হাসান আজিজুল হক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
হাসান আজিজুল হক
হাসান আজিজুল হক
[[File:|215px]]
জন্ম ফেব্রুয়ারি ২, ১৯৩৯
বর্ধমান জেলা,ভারত
জাতীয়তা বাংলাদেশী
বংশোদ্ভূত বাঙালি
নাগরিকত্ব বাংলাদেশ Flag of Bangladesh.svg
পেশা কথাসাহিত্যিক
পুরস্কার বাংলা একাডেমী, একুশে পদক পুরস্কার

হাসান আজিজুল হক (জন্ম ফেব্রুয়ারি ২, ১৯৩৯) একজন বাংলাদেশী ছোট গল্পকার এবং কথাসাহিত্যিক।

জন্ম, শিক্ষা ও জীবিকা[সম্পাদনা]

হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ খ্রীস্টাব্দের ২ ফেব্রুয়ারি বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার যবগ্রামে এক সম্ভ্রান্ত এবং একান্নবর্তী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতাঃ মোহাম্মদ দোয়া বখশ্‌, মাতাঃ জোহরা খাতুন, স্ত্রীঃ শামসুন নাহার বেগম। জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি রাজশাহীতে কাটিয়েছেন। তিনি ১৯৫৪ খ্রীস্টাব্দে যবগ্রাম মহারানী কাশীশ্বরী উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ১৯৫৬ খ্রীস্টাব্দে খুলনার শহরের অদূরে দৌলতপুরের ব্রজলাল কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হন। প্রথম যৌবনেই ছাত্ররাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। রাজনীতি করার কারণেই পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর হাতে চরম নির্যাতন ভোগ করেন। ১৯৫৮ খ্রীস্টাব্দে রাজশাহী সরকারি কলেজে থেকে দর্শনশাস্ত্রে‌‌ সম্মানসহ স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬০ খ্রীস্টাব্দে একই প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬০ থেকে ১৯৭৩ পর্যন্ত তিনি রাজশাহী সিটি কলেজ, সিরাজগঞ্জ কলেজ, খুলনা গার্লস কলেজ এবং দৌলতপুর ব্রজলাল কলেজে অধ্যাপনা করেছেন। ১৯৭৩ খ্রীস্টাব্দে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৪ সাল পর্যন্ত একনাগাড়ে ৩১ বছর অধ্যাপনা করেন।[১] তিনি পিএইচ, ডি অধ্যয়নের জন্য অস্ট্রেলিয়া গিয়েছিলেন, কিন্তু বিদেশের পরিবেশ ভালো না-লাগায় তিনি অধ্যয়ন শেষ না-করেই দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। ২০০৯-এ তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু চেয়ার পদের জন্য মনোনীত হয়েছেন।

সাহিত্য জীবন[সম্পাদনা]

রাজশাহী কলেজে পড়ার সময় কলেজের উদ্যমী তরুণ মিসবাহুল আজীমের সম্পাদনায় প্রকাশিত ভাঁজপত্র 'চারপাতা'য় হাসানের প্রথম লেখা ছাপা হয়, লেখাটির বিষয় ছিল রাজশাহীর আমের মাহাত্ম্য।

খুলনায় এসে তাঁর সাহিত্যসৃষ্টির উৎসমুখ খুলে গেল প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন 'সন্দীপন'-কে কেন্দ্র করে। ষাটের দশকের প্রথম দিকে নাজিম মাহমুদ, মুস্তাফিজুর রহমান, জহরলাল রায়, সাধন সরকার, খালেদ রশীদ প্রমুখ সংগ্রামী কয়েকজন তরুণের চেষ্টায় গঠিত হয়েছিল 'সন্দীপন গোষ্ঠী'। ততদিনে অবশ্য হাসান আজিজুল হক রীতিমতো বিখ্যাত। প্রথম গল্পগ্রন্থ 'সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য' এর প্রথম গল্প 'শকুন' এ সুদখোর মহাজন তথা গ্রামের সমাজের তলদেশ উন্মোচিত করেছিলেন তিনি। প্রায় অর্ধশতাব্দীর গল্পচর্চায় বিষয়, চরিত্র ও নির্মাণকুশলতায় উল্লেখ করার মতো গল্প হাসান আজিজুল হকের অনেক। এসবের মধ্যে রয়েছে 'শকুন', 'তৃষ্ণা', 'উত্তরবসন্তে', 'বিমর্ষ রাত্রি, প্রথম প্রহর', 'পরবাসী', 'আমৃত্যু' 'আজীবন', 'জীবন ঘষে আগুন', 'খাঁচা', 'ভূষণের একদিন', 'ফেরা', 'মন তার শঙ্খিনী', 'মাটির তলার মাটি', 'শোণিত সেতু', 'ঘরগেরস্থি', 'সরল হিংসা', 'খনন', 'সমুখে শান্তির পারাবার', 'অচিন পাখি', 'মা-মেয়ের সংসার', 'বিধবাদের কথা' 'সারা দুপুর' 'কেউ আসেনি'।

১৯৬০ সালে 'বৃত্তায়ন' নামের একটি উপন্যাস লিখলেও তিনি নিজেই এটির বড় সমালোচক। এ রচনাকে তিনি নিজেই উপন্যাস হিসেবে অস্বীকার করে থাকেন।[১] তবে 'আগুনপাখি' নামে একটি উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে ২০০৬ সালে। উপন্যাসটি বর্ষসেরা উপন্যাসের স্বীকৃতি লাভ করে। 'শিউলি' নামে আরও একটি ছোট উপন্যাস তিনি লিখেছেন।

সাহিত্যকর্ম[সম্পাদনা]

হাসান আজিজুল হকের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে,

গল্পগ্রন্থ[সম্পাদনা]

  • সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য (১৯৬৪)
  • আত্মজা ও একটি করবী গাছ (১৯৬৭)
  • জীবন ঘষে আগুন (১৯৭৩)
  • নামহীন গোত্রহীন (১৯৭৫)
  • পাতালে হাসপাতালে (১৯৮১)
  • আমরা অপেক্ষা করছি (১৯৮৮)
  • রোদে যাবো (১৯৯৫)
  • মা মেয়ের সংসার (১৯৯৭)
  • বিধবাদের কথা ও অন্যান্য গল্প (২০০৭)
  • রাঢ়বঙ্গের গল্প (১৯৯১)
  • নির্বাচিত গল্প (১৯৮৭)
  • হাসান আজিজুল হকের শ্রেষ্ঠগল্প (১৯৯৫)

উপন্যাস[সম্পাদনা]

  • বৃত্তায়ন (১৯৯১)
  • আগুনপাখি (২০০৬)
  • শিউলি

নাটক[সম্পাদনা]

  • চন্দর কোথায় (জর্জ শেহাদের নাটকের ভাষান্তর)

প্রবন্ধ[সম্পাদনা]

  • চালচিত্রের খুঁটিনাটি
  • একাত্তর: করতলে ছিন্নমাথা
  • কথাসাহিত্যের কথকতা
  • অপ্রকাশের ভার
  • অতলের আধি
  • সক্রেটিস
  • কথা লেখা কথা
  • লোকযাত্রা আধুনিকতা ও সংস্কৃতি
  • ছড়ানো ছিটানো
  • কে বাঁচে কে বাঁচায়
  • বাচনিক আত্মজৈবনিক

শিশুসাহিত্য[সম্পাদনা]

  • লালঘোড়া আমি (১৯৮৪ সালে প্রকাশিত কিশোর উপন্যাস)
  • ফুটবল থেকে সাবধান (১৯৯৮ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ গল্প)

পুরস্কার[সম্পাদনা]

তিনি ১৯৬৭ খ্রীস্টাব্দে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার এবং খ্রীস্টাব্দে সালে বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর আরও অনেক পুরস্কার, পদক ও সম্মানে ভূষিত হয়েছেন তিনি। ১৯৯৯ খ্রীস্টাব্দে তিনি একুশে পদক লাভ করেন। এছাড়া ২০১২ সালে তিনি আসাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সন্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রী পান। [২] অন্যান্য পুরস্কার ও সম্মাননার মধ্যে রয়েছেঃ

  • বাংলাদেশ লেখক শিবির পুরস্কার (১৯৭৩),
  • অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮১),
  • আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৩),
  • অগ্রণী ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৪),
  • ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৮),
  • কাজী মাহবুবউল্লাহ ও বেগম জেবুন্নিসা পুরস্কার (১৯৯৪)
  • খুলনা সাহিত্য মজলিশ সাহিত্য পদক, (১৯৮৬)
  • রাজশাহী লেখক পরিষদ পদক , (১৯৯৩)
  • সাতক্ষীরা সাহিত্য একাডেমী পুরস্কার, (১৯৯৭)
  • দিবারাত্রির কাব্য সাহিত্য পুরস্কার (পশিচমবঙ্গ), (১৯৯৭)
  • শ্রুতি সাংস্কৃতিক একাডেমী পুরস্কার, (১৯৯৯)
  • রাজশাহী সাহিত্য পরিষদ পুরস্কার, (২০০২)
  • আব্দুর রউফ স্মৃতি পরিষদ সাহিত্য পুরস্কার, হবিগঞ্জ, (২০০৩)
  • ক্রান্তি পদক, (২০০৪)
  • অমিয়ভূষণ সম্মাননা, জলপাইগুড়ি, (২০০৪),
  • গ্রুপ ধিয়েটার ফেডারেশান সম্মাননা, (২০০৬)
  • প্রথম আলো বর্ষসেরা বই, (২০০৭)
  • মার্কেন্টাইল ব্যাংক পুরস্কার, (২০০৭)।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ মুহম্মদ, ষড়ৈশ্বর্ষ। "হাসান আজিজুল হক" (বাংলা ভাষায়)। সংগৃহীত ২০০৯-১০-১৬ 
  2. বাংলা নিউজ২৪ ডট কম

বহি:সংযোগ[সম্পাদনা]