জেমস সাউদার্টন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
জেমস সাউদার্টন
জেমস সাউদার্টন.JPG
ব্যক্তিগত তথ্য
জন্ম(১৮২৭-১১-১৬)১৬ নভেম্বর ১৮২৭
পেটওয়ার্থ, সাসেক্স, ইংল্যান্ড, যুক্তরাজ্য
মৃত্যু১৬ জুন ১৮৮০(1880-06-16) (বয়স ৫২)
মিচ্যাম, সারে, ইংল্যান্ড, যুক্তরাজ্য
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনরাউন্ড-আর্ম ডানহাতি স্লো
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ১০)
১৫ মার্চ ১৮৭৭ বনাম অস্ট্রেলিয়া
শেষ টেস্ট৪ এপ্রিল ১৮৭৭ বনাম অস্ট্রেলিয়া
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ২৮৬
রানের সংখ্যা ৩,১৫৯
ব্যাটিং গড় ৩.৫০ ৯.০২
১০০/৫০ ০/০ ০/৩
সর্বোচ্চ রান ৮২
বল করেছে ২৬৩ ৬৮,৬৬৮
উইকেট ১,৬৮২
বোলিং গড় ১৫.২৮ ১৪.৪৩
ইনিংসে ৫ উইকেট ১৯২
ম্যাচে ১০ উইকেট ৫৯
সেরা বোলিং ৪/৪৬ ৯/৩০
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ২/০ ২১৫/৩
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২৭ আগস্ট ২০১৭

জেমস সাউদার্টন (ইংরেজি: James Southerton; জন্ম: ১৬ নভেম্বর, ১৮২৭ - মৃত্যু: ১৬ জুন, ১৮৮০) সাসেক্সের পেটওয়ার্থ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ইংল্যান্ডের পেশাদার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে হ্যাম্পশায়ার, সারেসাসেক্সের পক্ষে খেলেছেন। ১৮৫৪ থেকে ১৮৭৯ সময়কাল পর্যন্ত তার প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জীবন চলমান ছিল। শুরুতে বেশ ধীরগতিতে অগ্রসর হন। কিন্তু, পরবর্তীতে ১৮৭০-এর দশকে আলফ্রেড শয়ের সাথে তাকেও অন্যতম সেরা স্লো বোলার হিসেবে চিত্রিত করা হয়। দলে তিনি মূলতঃ রাউন্ড-আর্ম ডানহাতি স্লো বোলিং করতেন। এছাড়াও নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং করে স্বীয় সক্ষমতার পরিচয় প্রদর্শন করেছেন।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

১৮৫০-এর দশকে ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিকেট জীবন শুরু করেন সাউদার্টন। তবে, ১৮৫৮ সাল থেকে কিছু ভালোমানের রান তুলতে সক্ষম হন। এ সময় তিনি ব্যাটিং উদ্বোধনে নামতে শুরু করেন[১]ভারী রোলারের যুগে ২২ গড়ে রান সংগ্রহকারী দুইজনের একজন ছিলেন।[২] এ অবস্থানে সাসেক্সের পক্ষে কমই সফলতা পেয়েছেন। পরের দুই মৌসুমে বড় ধরনের প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিতে পারেননি। ১৮৬১ সালে সাউদাম্পটনে চলে যান ও ১৮৬৭ সাল পর্যন্ত অ্যান্টিলোপ গ্রাউন্ডের কাছে বসবাস করতে থাকেন।[৩] এ সময়ে আইনগত বাঁধা না থাকায় তিনি একই মৌসুমে সাসেক্স ও হ্যাম্পশায়ারের পক্ষে খেলার সুযোগ লাভ করেন।

১৮৬৫ সালের পর সাউদার্টন স্লো বোলিংয়ে ব্যাপক উত্তরণ ঘটান। এরফলে বেশ সুনাম কুড়ান ও অনেক রেকর্ডের জন্ম দেন। একসময় বোলিং বলতে কেবলমাত্র ফাস্ট রাউন্ড-আর্মকে বোঝানো হতো। তবে, সাউদার্টনের ধীরগতিসম্পন্ন বোলিংয়ের বিপরীতে ব্যাটসম্যানেরা বেশ হিমশিম খেয়ে যেতো।

সাউদাম্পটন ত্যাগ করে সারে-সহ সাসেক্স ও হ্যাম্পশায়ারে অবস্থান করেন। তবে, সারের দীর্ঘতর খেলার ব্যবস্থাপনা থাকায় অনেক খেলায় অংশ নেন সাউদার্টন।[৪] ফলশ্রুতিতে তিনি ইংল্যান্ডের অন্যতম সফল বোলারের মর্যাদা লাভ করেন। সারে ও সাসেক্সে খেলে ১৮৬৮ সালে ১৫১ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীতে পরিণত হন।[৫] দুই বছর পর প্রথম বোলার হিসেবে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দুইশত উইকেট পান।[৬]

খেলোয়াড়ী জীবন[সম্পাদনা]

১৮৭৬ মৌসুমে পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় আটাশ উইকেট কম শিকার করা স্বত্ত্বেও পরবর্তী শীতকালে অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্য জেমস লিলিহোয়াইটের নেতৃত্বাধীন দলের সদস্য মনোনীত হন। ফলশ্রুতিতে ইতিহাসের প্রথম টেস্ট খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান তিনি। ৪৯ বছর ১১৯ দিন বয়সে তার টেস্ট অভিষেক হয় যা অভিষেকে সর্ববয়োঃজ্যেষ্ঠ টেস্ট ক্রিকেটারে রূপান্তরিত করে ও এ রেকর্ডটুকু অদ্যাবধি টিকে রয়েছে।[৭] ১৫ মার্চ, ১৮৭৭ তারিখে টেস্ট অভিষিক্ত সাউদার্টনের দল ইংল্যান্ড টসে পরাজিত হয় ও ফিল্ডিংয়ে নামে। ঐদিন তিনি দ্বিতীয় পরিবর্তিত বোলার হিসেবে বোলিং কার্য সম্পন্ন করেন। চার্লস ব্যানারম্যানব্রান্সবি কুপারের মধ্যকার শক্ত জুটিতে গড়া ৭৭ রানকে বাড়তে দেননি তিনি। কুপারকে ১৫ রানে বোল্ড করেন। বিলি মিডউইন্টারকে জর্জ ইউলিটের ক্যাচে পরিণত করে প্রথম টেস্ট বোলার হিসেবে ২ উইকেট লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। দিনশেষে তার বোলিং পরিসংখ্যান ছিল ২/৪০। দ্বিতীয় দিন সাউদার্টন বোলিং চালিয়ে যেতে থাকেন ও জ্যাক ব্ল্যাকহামকে ১৭ রানে বোল্ড করে ৩য় উইকেট পান এবং দ্বিতীয় ৫০ রানের জুটি ভেঙ্গে ফেলেন।

অবসর[সম্পাদনা]

বয়সের ভারে ন্যুহ সাউদার্টন পরবর্তী মৌসুমে ১০০ প্রথম-শ্রেণীর উইকেটের মাইলফলকে পৌঁছতে ব্যর্থ হন যা ১৮৬৬ সালের পর প্রথম ছিল। অত্যন্ত ভেজা আবহাওয়া সারেতে বিরাজ করলেও তার বোলিং গড় উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। তরুণ এডওয়ার্ড বারাট দলের প্রধান বোলার হন। ১৮৭৯ সালে সাউদার্টনের গড় উন্নতি লাভ করে ১৭ থেকে ১২-এ পৌঁছে। কিন্তু, ১৮৮০ সালে বায়ান্নো বয়সে এসে খেলা চালিয়ে যাবার মতো মনোবৃত্তি তার মাঝে ছিল না।

ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়ার মাত্র দশ মাস পর স্বল্পকালীন ফুসফুসের প্রদাহজনিত কারণে সাউদার্টন প্রথম টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে মৃত্যুবরণ করেন।[৮] ১৬ জুন, ১৮৮৯ তারিখে ৫২ বছর বয়সে সারের মিচ্যামে তার দেহাবসান ঘটে। তবে, খেলাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে টেস্ট খেলার মর্যাদা পায় আরও কিছুকাল পর। কিন্তু, সাউদার্টন তার গড়া কোন রেকর্ডই কখনো জানতে পারেননি।

বিতর্ক[সম্পাদনা]

১৮৭০ সালে কেনিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত সারে বনাম মেরিলেবোনের মধ্যকার খেলায় অপ্রত্যাশিত ঘটনার সাথে যুক্ত হন সাউদার্টন। ডব্লিউ. জি. গ্রেসের বল মোকাবেলা করে ক্যাচে রূপান্তরিত হয় যা কেবলমাত্র তিনিই জানতেন। প্যাভিলিয়নের পথে পা বাড়ালে তাকে ফিরে আসার অনুরোধ করলেও তিনি তা বিনম্র চিত্তে প্রত্যাখান করেন।[৯]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. For example in Kent v Sussex at Higher Common Ground in 1858
  2. First-Class Batting by Average in England in 1858
  3. "Antelope Ground, Southampton, England"। www.cricinfo.com। সংগ্রহের তারিখ ৯ মার্চ ২০০৯ 
  4. Wynne-Thomas, Peter; The Rigby A-Z of Cricket Records; p. 53 আইএসবিএন ০৭২৭০১৮৬৮X
  5. First Class Bowling in England in 1868 by Wickets
  6. First Class Bowling in Each Season
  7. "Records | Test matches | Individual records (captains, players, umpires) | Oldest players on debut | ESPN Cricinfo"Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৩-০৩ 
  8. Obituary: James Southerton
  9. Brodribb, Gerald, "Next Man In", Souvenir Press, London, 1995

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]


পূর্বসূরী
নেই
বয়োঃজ্যেষ্ঠ জীবিত টেস্ট ক্রিকেটার
১৫ মার্চ, ১৮৭৭ - ১৬ জুন, ১৮৮০
উত্তরসূরী
নেড গ্রিগরি
ন্যাট টমসন