জগন্নাথ হল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জগন্নাথ হলের মাঠে সরস্বতী পূজা

জগন্নাথ হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যালঘু তথা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান সম্প্রদায়সহ উপজাতি ছাত্রদের জন্য সংরক্ষিত হলবিশেষ। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম যে তিনটি হল নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল জগন্নাথ হল তার একটি। ঢাকার বলিয়াদির জমিদার কিশোরীলাল চৌধুরী'র পিতা জগন্নাথরায় চৌধুরী'র নামে এই হলের নামকরণ করা হয়। এই হলের প্রথম প্রভোস্ট ছিলেন অধ্যাপক নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে বিখ্যাত অধ্যাপক সত্যেন্দ্রনাথ বসু, অধ্যাপক জ্ঞান চন্দ্র ঘোষ, ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব, অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা এই হলের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় ড. গোবিন্দচন্দ্র দেব ও অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতাকে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী হত্যা করে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জগন্নাথ হলে, ১৯২৬ [১]

এই হলে রয়েছে মোট চারটি ভবন। ভবনগুলো হচ্ছে -

  • গোবিন্দচন্দ্র দেব ভবন
  • সন্তোষচন্দ্র ভট্টাচার্য ভবন
  • অক্টোবর স্মৃতি ভবন
  • জোতির্ময় গুহঠাকুরতা ভবন

এছাড়া, আরো একটি ভবন এখন নির্মাণাধীন রয়েছে।

২৫ মার্চ, ১৯৭১[সম্পাদনা]

১৯৭১ খ্রীস্টাব্দের ২৫ মার্চ মধ্যরাতের পর পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ঢাকায় গণহত্যা অভিযান শুরু করে। এর অন্যতম লক্ষ্য ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা। এই অভিযান থেকে জগন্নাথ হলও বাদ পড়েনি। ঐ রাতে জগন্নাথ হলের বহু আবাসিক ছাত্র ও কর্মচারী নিহত হয়।

জগন্নাথ হলের একটি আবাসিক ভবনের ছাদ ধ্বসে নিহতদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধ

জগন্নাথ হল ট্র্যাজেডি[সম্পাদনা]

১৯৮৫ খ্রীস্টাব্দের ১৫ অক্টোবর প্রাচীন জগন্নাথ হলের একটি আবাসিক ভবনের ছাদ ধ্বসে পড়লে সংঘটিত হয় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। এতে প্রাণ হারায় ৩৯ জন ছাত্র, কর্মচারী ও অতিথি। এরপর থেকেই সাংবার্ষিকভিত্তিতে ঐ দিনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]