ময়মনসিংহ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ময়মনসিংহ শহর ঘেঁষা ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী উদ্যানে পর্যটক, ২০১১

ময়মনসিংহ মধ্য - বাংলাদেশের একটি শহর। এটি ময়মনসিংহ জেলার প্রায় কেন্দ্রভাগে পুরাতন ব্রহ্মপূত্র নদের তীরে অবস্থিত। নদীর তীর জুড়ে এখানে একটি শহর রক্ষাকারী বাঁধ রয়েছে যার বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে নিয়ে গড়ে উঠেছে ময়মনসিংহ পার্ক যা শহরবাসীর মূল বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত।

ময়মনসিংহ শহরটি পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত, ফটো-২০১১

পরিচ্ছেদসমূহ

নামকরণ [সম্পাদনা]

ইতিহাস [সম্পাদনা]

১ মে ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে ময়মনসিংহ জেলা গঠিত হয় যার প্রথম কালেক্টর ছিলেন মিঃ এফ লি গ্রোস। ১৭৯১ খ্রিস্টাব্দে জেলা সদরের পত্তন হয় এবং ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে পৌরসভা গঠিত হয়। কালেক্টরেট ভবন ছিল ময়মনসিংহ শহরের কেন্দ্রবিন্দু। ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে সরকারী ডাক ব্যবস্থার প্রচলন করা হয়। ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দে জেলা বোর্ড গঠন করা হয়। প্রথম সরকারী চিকিৎসা কেন্দ্র চালু করা হয় ১৭৯১ খ্রিস্টাব্দে। ময়মনসিংহ শহর থেকে প্রথম মুদ্রিত পুস্তক প্রকাশিত হয় ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে। ১৮৪৬ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় প্রথম ইংরেজী স্কুল। ময়মনসিংহ জিলা স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয় ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে। জেলার প্রথম আদম শুমারী পরিচালিত হয় ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দে। টেলিগ্রাফ অফিস স্থাপন ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে। । ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ চালু ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে, এবং ময়মনসিংহ-জগন্নাথগঞ্জ রেলপথ চালু হয় ১৮৬৫ সনে

মূল নিবন্ধ: ময়মনসিংহের ইতিহাস
ময়মনসিংহ শহরে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে স্থাপিত প্রথম শিরোপরি জলাধার (পানির ট্যাংক)

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে ময়মনসিংহ শহর (১৯৭১) [সম্পাদনা]

১৯৭১-এর ২৫ মার্চে ঢাকা শহরে গণহত্যা শুরুর অব্যবহিত পরে ময়মনসিংহের সংগ্রামী জনতা খাগডহর তৎকালীন ইপিআর ক্যাম্প ঘেরাও করে এবং বাঙ্গালী ইপিআর সদস্যদের সহায়তায় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে পরাস্ত করে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে। এ যুদ্ধে ইপিআর সদস্য দেলোয়ার হোসেন ও ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের ড্রাইভার পুত্র আবু তাহের মুকুল শাহাদৎ বরণ করেন। মূলতঃ এই যুদ্ধের পর পরই ময়মনসিংহের সীমান্ত অঞ্চলে অবস্থিত সীমান্ত ফাঁড়িগুলি বাঙ্গালী বিডিআরদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। নিহত পাক সেনাদের লাশ নিয়ে ময়মনসিংহবাসী বিজয় মিছিল করতে থাকে ও ধৃত অন্যান্য পাকসেনাদের কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ময়মনসিংহ জেলখানায় প্রেরণ করা হয়। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে এক সকালে পুরাতন বিডিআর ভবনের ৩য় তলার শীর্ষে হাজার হাজার লোকের জয় বাংলা ধ্বনির মধ্যে বাংলাদেশের নকশা খচিত পতাকা পতাকা উত্তোলন করেন সাবেক কমান্ডার জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মোঃ সেলিম সাজ্জাদ। এ যুদ্ধে আবুল হাসেম, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, নাজিম উদ্দিন আহমেদ, ম হামিদ, এসএম নাজমুল হক তারা, চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের (কাদু মিয়া), ভাসানী ন্যাপ নেতা এডভোকেট আব্দুল লতিফ তালুকদার, ইসহাক আখন্দ, গিয়াসুদ্নদিন মোক্তার, এম শামছুল আলম, শেখ হারুন, খোকন, বিডিআর ও পুলিশের সদস্যসহ হাজার হাজার সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করে।

১০ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ মুক্ত দিবস/

ভৌগোলিক পরিচিতি [সম্পাদনা]

ময়মনসিংহ শহরের নবনির্মিত জিরো পয়েন্ট নির্দেশক স্থাপনা। নির্মাণকাল - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ

ময়মনসিংহ জেলা 24°02'03" থেকে 25°25'56" উত্তর অক্ষাংশ এবং 89°39'00" থেকে 91°15'35" পূর্ব দ্রাঘিমাংশের অবস্থিত। সর্বশেষ ভূমি রেকর্ড ও জরিপ (১৯৭১) অনুযায়ী, এটি ৫,০৩৯.৭৬ বর্গ মাইল (১৩,০৫২.৯২ বর্গ কিলোমিটার) ব্যাপী একটি অঞ্চল নিয়ে গঠিত।

প্রকৃত শহর এলাকা, মিউনিসিপাল এলাকার চেয়ে বড়। ময়মনসিংহ শহর তার উত্তর বরাবর প্রবাহিত পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদী দ্বারা পরিষ্কারভাবে চিহ্নিত।

কৃতি-সন্তান [সম্পাদনা]

১/ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহিদ আব্দুল জব্বার ২/ আবুল মনসুর আহমেদ ৩/ রফিক উদ্দিন ভূইয়া

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান [সম্পাদনা]

ময়মনসিংহ শহরের একটি আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এইচ এস টি টি আই ২০১১

ময়মনসিংহ শহরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংখ্যায় অনেক। এগুলোর মধ্যে রয়েছে স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ, কারিগরী বিদ্যালয় ইত্যাদি। বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ঊনবিংম শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠিত।

ময়মনসিংহ শহর বাংলাদেশের অন্যতম শিক্ষানগরী হিসাবে পরিচিত । ময়মনসিংহে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় , অবস্থিত। এছাড়া এখানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ, আনন্দমোহন কলেজ ইত্যাদি খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। নিচে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি তালিকা দেয়া হল:

সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান [সম্পাদনা]

উদিচি আলোকময় নাহা সঙ্গিতালয় নজরুল একাডেমি বহুরূপী নাট্ট

দর্শনীয় স্থানসমূহ [সম্পাদনা]

শশী লজের সম্মুখ চত্বরে মার্বেল পাথরের মূর্তি
  • শশী লজ
  • গৌরীপুর লজ
  • আলেকজান্দ্রা ক্যাসল‎
  • শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা
  • স্বাধীনতা স্তম্ভ
  • ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী পার্ক
  • ময়মনসিংহ জাদুঘর
  • বোটানিক্যাল গার্ডেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
  • নজরুল স্মৃতি কেন্দ্র
  • মহারাজ সূর্যকান্তের বাড়ী
  • বীরাঙ্গনা সখিনার মাজার
  • রামগোপাল জমিদার বাড়ী
  • ফুলবাড়ীয়া অর্কিড বাগান
  • ফুলবাড়ীয়া আলাদীনস ইকোপার্ক
  • চীনা মাটির টিলা
  • আব্দুল জব্বার স্মৃতি জাদুঘর
  • বিপিন পার্ক বিপিনচন্দ্র পাল
  • সাহেব পার্ক (শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন গ্যালারীর কাছাকাছি)
  • মুক্তাগাছা রাজবাড়ি

উপসনালয় [সম্পাদনা]

ময়মনসিংহ শহরের বড় মসজিদ

সমগ্র শহর জুরেই আছে মসজিদ, মন্দির, গির্জা। যেমন আছে বড় মসজিদ, বড় বাজারের খুবই কাছাকাছি। এছাড়া আছে , ভাটি কাশর মসজিদ। রয়েছে কালী মন্দির, দূর্গা মন্দির, শিব মন্দির, লোকনাথের আশ্রম। পাদ্রি মিশন রয়েছে মাসকান্দায়, গির্জা আছে সার্কিট হাউজের খুবই নিকটে।

যাতায়ত ব্যবস্থা [সম্পাদনা]

ময়মনসিংহ থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানের সাথে রয়েছে ট্রেন যোগাযোগ। রয়েছে আন্তঃনগর এবং মেইল ট্রেন উভয়ই।

  • আন্তঃনগর ট্রেনসমূহ হলো: যমুনা একপ্রেস, তিস্তা একপ্রেস, ব্রহ্মপুত্র একপ্রেস, অগ্নিবিণা একপ্রেস।
  • মেইল ট্রেনসমূহ হলো: ধলেশ্বরী একপ্রেস, ভাওয়াল একপ্রেস, ময়মনসিংহ একপ্রেস, ঈশাখা একপ্রেস, মহুয়া একপ্রেস, জামালপুর কমিউটার, দেওয়ানগঞ্জ একপ্রেস।[১]

এছাড়া সড়ক ও জলপথেও যাতায়াত করা যায় ময়মনসিংহে।

বাজার-ঘাট [সম্পাদনা]

নতুন বাজার, স্বদেশী বাজার, বড় বাজার, ছোট বাজার, মেছুয়া বাজার রয়েছে ময়মনসিংহে। এছাড়া সিকে ঘোষ রোড আর মিন্টু কলেজ মোড়েও রয়েছে বাজার। এগুলি সবই মূলত অনেক পুরাতন। যেমন স্বদেশী বাজারের নামকরণ হয়েছে স্বদেশী আন্দোলনের সময়।

জনজীবন, জীবিকা [সম্পাদনা]

বাৎসরিক অনুষ্টানাদি [সম্পাদনা]

সরকারী দপ্তরসমূহ [সম্পাদনা]

গণমাধ্যম [সম্পাদনা]

বিখ্যাত ব্যক্তিগণ [সম্পাদনা]

শহরের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা

আরও দেখুন [সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র [সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ রেলওয়ে, www.railway.gov.bd; সংগ্রহের তারিখ: ২৪ মার্চ ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ।