ইরানের ভূগোল

সৌদি আরবের পর ইরান মধ্যপ্রাচ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। দেশটির মোট আয়তন ১,৬৪৮,০০০ বর্গকিলোমিটার। দেশটি মোটামুটি ত্রিভুজাকৃতির, যার দীর্ঘতম বাহু প্রায় ২,৫০০ কিমি দীর্ঘ এবং যা উত্তর-পশ্চিমে তুরস্কের সাথে সীমান্তে শুরু হয়ে দক্ষিণ-পূর্বে পাকিস্তান সীমান্তে এসে শেষ হয়েছে। ত্রিভুজের তৃতীয় শীর্ষটি উত্তর পূর্বে ইরানের সাথে তুর্কমেনিস্তানের সীমানার মাঝামাঝি অবস্থিত। উত্তর-দক্ষিণে ইরানের সর্বোচ্চ বিস্তার ১,৬০০ কিমি, আর পূর্ব-পশ্চিমে ১,৭০০ কিমি।
প্রাকৃতিক অঞ্চলসমূহ
[সম্পাদনা]ইরানের অভ্যন্তরীণ মালভূমিগুলি প্রায় সম্পূর্ণরূপে পর্বতবেষ্টিত। জগ্রোস পর্বতমালা প্রধান পর্বতমালা এবং এটি দেশটির ভেতরে দিয়ে উত্তর-পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-পূর্বে ১,৬০০ কিলোমিটারেরও বেশি দৈর্ঘ্য জুড়ে বিস্তৃত। পারস্য উপসাগরের উত্তর উপকূলের খোঁজেস্তন ছাড়া পশ্চিম ইরানের প্রায় পুরোটাই জগ্রোস পর্বতমালায় গঠিত। পর্বতমালাটির মধ্য অংশ প্রস্থে প্রায় ৩৪০ কিমি চওড়া। এর অধিকাংশ চূড়া ৪,০০০ মিটারেরও অধিক উচ্চতাবিশিষ্ট। এদের মধ্যে ৪,৫৪৭ মিটার উঁচু জার্দ কুহ সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। ২,৩০০ মিটারের চেয়ে উঁচু শৃঙ্গগুলিতে অনেক পানি জমা হয় এবং এগুলি নিচের উপত্যকায় ভূ-গর্ভস্থ পানি আকারে নেমে আসে। এই উপত্যকাগুলি সমুদ্রতল থেকে ১২০০ থেকে ১৫০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত হলেও যথেষ্ট উর্বর এবং এগুলিতে বিভিন্ন ধরনের শস্যের আবাদ করা হয়।
ইরানের উত্তর প্রান্তে একটি খাড়া, সরু পর্বতমালা কাস্পিয়ান সাগরের পুরো দক্ষিণ তীর জুড়ে অবস্থিত; এর নাম আলবুরজ পর্বতমালা। এই পর্বতমালাটি প্রায় ৬০০ কিমি দীর্ঘ এবং এর গড় প্রস্থ প্রায় ১০০ কিমি। ইরানের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ দামভান্দ (৫,৬৭০ মি) এই পর্বতমালার মধ্যভাগে অবস্থিত। আলবোর্জের আরও অনেকগুলি চূড়া ৩,৬০০ মিটার ছাড়িয়ে গেছে। এই পর্বতমালার উত্তর ঢালের অরণ্যে সারা বছর ধরে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়। এই পর্বতমালা ও কাস্পিয়ান সাগরের অন্তর্বর্তী স্থানে গড়ে ২৪ কিমি প্রস্থবিশিষ্ট একটি উর্বর সমভূমি আছে। আলবোর্জ পর্বতমালার পূর্বে সমান্তরাল কতগুলি পর্বতমালা রয়েছে, যেগুলি ২৪০০ থেকে ২৭০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। এই পর্বতমালাগুলির মাঝে অনেক সরু, আবাদী উপত্যকা আছে। ইরানের পূর্ব সীমান্ত ধরে অনেকগুলি অপেক্ষাকৃত নিম্ন উচ্চতার শৈলশিরা চলে গেছে; এদেরকে একত্রে পূর্বের উঁচু অঞ্চল নামে ডাকা হয়।
এই পর্বতমালার বেষ্টনীর মাঝের নিচু এলাকাকে একত্রে কেন্দ্রীয় মালভূমি নামে ডাকা হয়। এদের মধ্যে আছে মধ্য-উত্তর ইরানের দাশ্তে কাভির নামের একটি বিরাট লবণাক্ত মরুভূমি, দক্ষিণ-পূর্বের দাশ্তে লুত নামের নুড়ি ও বালির মরুভূমি এবং একাধিক উর্বর মরূদ্যান।
ইরানের পর্বতগুলি একটি সক্রিয় ভূমিকম্প এলাকার উপর অবস্থিত, এবং প্রতি বছর এখানে বহু ছোট আকারের ভূমিকম্প হয়। বড় আকারের ভূমিকম্প কিছুদিন পর পরই ঘটে এবং বিপুল ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ১৮শ শতকে ভূমিকম্পের কারণে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবরিজ শহর দুইবার মাটিতে মিশে যায় এবং প্রতিবার প্রায় ৪০,০০০ করে লোক মারা যায়। ২০শ শতকের মধ্যভাগ থেকে দেশটিতে অনেকগুলি বড় আকারের ভূমিকম্প ঘটেছে যাতে হাজার হাজার লোকের প্রাণহানি ঘটেছে। ১৯৯০ সালের জুনে আলবোর্জ ও জগ্রোসের মিলনস্থলে একটি ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রায় ৩৭,০০০ লোক মারা যান। ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ ইরানে এক ভূমিকম্পে প্রাচীন নগরী বামের অধিকাংশ ধ্বংস হয়ে যায় এবং প্রায় ৩০,০০০ লোক মারা যান। ইরানের অনেকগুলি পর্বত আগ্নেয়। এদের মধ্যে কেবল দামভান্দ পর্বত ও দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের কুহে তাফতান সক্রিয় আগ্নেয়গিরি; এদের চূড়ার কাছে কিছু সময় পর পর গ্যাস নিঃসরিত হয়।
- চিত্রশালা
- দক্ষিণ আলবোর্জ ফিরোজকুহের কাছে
- কবির মরুভূমি, কাশান
- মাউন্ট ডামাভান্দ, মজান্দারান এর বায়বীয় দৃশ্য
- উত্তর ইরান, গিলান
এলাকা এবং সীমানা
[সম্পাদনা]
- এলাকা
- মোট: ১৬,৪৮,১৯৫ কিমি২ (৬,৩৬,৩৭২ মা২) [১]
- বিশ্বে দেশের স্থান: ১৭তম
- ভূমি: ১৫,৩১,৫৯৫ কিমি২ (৫,৯১,৩৫২ মা২)
- পানি: ১,১৬,৬০০ কিমি২ (৪৫,০০০ মা২)
- মোট: ১৬,৪৮,১৯৫ কিমি২ (৬,৩৬,৩৭২ মা২) [১]
- এলাকা তুলনামূলক
- অস্ট্রেলিয়া তুলনামূলক: কুইন্সল্যান্ডের তুলনায় সামান্য ছোট
- কানাডা তুলনামূলক: ক্যুবেকের চেয়ে সামান্য বড়
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনামূলক: আলাস্কার চেয়ে সামান্য বড়
- ইইউ তুলনামূলক: মেট্রোপলিটন ফ্রান্সের আকারের তিনগুণেরও বেশি
- স্থল সীমানা
- মোট:
- ৫,৮৯৪ কিলোমিটার (৩,৬৬২ মাইল)
- সীমান্তবর্তী দেশ: আফগানিস্তান ৯২১ কিলোমিটার (৫৭২ মাইল), আর্মেনিয়া ৪৪ কিলোমিটার (২৭ মাইল), আজারবাইজান - যথাযথ ৪৩২ কিলোমিটার (২৬৮ মাইল), আজারবাইজান- নাখচিভান এক্সক্লেভ ১৭৯ কিলোমিটার (১১১ মাইল), ইরাক ১,৫৯৯ কিলোমিটার (৯৯৪ মাইল), পাকিস্তান ৯০৯ কিলোমিটার (৫৬৫ মাইল), তুরস্ক ৫৩৪ কিলোমিটার (৩৩২ মাইল), তুর্কমেনিস্তান ১,১৪৮ কিলোমিটার (৭১৩ মাইল) ।
- মোট:
- সামুদ্রিক সীমানা
- উপকূলরেখা
- ২,৮১৫ কিলোমিটার (১,৭৪৯ মাইল)
- দ্রষ্টব্য: ইরানও ক্যাস্পিয়ান সাগরের সাথে ৭৪০ কিলোমিটার (৪৬০ মাইল) সীমানা রয়েছে
- ২,৮১৫ কিলোমিটার (১,৭৪৯ মাইল)
- সামুদ্রিক দাবি
- আঞ্চলিক সমুদ্র: ১২ নটিক্যাল মাইল (২২.২ কিমি; ১৩.৮ মা)
- সংলগ্ন অঞ্চল: ২৪ নটিক্যাল মাইল (৪৪.৪ কিমি; ২৭.৬ মা)
- একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল : ১,৬৮,৭১৮ কিমি২ (৬৫,১৪২ মা২) ২ (৬৫,১৪২) বর্গক্ষেত্র mi) দ্বিপাক্ষিক চুক্তি, অথবা পারস্য উপসাগরে মধ্যরেখা সহ
- মহাদেশীয় তাক: প্রাকৃতিক প্রসারণ
- উচ্চতা চরম
- সর্বনিম্ন বিন্দু: ক্যাস্পিয়ান সাগর −২৮ মিটার (−৯২ ফুট)
- সর্বোচ্চ বিন্দু: মাউন্ট দামাভান্ড ৫,৬১০ মিটার (১৮,৪১০ ফুট)
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]- ↑ "Land area (sq. km) – Data"। data.worldbank.org। ২৯ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।