খাজুরাহো স্মারকসমূহ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
খাজুরাহো স্মারকসমূহ
ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান
Vishvanath temple khajuraho.jpg
খাজুরাহো মহাদেব মন্দির
মানদণ্ডসাংস্কৃতিক: i, iii
সূত্র২৪০
তালিকাভুক্তকরণ১৯৮৬ (১০ম সভা)

খাজুরাহো স্মারকসমূহ (ইংরেজি: Khajuraho group of Monuments) হল ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ছত্রপুর জেলার খাজুরাহো শহরের নিকটে অবস্থিত প্রাচীন হিন্দু ও জৈন মন্দিরের একটি সমষ্টিক্ষেত্র। এই মন্দিরগুলো হিন্দু নাগররীতির স্থাপত্যের প্রতীক এবং কামোদ্দীপক ভাস্কর্যের জন্য প্রসিদ্ধ।[১]

খাজুরাহো (খর্জুরবাহক) স্মারকসমূহ রাজপুত বংশোদ্ভুত চন্দেল রাজবংশের অধীনে ৯৫০ ও ১০৫০ খ্রীষ্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে নির্মিত।[২] এই সময়টি ছিল উক্ত রাজবংশের শাসনের স্বর্ণযুগ। বর্তমানে এই স্মারকসমূহের যেগুলো অক্ষত অবস্থায় আছে সেগুলো যৌথভাবে হিন্দু ধর্ম এবং জৈন ধর্ম-এর স্থাপত্য।[৩] এগুলোর স্থাপত্যশৈলীতে নানান স্থাপত্যশৈলীর বিস্ময়কর মিশ্রণ দেখা যায়। এই স্থাপত্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন কন্দারিয়া মন্দির। ৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনবিশিষ্ট মন্দিরপ্রাঙ্গণে নির্মিত ৮৫টি মন্দিরের মধ্যে মাত্র ২২টি মন্দির এখনো বিদ্যমান। মধ্যপ্রদেশে অবস্থিত এই অঞ্চলটি ১৯৮২ সালের ১৫ অক্টোবর ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকার[৪] অন্তর্ভুক্ত হয় দ্বাদশ শতাব্দীর মুসলমান-আক্রমণের পূর্বে চন্দেলসংস্কৃতির অনন্য এবং মৌলিক শিল্পকৌশলের নিদর্শন ও প্রমাণ এবং একটি সাংস্কৃতিক সম্পত্তি হিসাবে।[৫][৬]

The layout plan of Kandariya Mahadeva Temple. It uses the 64 pada grid design. Smaller Khajuraho temples use the 9, 16, 36 or 49 grid mandala plan.[৭]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

খাজুরাহো মন্দিরসমূহ দশম শতাব্দীতে চন্দেল রাজত্বকালে নির্মিত হয়। ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে মধ্য ভারতে (বুন্দেলখণ্ড) বিভিন্ন মুসলিম রাজবংশের শাসনামলে এই মন্দিরসমূহ দুর্গমতার জন্য অবহেলায় লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যায়।[৩] ১৮৩০-এর দশকে ব্রিটিশ সার্ভেয়ার টি. এস. বার্ট স্থানীয় হিন্দু ব্যক্তিবর্গের পথনির্দেশনায় জঙ্গলাকীর্ণ জায়গাটি গোটা বিশ্বের কাছে পুনরাবিষ্কার করেন।[৮] এর কয়েক বছর পর, আলেকজান্ডার কানিংহাম মন্দিরসমূহ-সংক্রান্ত তথ্যাদি সুবিন্যস্ত করেন।[৯]

১৩৩৫ - ১৩৪২ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে মরক্কোর পর্যটক ইবন বতুতার ভারতভ্রমণের স্মৃতিকথায় তার খাজুরাহো স্মারকসমূহ পরিদর্শনের বৃত্তান্ত উল্লিখিত হয়েছে।[১০][১১]

Sections and orientation of Khajuraho temples.
ধ্বংসাবশেষ।

চিত্রসম্ভার[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Philip Wilkinson (2008), India: People, Place, Culture and History, আইএসবিএন ৯৭৮-১৪০৫৩২৯০৪০, pp 352-353
  2. Gopal, Madan (১৯৯০)। K.S. Gautam, সম্পাদক। India through the ages। Publication Division, Ministry of Information and Broadcasting, Government of India। পৃষ্ঠা 179 
  3. James Fergusson, Norther or Indo-Aryan Style - Khajuraho History of Indian and Eastern Architecture, Updated by James Burgess and R. Phene Spiers (1910), Volume II, John Murray, London
  4. "World Heritage Day: Five must-visit sites in India"। ১৪ আগস্ট ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জুলাই ২০১৭ 
  5. "Kajuraho Group of Monuments"। UNESCO। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-১০-০২ 
  6. "Kajuraho Group of Monuments" (pdf)। Unesco। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-১০-০২ 
  7. Meister, Michael W. (এপ্রিল–জুন ১৯৭৯)। "Maṇḍala and Practice in Nāgara Architecture in North India"। Journal of the American Oriental Society99 (2): 204–219। জেস্টোর 602657ডিওআই:10.2307/602657 
  8. Louise Nicholson (2007), India, National Geographic Society, আইএসবিএন ৯৭৮-১৪২৬২০১৪৪৮, see Chapter on Khajuraho
  9. Krishna Deva (1990), Temples of Khajuraho, 2 Volumes, Archaelogical Survey of India, New Delhi
  10. phonetically translated from Arabic sometimes as "Kajwara"
  11. Director General of Archaeology in India (1959), Archaeological Survey of India, Ancient India, Issues 15-19, pp 45-46 (Archived: University of Michigan)

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

উইকিভ্রমণ থেকে খাজুরাহো স্মারকসমূহ ভ্রমণ নির্দেশিকা পড়ুন।