ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ মধ্য - বাংলাদেশের একটি শহর। এটি ময়মনসিংহ জেলার প্রায় কেন্দ্রভাগে পুরাতন ব্রহ্মপূত্র নদের তীরে অবস্থিত। নদীর তীর জুড়ে এখানে একটি শহর রক্ষাকারী বাঁধ রয়েছে যার বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে নিয়ে গড়ে উঠেছে ময়মনসিংহ পার্ক যা শহরবাসীর মূল বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত।
[সম্পাদনা] নামকরণ
[সম্পাদনা] ইতিহাস
১লা মে ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে ময়মনসিংহ জেলা গঠিত হয় যার প্রথম কালেক্টর ছিলেন মিঃ এফ লি গ্রোস। ১৭৯১ খ্রিস্টাব্দে জেলা সদরের পত্তন হয় এবং ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে পৌরসভা গঠিত হয়। কালেক্টরেট ভবন ছিল ময়মনসিংহ শহরের কেন্দ্রবিন্দু। ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে সরকারী ডাক ব্যবস্থার প্রচলন করা হয়। ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দে জেলা বোর্ড গঠন করা হয়। প্রথম সরকারী চিকিৎসা কেন্দ্র চালু করা হয় ১৭৯১ খ্রিস্টাব্দে। ময়মনসিংহ শহর থেকে প্রথম মুদ্রিত পুস্তক প্রকাশিত হয় ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে। ১৮৪৬ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় প্রথম ইংরেজী স্কুল। ময়মনসিংহ জিলা স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয় ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে। জেলার প্রথম আদম শুমারী পরিচালিত হয় ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দে। টেলিগ্রাফ অফিস স্থাপন ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে। । ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ চালু ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে, এবং ময়মনসিংহ-জগন্নাথগঞ্জ রেলপথ চালু হয় ১৮৬৫ সনে
- মূল নিবন্ধ: ময়মনসিংহের ইতিহাস
[সম্পাদনা] বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে ময়মনসিংহ শহর (১৯৭১)
১৯৭১-এর ২৫ মার্চে গণহত্যা শুরুর অব্যবহিত পরে ময়মনসিংহের সংগ্রামী জনতা খাগডহর তৎকালীন ইপিআর ক্যাম্প ঘেরাও করে এবং বাঙ্গালী ইপিআর সদস্যদের সহায়তায় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে পরাস্ত করে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে। এ যুদ্ধে ইপিআর সদস্য দেলোয়ার হোসেন ও ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের ড্রাইভার পুত্র আবু তাহের মুকুল শাহাদৎ বরণ করেন। মূলতঃ এই যুদ্ধের পর পরই ময়মনসিংহের সীমান্ত অঞ্চলে অবস্থিত সীমান্ত ফাঁড়িগুলি বাঙ্গালী বিডিআরদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। নিহত পাক সেনাদের লাশ নিয়ে ময়মনসিংহবাসী বিজয় মিছিল করতে থাকে ও ধৃত অন্যান্য পাকসেনাদের কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ময়মনসিংহ জেলখানায় প্রেরণ করা হয়। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে এক সকালে পুরাতন বিডিআর ভবনের ৩য় তলার শীর্ষে হাজার হাজার লোকের জয় বাংলা ধ্বনির মধ্যে বাংলাদেশের নকশা খচিত পতাকা পতাকা উত্তোলন করেন সাবেক কমান্ডার জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মোঃ সেলিম সাজ্জাদ। এ যুদ্ধে আবুল হাসেম, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, নাজিম উদ্দিন আহমেদ, ম হামিদ, এসএম নাজমুল হক তারা, মৃত চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের (কাদু মিয়া), ভাসানী ন্যাপ নেতা এডভোকেট আব্দুল লতিফ তালুকদার, কেএম শামছুল আলম, শেখ হারুন, খোকন বিডিআর ও পুলিশের সদস্যসহ জয় বাংলা ও স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর অনেক সদস্যই অংশগ্রহণ করেন।
[সম্পাদনা] ভৌগোলিক পরিচিতি
[সম্পাদনা] তথ্য-উপাত্ত
[সম্পাদনা] শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
ময়মনসিংহ শহরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংখ্যায় অনেক। এগুলোর মধ্যে রয়েছে স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ, কারিগরী বিদ্যালয় ইত্যাদি। বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ঊনবিংম শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠিত।
ময়মনসিংহ শহর বাংলাদেশের অন্যতম শিক্ষানগরী হিসাবে পরিচিত । ময়মনসিংহে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় , অবস্থিত। এছাড়া এখানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ, আনন্দমোহন কলেজ ইত্যাদি খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। নিচে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি তালিকা দেয়া হল:
- সরকারী মুমিনুন্নিসা মহিলা কলেজ (১৯৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত, ১৯৮০ সালে ১ মার্চ সরকারী করণ)।
- টিচারস ট্রেনিং কলেজ ১৯৪৮ (পুরুষ) (সপ্তম এডওয়ার্ডের পত্নীর নামে বাগান বাড়ীতে প্রতিষ্ঠিত হয়)।
- টিচারস ট্রেনিং কলেজ ১৯৫২ (মহিলা) (শশী লজ এ প্রতিষ্ঠিত হয়)।
- উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক ইনস্টিটিউট - ১৯৯৫
- কাতলাসেন কাদেরীয়া কামিল মাদ্রাসা(১৮৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়)
- কলেজ অব এডুকেশন ১৯৬৮। আপগ্রেড ১৯৭২ সালে, পরবর্তীতে মৌলিক শিক্ষা একাডেমী এবং আরো পরে ন্যাশনাল একাডেমী ফর ভপ্রাইমারী এডুকেশন ‘নেপ’ নামে পরিচালিত হচ্ছে।
- সরকারী কমার্শিয়াল কলেজ। (সহশিক্ষা)
- ময়মনসিংহ পি টি আই।
- ময়মনসিংহ জি টি আই।
- ময়মনসিংহ বেসরকারী টিচারস ট্রেনিং কলেজ।
- ভেটেনারী ট্রেনিং ইনস্টিটিউট।
- কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।
- আক্তারুজ্জামান কলেজ (বর্তমান নাম ময়মনসিংহ মহাবিদ্যালয়), (১৯৬৫)। (সহশিক্ষা)
- মহিলা ডিগ্রী কলেজ, ময়মনসিংহ।
- বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি কলেজ, ময়মনসিংহ। (সহশিক্ষা)
- আলমগীর মনসুর মিন্টু কলেজ (২৩ জানুয়ারি ১৯৬৯ সালে পুলিশের গুলিতে শহীদ মিন্টুর নামে এই কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়)। (সহশিক্ষা)
- ময়মনসিংহ প্রকৌশলী মহাবিদ্যালয়। (সহশিক্ষা)
- মোমেনশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ। (সহশিক্ষা)
- ময়মনসিংহ ল’কলেজ (নৈশ কলেজ) ১৯৬৭। (সহশিক্ষা)
- পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট- ১৯৬৩। (সহশিক্ষা)
- ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ।
- শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ (১৯৯৯) বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম এর নামে বাংলাদেশে ভএকমাত্র কলেজ। (সহশিক্ষা)
- ময়মনসিংহ ইসলামী একাডেমী এন্ড কলেজ। (সহশিক্ষা)
- এডভান্স রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ। (সহশিক্ষা)
- হাজী কাশেম আলী কলেজ। (সহশিক্ষা)
- রয়েল মিডিয়া কলেজ। (সহশিক্ষা)
- ময়মনসিংহ আর্ট কলেজ। (সহশিক্ষা)
- লিটল মেডিকেল স্কুলটি বিলুপ্ত হয় এবং ময়মনসিংহ শহরে একটি পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬২ ভসালে।
- কমিউনিটি বেজ্ড মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল।
- ল্যাবরেটরী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়। (সহশিক্ষা)
- বেসরকারী ল্যাবরেটরী উচ্চ বিদ্যালয়। (সহশিক্ষা)
- জেলা পরিষদ উচ্চ বিদ্যালয়। (সহশিক্ষা)
- মহাকালী বালিকা বিদ্যালয় (১৯০৭) কলেজ সংযুক্ত হয় ১৯৮১ সালে।
- পুলিশ লাইন হাইস্কুল - ১৯৭৪ (সহশিক্ষা)
- মহিলা সমিতি উদয়ন উচ্চ বিদ্যালয়। (সহশিক্ষা)
- ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড স্কুল। (সহশিক্ষা)
- কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়-এর আওতায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল ও পরে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ স্থাপিত হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয় পূর্বে ভেটেনারী কলেজ (১৯৫৭) নামে পরিচিত ছিল।
- বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়,আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, মুমিনুন্নেসা কলেজ, ময়মনসিংহ ইন্ঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ, ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ, মোমেনশাহী, নাসিরাবাদ কলেজ, কে বি কলেজ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ, মহিলা ডিগ্রী কলেজ, মুসলিম গার্লস কলেজ, বাংলাদেশ মহিলা টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ময়মনসিংহ টিচার্স ট্রেনিং কলেজ
- মাধ্যমিক স্কুল: কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হাই স্কুল,ময়মনসিংহ জিলা স্কুল, বিদ্যাময়ী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়,মুকুল নিকেতন স্কুল, ময়মনসিংহ সরকারী ল্যাবরেটরি স্কুল,
[সম্পাদনা] সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান
[সম্পাদনা] দর্শনীয় স্থানসমূহ
- শশী লজ
- গৌরীপুর লজ
- আলেকজান্দ্রা ক্যাসল
- শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা
- স্বাধীনতা স্তম্ভ
- ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী পার্ক
- ময়মনসিংহ জাদুঘর
- বোটানিক্যাল গার্ডেন
- নজরুল স্মৃতি কেন্দ্র
- মহারাজ সূর্যকান্তের বাড়ী
- বীরাঙ্গনা সখিনার মাজার
- রামগোপাল জমিদার বাড়ী
- ফুলবাড়ীয়া অর্কিড বাগান
- ফুলবাড়ীয়া আলাদীনস ইকোপার্ক
- চীনা মাটির টিলা
- আব্দুল জব্বার স্মৃতি জাদুঘর