.৬১
১০০/৫০ ৭/৯৭ –/৫
সর্বোচ্চ রান ১৬৩ ৭৬
বল করেছে ৮৯৮৯৬ ৭৮২১
উইকেট ১৩১৬ ২০২
বোলিং গড় ২৪.১৪ ২৩.৯০
ইনিংসে ৫ উইকেট ৩৬
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৮/৭৬ ৭/৩০
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৬১৭/– ১/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১০ এপ্রিল ২০১৯

পিটার জেমস সেইন্সবারি (ইংরেজি: Peter Sainsbury; জন্ম: ১৩ জুন, ১৯৩৪ - মৃত্যু: ১২ জুলাই, ২০১৪) হ্যাম্পশায়ারের চ্যান্ডলার্স ফোর্ডে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ ক্রিকেট তারকা ছিলেন। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে হ্যাম্পশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডারের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে মাঝারিসারিতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন পিটার সেইন্সবারি

কাউন্টি ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৫৪ থেকে ১৯৭৬ সময়কাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জীবন চলমান ছিল তাঁর।[১] দীর্ঘ ২২ মৌসুম হ্যাম্পশায়ার দলের নিয়মিত খেলোয়াড়ের মর্যাদা পেয়েছিলেন। এ সময়েই কাউন্টি দলটি তাদের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বাধিক সফলতম সময় অতিবাহিত করেছিল।

হ্যাম্পশায়ারের পরবর্তী ২০ বছরের সফলতা প্রাপ্তি অনেকাংশেই সিম বোলারদের উপর নির্ভরশীল ছিল। শুরুরদিকে ডেরেক শ্যাকলটন ও সেইন্সবারির খেলোয়াড়ী জীবনের শেষদিকে অ্যান্ডি রবার্টসের সবিশেষ ভূমিকা পালন করেছিল। ১৬ বছর বাদে ১৯৭১ সালে একবারই মৌসুমে শতাধিক উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করতে পেরেছিলেন। বলে তেমন স্পিন না থাকলেও প্রায়শঃই তিনি রক্ষণাত্মক ভঙ্গীমায় বোলিং করতেন। ১৬ মৌসুমের প্রতিটিতে পঞ্চাশোর্ধ্ব উইকেট পেয়েছেন। একদিনের ক্রিকেটেও যথেষ্ট সফল হয়েছিলেন তিনি। শুরুরদিকের সিম বোলারদের রাজত্বকালে অন্যতম স্লো বোলার হিসেবে সফলতা দেখিয়েছেন।

১৯৫৪ সালে হ্যাম্পশায়ারের পক্ষে কয়েকটি খেলায় অংশ নেন। এছাড়াও, কম্বাইন্ড সার্ভিসেস দলের পক্ষেও প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। প্রথম মৌসুম শেষেই কাউন্টি ক্যাপ লাভ করেন। ১৯৫৫ সালে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ মৌসুম খেলার ন্যায় বৃহৎ সফলতা লাভের অধিকারী হন। ঐ মৌসুমে ১০২ উইকেট লাভের পাশাপাশি ৫৮৬ রান তুলেছিলেন।

১৯৬১ সালে প্রথমবারের মতো হ্যাম্পশায়ার দল কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা জয়ে সমর্থ হয়। এরপর ১৯৭৩ সালে এর পুণরাবৃত্তি ঘটায়। এরফলে, হ্যাম্পশায়ারের ইতিহাসে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে পিটার সেইন্সবারি উভয় দলেই অন্তর্ভূক্ত ছিলেন। এছাড়াও, ১৯৬৫ সালে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে একদিনের খেলায় সাত উইকেট লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করেছিলেন। জিলেট কাপের প্রথম রাউন্ডে নরফোকের বিপক্ষে ৭/৩০ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েছিলেন তিনি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৫৫ থেকে ১৯৬০ সময়কালে মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) পক্ষে খেলেছিলেন তিনি। নিয়মিতভাবে তিনি ইংল্যান্ড দল নির্বাচকমণ্ডলী থেকে উপেক্ষিত হয়েছেন। দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবেই তাঁর অংশগ্রহণ সীমিত ছিল।

১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে পাকিস্তান গমনের উদ্দেশ্যে এমসিসি ‘এ’ দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভূক্ত হন। সেখানে তিনি চারটি প্রতিনিধিত্বমূলক খেলার মধ্যে দুইটিতে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। কিন্তু, টনি লক, ফ্রেড টিটমাস, রে ইলিংওয়ার্থডেরেক আন্ডারউডের ন্যায় প্রতিভাবান ইংরেজ স্পিন বোলারদের আধিপত্যবাদের কারণে টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করা থেকে বঞ্চিত হন।

মূল্যায়ন[সম্পাদনা]

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে অসামান্য ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের উইজডেন সংস্করণে অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননায় অধিষ্ঠিত হন।[২]

জন আরলটের অভিমত, অন্যতম সেরা ক্রিকেটার হওয়া সত্ত্বেও তিনি ইংল্যান্ডের পক্ষে খেলার সুযোগ পাননি। আরলট তাঁর গঠিত ইংল্যান্ড একাদশে ঠাঁই না পাওয়া খেলোয়াড়দের তালিকায় তাঁকে রেখেছেন। হ্যাম্পশায়ারের পক্ষে মাত্র দুইজন খেলোয়াড় - ফিল মিডঅ্যালেক কেনেডি তাঁর অংশগ্রহণকৃত ৬১৮টি প্রথম-শ্রেণীর খেলার তুলনায় অধিক খেলেছিলেন।

তাঁর ব্যাটিংয়ের মানও বেশ কার্যকর ছিল। ধ্রুপদীশৈলীর প্রয়োগ না ঘটালেও দলের প্রয়োজনে নিজেকে মেলে ধরার প্রয়াশ চালাতেন। রক্ষণাত্মক কিংবা আক্রমণাত্মক - উভয় ধরনের ব্যাটিংয়ে অগ্রসর হতেন। অনেকগুলো বছর হ্যাম্পশায়ার দলটি শুধুমাত্র দুই কিংবা তিনজন খেলোয়াড়ের ব্যাটিংয়ের উপর নির্ভরশীল ছিল। প্রকৃতিগতভাবে বামহাতি হলেও ডানহাতে ব্যাটিং করেছেন। সচরাচর ব্যাটিং বিভাগে ছয় নম্বর অবস্থানে ব্যাট হাতে মাঠে নামতেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে ব্যাটিং উদ্বোধনেও তাঁকে দেখা যেতো। এরফলে হ্যাম্পশায়ারের সংগ্রহ কিছুটা ভিত্তি এনে দিতো। ছয় মৌসুমে সহস্রাধিক রান পেয়েছেন। ১৯৭১ সালে মাত্র ৫০ রানের জন্যে ১০০০ রান ও ১০০ উইকেট লাভের ন্যায় ডাবল লাভ করা থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন।

উইকেটের কাছাকাছি এলাকায় দক্ষ ফিল্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন পিটার সেইন্সবারি। ১৯৫০-এর দশকের শেষদিক থেকে শুরু করে ১৯৬০-এর দশক পর্যন্ত অনেকগুলো মৌসুম ফিল্ডিং পরিসংখ্যান বিভাগে প্রায় শীর্ষ পর্যায়ে উপনীত হতেন। ৬১৮টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ২০,১৭৬ রান, ২৪.১৪ গড়ে ১,৩১৬ উইকেট ও শর্ট লেগ অঞ্চলে ৬১৭টি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন।

অবসর[সম্পাদনা]

১৯৭৬ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এরপর তিনি কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ১৯৭৮ সালে হ্যাম্পশায়ারকে চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা লাভে প্রভূতঃ ভূমিকা রাখেন। ১৯৮৬ সালেও এ ধারা অব্যাহত থাকে। ১৯৮৮ সালে ভারপ্রাপ্ত থাকা অবস্থায় লর্ডসে দলের প্রথম চূড়ান্ত খেলায় পরিচালনা করেন।

১২ জুলাই, ২০১৪ তারিখে ৮০ বছর বয়সে পিটার সেইন্সবারি’র দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Peter Sainsbury 1934 - 2014 : Hampshire's only double title winner | Cricket News | England Domestic Season 2014"। ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৭-১৪ 
  2. "Wisden's Five Cricketers of the Year"ESPNcricinfoESPN। ২৩ মার্চ ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ এপ্রিল ২০১৫ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]