ইরানের রাজনীতি
ইসলামি প্রজাতন্ত্রী ইরানের রাজনীতি سیاست جمهوری اسلامی ایران | |
|---|---|
| রাষ্ট্রের ধরন | একক খোমেনীয় রাষ্ট্রপতি-শাসিত ধর্মরাষ্ট্রীয় ইসলামি প্রজাতন্ত্র |
| সংবিধান | ইসলামি প্রজাতন্ত্রী ইরানের সংবিধান |
| গঠন | ১ এপ্রিল ১৯৭৯ |
| আইনসভা | |
| নাম | ইসলামী পরামর্শদায়ক সমাবেশ |
| ধরন | এককক্ষবিশিষ্ট |
| সভাস্থল | বাহারেস্তান, তেহরান |
| সভাপতি | আলি লারিজানি, সংসদের স্পিকার |
| নির্বাহী বিভাগ | |
| রাষ্ট্রপ্রধান | |
| উপাধি | ইসলামি বিপ্লবের শীর্ষ নেতা |
| বর্তমান | আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই |
| নিয়োগদাতা | অভিজ্ঞদের পরিষদ |
| সরকারপ্রধান | |
| উপাধি | রাষ্ট্রপতি |
| বর্তমান | মাসুদ পেজেশকিয়ান |
| নিয়োগদাতা | সরাসরি ভোট |
| মন্ত্রিসভা | |
| নাম | ইরানের মন্ত্রিসভা |
| বর্তমান মন্ত্রিসভা | হাসান রুহানির মন্ত্রিসভা |
| নেতা | রাষ্ট্রপতি |
| উপনেতা | উপ রাষ্ট্রপতি |
| নিয়োগদাতা | রাষ্ট্রপতি |
| সদরদপ্তর | সাদাবাদ কমপ্লেক্স |
| মন্ত্রিসভা | ১৮ |
| বিচার বিভাগ | |
| নাম | ইরানের আইন ব্যবস্থা |
| আদালত | ইরানের আদালত |
| সুপ্রিম আদালত | |
| প্রধান বিচারপতি | ইব্রাহিম রাইসি |
| আসন | তেহরানের আদালত |
ইরানের রাজনীতি ধর্মরাষ্ট্র ও রাষ্ট্রপতি-শাসিত গণতন্ত্রের সংমিশ্রণে গঠিত। ১৯৭৯ সালের ডিসেম্বরের সংবিধান এবং এর ১৯৮৯ সালের সংশোধনীতে ইসলামি প্রজাতন্ত্রী ইরানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ও সামাজিক ক্রমের সংজ্ঞা প্রদান করে এবং উল্লেখ করে যে দ্বাদশবাদি শাখার শিয়া ইসলাম ইরানের দাপ্তরিক ধর্ম।
ইরানের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একজন রাষ্ট্রপতি, একটি সংসদ (বা মজলিস), একটি অভিজ্ঞদের পরিষদ রয়েছে, যারা শীর্ষ নেতা ও স্থানীয় উপদেষ্টা নির্বাচন করেন। সংবিধান অনুসারে এই সকল পদের জন্য সকল প্রার্থীদের নির্বাচনের পূর্বে প্রধান কাউন্সিলের দ্বারা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষিত হবে। এছাড়া "রাষ্ট্রের ইসলামি বৈশিষ্টসমূহের সুরক্ষার জন্য" বিভিন্ন সংস্থা থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকে।[১]
বর্তমান পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ
[সম্পাদনা]
| দপ্তর | নাম | চিত্র | মেয়াদ |
|---|---|---|---|
| শীর্ষ নেতা | আলি খামেনেই | ৪ জুন ১৯৮৯ | |
| রাষ্ট্রপতি | মাসুদ পেজেশকিয়ান | ২৮ জুলাই ২০২৪ | |
| সংসদের স্পিকার | আলি লারিজানি | ২ মে ২০০৮ | |
| প্রধান বিচারপতি | গোলাম-হোসেন মোহসেনী-এজেই | ১ জুলাই ২০২১ |
রাজনৈতিক অবস্থা
[সম্পাদনা]শীর্ষ নেতা
[সম্পাদনা]ইরানের শীর্ষ নেতা[২] হলেন ইরানের রাষ্ট্রপ্রধান এবং সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ (রাষ্ট্রপতিরও উপরে)। সশস্ত্র বাহিনী, আইন ব্যবস্থা, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সংস্থাসমূহ শীর্ষ নেতার অধীনস্থ। ইরানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র দুজন শীর্ষ নেতা হয়েছেন। বর্তমান নেতা আলি খামেনেই ১৯৮৯ সালে থেকে ক্ষমতায় রয়েছেন। তার ক্ষমতা ইরানে ডিক্রি ইস্যু করা থেকে শুরু করে অর্থনীতি, পরিবেশ, বৈদেশিক নীতি, শিক্ষা, জনসংখ্যা বৃদ্ধির জাতীয় পরিকল্পনা,[৩][৪][৫][৬][৭][৮][৯][১০] নির্বাচনে স্বচ্ছতা পর্যন্ত বিস্তৃত।[১১] রাষ্ট্রপতি-শাসিত মন্ত্রিসভা শীর্ষ নেতাকে বরখাস্ত ও পুনঃপদায়ন করতে পারে।[১২][১৩]
অভিজ্ঞদের পরিষদ শীর্ষ নেতাকে নিয়োগ প্রদান করে এবং তদারকি করে। অভিজ্ঞদের পরিষদ, রাষ্ট্রপতি, ও মজলিসের সকল প্রার্থীদের নির্বাচন করে একটি অভিভাবক পরিষদ, যার অর্ধেক সদস্যদের নির্বাচন করেন ইরানের শীর্ষ নেতা।[১৪] অভিভাবক পরিষদ কর্তৃক সকল সরাসরি নির্বাচিত সদস্যদেরও যাচাই-বাছাইয়ের পরও শীর্ষ নেতার অনুমোদন প্রয়োজন।[১৫][১৬][১৭]
অভিভাবক পরিষদ
[সম্পাদনা]অভিভাবক পরিষদ সাংবিধানিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য ক্ষমতাসম্পন্ন ১২ সদস্য বিশিষ্ট পরিষদ। তারা ইসলামী পরামর্শদায়ক সমাবেশের আইনি বিলগুলো অনুমোদন ও এতে ভেটো দিয়ে থাকে এবং অভিজ্ঞদের পরিষদ, রাষ্ট্রপতি ও সংসদ প্রার্থীদের অনুমোদন বা নিষিদ্ধ করে থাকে।[১৮] ১২ জনের মধ্যে ছয়জনকে নির্বাচন করেন ইরানের শীর্ষ নেতা, তারা ইসলামি ফাকিহ (ইসলামি আইনে অভিজ্ঞ)। বাকি ছয়জনকে মনোনয়ন প্রদান করে শীর্ষ নেতা কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত আইনি ব্যবস্থার প্রধান[১৯] এবং ইরানি সংসদ তাদের অনুমোদন প্রদান করে।[২০]
রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন
[সম্পাদনা]রাষ্ট্রপতি
[সম্পাদনা]| ইরানের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ২০১৭ | |||||
|---|---|---|---|---|---|
| প্রার্থী | দল | ভোট | % | ||
| হাসান রুহানি | মডারেশন অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট পার্টি | ২৩,৬৩৬,৬৫২ | ৫৭.১৪ | ||
| ইব্রাহিম রাইসি | কমবাট্যান্ট ক্লার্জি অ্যাসোসিয়েশন | ১৫,৮৩৫,৭৯৪ | ৩৮.২৮ | ||
| মোস্তফা মীর-সেলিম | ইসলামিক কোয়ালিশন পার্টি | ৪৭৮,২৬৭ | ১.১৬ | ||
| মোস্তফা হাশেমিতাবা | এক্জিকিউটিভস অব কনস্ট্রাকশন পার্টি | ২১৪,৪৪১ | ০.৫২ | ||
| বাতিল/খালি নিবন্ধনকৃত ভোট | ১,২০০,৯৩১ | ২.৯০ | |||
| মোট নিবন্ধনকৃত ভোট | ৪১,৩৬৬,০৮৫ | ১০০ | |||
| নিবন্ধনকৃত ভোট/ফলাফল | ৫৬,৪১০,২৩৪ | ৭৩.৩৩ | |||
| সূত্র:[২১] | |||||
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ বাজারগান, দারিয়ুস (সেপ্টেম্বর ১৯৯৭)। "IRAN: POLITICS, THE MILITARY AND GULF SECURITY আর্কাইভইজে আর্কাইভকৃত ১২ জুলাই ২০১২ তারিখে"। সংখ্যা ১, নং. ৩।
- ↑ ইরানের সংবিধানের ৮৯-৯১ নং অনুচ্ছেদ
- ↑ "Iran's Khamenei hits out at Rafsanjani in rare public rebuke"। মিডল ইস্ট আই (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০১৯।
- ↑ "Khamenei says Iran must go green - Al-Monitor: the Pulse of the Middle East"। আল-মনিটর (ইংরেজি ভাষায়)। ২২ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০১৯।
- ↑ শার্বোনো, লুই; হাফেজি, পারিস (১৬ মে ২০১৪)। "Exclusive: Iran pursues ballistic missile work, complicating nuclear talks"। রয়টার্স (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০১৯।
- ↑ "Asking for a Miracle: Khamenei's Economic Plan"। ইরানওয়্যার (ইংরেজি ভাষায়)। ৭ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০১৯।
- ↑ "'Economic issues, Iran's foremost problem'"। প্রেস টিভি (ইংরেজি ভাষায়)। ২৪ আগস্ট ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০১৯।
- ↑ "Archived copy"। আল-মনিটর (ইংরেজি ভাষায়)। ১ আগস্ট ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০১৯।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: শিরোনাম হিসাবে আর্কাইভকৃত অনুলিপি (লিঙ্ক) - ↑ "Iran: Executive, legislative branch officials endorse privatization plan"। পেভেন্ড (ইংরেজি ভাষায়)। ৩ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০১৯।
- ↑ "Khamenei slams Rouhani as Iran's regime adopted UN education agenda"। দ্য বাগদাদ পোস্ট (ইংরেজি ভাষায়)। ৮ মে ২০১৭। ৩১ মে ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০১৯।
- ↑ "Leader outlines elections guidelines, calls for transparency"। তেহরান টাইমস (ইংরেজি ভাষায়)। ১৫ অক্টোবর ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০১৯।
- ↑ আলি আকবর, দারেইনি। "Iranian lawmakers warn Ahmadinejad to accept intelligence chief as political feud deepens"। সেন্ট অ্যালবার্ট গেজেট (ইংরেজি ভাষায়)। ১৭ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০১৯।
- ↑ "Iranian vice-president 'sacked'"। বিবিসি নিউজ (ইংরেজি ভাষায়)। ২৫ জুলাই ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০১৯।
- ↑ "Rafsanjani breaks taboo over selection of Iran's next supreme leader"। দ্য গার্ডিয়ান (ইংরেজি ভাষায়)। ১৪ ডিসেম্বর ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০১৯।
- ↑ ইরানের সংবিধানের ১০৮ নং অনুচ্ছেদ
- ↑ "ICL - Iran - Constitution"। সেরভাত (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০১৯।
- ↑ "Everything you need to know about Iran's Assembly of Experts election"। ব্রুকিংস (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০১৯।
- ↑ ইরানের সংবিধানের ৯৯ নং অনুচ্ছেদ
- ↑ "The Constitution of the Islamic Republic of Iran" (ইংরেজি ভাষায়)। ১৮ জুন ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০১৯।
- ↑ "Iranian Government Constitution, English Text"। ইরান অনলাইন (ইংরেজি ভাষায়)। ১৭ জুন ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০১৯।
- ↑ "Ministry of Interior"। ১০ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০১৯।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- কার্লিতে Iran Government (ইংরেজি)