কর্ণাটকে কোভিড-১৯ এর বৈশ্বিক অতিমারী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
কর্ণাটকে কোভিড-১৯ এর বৈশ্বিক অতিমারী
India Karnataka COVID-19 cases.svg
নিশ্চিত কোভিড সক্রিয় জেলাগুলির মানচিত্র
India Karnataka COVID-19 deaths map.svg
মৃত্যুর সংখ্যা মানচিত্রে
রোগকরোনাভাইরাস রোগ ২০১৯
ভাইরাসের প্রজাতিগুরুতর তীব্র শ্বাসযন্ত্রীয় রোগলক্ষণসমষ্টি সৃষ্টিকারী করোনাভাইরাস ২
স্থানকর্ণাটক, ভারত
প্রথম সংক্রমণের ঘটনাবেঙ্গালুরু আরবান
আগমনের তারিখ৯ই মার্চ ২০২০
(১ বছর, ৪ মাস ও ৩ সপ্তাহ)
উৎপত্তিউহান, হুপেই, চীন
নিশ্চিত আক্রান্তবৃদ্ধি৮,৪১,৮৮৯ (৬ নভেম্বর ২০২০) [১]
সক্রিয় আক্রান্তহ্রাস৩৩,৩৩৮
সুস্থবৃদ্ধি৭,৯৭,২০৪ (৬ নভেম্বর ২০২০) [১]
মৃত্যু
১১,৩৪৭ (৬ নভেম্বর ২০২০) [১]
মৃত্যুর হার
১.৩৫‏%[১]
প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট
karunadu.karnataka.gov.in/hfw

২০২০ সালের ৯ই মার্চ ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে ২০১৯–২০ করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীর প্রথম ঘটনাটি নিশ্চিত হয়েছিল। এর দু'দিন পরে, রোগের বিস্তার রোধ করতে, ভারতে প্রথম, এই রাজ্যে মহামারী রোগ আইন, ১৮৯৭ বলবৎ করা হয়, এটি এক বছরের জন্য স্থায়ী হবে।[২] এখনও অবধি, (১২ই আগস্ট ২০২০) এখানে ১,৯৬,৪৯৪টি নিশ্চিত অসুস্থতার ঘটনা পাওয়া গেছে, এরমধ্যে ৭,৯৭,২০৪ (৬ নভেম্বর ২০২০) নিরাময় এবং ১১,৩৪৭ (৬ নভেম্বর ২০২০) মৃত্যুর ঘটনা আছে।[৩]

ঘটনার ক্রমপঞ্জী[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:কোভিড-১৯ অতিমারী উপাত্ত/ভারত/কর্ণাটকের নথিবদ্ধ ঘটনার তালিকা

ফেব্রুয়ারি[সম্পাদনা]

  • ২৪শে ফেব্রুয়ারি, বেঙ্গালুরুর উপকণ্ঠে একটি প্রযুক্তি পার্কে কর্মরত একজন তথ্য প্রযুক্তি কর্মী, একটি পেয়িং গেস্ট আবাসনে অবস্থান করেছিলেন। তিনি ১৫ই ফেব্রুয়ারি একটি কার্যভার নিয়ে দুবাই গমন করেন এবং ২০শে ফেব্রুয়ারি বেঙ্গালুরুতে ফিরে আসেন। তিনি ২০শে এবং ২১শে ফেব্রুয়ারি এই দু'দিন নিজের কর্মস্থলে উপস্থিত হয়েছিলেন – এরপর তিনি প্রতিবেশী তেলেঙ্গানার হায়দ্রাবাদগামী একটি বাসে ওঠেন। ২৪শে ফেব্রুয়ারি হায়দরাবাদে তাঁর নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে।[৪]

মার্চ[সম্পাদনা]

  • ৯ই মার্চ, ডেল এর এক কর্মচারী, যিনি টেক্সাস থেকে ২৮শে ফেব্রুয়ারি ফিরেছিলেন নিউ ইয়র্ক সিটি এবং দুবাই হয়ে, ১লা মার্চ বেঙ্গালুরু পৌঁছোনোর আগে তাঁর করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তাঁর স্ত্রী ও মেয়েসহ তাঁর এক সহকর্মীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সহকর্মীর শরীরে ফ্লুর মতো লক্ষণগুলি দেখা গিয়েছিল।[৫]
  • ১০ই মার্চ, মাইন্ডট্রির একজন কর্মচারী বিদেশে ভ্রমণের পর বেঙ্গালুরুতে ফিরেছিলেন। তাঁকে পরীক্ষা করে পজিটিভ সংক্রমণ পাওয়া গিয়েছিল। ডেল কর্মচারীর স্ত্রী ও কন্যার পরীক্ষা রিপোর্টও পজিটিভ আসে এবং তাঁদের চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে পৃথক করা হয়।[৬]
  • ১২ই মার্চ, গুগলের একজন কর্মচারী, ২৬ বছর বয়স্ক যুবক, যিনি গ্রীস থেকে ফিরেছিলেন, রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগের হিসেবমত, তিনি করোনাভাইরাস সংক্রমিত বলে নিশ্চিত করা হয়।[৭] উপরন্তু, তাঁর স্ত্রী তাঁদের ভ্রমণের ইতিহাস প্রকাশ করেন নি এবং প্রোটোকলগুলি এড়িয়ে গিয়ে উত্তর প্রদেশের তাঁর শহর আগ্রায় চলে যান। করোনাভাইরাসের কারণে দেশের প্রথম মৃত্যুর খবর পাওয়া যায় কর্ণাটকের কালাবুরাগীর এক ৭৬ বছর বয়সী ব্যক্তির মৃত্যুর পর, যখন তাঁর নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট রাজ্য থেকে পজিটিভ বলে নিশ্চিত করা হয়। তিনি ২৯শে ফেব্রুয়ারি সৌদি আরব থেকে ফিরেছিলেন।[৫]
  • ১৫ই মার্চ, নতুন সংক্রমণের ঘটনাটি পাওয়া যায়, আগের সপ্তাহে মৃত কালাবুরাগীর ৭৬ বছর বয়সী বাসিন্দাটির মেয়ের।[৮]
  • ১৬ই মার্চ, মাসের শুরুর দিকে লন্ডন হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে থেকে ফিরে আসা ৩২ বছর বয়সী এক ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। করোনা সংক্রমিত রোগী#8 (মাইন্ডট্রির কর্মচারী) এর সঙ্গে একই ফ্লাইটে তিনি ৮ই মার্চ লন্ডন হয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরেছিলেন।[৯]
  • ১৭ই মার্চ, আরও তিনটি সংক্রমণের খবর পাওয়া যায় - প্রথম আক্রান্ত ছিলেন একজন ২০ বছর বয়সী মহিলা, যিনি যুক্তরাজ্যে ভ্রমণ করেছিলেন। দ্বিতীয়জন একজন ৬৩ বছর বয়সী ডাক্তার, যিনি কালাবুরাগীতে সম্প্রতি মৃত কোভিড-১৯ আক্রান্ত প্রবীণ নাগরিকের চিকিৎসা করেছিলেন।[১০][১১] অন্য একটি ঘটনার কথা জানা যায়, বেঙ্গালুরুর ৬৭ বছর বয়সী বাসিন্দা এক মহিলা ৯ই মার্চ দুবাই থেকে গোয়া হয়ে ফিরে এসেছিলেন। তাঁর দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের কথা জানা গিয়েছিল।[১২]
  • ১৮ই মার্চ, বেঙ্গালুরুতে আরও তিনজন সংক্রমিত রোগীর খবর পাওয়া যায়। প্রথমজন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ফেরত ৫৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তি, যিনি ৬ই মার্চ ফিরেছিলেন। দ্বিতীয়জন, ২৬ বছর বয়সী এক মহিলা যিনি স্পেন থেকে ফিরেছিলেন।[১৩] তৃতীয়জন, ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি, যিনি ১০ই মার্চ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরেছিলেন।[১৪]
  • ১৯শে মার্চ, সৌদি আরবে ভ্রমণের ইতিহাস সহ কোডাগুর আরও একজনের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়। সেই ব্যক্তি ১৫ই মার্চ দুবাই থেকে বেঙ্গালুরু পৌঁছেছিলেন।[১৫]
  • ২১শে মার্চ, রাজ্যে আরও পাঁচজনের সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়। প্রথমজন বেঙ্গালুরুর ৫৩ বছর বয়সী একজন মহিলা। তিনি ৬৭ বছর বয়সী রোগী#১১-র পরিচারিকা ছিলেন, যাঁকে ১৭ই মার্চ সংক্রমিত ঘোষণা করা হয়েছিল। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ঘটনাদুটি যথাক্রমে ৩৯ এবং ২১ বছর বয়সী বেঙ্গালুরুর দুই বাসিন্দার। প্রথমজন ১৯শে মার্চ নেদারল্যান্ডের আমস্টারডাম থেকে ফিরেছিলেন, এবং দ্বিতীয়জন ১৭ই মার্চ স্কটল্যান্ড থেকে ফিরেছিলেন। চতুর্থজন, ৩২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি যিনি চিক্কাবল্লাপুরার গৌরিবিদানুর থেকে মক্কা ভ্রমণ করেছেন।[১৬] পঞ্চমজন, মহীশূরের ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি, যিনি ১৯শে মার্চ দুবাই থেকে বেঙ্গালুরু ফিরেছিলেন।[১৭][১৮]
  • ২৩শে মার্চ, রাজ্যে আরও সাতজনের সংক্রমণ ধরা পড়ে। তাঁদের মধ্যে দু'জন (রোগী#২৭, রোগী#৩৩) কেরলের বাসিন্দা, যাঁদের দুবাই ভ্রমণের ইতিহাস ছিল এবং তাঁরা যথাক্রমে মহীশূর ও বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বাকি পাঁচটি ঘটনা ছিল বেঙ্গালুরুর, চারজনের (রোগী#২৮, রোগী#২৯, রোগী#৩১, রোগী#৩২) যথাক্রমে দুবাই, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাজ্য এবং জার্মানি ভ্রমণের ইতিহাস ছিল, এবং একজন (রোগী#৩০) স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত হয়েছিলেন - যিনি রোগী#১৭ এর স্ত্রী।[১৯]
  • ২৪শে মার্চ, আটটি নতুন সংক্রমণের খবর পাওয়া গিয়েছিল, যার মধ্যে তিনজন ছিলেন কেরলের ট্রানজিট যাত্রী, যাঁরা এই বিমানবন্দরে অবতরণ করেছিলেন। কর্ণাটকেই তাঁদের চিকিৎসা করা হচ্ছিল।[২০][২১]
  • ২৬শে মার্চ, রাজ্যে আরও চারটি সংক্রমণ নিশ্চিত হয়। এঁদের মধ্যে মহীশূরের রোগী#৫২ এর কোনও ভ্রমণ ইতিহাস ছিলনা, বা কোন সংক্রামিত ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর যোগাযোগও ছিলনা।[২২][২৩] এই দিনে দাভাঙ্গেরেতে কোভিড ১৯ অতিমারী শুরু হয়েছিল।
  • ২৭শে মার্চ, ৯ টি নতুন সংক্রমণের ঘটনা সামনে আসে। দিল্লির ভ্রমণের ইতিহাস রয়েছে এমন এক ৬৫ বছর বয়সী ব্যক্তি তুমকুরে মারা যান। দক্ষিণ কন্নড় এর রোগী#৫৬ (১০-মাস বয়সী পুরুষ শিশু) এর কোভিড-১৯ আক্রান্ত দেশগুলিতে ভ্রমণের কোনও ইতিহাস নেই তবে তার বাবা মা তাকে কাছাকাছি কেরল নিয়ে গিয়েছিলেন এবং এই সংক্রমণের মূল খোঁজা চলছে।[২৪]
  • ২৯শে মার্চ, ৭টি নতুন সংক্রমণ নথিবদ্ধ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৫টি নানজানাগুড়ুতে একই ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থার। এটিকে গোষ্ঠী সংক্রমণ হিসাবে আখ্যায়িত করা হয় এবং শহরটি সম্পূর্ণ লকডাউনের অধীনে রাখা হয়।[২৫]
  • ৩০শে মার্চ ৫টি নতুন সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়, যার মধ্যে ৪ জন নানজানাগুড়ুর একই ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থার। তুমকুরের রোগী#৮৪ হলেন রোগী#৬০ এর ছেলে।[২৬]
  • ৩১শে মার্চ, ১৩ টি নতুন সংক্রমণের খবর আসে, যার মধ্যে ২ জন নানজানাগুড়ুর একই ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থার, ৩ জন বেল্লারির- কিন্তু বেঙ্গালুরুতে ছিলেন, এবং বেঙ্গালুরুর এক ব্যক্তি আইসিইউতে রয়েছেন যাঁর কোনও ভ্রমণের বিবরণ পাওয়া যায়নি।[২৭]

এপ্রিল[সম্পাদনা]

  • ২রা এপ্রিল, ১৪টি নতুন সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়, নানজানাগুড়ুর সংস্থা থেকে দুজন এবং তাবলিগ জামাত মিলন থেকে ১১ জন- সবগুলি বিদারে পাওয়া যায়।[২৮][২৯]
  • ৩রা এপ্রিল, ৪টি নতুন সংক্রমণের মধ্যে তিনটি বেলগাম থেকে, যাঁরা দিল্লির তাবলিগ জামাতে মিলিত হয়েছিলেন, এবং চতুর্থজন বাগলকোট থেকে ৭০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি।[৩০][৩১]
  • ৪ঠা এপ্রিল, বাগলকোটের ৭০ বছর বয়সী ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেন। ১৬টি নতুন সংক্রমণের খবর নিশ্চিত করা হয়।[৩২]
  • ১০ই এপ্রিল বেশ কয়েকটি নতুন এসএআরআই (গুরুতর তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ) এর খবর পাওয়া যায় (এখনো অবধি ৮), যা স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য গূঢ় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।[৩৩][৩৪]
  • ১২ই এপ্রিল, ২৩২টি নতুন ঘটনার খবর পাওয়া যায়। ২১ দিনের ভ্রমণের পরে একটি নতুন সংক্রমণ প্রকাশিত হয়েছে! বিজয়পুরে অজানা গোষ্ঠী সংক্রমণ আবির্ভূত হয়েছে বলে মনে করা হয়।[৩৫]
  • ২৩শে এপ্রিল, বেঙ্গালুরুতে গোষ্ঠী সংক্রমণ দেখা যায়, যেখানে বিহারের এক অভিবাসী শ্রমিকের ৯ জনের যোগাযোগের সংক্রমণের রিপোর্ট পজিটিভ আসে[৩৬]
  • ৩০শে এপ্রিল, ৩০টি নতুন ঘটনা সামনে আসে।

মে[সম্পাদনা]

  • ৪ঠা মে, ৩৭টি নতুন ঘটনা সামনে আসে, এর মধ্যে ২০ জন দাভাঙ্গেরের রোগী#৫৩৩ এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত, এবং ৭ জন বিদারের রোগী#৫৯০ এর সংস্পর্শে এসেছিলেন।


প্রাথমিক কন্টেইনমেন্ট প্রচেষ্টা[সম্পাদনা]

২০২০ সালের ৯ই মার্চ, কর্ণাটক রাজ্য সরকার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্যের সমস্ত স্কুলের কিন্ডারগার্টেন এবং প্রাথমিক শ্রেণি বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষামন্ত্রী, এস. সুরেশ কুমার বলেছিলেন যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধ করতে এই বিজ্ঞপ্তিটি একটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে জারি করা হয়েছিল।[৩৭] ৩১শে মার্চ, সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করে, করোনাভাইরাসের বিস্তার এড়াতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে ৭ম থেকে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত করে।[৩৮]

রাজ্যে প্রথম মৃত্যুর খবর আসার পরে কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী, বি. এস ইয়েদুরাপ্পা, নোভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) এর ক্রমবর্ধমান বিস্তার রোধের একটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে, একটি নির্দেশিকা জারি করে সমস্ত জনসমাগমস্থল- মল, বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজ, প্রেক্ষাগৃহ, নাইট ক্লাব, বিবাহ এবং সম্মেলনগুলির মতো উচ্চ সমাগমস্থল বন্ধের নির্দেশ দেন।[৩৯] এছাড়াও, কেরালা সীমান্তে কাসারগড় জেলায় ছয় জন লোক করোনাভাইরাসের পরীক্ষায় পজিটিভ আসার পর এই রাজ্য কেরলের সীমান্ত গাড়ি চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেয়। [৪০]

রবিবার ২২শে মার্চ, কোভিড-১৯ মোকাবিলায় গঠিত টাস্ক ফোর্সের দ্বিতীয় সভার পরে, সরকার ৩১শে মার্চ অবধি, ৯টি জেলায় লকডাউন আকারে আরও বিধিনিষেধ ঘোষণা করে। এই জেলাগুলিতে, অত্যাবশ্যক নয়, এমন সকল পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছিল। নয়টি জেলা যেখানে কোভিড-১৯ সংক্রমণ দেখা গিয়েছিল সেগুলি হ'ল: বেঙ্গালুরু পল্লী, বেঙ্গালুরু আরবান, চিক্কাবল্লাপুরা, দক্ষিণ কন্নড়, ধরওয়াড়, কালাবুরাগী, মহীশূর, কোডাগু এবং বেলগাম[৪১]

লকডাউন[সম্পাদনা]

আরও, ভাইরাসের গোষ্ঠী সংক্রমণ রোধ করতে, কেন্দ্রীয় সরকার ২৫শে মার্চ থেকে ২১ দিনের জন্য পুরো দেশে লকডাউন করার সিদ্ধান্ত নেয়।[৪২]

প্রাথমিক লকডাউন[সম্পাদনা]

অভিবাসী শ্রমিক এবং দরিদ্রদের দুর্দশার সমাধান করার জন্য, কর্ণাটক সরকার রাজ্যের অভিবাসী শ্রমিকদের খাবার সরবরাহের জন্য একটি কর মুক্ত হেল্পলাইন নম্বর চালু করে, যেটি হল ১৫৫২১৪।[৪৩]

১১ই এপ্রিল, সরকার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি ক'রে সমস্ত নাগরিক এবং স্বাস্থ্যসেবা কর্মকর্তাদের আক্রান্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ বাড়ানোর জন্য তাদের মোবাইল ফোনে আরোগ্য সেতু অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড, প্রচার ও ব্যবহার করতে পরামর্শ দেয়। যিনি ব্লুটুথ এবং জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজের ফোনে অ্যাপ্লিকেশনটি ইনস্টল করেছেন, তিনি যদি কোনও সংক্রামিত ব্যক্তির সান্নিধ্যে আসেন, তবে তাঁকে সতর্ক করার জন্য এই অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে। [৪৪]

ভারত সরকারের আদেশের সাথে সামঞ্জস্য রেখে, কর্ণাটক সরকারের অধীনস্থ সংখ্যালঘু কল্যাণ, ওয়াকফ এবং হজ বিভাগ ১৫ই এপ্রিল একটি আদেশ জারি করে, যাতে বলা হয় রাজ্যের বর্তমান কোভিড -১৯ মহামারীর কারণে ২০২০ সালের ৩রা মে পর্যন্ত মসজিদ / দরগাহে রমজান মাসে সমস্ত সম্মিলিত প্রার্থনা (সালাত) স্থগিত করার জন্য। এই আদেশে মসজিদের নিকটবর্তী সমস্ত ভোজনালয় নিষিদ্ধ করা হয়।[৪৫][৪৬]

লকডাউন ২.০[সম্পাদনা]

রাজ্যগুলি আরও দুই সপ্তাহের জন্য লকডাউনের মেয়াদ অব্যাহত রাখার পক্ষে সওয়াল করে। জাতির উদ্দেশ্যে করোনাভাইরাস সম্পর্কিত চতুর্থ ভাষণের সময়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লকডাউনের মেয়াদ ১৪ই এপ্রিল থেকে ৩রা মে পর্যন্ত বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেন। তবে কেন্দ্রের জারি করা নির্দেশিকাগুলির ভিত্তিতে, কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত দেন যে লকডাউনে জনসাধারণের সঙ্গতি মূল্যায়নের পরে ২০শে এপ্রিল শিথিল করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।[৪৭]

লকডাউন সম্প্রসারণের বার্তা দেবার পরে কেন্দ্রীয় সরকার সমস্ত রাজ্য দ্বারা একটি নতুন নির্দেশিকা পালন করার ঘোষণা করে।[৪৮]

সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য বেঙ্গালুরুর একটি দোকানের সামনে বৃত্ত আঁকা
  • ধর্মীয় সম্মেলন সহ সকল সামাজিক জমায়েত নিষিদ্ধ করা হবে।
  • বেশিরভাগ কৃষি কার্যকে ছাড় দেওয়া হবে এবং পরিচালিত হতে দেওয়া হবে।
  • সামাজিক-দূরত্বের ব্যবস্থা রেখে দৈনিক মজুরি প্রাপ্ত শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সাথে যুক্ত সমস্ত পাবলিক কর্মসূচী পালিত হবে।[৪৯]

লকডাউন ৩.০[সম্পাদনা]

ভারত সরকার প্রদত্ত নির্দেশিকা অনুসারে, কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যে লকডাউন আরও বাড়িয়ে ১৭ই মে পর্যন্ত করলেন। এইবারে, অঞ্চলগুলিকে সরকার চারটি প্রধান বিভাগে শ্রেণিবদ্ধ করে: কন্টেইনমেন্ট, লাল, কমলা এবং সবুজ অঞ্চল, বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন রকম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের উপর ভিত্তি করে এই বিভাগ করা হয়।[৫০][৫১]

লকডাউন ৪.০[সম্পাদনা]

১৮ই মে ২০২০, কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী, ২০২০ সালের ৩১শে মে পর্যন্ত রাজ্যে লকডাউন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা করেন। এর পাশাপাশি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে দিকনির্দেশনা পাওয়ার পরে তিনি অনেক ছাড়ও দিয়েছিলেন। লকডাউনের এই পর্যায়ে, শপিং মল, সিনেমা হল, হোটেল, রেস্তোঁরা বাদে বেশিরভাগ ক্রিয়াকলাপ রবিবার ব্যতীত সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে চালু রাখার অনুমতি ছিল, এবং সরকার ৩১শে মে ২০২০ পর্যন্ত প্রতি রবিবারে কঠোর লকডাউন কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকার পরে, ২০২০ সালের ১৯শে মে থেকে বাস, ট্যাক্সি, অটোরিকশা এবং অন্তঃরাজ্য ট্রেন পরিষেবা সহ সকল গণপরিবহন পরিষেবাদিগুলির চালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। আসন সংখ্যা কমিয়ে বাস চলাচল করার অনুমতি দেওয়ার পর, রাজ্য চালিত বাসে ভাড়া বাড়ানোর জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে, মুখ্যমন্ত্রী বলেন: "আমরা আপাতত বাসের ভাড়া বাড়াবো না। কেএসআরটিসি সীমিত সংখ্যক যাত্রী বহনের কারণে যে ক্ষয়ক্ষতি হবে তা বহন করবে।" কোভিড-১৯ সংক্রমণের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক অতিবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে, সরকার প্রতিবেশী গুজরাত, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, এবং কেরল রাজ্যের জনগণকে প্রবেশের অনুমতি সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেয়।[৫২][৫৩]

লকডাউন তোলার পরিকল্পনা[সম্পাদনা]

কর্ণাটক সরকার, মারাত্মক আর্থিক সঙ্কটের সম্মুখীন হয়ে, অর্থনীতিকে আবার চালু করার প্রয়াসে, ২৩শে এপ্রিল রাজ্যের কিছু অর্থনৈতিক কার্যকলাপকে ছাড় দিয়ে লকডাউনের বিধিনিষেধকে শর্তসাপেক্ষে শিথিল করার ঘোষণা করেছিল। তবে শিথিলকরণগুলি নির্ধারিত কনটেইনমেন্ট অঞ্চলে প্রযোজ্য হবে না। পৌরসভার সীমার বাইরে বেশিরভাগ উৎপাদন, নির্মাণ ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ সংস্থাকে ছাড় দেওয়া হয়েছিল। হোটেল, হোম স্টে যেগুলিতে পর্যটকেরা লকডাউনের কারণে আটকে পড়েছিলেন সেগুলি খোলার অনুমতি দেওয়া হয়, এর সাথে রেলস্টেশন, সমুদ্র এবং বিমানবন্দরগুলিতে সরবরাহ শৃঙ্খলের সাথে যুক্ত বিভিন্ন পরিষেবাকেও খোলার অনুমতি দেওয়া হয়। কলের মিস্ত্রী, প্রযুক্তিমিস্ত্রী এবং কাঠের মিস্ত্রীদের মতো স্ব-কর্মসংস্থানযুক্ত ব্যক্তিদের দ্বারা প্রদত্ত বেশিরভাগ পরিষেবাগুলিকেও অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে আধিকারিকেরা জোর দিয়েছিলেন যে, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের লকডাউন নির্দেশিকা মেনে চলার পরে এবং সামাজিক দূরত্বের নিয়মগুলি কঠোরভাবে মেনে চলা এবং কর্মক্ষেত্রগুলি সঠিক উপায়ে পরিষ্কার রাখা সাপেক্ষে স্থানীয় জেলা প্রশাসন এই সমস্ত ছাড়গুলির অনুমতি দেবে।[৫৪][৫৫]

আনলক-১[সম্পাদনা]

নয় সপ্তাহ ব্যাপী লকডাউনের পরে, কর্ণাটক সরকার, লকডাউনের পঞ্চম ধাপে কেন্দ্রীয় সরকার প্রদত্ত নির্দেশনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে এটিকে "আনলক -১" হিসাবে অভিহিত করে। এর লক্ষ্য ছিল অন্তঃরাজ্য এবং জনগণ ও পণ্যের আন্তঃরাজ্য চলাচলের উপর আরোপিত অনেকগুলি বিধিনিষেধ লাঘব করা। আনলক করার প্রথম পর্যায়ে, যা কার্যকর হয় ৮ই ই জুন থেকে, আরও শিথিলকরণ করা হয়েছিল এবং ধর্মীয় স্থান, হোটেল, মল ইত্যাদি খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্তটি জুলাইয়ে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সরকারী সূত্র এই ব্যাপারটিতে বলে: "রাজ্য সরকার অভিভাবক এবং অন্যান্য অংশীদারদের সাথে প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে আলোচনা করবে।" তবে, কন্টেইনমেন্ট অঞ্চলগুলিতে কঠোর বিধিনিষেধ নিয়ন্ত্রণ কার্যকর থাকবে।[৫৬][৫৭]

প্রাথমিক সাফল্য এবং ৫টি 'টি' নীতি[সম্পাদনা]

এই মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য কর্ণাটকের ৫টি 'টি'- খবর (ট্রেস), অনুসরণকরণ (ট্র্যাক), পরীক্ষা (টেস্ট), চিকিৎসা (ট্রিট) এবং প্রযুক্তি (টেকনোলজি)র নীতি নেতৃত্ব দিয়েছিল। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে একটি কথোপকথনের সময়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী, নরেন্দ্র মোদী কোভিড -১৯ প্রসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রাজ্যের প্রচেষ্টার এবং বর্ধিত লকডাউন নিয়মের ধীরে ধীরে শিথিলকরণের সাথে অর্থনীতিকে আনলক করার পদক্ষেপগুলি প্রশংসা করেছেন। [৫৮] কেন্দ্র অন্যান্য রাজ্যগুলিকে বলে তাদের স্থানীয় প্রেক্ষাপটে এই পরিকল্পনাগুলি অবলম্বন করতে এবং কোভিড-১৯ অতিমারীটির বিরুদ্ধে আরও ভাল ভাবে লড়ার জন্য এইগুলি অনুসরণ করতে।[৫৯]

খবর জোগাড়[সম্পাদনা]

দশ হাজারেরও বেশি প্রশিক্ষিত ক্ষেত্রীয় কর্মীরা রাজ্যের নকশাকৃত বিস্তারিত পরিকল্পনা অনুসারে সংক্রামিতের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তির সন্ধানের জন্য সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করে। প্রতিটি মনোনীত ব্যক্তি দ্বারা সম্পাদিত করার জন্য প্রতিটি ধাপ নির্ধারিত করা হয়েছিল। কাজের বিশাল পরিমাণ কাটিয়ে উঠতে সংস্পর্শ সন্ধানী মোবাইল অ্যাপ এবং ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা হয়েছিল, খোঁজের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার মধ্যে ছিল সংক্রামিত ব্যক্তিদের বিস্মৃতি এবং বিভিন্ন কারণে সত্যগুলি লুকানোর চেষ্টা করা।[৫৯]

বয়স্ক, অন্য অসুস্থতা সহ ব্যক্তি, গর্ভবতী মহিলা, এবং যাদের ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো অসুস্থতা রয়েছে, ও গুরুতর তীব্র শ্বাসযন্ত্রের অসুস্থতা (এসএআরআই) সম্পন্ন উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দিয়ে খুঁজে তাদের সুরক্ষা দেওয়া এবং চিকিৎসা করার জন্য কর্ণাটক শারীরিকভাবে এবং ফোনকে ভিত্তি করে পারিবারিক জরিপ চালিয়েছিল। ২০২০ সালের মে মাসে জরিপটি করা হয়েছিল এবং কর্ণাটকের মোট ১৬৮ লক্ষ পরিবারের মধ্যে ১৫৩ লক্ষ পরিবারের জরিপ করা সম্ভব হয়েছিল। ভোট কেন্দ্র স্তরের আধিকারিকেরা (বিএলও) একটি স্বাস্থ্য জরিপ অ্যাপ্লিকেশনের পাশাপাশি একটি ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে নিযুক্ত ছিলেন।[৫৯]

জরিপের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্যগুলি গর্ভবতী মা এবং যক্ষ্মা, এইচআইভি, ডায়ালাইসিস এবং ক্যান্সার রোগীদের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে ইতিমধ্যে উপলব্ধ তথ্যগুলির পরিপূরক ছিল। ন্যাসোকমের সহায়তায়, রাজ্য সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত আপদমিত্র টেলিকনসাল্টেশন হেল্পলাইন (কল নং ১৪৪১০) এর মাধ্যমে প্রচার করে, ইন্টার-অ্যাক্টিভ ভয়েস রেসপন্স সিস্টেম (আইভিআরএস) এবং আউটবাউন্ড কলগুলির মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলির কাছে পৌঁছান সম্ভব হয়েছিল।[৫৯]

অনুসরণকরণ[সম্পাদনা]

কর্ণাটকে ফিরে আসা বা ভ্রমণ করতে আসা সমস্ত ব্যক্তিকে "সেবা সিন্ধু" পোর্টালে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক ছিল, যার ফলে বাড়ীতে বা প্রাতিষ্ঠানিক পৃথকীকরণের সময় রাজ্য পরের কয়েক দিন তাদের অনুসরণ করতে সক্ষম হয়। পৃথকীকরণ কার্যকর করতে ‘কোয়ারেন্টাইন ওয়াচ অ্যাপ’ ব্যবহৃত হয় ক্ষেত্রীয় কর্মীদের সহায়তা করতে। সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজ্য সরকার হোম কোয়ারানটাইন প্রয়োগের জন্য মোবাইল স্কোয়াডও গঠন করেছে। যদি প্রতিবেশী বা জনসাধারণের কোনও সদস্যের কাছ থেকে পৃথকীকরণের লঙ্ঘনের তথ্য পাওয়া যায়, তবে লঙ্ঘনকারীকে প্রাতিষ্ঠানিক পৃথকীকরণে স্থানান্তরিত করা হয়।[৫৯]

পরীক্ষা[সম্পাদনা]

২০২০ জুনের মধ্যে, রাজ্যটি প্রতিদিন গড়ে ১০,০০০টি পরীক্ষা করছিল। সারা দেশে মোট ৬০০টি পরীক্ষাগারের তুলনায় রাজ্যে পরীক্ষার জন্য ৭৪টি পরীক্ষাগার ছিল।[৬০] ক্রমবর্ধমান কোভিড সংক্রমণের কারণে, কর্ণাটক সরকার বলেছিল যে তারা প্রাথমিকভাবে দিনে ১৫,০০০ নমুনা পরীক্ষার এবং পরে তা বাড়িয়ে দিনে ২৫,০০০ নমুনা পরীক্ষার পরিকল্পনা করেছে।[৬১] বস্তিবাসী, বিক্রেতা/বিল সংগ্রহকারী, খাদ্য সরবরাহকারী শৃঙ্খলের এবং ক্যুরিয়ার সরবরাহকারী ব্যক্তিদের জন্য কর্ণাটক সরকার আরটি-পিসিআর পুলযুক্ত নমুনা কৌশল ব্যবহার করে যথেচ্ছভাবে পরীক্ষা চালানোর নির্দেশনা দিয়েছিল, যাতে রাজ্যে কোভিড-১৯ সংক্রমণের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক বৃদ্ধিতে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা যায়।[৬২]


ইন্সটিট্যুট অফ জেনোমিক্স অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ বায়োলজির বিজ্ঞানীরা সিআরআইএসপিআর জিন এডিটিং সরঞ্জাম ব্যবহার করে কোভিড-১৯ এর পরীক্ষার জন্য একটি স্বল্প মূল্যের পেপার-স্ট্রিপ পরীক্ষা সরঞ্জাম তৈরি করেছেন, যেটি এক ঘন্টায় ফলাফল জানিয়ে দিতে পারে। পেপার-স্ট্রিপ পরীক্ষার আনুমানিক ব্যয় হতে পারে প্রায় ৫০০ (US$৬.৭৫)। বর্তমানে, কিটগুলি এর নির্ভুলতা এবং সংবেদনশীলতার জন্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। এই দলটি ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।[৬৩]

চিকিৎসা[সম্পাদনা]

কর্ণাটক রাজ্যের কোভিড-১৯ যুদ্ধকালীন কক্ষের তথ্য অনুসারে, রাজ্যের জেলাগুলিতে ৮৪,৭৭৬টি শয্যা রয়েছে, যার মধ্যে ২১,৭২৮টি কোভিড-১৯ এর জন্য সংরক্ষিত হয়েছে। বেঙ্গালুরু আরবান এবং পল্লী জেলায় মোট ১৯,৬৩৯টি শয্যা আছে। এর মধ্যে, দুটি জেলায় কোভিড-১৯ এর জন্য ৩,৪৭০টি শয্যা সংরক্ষিত আছে। ২১,৭২৮ শয্যার মধ্যে ৮৬% এরও বেশি শয্যা আলাদা করা আছে — অক্সিজেন সুবিধা সহ ৬,৬৯৫টি শয্যা, ২,১০৫টি আইসিইউ শয্যা, এবং ভেন্টিলেটর সহ ১,০০০টি শয্যা। কর্ণাটকে কোভিড-১৯ সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, ৮ই মে অবধি কর্ণাটকের হাসপাতালের রোগী ভর্তির হার যা ২% এরও কম ছিল, ৯ই জুনের মধ্যে তা বেড়ে হয়েছে ১৩.১%।[৬৪]


কর্ণাটক সরকার বেসরকারী হাসপাতালে কোভিড-১৯ চিকিৎসার খরচের হার স্থির করার আদেশ জারি করেছে। এই সংক্রমণের বিভাগ এবং তীব্রতার উপর নির্ভর করে খরচের হার ৫,২০০ টাকা থেকে ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এর সুবিধা আয়ুষ্মান ভারত-আরোগ্য কর্ণাটক (এবি-এআরকে) রোগী এবং অন্যান্য বীমা / নগদ অর্থ প্রদানকারী রোগী উভয়ই নিতে পারেন। রাজ্য সরকার নির্দেশ দিয়েছে যে বেসরকারী হাসপাতালের কোভিড-১৯ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা রোগীদের শয্যার ৫০% জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাঠানো রোগীদের জন্য সংরক্ষণ করে রাখতে হবে।[৬৫]

প্রযুক্তি[সম্পাদনা]

কোভিড-১৯ অতিমারীর কারণে উদ্ভূত কাজগুলি সরকারী কর্মাধ্যক্ষেরা যাতে ঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারেন সেই উদ্দেশ্যে অন্য অনেকগুলি রাজ্যের মত কর্ণাটকও প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ইন-হাউস প্রোগ্রামারদের একটি দলের মাধ্যমে, দেশে অতিমারী শুরু হওয়ার প্রথম তিন মাসের মধ্যে এই রাজ্যে সংক্রামিতের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তির খোঁজের জন্য অ্যাপ্লিকেশন সহ একাধিক মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন চালু হয়েছিল। সংস্পর্শের খোঁজ রাখা ছাড়াও, এই রাজ্য কর্ণাটকে ফিরে আসা যাত্রীদের কোয়ারেন্টাইন রক্ষণ ও নজরদারি রাখতে 'কোয়ারানটাইন ওয়াচ', আন্তর্জাতিক যাত্রীদের অনুসরণ করতে 'যাত্রী ওয়েব অ্যাপ' এবং রাজ্যের সমস্ত সংকটপূর্ণ রোগীদের খোঁজ রাখতে 'ক্রিটিকাল রোগী ট্র্যাকিং সিস্টেম' চালু করেছিল। এছাড়া রাজ্যে আগত লোকদের খোঁজ রাখার জন্য "প্রত্যহ রেল এবং বিমান যাত্রী আগমন ট্র্যাকিং" এর মতো অন্যান্য অ্যাপ্লিকেশনগুলি তৈরি করা হয়েছিল। "স্বাস্থ্য নজরদারি অ্যাপ্লিকেশন" দিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা দ্বারা ঘরে ঘরে জরিপের ডেটা রেকর্ড করেছে এবং দুর্বল পরিবারগুলি শনাক্ত করেছে। সংগৃহীত উপাত্ত আপদমিত্রের মতো অন্যান্য অ্যাপ্লিকেশনগুলিতে যোগান দেওয়া হয়েছিল এবং স্বাস্থ্য বিভাগ তা ব্যবহার করেছিল পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।[৬৬]

আনলকের পরে বৃদ্ধি[সম্পাদনা]

আনলক-১ এর পর, রাজ্যজুড়ে সংক্রমণে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যায়, বিশেষত রাজধানী বেঙ্গালুরুতে। সংক্রমণের সংখ্যা ২৬শে জুন মাত্র ১১,০০৫ থেকে বেড়ে জুলাইয়ের ৫ তারিখের মধ্যে হয়ে গিয়েছিল ২৩,৪৭৪ জন।[৬৭]

স্থানীয়ভাবে লকডাউন[সম্পাদনা]

রাজ্যের বিভিন্ন অংশে ক্রমবর্ধমান সংক্রমণের কারণে, অনেক জেলা লকডাউন ব্যবস্থা পুনরায় চালু করে। মুখ্যমন্ত্রী বিএস ইয়েদুরাপ্পা ঘোষণা করেন যে, রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ১৪ই জুলাই থেকে বেঙ্গালুরু ৭ দিনের জন্য লকডাউনের অধীনে থাকবে।[৬৮] বেঙ্গালুরুকে অনুসরণ করে কর্ণাটকের আরও তিনটি জেলা-দক্ষিণ কন্নড়, ধরওয়াড় ও কালাবুরাগীতে ৭-১০ দিনের জন্য পুনরায় লকডাউন চালু করা হয়।[৬৯]

প্রভাব[সম্পাদনা]

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

করোনভাইরাসের কারণে ১ কোটিরও বেশি চাকরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। করোনা সংরমণ থেকে ধ্বস নামা প্রতিহত করতে, শুক্রবার সরকারের আদেশবলে বাণিজ্য, শিল্প এবং সামাজিক সমাবেশের স্থানগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়। লকডাউনের ঠিক প্রথম ২৪ ঘন্টার মধ্যে শহরটি একটি অশরীরী নগরীতে পরিণত হয়ে যায়। একই সময়, শহরের ক্রয় এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতাও হ্রাস পায়। আর্থিক বিশেষজ্ঞরা ক্ষতির পরিমাপ করার জন্য একত্র হন। ফেডারেশন অফ কর্ণাটকের চেম্বারস অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির কর বিশেষজ্ঞ বি.টি. মনোহর সতর্ক করে বলেন যে, যদি লকডাউন এক সপ্তাহও স্থায়ী হয়, তাহলে শুধুমাত্র রাজ্যে পণ্য ও পরিষেবাদি ট্যাক্সের ক্ষতি এবং বিক্রয় করের রাজস্ব ক্ষতি প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা হবে।[৭০]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

দেশব্যাপী লকডাউনের কারণে, কর্ণাটক সরকার এসএসএলসি (দশম শ্রেণি) পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে দেয়।[৭১] নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বাৎসরিক পরীক্ষা সরকার বাতিল করে দেয়।[৭২] রাজ্যের শিক্ষা বিভাগও রাজ্যের সমস্ত স্কুলকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের ভর্তি প্রক্রিয়া স্থগিত করার আদেশ জারি করে।[৭৩]

বিনোদন[সম্পাদনা]

অতিমারী এবং তার পরবর্তী লকডাউনের কারণে, রাজ্যের সমস্ত প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। চলচ্চিত্র প্রযোজনার কার্যক্রম, যা রাজ্যের হাজার হাজার মানুষের জন্য জীবিকার ব্যবস্থা করে, তা স্থগিত হয়ে গিয়েছিল। কোটিগোব্বার মতো বেশ কয়েকটি সুপরিচিত কন্নড় চলচ্চিত্রের প্রযোজক সুরাপ্পা বাবু অভিমত ব্যক্ত করেন যে, অতিমারী এবং লকডাউনের ফলে কর্ণাটকের চলচ্চিত্র শিল্প প্রায় ২০০ কোটি টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। বেশ কয়েকটি স্বল্প বাজেটের কন্নড় চলচ্চিত্রের নির্মাতারা প্রেক্ষাগৃহে ছবি মুক্তি এড়িয়ে ভবিষ্যতে অ্যামাজন প্রাইম এর মতো ওটিটি (ওভার দ্য টপ) প্ল্যাটফর্মে ছবি মুক্তির কথা বিবেচনা করতে শুরু করেন।[৭৪]

অতিমারীর পর, কর্ণাটকে টিভি অনুষ্ঠানের চিত্রগ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়, নির্মাতারা ধারাবাহিকের পুরানো পর্বগুলি পুনরায় সম্প্রচার করতে বা হঠাৎ তাঁদের ধারাবাহিকগুলি শেষ করে দিতে বাধ্য হন।[৭৫] থিয়েটার শিল্পেও অতিমারীর মারাত্মক প্রভাব পড়েছিল। অনেক থিয়েটার গ্রুপ রাজ্য জুড়ে বার্ষিক মেলা এবং দেবদেবীদের রথ উৎসবের অনুষ্ঠানের উপর নির্ভরশীল ছিল, যেগুলি বেশিরভাগ জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চলত। লকডাউনের কারণে এ জাতীয় সমস্ত সমাবেশ এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়।[৭৬]

পরিসংখ্যান[সম্পাদনা]

মোট নিশ্চিত হওয়া সংক্রমণ, সক্রিয় সংক্রমণ, নিরাময় এবং মৃত্যু[সম্পাদনা]

  মোট নিশ্চিত হওয়া সংক্রমণ   

  সক্রিয় সংক্রমণ   

  নিরাময়   

  মৃত্যু

প্রতিদিনের নতুন সংক্রমণ[সম্পাদনা]

  প্রতিদিনের নতুন সংক্রমণ

প্রতিদিন নতুন মৃত্যুর সংখ্যা[সম্পাদনা]

  প্রতিদিন নতুন মৃত্যুর সংখ্যা

প্রতিদিন নতুন পরীক্ষার সংখ্যা[সম্পাদনা]

  প্রতিদিন নতুন পরীক্ষার সংখ্যা

ভুল তথ্য[সম্পাদনা]

পোল্ট্রি থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে এমন গুজবের বিরুদ্ধে একটি প্রকাশ্য প্রজ্ঞাপন জারি করতে হয় কর্ণাটকের পশুপালন ও মৎস্য বিভাগকে। হাঁস-মুরগিতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ না থাকায় জনগণকে এই জাতীয় সামাজিক যোগাযোগের বার্তাগুলিতে মনোযোগ না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। স্পষ্ট করে জানানো হয় যে এই ভাইরাসটি কেবল সংক্রামিত ব্যক্তির সংস্পর্শে ছড়িয়ে পড়ে।[৭৭] একইভাবে, একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার একজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে বেঙ্গালুরু কেন্দ্রীয় অপরাধ শাখা সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিজনক বিষয়বস্তু প্রচার করার অপরাধে একটি মামলা করে।[৭৮][৭৯][৮০]

বেঙ্গালুরুর শহরতলির পদারায়ণপুরায় যখন বিবিএমপি এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সংক্রামিত ব্যক্তিদের প্রাথমিক ও দ্বিতীয় সংস্পর্শের জন্য সরকার পরিচালিত পৃথকীকরণ গৃহে থাকার ব্যবস্থা করতে এসেছিলেন, তখন সেখানকার কিছু বাসিন্দা সেই স্থানে দাঙ্গা করে এবং বিবিএমপি সম্পদ ধ্বংস করার চেষ্টা করে এবং তাঁদের উপর হামলা করে। দাঙ্গার অভিযোগে পুলিশ ওই এলাকার ৬৭ জন বাসিন্দার বিরুদ্ধে এফআইআর নথিভুক্ত করে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা জামির আহমদ মন্তব্য করেন; যে পরিস্থিতিতে থেকে দাঙ্গা এবং অগ্নিসংযোগের মত ঘটনা ঘটেছিল সেগুলি ভুল তথ্য ছড়ানো এবং বাসিন্দাদের মধ্যে সচেতনতার অভাবের কারণে ঘটেছিল। আধিকারিকদের উচিত ছিল ঘটনাস্থলটি দেখার জন্য আমার অনুমতি নেওয়া। কিছু বাসিন্দা, এমনকি যুক্তি দিয়েছিলেন যে আধিকারিকদের উচিত নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে লোকেদের পৃথকীকরণ গৃহে নিয়ে যাওয়া।[৮১][৮২]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "COVID – 19, DASHBOARD"karunadu.karnataka.gov.in। ১৯ এপ্রিল ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ এপ্রিল ২০২০ 
  2. "Coronavirus: Karnataka becomes first state to invoke provisions of Epidemic Diseases Act, 1897 amid COVID-19 fear"Deccan Herald। ২২ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৩ মার্চ ২০২০ 
  3. "covid19.karnataka.gov.in" (PDF)। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মে ২০২০ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  4. "One Intel employee in Bengaluru potentially exposed to coronavirus, under quarantine"The Economic Times। ৪ মার্চ ২০২০। ৫ এপ্রিল ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মার্চ ২০২০ 
  5. "India COVID-19 coronavirus by city and state"Pharmaceutical Technology। ১৭ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মার্চ ২০২০ 
  6. "India COVID-19 coronavirus by city and state"The Economic Times। ১১ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মার্চ ২০২০ 
  7. Rashmi Belur (৯ মার্চ ২০২০)। "Coronavirus: Holiday for all LKG, UKG, pre-primary schools in Bengaluru due to COVID-19"Deccan Herald 
  8. "Kin of Karnataka COVID-19 victim tests positive, 7th case in state"thenewsminute.com। ১৫ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মার্চ ২০২০ 
  9. "US returnee tests positive for virus, cases touch 8 in Karnataka"firstpost.com। ১৬ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মার্চ ২০২০ 
  10. "Coronavirus: 2 new Covid-19 cases in Karnataka, total 10"indiatoday.in। ১৭ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মার্চ ২০২০ 
  11. "Karnataka doctor who treated Coronavirus-infected man tests positive"The Economic Times। ১৭ মার্চ ২০২০। ১৯ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মার্চ ২০২০ 
  12. "Another coronavirus case in Bengaluru: 67-year-old, who returned from Dubai, tests positive" [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  13. "Two more positive coronavirus cases reported in Bengaluru"The Times of India। ১৮ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মার্চ ২০২০ 
  14. "Three more COVID-19 cases in Karnataka, number goes up to 14"Deccan Herald। ১৮ মার্চ ২০২০। ২৯ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মার্চ ২০২০ 
  15. "Kodagu records first positive case of COVID-19"Deccan Herald। ১৯ মার্চ ২০২০। ২৯ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মার্চ ২০২০ 
  16. "Man from Gauribidanur in Karnataka tests positive for coronavirus"Deccan Herald। ১৯ মার্চ ২০২০। ২১ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মার্চ ২০২০ 
  17. "ಒಂದೇ ದಿನ 5 ಪ್ರಕರಣ"Prajavani। ২২ মার্চ ২০২০। ২২ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ মার্চ ২০২০ 
  18. "MEDIA BULLETIN: Till date Twenty COVID-19 positive cases have been confirmed in the state which includes one death" (PDF)GOVERNMENT OF KARNATAKA, DEPARTMENT OF HEALTH AND FAMILY WELFARE SERVICES,BENGALURU। ২২ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ আগস্ট ২০২০ 
  19. "NOVEL CORONAVIRUS (COVID-19)MEDIA BULLETIN" (PDF)karunadu.karnataka.gov.in। ২৩ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০২০ 
  20. "Media Bulletin" (PDF)Drpartment of health and family welfare services,Karnataka। ২৫ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ এপ্রিল ২০২০ 
  21. "Coronavirus in Karnataka: 41 cases so far, Bengaluru uses drones to spray disinfectants"The Indian Express। ২৪ মার্চ ২০২০। ২৪ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মার্চ ২০২০ 
  22. "Coronavirus in Karnataka: With four new cases, Karnataka now has a total of 55 coronavirus patients"Business Insider। ২৬ মার্চ ২০২০। ২৬ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ মার্চ ২০২০ 
  23. "MEDIA BULLETIN" (PDF)DEPARTMENT OF HEALTH AND FAMILY WELFARE SERVICES,KARNATAKA। ২৬ মার্চ ২০২০। ২৭ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ মার্চ ২০২০ 
  24. "MEDIA BULLETIN" (PDF)DEPARTMENT OF HEALTH AND FAMILY WELFARE SERVICES,KARNATAKA। ২৭ মার্চ ২০২০। ২৭ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মার্চ ২০২০ 
  25. "MEDIA BULLETIN" (PDF)DEPARTMENT OF HEALTH AND FAMILY WELFARE SERVICES,KARNATAKA। ২৯ মার্চ ২০২০। ২৯ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মার্চ ২০২০ 
  26. "MEDIA BULLETIN" (PDF)DEPARTMENT OF HEALTH AND FAMILY WELFARE SERVICES,KARNATAKA। ৩০ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মার্চ ২০২০ 
  27. "Media Bullitin" (PDF)MoHFW। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুন ২০২০ 
  28. "11 people linked to Tablighi meet test positive for Covid-19"The Times of India। ২ এপ্রিল ২০২০। ২ এপ্রিল ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ এপ্রিল ২০২০ 
  29. "Media Bullitin" (PDF)MoHFW 
  30. "70-year-old man tests positive in Karnataka, first case in Bagalkot"The New Indian Express। ৬ এপ্রিল ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ এপ্রিল ২০২০ 
  31. "Media Bulletin" (PDF)Drpartment of health and family welfare services,Karnataka। ৪ এপ্রিল ২০২০ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৪ এপ্রিল ২০২০ 
  32. "Media Bulletin" (PDF)Drpartment of health and family welfare services,Karnataka। ৪ এপ্রিল ২০২০ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৪ এপ্রিল ২০২০ 
  33. "Bengaluru's mystery Covid-19 cases"Bangalore Mirror। ১০ এপ্রিল ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১৩ এপ্রিল ২০২০ 
  34. "Media Bulletin" (PDF)Department of health and family welfare services,Karnataka। ১১ এপ্রিল ২০২০ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ এপ্রিল ২০২০ 
  35. "Media Bullitin 12 Apr" (PDF)MoHFW 
  36. "Migrant labourer from Bihar creates coronavirus scare in Bengaluru"। সংগ্রহের তারিখ ২৩ এপ্রিল ২০২০ 
  37. "Coronavirus: Holiday for all LKG, UKG, pre-primary schools in Bengaluru due to COVID-19"Deccan Herald। ১৮ মার্চ ২০২০। 
  38. "Class 7–9 exams postponed in Karnataka due to coronavirus"Deccan Herald। ১৮ মার্চ ২০২০। ২৮ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৬ মার্চ ২০২০ 
  39. "Coronavirus: Karnataka shuts down schools, malls, theatres for a week"livemint.com। ১৩ মার্চ ২০২০। ১৪ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মার্চ ২০২০ 
  40. "Karnataka closes border with Kerala after 6 COVID-19 cases reported in Kasargod"The Week। ২১ মার্চ ২০২০। ২২ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ মার্চ ২০২০ 
  41. "Coronavirus: Nine districts, including Bengaluru, under lockdown"Deccan Herald। ২২ মার্চ ২০২০। ২২ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ মার্চ ২০২০ 
  42. "India lockdown for 21 days"The Times of India। ২৩ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ মার্চ ২০২০ 
  43. "Media Bulletin" (PDF)karunadu.karnataka.gov.in। ২৮ মার্চ ২০২০। ২৮ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ আগস্ট ২০২০ 
  44. "covid19.karnataka.gov.in"। সংগ্রহের তারিখ ১৮ এপ্রিল ২০২০ 
  45. "covid19.karnataka.gov.in" (PDF)। সংগ্রহের তারিখ ২৫ এপ্রিল ২০২০ 
  46. "Coronavirus effect: Ramzan congregational prayers, food streets banned till May 3 | Deccan Herald"। সংগ্রহের তারিখ ২৫ এপ্রিল ২০২০ 
  47. "Karnataka for stricter lockdown from today; relaxation of norms likely after April 20"The Hindu। ১৫ এপ্রিল ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১৬ এপ্রিল ২০২০ 
  48. "MHA Guidelines on Lockdown: Complete text of guidelines for lockdown 2.0 | India News – Times of India"। সংগ্রহের তারিখ ২৭ এপ্রিল ২০২০ 
  49. "Coronavirus lockdown guidelines: What has India changed under new rules?"BBC News। ১৫ এপ্রিল ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১৬ এপ্রিল ২০২০ 
  50. "Lockdown extended till May 17. Relaxations in green and orange zones | India News – India TV"। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-০৭ 
  51. "India's lockdown extended by two weeks, till May 17 | The News Minute"। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-০৭ 
  52. "Lockdown 4.0: Karnataka announces slew of relaxations, here are the services to resume- The New Indian Express"। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-১৯ 
  53. "Karnataka Lockdown 4.0 Guidelines: Bus, auto, taxi allowed; shopping malls to remain shut — Full Details - The Financial Express"। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-১৯ 
  54. "Karnataka announces partial relaxation of lockdown from 23 April outside containment zones"। ২২ এপ্রিল ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২৪ এপ্রিল ২০২০ 
  55. "Partial relaxation of lockdown in Karnataka from April 23: Here's what's allowed- The New Indian Express"। সংগ্রহের তারিখ ২৪ এপ্রিল ২০২০ 
  56. "Karnataka lockdown | Karnataka UNLOCK 1: Lockdown to continue; phase-wise lifting of restrictions | India News"। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-০৮ 
  57. "Coronavirus: Unlock 1 welcome, but with precautions | Deccan Herald"। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-০৮ 
  58. "PM lauds Karnatakas Covid fight, says CM"। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুন ২০২০ 
  59. "COVID-19: Centre lauds Karnataka's IT-based model of comprehensive contact tracing, house-to-house survey"। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুন ২০২০ 
  60. "Community transmission has begun in Bengaluru"। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-২২ 
  61. "Karnataka to raise COVID-19 testing to 25,000 samples daily"। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-২২ 
  62. "Karnataka directs random COVID-19 testing to ensure effective surveillance"। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-০৮ 
  63. Choudhary, Srishti (২ এপ্রিল ২০২০)। "India's first paper-strip test for Covid-19, CSIR lab makes a breakthrough"LiveMint। সংগ্রহের তারিখ ১৪ এপ্রিল ২০২০ 
  64. "COVID-19 bed occupancy jumps from 2% to 13.1% in Karnataka"। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-০৮ 
  65. "Karnataka fixes rates for COVID-19 treatment in private hospitals"। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-০৮ 
  66. "How Karnataka's turn to technology created a successful contact tracing approach"। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-০৮ 
  67. "Covid surge in Karnataka leaves no room for complacency"। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-১৭ 
  68. "Bengaluru Is Lockdown City Once Again"। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-১৭ 
  69. "Karnataka Lockdown News Today: After Bengaluru, 'Complete Shutdown' Re-imposed in Dakshina Kannada, Dharwad And Kalaburagi Districts"। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-১৭ 
  70. "Karnataka:Coronavirus clampdown hits over 1 crore jobs"Deccan Herald। ১৮ মার্চ ২০২০। ১৭ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মার্চ ২০২০ 
  71. "Uncertainty over SSLC examination continues in Karnataka"The Hindu। ২ এপ্রিল ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১৫ এপ্রিল ২০২০ 
  72. "COVID-19: Karnataka govt cancels class 7, 8, 9 exams"Deccan Herald। ১৪ এপ্রিল ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১৫ এপ্রিল ২০২০ 
  73. "Karnataka Education Department directs all schools in state to not begin admissions"City Today। ২৮ মার্চ ২০২০। ২৮ জুলাই ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ এপ্রিল ২০২০ 
  74. "Covid, death warrant for some; lifeline for others in Kannada filmdom"। ৩ মে ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুন ২০২০ 
  75. "Coronavirus pandemic takes its toll on Kannada TV shows, many stop midway"। ২৪ এপ্রিল ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুন ২০২০ 
  76. "Professional theatre artistes in dire straits during COVID-19 lockdown"। ১৩ জুন ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুন ২০২০ 
  77. "Karnataka issues notification against rumors of coronavirus spreading from poultry"newsonair.com। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মার্চ ২০২০ 
  78. "Infosys sacks employee arrested in Bengaluru for 'spread the virus' post"। ২৮ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ এপ্রিল ২০২০ 
  79. "Infosys employee arrested for social media post urging people to 'spread the virus'"। ৬ এপ্রিল ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ এপ্রিল ২০২০ 
  80. "Coronavirus: Infosys engineer asks people to 'spread the virus', sacked"। ২৯ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ এপ্রিল ২০২০ 
  81. "67 residents arrested for vandalising police checkpoint in Padaraayanapura | Deccan Herald"। সংগ্রহের তারিখ ২২ এপ্রিল ২০২০ 
  82. "Padarayanapura residents blame breakdown in communication – The Hindu"। সংগ্রহের তারিখ ২২ এপ্রিল ২০২০ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:COVID-19 pandemic in India