মজিবুর রহমান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মজিবুর রহমান
মৃত্যু২৪ এপ্রিল, ১৯৭১
জাতীয়তাবাংলাদেশী
জাতিসত্তাবাঙালি
নাগরিকত্ব বাংলাদেশ
যে জন্য পরিচিতবীর উত্তম

শহীদ মজিবুর রহমান (জন্ম: অজানা - মৃত্যু: ২৪ এপ্রিল, ১৯৭১) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর উত্তম খেতাব প্রদান করে। [১]

জন্ম ও শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

মজিবুর রহমানের বাড়ি নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার পাচুরিয়া গ্রামে। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। তাঁর বাবার নাম দলিল উদ্দিন সরদার এবং মায়ের নাম রেকজান বিবি।তাঁর স্ত্রীর নাম জোবেদা খাতুন। তাঁদের এক ছেলে।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

ইপিআরে চাকরি করতেন মজিবুর রহমান। ১৯৭১ সালে কর্মরত ছিলেন যশোর সেক্টরের অধীন চুয়াডাঙ্গা ৪ উইংয়ে। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে চুয়াডাঙ্গা ইপিআর উইংয়ের বাঙালি অধিনায়ক আবু ওসমান চৌধুরীর নেতৃত্বে ঝাঁপিয়ে পড়েন যুদ্ধে।

মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালের ২৪ এপ্রিল যশোর জেলার শার্শা উপজেলার কাগজপুকুরে ছিলো মুক্তিযোদ্ধাদের দক্ষিণ-পশ্চিম রণাঙ্গনের সদর দপ্তর। ২৩ এপ্রিল সকালে নবগঠিত বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ বেনাপোলে মুক্তিবাহিনীর দপ্তর পরিদর্শনে আসেন। সেখানে ব্রিটিশ এমপি ডগলাসম্যান তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। এর পরপরই পাকিস্তানি সেনারা সেখানে আক্রমণ শুরু করে। ২৩ ও ২৪ এপ্রিল বেনাপোল ও কাগজপুকুরে ভোর থেকে শুরু হয় ভয়াবহ যুদ্ধ । পাকিস্তান সেনাবাহিনী মুক্তিবাহিনীর অবস্থানে আক্রমণ করেছে। মুক্তিবাহিনীর অগ্রবর্তী দল পাকিস্তানি সেনাদের মোকাবিলা করছে। একসময় খবর এল, অগ্রবর্তী দলের গোলাবারুদ প্রায় শেষ। তাঁদের কাছে দ্রুত গোলাবারুদ পৌঁছে না দিতে পারলে তাঁরা বেশির ভাগই মারা পড়বেন। কিন্তু পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অব্যাহত আক্রমণ ও প্রচণ্ড গোলাগুলির মধ্যে সেখানে গোলাবারুদ নিয়ে যাওয়াও বিরাট ঝুঁকিপূর্ণ। এই কঠিন কাজের দায়িত্ব স্বেচ্ছায় কাঁধে তুলে নিলেন মজিবুর রহমান। গোলাবারুদভর্তি একটি গাড়ি নিয়ে তিনি রওনা হলেন মুক্তিবাহিনীর অগ্রবর্তী দলের অবস্থানের উদ্দেশে। তাঁর সঙ্গে মাত্র একজন সঙ্গী। অগ্রবর্তী অবস্থানে গিয়ে প্রচণ্ড গোলাগুলির মধ্যে হামাগুড়ি দিয়ে কয়েকটি বাংকারে পৌঁছে দিলেন গোলাবারুদ। শেষবার একটি মেশিনগান পোস্টে গিয়ে দেখেন গানম্যান গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। মেশিনগানের পাশেই পড়ে আছে তাঁর নিথর দেহ। রক্তে ভেসে গেছে জায়গাটা। সেখানকার সহযোদ্ধা দুজন নেই। তাঁরা মেশিনগানের লক খুলে তা অকেজো অবস্থায় রেখে চলে গেছেন। মজিবুর রহমান সঙ্গীকে বললেন পাশের বাংকার থেকে একটি লক আনতে। আর তিনি নিজেই অবস্থান নিলেন সেই বাংকারে। সঙ্গী ফিরে আসছে না দেখে আবার উঠে নিজেই গেলেন সেখানে। সঙ্গী ও লকসহ এসে ওই মেশিনগান সচল করলেন। আর ঠিক তখনই গুলি করতে করতে বাংকারের কাছাকাছি এসে পড়ে একদল পাকিস্তানি সেনা। চোখের সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হলেন তাঁর সঙ্গী। ক্ষিপ্র গতিতে মেশিনগান থেকে গুলি ছোড়া শুরু করলেন তিনি। গুলিতে হতাহত হলো বেশ কজন পাকিস্তানি সেনা। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই শেষ হয়ে গেল মেশিনগানের গুলি। মেশিনগানের শূন্য বেল্টে গুলি ভরার জন্য প্রয়োজন হয় কমপক্ষে দুজন সাহায্যকারীর। তাঁর কাছে তখন একজন সাহায্যকারীও নেই। এদিকে পাকিস্তানি সেনারা একদম কাছে এসে পড়েছে। এ সময় পেছনে থাকা এক সহযোদ্ধা তাঁকে বারবার পেছনে আসতে বলেন। তখন মজিবুর রহমান ওই সহযোদ্ধাকে বলেন, ‘মজিবুর রহমান পিছে হটতে জানে না।’ এরপর তিনি কোমরে থাকা পিস্তল দিয়ে গুলি করতে থাকেন। একসময় তাঁর পিস্তলের গুলিও শেষ হয়ে গেল। এরপর খালি হাতেই জয়বাংলা ধ্বনি দিয়ে বীর বিক্রমে ঝাঁপিয়ে পড়েন এক পাকিস্তানি সেনার ওপর। সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানি সেনাদের অস্ত্রের একঝাঁক গুলি এসে বিদ্ধ হয় তাঁর দেহে। ঝাঁজরা হয়ে যায় তাঁর বুকের পাঁজর। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এই বীর যোদ্ধা। শহীদ হন তিনি। মুক্তিবাহিনীর মজিবুর রহমানসহ কয়েকজন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করে শহীদ হন।[২]

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. দৈনিক প্রথম আলো, "তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না" | তারিখ: ২৭-০৮-২০১১
  2. একাত্তরের বীরযোদ্ধা, খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা (প্রথম খন্ড)। প্রথমা প্রকাশন। মার্চ ২০১৩। পৃষ্ঠা ৩২। আইএসবিএন 9789849025375 

বহি:সংযোগ[সম্পাদনা]