তসলিমা নাসরিন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে


তসলিমা নাসরিন
Ananda 2000.jpg
কলকাতায় আনন্দ পুরস্কার গ্রহণ অনুষ্ঠানে তসলিমা নাসরিন
জীবিকা কবি, কলামিস্ট, ঔপন্যাসিক
জাতীয়তা বাংলাদেশি, সুইডিশ
সময়কাল ১৯৭৩ – বর্তমান
বিষয় মানবতাবাদ
সাহিত্য আন্দোলন নারী অধিকার, মানবাধিকার, ধর্মনিরপেক্ষ আন্দোলন
ওয়েবসাইট ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট


তসলিমা নাসরিন (জন্ম: ২৫ আগস্ট, ১৯৬২[১]) বাংলাদেশের একজন আলোচিত ও বিতর্কিত নারীবাদী কথাসাহিত্যিক। তসলিমা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে অধ্যয়ন করেন এবং সেখান থেকে ১৯৮৬ সালে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর তিনি সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসক হিসাবে ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ অবধি কাজ করেন।[২] ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে মামলায় জড়িয়ে পড়ে গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি দেশত্যাগে বাধ্য হন। এরপর তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

ছাত্রজীবনে ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিকে কবি হিসেবে তাঁর পরিচিতি ঘটতে থাকে। নির্বাসন জীবনে তসলিমা লেখালিখিকেই পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে বিদ্রোহী নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গি এবং ইসলামের সমালোচনার জন্য বিশ্বব্যাপী তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়ে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন][৩] স্বীয় জন্মভূমি বাংলাদেশ ত্যাগের পর তিনি প্রতিবেশী বাংলাভাষী পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু ভারতীয় ইসলামী ধর্মগুরুদের আপত্তি ও মৌলবাদীদের প্রাণনাশের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮ সালে তাঁকে কলকাতা পরিত্যাগ করতে হয়। বর্তমানে তিনি ভারতে বসবাস করছেন। তাঁর রচনাসমূহের মধ্যে লজ্জা, আমার মেয়েবেলা, দ্বিখণ্ডিত, গোল্লাছুট, ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশ সরকার তার পাঁচটি বই নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

তাঁর প্রকৃত নাম নাসরিন জাহান তসলিমা। স্কুল জীবনে কবিতা চর্চার সময় তিনি 'তসলিমা নাসরিন' নাম দিয়ে লেখা প্রকাশ শুরু করেন। ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে ময়মনসিংহ শহরে তাঁর জন্ম।[১]) দুই ভাই দুই বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। তাঁর পিতা রজব আলী পেশায় চিকিৎসক ছিলেন। মা ইদুল আরা সাধারণ ধর্মভীরু বাঙ্গালী গৃহিনী। ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি ময়মনসিংহ রেসিডেন্সিয়াল স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি আনন্দ মোহন কলেজ থেকে এইচ এস সি পাস করেন। এরপর তিনি ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে এম বি বি এস পাস করেন। অথঃপর তিনি সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসকের চাকুরী গ্রহণ করেন। তিনি যখন ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে দেশত্যাগ করেন তখন সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অজ্ঞানবিশেষজ্ঞ (অ্যানেসথেসিওলজিস্ট) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বিবাহ[সম্পাদনা]

১৯৮২ খ্রিস্টাব্দে তিনি কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ'র প্রেমে পড়েন এবং গোপনে বিয়ে করেন। ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। পরে বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সম্পাদক নাইমুল ইসলাম খানের সাথে বিয়ে এবং ১৯৯১ সালে বিচ্ছেদ হয়। তিনি ১৯৯১ সালে সাপ্তাহিক বিচিন্তা'র সম্পাদক মিনার মাহমুদকে বিয়ে করেন এবং ১৯৯২ সালে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এরপর তিনি আর বিয়ে করেন নি। তার কোন সন্তানাদি নেই। প্যারিস অবস্থান কালে একজন ফরাসী মেয়ের সঙ্গে যৌন জীবনযাপনের বিবরণ তাঁর আত্মজৈবিনক উপন্যাস ফরাসী প্রেমিক এবং আত্মজৈবনিক রচনায় বিবৃত।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] [৪]

সাহিত্যিক জীবন[সম্পাদনা]

সাহিত্যে জগতে প্রবেশ সত্তর দশকের শেষভাগে কবিতা লেখার মধ্য দিয়ে। ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দে স্ব-উদ্যোগে প্রথম কবিতা সংকলন প্রকাশ করেন যার নাম শিকড়ে বিপুল ক্ষুধা[৫] তাঁর কবিতা গীতিময়তায় পুষ্ট। আত্মজৈবনিকতা তাঁর কবিতার বৈশিষ্ট্য।

নির্বাসিত জীবন[সম্পাদনা]

তাঁর নির্বাসিত জীবন শুরু হয় ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে দেশ ত্যাগের সময় থেকে। এর আগে আদালতে মামলা দায়ের হলে এবং আদালত তাঁর বিরূদ্ধে গ্রেপ্তারী পরওয়ানা জারী করলে তিনি বিভিন্ন বন্ধু বান্ধবের বাসায় আত্মগোপন করেন। বাংলাদেশ ত্যাগের পর তিনি প্রধানত ফ্রান্স,সুইডেন এবং ভারত, এই তিনটি দেশে বসবাস করেছেন। বাংলাদেশের বাইরে একমাত্র পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করতে তিনি আগ্রহী। প্রায়শ তাঁর ধর্ম ও প্রতিষ্ঠানবিরোধী লেখা ও মন্তব্যের জন্য ২০০৭ থেকে ভারত সরকার তাঁর ভারতে অবস্থানের ওপরে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করে। ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ ত্যাগ ও ২০০৭ খ্রিস্টাব্দে ভারত থেকে বিতারণ এবং পরবর্তী নিবার্সিত জীবনের বর্ণনা নিয়ে ১লা ফেব্রুয়ারি ২০১২ ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়েছে তার আত্মজৈবনিক গ্রন্থ নির্বাসন[৬] [৭]

১৯৯৪-২০০৪, পাশ্চাত্যে নির্বাসিত[সম্পাদনা]

২০০৪-২০০৭ কলকাতার জীবন[সম্পাদনা]

২০০৭ কলকাতা থেকে বিতারণ[সম্পাদনা]

২০০৮ দিল্লীতে অন্তরীণ[সম্পাদনা]

সাহিত্যকর্ম[সম্পাদনা]

পত্রিকার কলাম ও নিবন্ধ[সম্পাদনা]

উপন্যাস[সম্পাদনা]

আত্মজীবনী[সম্পাদনা]

তসলিমা নাসরিন প্রধানত আত্মজীবনীমূলক রচনায় বেশী সময় ব্যয় করেছেন। তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থের সংখ্যা ৭ যার সর্বশেষ খণ্ড ২০১২ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়। আত্মজীবনী বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বর্ণনা দিয়ে তিনি বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছেন এবং এ কারণে তাঁর বিরূদ্ধে সৈয়দ শামসুল হক সহ অনেকে আদালতে মর্যাদাহানির জন্য ক্ষতিপূরণ মামলা করেছে।

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

তসলিমা তার উদার ও মুক্তচিন্তার মতবাদ প্রকাশ করায় দেশ-বিদেশ থেকে একগুচ্ছ পুরস্কার ও সম্মাননা গ্রহণ করেছেন। সেগুলো হলো -

সমালোচনা[সম্পাদনা]

সাহিত্য[সম্পাদনা]

সাহিত্য রচনায় ব্যক্তিগত ও শারীরিক আকাঙ্খাকে কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে আবর্তন তসলিমার লেখার বৈশিষ্ট্য। এর সাথে তিনি ইসলামধর্মের নানা বিষয়কে সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু করেন এবং এ কারণে বাংলাদেশে এবং বিদেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন। একটি ধর্মভিত্তিক সংগঠনের নেতৃত্ব তাঁর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে এবং তাঁর বিরূদ্ধে ধর্মদ্রহিতারর মাধ্যমে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ আদালতে মামলা করা হয়। কুরআন ও হাদিসকে ভুল অনুবাদ করে তার ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা প্রদান বাংলাদেশের সাধারণ মুসলমান জনগণের মনে অসন্তোষের সৃষ্টি করে। ইসলামী বক্তা ডঃ জাকির নায়েক ১৯৯৫ সালে মুম্বাইতে তসলিমা নাসরিনের "লজ্জা" বইটি নিয়ে সাংবাদিকদের আয়োজিত একটি আলোচনা অনুষ্ঠানে বইটির বিভিন্ন উক্তি নিয়ে যুক্তিখণ্ডন করে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং সেগুলোকে ইসলাম বিষয়ক ভূল ব্যখ্যা ও বিভ্রান্তি হিসেবে চিহ্নিত করেন|[১১] উক্ত অনুষ্ঠানে তিনি তসলিমা নাসরিনকে সরাসরি বিতর্কে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানান।

নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গি[সম্পাদনা]

গ্রন্থ তালিকা[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের আগামী প্রকাশনীর তাঁর অধিকাংশ গ্রন্থ বাংলাদেশে প্রকাশ করেছে। পশ্চিম বঙ্গে তার প্রধান প্রকাশক প্রকাশক শিবানী মুখোপাধ্যায়।

কবিতা[সম্পাদনা]

  • শিকড়ে বিপুল ক্ষুধা (Hunger in the Roots), ১৯৮১
  • নির্বাসিত বাহিরে অন্তরে (Banished Without and Within), ১৯৮৯
  • আমার কিছু যায় আসে না (I Couldn’t Care Less), ১৯৯০
  • অতলে অন্তরীণ (Captive In the Abyss), ১৯৯১
  • বালিকার গোল্লাছুট (Game of the Girls), ১৯৯২
  • বেহুলা একা ভাসিয়েছিল ভেলা (Behula Floated the Raft Alone), ১৯৯৩
  • আয় কষ্ট ঝেঁপে, জীবন দেবো মেপে (Pain Come Roaring Down, I’ll Measure Out My Life for You), ১৯৯৪
  • নির্বাসিত নারীর কবিতা (Poems From Exile), ১৯৯৬
  • জলপদ্য (Waterlilies), ২০০০
  • খালি খালি লাগে (Feeling Empty), ২০০৪
  • কিছুক্ষণ থাকো (Stay For A While), ২০০৫
  • ভালোবাসো? ছাই বাসো! (It's your love! or a heap of trash!), ২০০৭
  • বন্দিনী (Prisoner), ২০০৮

প্রবন্ধ সংকলন[সম্পাদনা]

  • নির্বাচিত কলাম (Selected Columns), ১৯৯০
  • যাবো না কেন? যাব (I will go; why won't I?), ১৯৯১
  • নষ্ট মেয়ের নষ্ট গল্প (Fallen prose of a fallen girl), ১৯৯২
  • ছোট ছোট দুঃখ কথা (Tale of trivial sorrows), ১৯৯৪
  • নারীর কোন দেশ নেই (Women have no country), ২০০৭
  • ‘নির্বাসন’, ২০১২।

উপন্যাস[সম্পাদনা]

  • অপরপক্ষ ১৯৯২
  • শোধ, ১৯৯২. (ISBN 978-81-88575-05-3)
  • নিমন্ত্রণ, ১৯৯৩
  • ফেরা , ১৯৯৩
  • লজ্জা, ১৯৯৩ (ISBN 978-0-14-024051-1)
  • ভ্রমর কইও গিয়া, ১৯৯৪
  • ফরাসি প্রেমিক ,২০০২
  • শরম,২০০৯

ছোট গল্প[সম্পাদনা]

  • দু:খবতী মেয়ে, ১৯৯৪
  • মিনু, ২০০৭

আত্মজীবনী[সম্পাদনা]

  • আমার মেয়েবেলা (My Girlhood), ১৯৯৯ (ISBN 978-1-58642-051-2)
  • উতাল হাওয়া (Wild Wind), ২০০২
  • (Speak Up), ২০০৩; পশ্চিমবঙ্গে দ্বিখণ্ডিত (Split-up in Two) নামে প্রকাশিত , ২০০৩
  • সেই সব অন্ধকার (Those Dark Days), ২০০৪
  • আমি ভালো নেই, তুমি ভালো থেকো প্রিয় দেশ ("I am not okay, but you stay well my beloved homeland"), ২০০৬.

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ স্বীয় আত্মজীবনীতে উল্লিখিত তাদের পারিবারিক কথোপকথনের বর্ণনা থেকে প্রতীয়মান হয় তসলিমা নাসরিনের জন্ম ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে বা আগে।
  2. Condemned to life as an outsider The Guardian, November 30, 2007
  3. Chazan, David (1999-01-26)। "World: South Asia: Taslima goes back into exile"BBC। সংগৃহীত 2009-05-28 
  4. [দ্রস্টব্যঃ নির্বাচিত কলাম
  5. তসলিমা নাসরিনের অফিসিয়েল তথ্যতীর্থে এই গ্রন্থের প্রকাশ কাল ১৯৮৬ হিসেবে উল্লিখিত যা ভুল।
  6. "শেষ হয়নি স্টলসজ্জার কাজ"সকালের খবর 
  7. ["ফের নিষিদ্ধ করলেন বহুল বিতর্কিক তসলিমা নাসরিনকে" 
  8. "1994 - Commission nationale consultative des droits de l’homme"। Cncdh.fr। সংগৃহীত 2010-12-14 
  9. [১][অকার্যকর সংযোগ]
  10. Targett, Simon (1995-02-24)। "She who makes holy men fume"Times Higher Education। সংগৃহীত 2009-06-01 
  11. রকমারি.কম :: বাংলার তসলিমা নাসরিন - ডঃ জাকির নায়েক

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]