টম আর্মিটেজ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
টম আর্মিটেজ
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামটমাস আর্মিটেজ
জন্ম(১৮৪৮-০৪-২৫)২৫ এপ্রিল ১৮৪৮
ওয়াকলি, ইয়র্কশায়ার, ইংল্যান্ড
মৃত্যু২১ সেপ্টেম্বর ১৯২২(1922-09-21) (বয়স ৭৪)
পুলম্যান, শিকাগো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি মিডিয়াম
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ )
১৫ মার্চ ১৮৭৭ বনাম অস্ট্রেলিয়া
শেষ টেস্ট৪ এপ্রিল ১৮৭৭ বনাম অস্ট্রেলিয়া
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৮৭২–১৮৭৮ইয়র্কশায়ার
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৫৭
রানের সংখ্যা ৩৩ ১,১৮০
ব্যাটিং গড় ১১.০০ ১৩.৮৮
১০০/৫০ –/– –/৪
সর্বোচ্চ রান ২১ ৯৫
বল করেছে ১২ ৩,৮৪৫
উইকেট ১২১
বোলিং গড় ১৪.২৩
ইনিংসে ৫ উইকেট ১২
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৭/২৬
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং –/– ২৩/–
উৎস: ক্রিকেটআর্কাইভ, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭

টমাস আর্মিটেজ (ইংরেজি: Thomas Armitage; জন্ম: ২৫ এপ্রিল, ১৮৪৮ - মৃত্যু: ২১ সেপ্টেম্বর, ১৯২২) ইয়র্কশায়ারের শেফিল্ডের ওয়াকলি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী প্রথিতযশা ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন।[১] ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ইংল্যান্ডের পক্ষে দুই টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ ঘটে তাঁর। অক্ষরক্রমিক অবস্থায় ইংল্যান্ডের খেলোয়াড় হিসেবে প্রথম ক্যাপধারী হবার বিরল কীর্তিগাঁথা রচনা করেন টম আর্মিটেজ।[২] দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শিতা দেখিয়েছেন। এছাড়াও নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং করতে পারতেন।

খেলোয়াড়ী জীবন[সম্পাদনা]

১৮৭২ সালে ইয়র্কশায়ারের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তাঁর। ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় দলের প্রতিপক্ষ ছিল নটিংহ্যামশায়ার। প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং উদ্বোধন করতে মাঠে নামেন তিনি। তবে খেলায় ব্যাটহাতে নিদারুণভাবে ব্যর্থ হন। ও ১ রানের পাশাপাশি আট ওভার বোলিং করে ০/১৯ লাভ করেন। কোন ক্যাচও নিতে পারেননি ঐ খেলায়। ১৮৭৪ সালে পরবর্তী খেলায় অংশ নেন তিনি। ইংল্যান্ড ইউনাইটেড সাউথ একাদশের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত খেলাটিতেও পুণরায় ব্যর্থ হন তিনি।

কাউন্টি ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৮৭৫ সালে কাউন্টি ক্রিকেটে যাত্রা শুরু করেন তিনি। নয় খেলায় ৭.৫৯ গড়ে ২২ উইকেট তুলে নেন। তন্মধ্যে ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে ৭/২৭ পান।

নিজের প্রথম চারটি অর্ধ-শতকের সন্ধান পান। সারের বিপক্ষে করেন অপরাজিত ৬৮ রান।

১৮৭৬ সালে ১২ খেলায় অংশগ্রহণ করেন ও ৪৫ উইকেট দখল করেন। আন্ডারআর্ম বোলিং করে সারের বিপক্ষে ১৩/৪৬ পান। মিডলসেক্সের বিপক্ষে নিজস্ব প্রথম-শ্রেণীর সর্বোচ্চ ৯৫ রানের ইনিংস উপহার দেন তিনি।

ইতিহাসের প্রথম টেস্ট[সম্পাদনা]

১৮৭৭ মৌসুমের শীতকালে অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্য মনোনীত হন আর্মিটেজ। ১৮৭৭-এর বসন্তে মেলবোর্নে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের সর্বপ্রথম দুই টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পান তিনি। অক্ষরক্রমিক কারণে ইংল্যান্ডের পক্ষে প্রথম খেলোয়াড়ের মর্যাদা লাভ করেন তিনি। ফলশ্রুতিতে টেস্ট ক্যাপের জন্য তাঁর নাম সর্বাগ্রে থাকে। তবে তিনি আহামরি কিছু দেখাতে পারেননি। মাত্র ১২ বল বোলিং করেন ও তিন ইনিংসে তিনি মাত্র ৩৩ রান তুলেন। এরপর তিনি আর কখনো ইংল্যান্ডের পক্ষে খেলার সুযোগ পাননি।

এরপর ইয়র্কশায়ারের পক্ষে আরও কয়েকবছর খেলেন। ১৮৭৭ সালে কিছুটা সফলতা লাভ করেন। ৪২ উইকেট পান তিনি। তবে ১৮৭৮ সালে সুবিধা করতে পারেননি। ১৮৭৯ সালে মাত্র একটি খেলায় অংশ নেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গমন[সম্পাদনা]

ইংল্যান্ড ইউনাইটেড নর্থের সদস্যরূপে লন্ডন ইউনাইটেডের বিপক্ষে খেলেন। এরপর তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান।

সাত বছর পর সর্বশেষ প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশগ্রহণ করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্লেয়ার্সের সদস্যরূপে ফিলাডেলফিয়া জেন্টলম্যানের বিপক্ষে অংশ নিয়ে ৫৮ রানসহ ২/২৫ পান।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

২১ সেপ্টেম্বর, ১৯২২ তারিখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর পুলম্যান এলাকায় ৭৪ বছর বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

নিজনাম টম নামে আর্মিটেজের এক নাতি ছিল। ঐ টম পেশাদার ফুটবলার হিসেবে শেফিল্ড ওয়েনসডে এফ.সি.র পক্ষে খেলতো।

১৯২৩-এর নববর্ষের প্রাক্কালে কয়েকদিন পূর্বে পিচে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। আরেক নাতি লেন আর্মিটেজও পেশাদার ফুটবলার ছিলেন।[৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Warner, David (২০১১)। The Yorkshire County Cricket Club: 2011 Yearbook (113th সংস্করণ)। Ilkley, Yorkshire: Great Northern Books। পৃষ্ঠা 362। আইএসবিএন 978-1-905080-85-4 
  2. Frindall, Bill (২০০৯)। Ask BeardersBBC Books। পৃষ্ঠা 158–159। আইএসবিএন 978-1-84607-880-4 
  3. Dykes, Garth (২০১১)। Wigan Borough in the Football League: A Complete Record and Who's Who 1921–1931। Tony Brown। আইএসবিএন 978-1-905891-53-5 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]