ফজলুর রহমান খন্দকার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
ফজলুর রহমান খন্দকার
Fazlur Rahman Khandokar.Bir Uttom.jpg
মৃত্যু ২৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১
জাতীয়তা বাংলাদেশী
জাতিসত্তা বাঙালি
নাগরিকত্ব  বাংলাদেশ
যে জন্য পরিচিত বীর উত্তম

শহীদ ফজলুর রহমান খন্দকার (জন্ম: অজানা - মৃত্যু: ২৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর উত্তম খেতাব প্রদান করে। [১]

জন্ম ও শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

ফজলুর রহমান খন্দকারের বাড়ি বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার আউলিয়াপুর গ্রামে। তাঁর বাবার নাম খন্দকার আবুল হোসেন এবং মায়ের নাম আমিরুন্নেছা। তাঁর স্ত্রীর নাম মমতাজ বেগম। তাঁদের তিন মেয়ে।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালে ফজলুর রহমান খন্দকার কর্মরত ছিলেন রংপুর ইপিআর উইংয়ে। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি প্রথমে সাহেবগঞ্জ সাবসেক্টরে ও পরে পাটগ্রাম সাবসেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করেন।

মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা উপজেলায় ছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ক্যাম্প। সেখানে সন্ধ্যা থেকে শুরু ছিল বৃষ্টি এবং ঝোড়ো বাতাস। এর মধ্যেই নৌকাযোগে নদী পার হলেন মুক্তিযোদ্ধারা। তাঁরা বেশির ভাগ ইপিআরের সদস্য। একটি কোম্পানির নেতৃত্বে ছিলেন ফজলুর রহমান খন্দকার। আর তাঁদের সবার নেতৃত্বে সাব-সেক্টর কমান্ডার মতিউর রহমান। নদী পার হওয়ার পর মুক্তিযোদ্ধাদের পার হতে হলো আরও একটি বড় খাল। এই খালের ওপারেই পাকিস্তানি সেনাদের অবস্থান। ফজলুর রহমান ও তাঁর সঙ্গীরা দ্রুত পজিশন নিয়েছেন। ভোর হয়ে গেলে প্রথম ফায়ার ওপেন করলেন মতিউর রহমান। এরপর মুক্তিযোদ্ধারা একযোগে আক্রমণ চালালেন। সারা দিন যুদ্ধ চলল। অব্যাহত গোলাগুলির মধ্যে ফজলুর রহমান সন্ধ্যার আগেই তাঁর দল নিয়ে এগিয়ে গেলেন পাকিস্তানি সেনাদের অবস্থানের খুব কাছাকাছি। আকস্মিক এই ঘটনায় পাকিস্তানি সেনারা দিশাহারা। মুক্তিযোদ্ধাদের ধাবমান এই দলের গতি রোধ করা তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ল। মুক্তিযোদ্ধারা জোর কদমে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। এমন সময় শুরু হলো পাকিস্তানি সেনাদের দিক থেকে তীব্র গোলাবৃষ্টি। ফজলুর রহমান অতি কষ্টে তাঁর দলকে ছত্রভঙ্গ হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করলেন। কিন্তু পাকিস্তানি সেনাদের বিপুল সমরাস্ত্রের সামনে টিকে থাকা তাঁদের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়ল। তার পরও তিনি ও তাঁর অন্যান্য সহযোদ্ধা সাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধ করে যাচ্ছিলেন। রাত সাড়ে আটটার দিকে হঠাৎ গোলার টুকরোর আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হলেন। এর পরও তিনি লড়াই করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু একটু পরই তাঁর জীবনপ্রদীপ নিভে গেল। তিন দিনের এই যুদ্ধে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় পাকিস্তানিদের। মুক্তিবাহিনীর আরও ছয়জন শহীদ এবং ৩০ জন আহত হন। শহীদ ফজলুর রহমান খন্দকারসহ অন্য শহীদ যোদ্ধাদের সমাহিত করা হয় হাতীবান্ধা হাইস্কুল প্রাঙ্গণে।[২]

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. দৈনিক প্রথম আলো, "তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না" | তারিখ: ১২-০৬-২০১১
  2. একাত্তরের বীরযোদ্ধা, খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা (প্রথম খন্ড)। প্রথমা প্রকাশন। মার্চ ২০১৩। পৃষ্ঠা ২৬। আইএসবিএন 9789849025375 

বহি:সংযোগ[সম্পাদনা]