মালালা ইউসুফজাই

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মালালা ইউসুফজাই
ملاله یوسفزۍ
সোয়াতের জেলা শিশু সম্মেলনের প্রধান অতিথি
কার্যালয়ে
২০০৯ – ২০১১
পূর্বসূরী (post created)[১]
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম (১৯৯৭-০৭-১২) জুলাই ১২, ১৯৯৭ (বয়স ১৮)[২]
পাকিস্তান মিঙ্গরা,[৩] খাইবার পাখতুনখা, পাকিস্তান
নাগরিকতা পাকিস্তান[৩]
জাতীয়তা পাকিস্তানী[৩]
রাজনৈতিক দল None[৪]
ধর্ম ইসলাম[৫]
Ethnicity পশতুন[৬]
Relatives Ziauddin Yousafzai (father)[৫]
Known for Youth activism, women's rights activism, educationism[৩]
Organizations Malala Education Fund[৭][৮]
Awards International Children's Peace Prize (Runner-up, 2011)[৯]
National Youth Peace Prize (2011)[৩]
শাখারভ পুরস্কার

মালালা ইউসুফজাই (পশতু:ملاله یوسفزۍ; জন্ম: ১২ জুলাই, ১৯৯৭) পাকিস্তানের বিদ্যালয়ের ছাত্রী, শিক্ষা আন্দোলনকর্মী ও ২০১৪ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী। তিনি সবচেয়ে কমবয়সী নোবেল বিজয়ী হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। নারী শিক্ষার বিরুদ্ধে তালেবানদের অবস্থান নিয়ে সদা সোচ্চার মালালা। ২০০৯ সালে, ১১ বছর বয়সে বিবিসি ব্লগে এ নিয়ে লিখে নজর কেড়েছিল সবার। এ কারণে তালেবান প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল তাকে। মালালা ভয় না পেয়ে মেয়েদের লেখাপড়ার পক্ষে আর তালেবানের বিপক্ষে কথা বলে গেছে প্রকাশ্যে। পরবর্তীতে নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক অ্যাডাম বি এলিক মালালাকে নিয়ে একটি ভিডিও তথ্যচিত্র তৈরি করেন। এমন ভূমিকার জন্য বেসামরিক নাগরিকদের জন্য পাকিস্তানে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কারও পেয়েছিলেন তিনি। [১০] সোয়াত উপত্যকার মিনগোরাতে ১৪ বছর বয়সী মালালা ও তার দুই বান্ধবীকে তাদের স্কুলের সামনেই গুলি করে তালেবান জঙ্গিরা। মালালার মেরুদণ্ডের কাছাকাছি বিদ্ধ গুলিটি বের করতে তিন ঘণ্টার অস্ত্রোপচার সফল হলেও তার জ্ঞান ফিরতে দেরি হচ্ছিল। উন্নত চিকিত্সার জন্য মালালাকে পেশওয়ার থেকে রাওয়ালপিন্ডির সামরিক হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তরও করা হয়।[১১] ২০১২ সালের ১২ অক্টোবর পাকিস্তানের ফতোয়ার একটি বিষয় নিয়ে ৫০ জন ইসলামী আলেমদের একটি দল তাঁকে এভাবে হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানায়, কিন্তু তালেবান সদস্যরা তাঁকে এবং তাঁর বাবা জিয়াউদ্দিন ইউসুফজাইকে হত্যা করার চেষ্টা করে। অনেক পাকিস্থানি মনে করেন এ হত্যা চেষ্টার বিষয়টি সিআইএ দ্বারা নিয়িন্ত্রত ছিলো এটি গভীর ষড়যন্ত্র ছিলো। [১২] এ হত্যা চেষ্টা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ভাবে মালালার পক্ষে ব্যাপক জনমত সৃষ্টি করে। ডয়চে ভেলে ২০১৩ সালে মালালাকে 'দ্য মোস্ট ফেমাস টিনেজার ইন দ্য ওয়ার্ল্ড' নির্বাচন করেন। [১৩] জাতিসংঘের গ্লোবাল শিক্ষাকার্যক্রমের দূত গর্ডন ব্রাউন আই এম মালালা নামে একটি জাতিসংঘের পিটিশন চালু করেন এবং এতে দাবি করা হয় সারাবিশ্বের সকল শিশুরা ২০১৫ সালের মধ্যে বিদ্যালয়ে যাবে। এ পিটিশন পাকিস্তানের রাইট টু ইডুকেশন বিল তৈরিতে বেশ সহায়তা করে। [১৪] ২০১৩ সালের ২৯ এপ্রিল টাইম ম্যাগাজিন ১০০ সেরা ইনফ্ল্রয়েনশিয়াল পিপল ইন দ্য ওয়ার্ল্ড তালিকায় মালালাকে নির্বাচিত করে। এছাড়া তিনি পাকিস্তানের প্রথম জাতীয় তরুন শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৩ সালের ১২ জুলাই মালালা জাতিসংঘের প্রধান কার্যালয়ে শিক্ষা সম্প্রসারন বিষয়ে বক্তব্য দেন এবং একই বছরের সেপ্টেম্বরে অফিসিয়ালি লাইব্রেরি অব ব্রিমিংহাম চালু করেন। [১৫] ২০১৩ সালে মালালা শাখারব পুরস্কার জিতেন। একই বছরের ১৬ অক্টোবর মালালাকে কানাডা সরকার কানাডার সম্মানিত নাগরিক হিসেবে মালালাকে নির্বাচন করেন এবং বিষয়টি সংসদে পাশ হয়। [১৬] ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি সুইডেনের ওয়ার্ল্ড চিলড্রেন প্রাইজের জন্য নির্বাচিত হন। [১৭] একই বছরের ১৫ মে মালালা ইউনিভার্সিটি অব কিংস কলেজ থেকে সম্মানিত ডক্টরেট ফেলোশিপ পান। [১৮]

বিবিসি ব্লগার[সম্পাদনা]

রোম মালালা ইউসুফজাই নিবেদিত ম্যুরালগুলো

মাত্র ১১ বছর বয়সে বিদ্যালয় জীবন ও সমকালীন পরিস্থিতি নিয়ে ডায়রি লেখা শুরু করে মালালা। সোয়াত উপত্যকায় নিয়ন্ত্রণ কায়েম করে সে সময় মেয়েদের বিদ্যালয়ে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে তালেবানরা। সোয়াতে তালেবানদের উত্থানের সময় বিবিসি উর্দু সার্ভিসে তার দিনলিপিটি প্রকাশ হতে থাকে। তার লিখিত দিনলিপি ‘লাইফ আন্ডার দি তালিবান’ প্রচারিত হওয়ার পর থেকেই ব্যাপক পরিচিতি পায় সে। জঙ্গিদের প্রতিহিংসা থেকে রক্ষা পেতে এ সময় গুল মাকাই ছদ্মনামে প্রকাশ হতো তার দিনলিপি। তালেবানরা সোয়াত থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর প্রথম প্রকাশ্যে আসে মালালা। পরবর্তীতে একটি আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হলে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করে সে।[১৯]

দায়িত্ব স্বীকার তালেবানের[সম্পাদনা]

In the Oval Office, 11.10.2013

মালালাকে গুলি করার দায়িত্ব স্বীকার করেছে তালেবান। তাদের মুখপাত্র ইসানউল্লাহ ইসান জানিয়েছেন, অনেকবার তালেবান বিরোধী কথা-বার্তা বলা থেকে বিরত থাকতে বলা সত্ত্বেও মালালা কান দেয়নি বলেই নাকি আজ তার এই পরিণাম যার মূল বক্তব্য- তালেবানবিরোধী অবস্থান নিলে এমন হবেই।[১০]

বিশেষ প্রার্থনা[সম্পাদনা]

মালালা ইউসুফজাইয়ের আরোগ্যের জন্য বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। ইমাম ও মুসলিম পণ্ডিতরা মালালার উপর হামলাকে ‘ইসলাম ও শরিয়া পরিপন্থী ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেছেন। ইমামগণ সকল পুরুষ ও নারীরই শিক্ষা গ্রহণ করা প্রয়োজনের কথা বলছেন। ইসলামে একজন নিরপরাধ ব্যক্তি হত্যা করাকে পুরো মানবতা হত্যা করার সমান বলে উল্লেখ করা হয়েছে।[১১] এদিকে পাকিস্তানের সোয়াতে মালালা ইউসুফজাইয়ের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবরটি শুনে পপ সম্রাজ্ঞী ম্যাডোনা কেঁদেছেন। তিনি ‘হিউম্যান নেচার’ গানটি দর্শকদের গেয়ে শোনান।[২০]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "District assembly: Call for end to child rights violations" 
  2. "Taliban Say They Shot Teenaged Pakistani Girl Who Exposed Their Cruelty"NPR। সংগৃহীত ১৪ অক্টোবর ২০১২ 
  3. ৩.০ ৩.১ ৩.২ ৩.৩ ৩.৪ "Malala Yousafzai: Portrait of the girl blogger"। BBC News। ১০ অক্টোবর ২০১২। সংগৃহীত ১১ অক্টোবর ২০১২ 
  4. "Malala in the House, plans to launch political party"Dawn.com। ৪ জানুয়ারি ২০১২। সংগৃহীত ১১ অক্টোবর ২০১২ 
  5. ৫.০ ৫.১ Ellick, Adam B. and Ashraf, Irfan. (2009). Class Dismissed. [documentary]. The New York Times. http://www.nytimes.com/video/2012/10/09/world/asia/100000001835296/class-dismissed.html। সংগৃহীত হয়েছে 11 October 2012.
  6. "Orbala" (১০ অক্টোবর ২০১২)। "Praying for Malala Yusufzai, a Pashtun Symbol of Hope and Courage"। Safeworld International Foundation। সংগৃহীত ১২ অক্টোবর ২০১২ 
  7. "Malala Yousafzai"। ৩ মে ২০১২। সংগৃহীত ১৫ অক্টোবর ২০১২ 
  8. Mehsud, Saud (১০ অক্টোবর ২০১২)। "Malala Yousufzai: Pakistani schoolgirl had defied threats from Taliban for years (+video)"। The Christian Science Monitor। সংগৃহীত ১৫ অক্টোবর ২০১২ 
  9. Gregory D. Chang (১২ অক্টোবর ২০১২)। "Malala's Story: Taliban Shoot 14 Year Old Girl, Attempt Execution"। Breitbart.com। সংগৃহীত ১২ অক্টোবর ২০১২ 
  10. ১০.০ ১০.১ দুঃসাহসের মূল্য দিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে মালালা ইউসুফজাই,এসিবি / এসবি (এপি,এএফপি, রয়টার্স)। প্রকাশের তারিখ: ১১-১০-২০১২ খ্রিস্টাব্দ।
  11. ১১.০ ১১.১ মালালার আরোগ্যের জন্য পাকিস্তানে বিশেষ প্রার্থনা,বিবিসি, রয়টার্স, ডন। প্রকাশের তারিখ: ১৩ অক্টোবর ২০১২ খ্রিস্টাব্দ।
  12. "The antagonism towards Malala in Pakistan"। BBC। ১০ অক্টোবর ২০১৪। সংগৃহীত ১২ অক্টোবর ২০১৪ 
  13. Kyle McKinnon (১৮ জানুয়ারি ২০১৩)। "Will Malala's Influence Stretch to Europe?"Deutsche Welle। সংগৃহীত ২৪ জুলাই ২০১৩ 
  14. "Quiet Progress for Education in Pakistan"। Brookings Institution। ৮ এপ্রিল ২০১৩। সংগৃহীত ১৩ অক্টোবর ২০১৩ 
  15. "Teen school advocate opens English library"। Star Tribune। ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩। 
  16. ">Canadian Press (১৬ অক্টোবর ২০১২)। "Malala Yousafzai Receiving Honorary Canadian Citizenship Wednesday"Huffington Post Canada। সংগৃহীত ১৬ অক্টোবর ২০১২ 
  17. "Malala nominated for ‘Children’s Nobel Prize’"The HinduANI। ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৪। সংগৃহীত ১১ অক্টোবর ২০১৪ 
  18. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; UoKC নামের ref গুলির জন্য কোন টেক্সট প্রদান করা হয়নি
  19. ‘লাইফ আন্ডার দি তালিবান’ খ্যাত পাক বালিকা মালালা ইউসুফজাই গুলিবিদ্ধ,রাইসুল ইসলাম,নিউজরুম এডিটর, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম। প্রকাশের তারিখ: অক্টোবর ০৯, ২০১২ খ্রিস্টাব্দ।
  20. সোয়াতে মালালা ইউসুফজাই গুলিবিদ্ধ শুনে ম্যাডোনা কেঁদেছেন,আত্মর্জাতিক ডেক,বাংলা খবর২৪.নেট। প্রকাশের তারিখ: অক্টোবর ১৩, ২০১২ খ্রিস্টাব্দ।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]