মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন (বীর উত্তম)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন বাংলাদেশের সামরিক কর্মকর্তা ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের তার অবদানের জন্য তিনি বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত হয়েছিলেন।[১][২]

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন ১৯৩৯ সালের ২২শে নভেম্বর চট্টগ্রামের (বর্তমান কক্সবাজার) চকরিয়ার হারবাং গ্রামের পহরচান্দা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন পি.এ.এফ. পাবলিক স্কুল সারগোদা তে সেকেন্ড এন্ট্রিতে ভর্তি হন (এটাকার ১৪৩)। সেখান থেকে সিনিয়র কেমব্রিজ সমাপ্ত করে মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন ২৫ তম পি.এম.এ. লং কোর্সে যোগদান করেন। ট্রেনিং সমাপন করে ২১শে এপ্রল ১৯৬২ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে কমিশন লাভ করেন। কর্নেল আতাউল গনি ওসমানী মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিনকে দালাইলামা নামে সম্বোধন করতেন। ১৯৬৫ এর ভারত পাকিস্তান যুদ্ধে তিনি ১ম বেঙ্গলের এডজুটেন্ট হিসাবে লাহোর সেক্টরের খেমকারণে বীরত্বের সাথে লড়াই করেন। খেমকারণের যুদ্ধের অবদানের জন্য ১ম বেঙ্গল সেসময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সর্বাধিক সংখ্যক বীরত্ব খেতাব অর্জন করেছিল। পরবর্তিতে তিনি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের এ.ডি.সি., পি.এম.এ. এর ইন্সট্রাক্টর সহ নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকুরী করেন। মুক্তিযুদ্ধের প্রথমদিকে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানে আটকা পড়ে ছিলেন। সেখান থেকে মেজর মঞ্জুর বীর উত্তম (পরিবার সহ), মেজর তাহের বীর উত্তম ও ক্যাপ্টেন পাটোয়ারি সহ রাতের অন্ধকারে একটি সেকেন্ড হ্যান্ড ভক্সওয়াগন নিয়ে শিয়ালকোট হয়ে ভারতে পালিয়ে যান। তারপর বাংলাদেশে এসে মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন। মুক্তি যুদ্ধকালীন তিনি ১ নম্বর সেক্টরের অধীন ১ম ইস্ট বেঙ্গলের কমান্ডিং অফিসার ছিলেন। উল্লেখ্য মোহাম্মদ হামিদুর রহমান বীর শ্রেষ্ঠ ধলই এর যুদ্ধে তাঁর অধীনে যুদ্ধ করে শহীদ হন। স্বাধীনতার পর তিনি ঢাকার ৪৬ ব্রিগেডের প্রথম ব্রিগেড কমান্ডার ছিলেন। এসময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশ সফরে এলে লেফট্যানেণ্ট কর্নেল জিয়াউদ্দিন তাঁকে গার্ড অফ অনার প্রদান করেন। শৃঙ্খলাভঙ্গের অপরাধে ১৯৭৪ সালে তাকে বাহিনী থেকে বহিষ্কার করা হয়। চাকরিচ্যুত হওয়ার পর তিনি পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টিতে যোগ দেন।[৩] ১৯৮৯ সালে সাধারণ ক্ষমার অধীনে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন। লেফট্যানেন্ট কর্নেল মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন (বীর উত্তম) ১৯৯৩ সালের ২রা সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত হন। সততার সাথে তিনি এই পদে ১৫ই সেপ্টেম্বর ১৯৯৬ ইং পর্যন্ত চাকুরি করেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম প্রেসিডেন্সি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রিন্সিপাল হিসাবে কর্মরত আছেন।

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা"। ৩০ জুন ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০১২ 
  2. ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রকাশিত বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত গেজেট, গেজেট নং-৮/২৫/ডি-১/৭২-১৩৭৮
  3. আনোয়ার উল আলম, রক্ষীবাহিনীর সত্য-মিথ্যা, প্রথমা, ঢাকা, দ্বিতীয় সংস্করণ, অক্টোবর ২০১৩, পৃষ্ঠা ৮২, ৯৫, ৯৬।