মার্ক ইলহাম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মার্ক ইলহাম
Mark Ealham.jpg
২০০৭ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে মার্ক ইলহাম
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামমার্ক অ্যালেন ইলহাম
জন্ম (1969-08-27) ২৭ আগস্ট ১৯৬৯ (বয়স ৫২)
উইলসবোরা, কেন্ট, ইংল্যান্ড
ডাকনামইলি, বর্ডার, স্ক্যাটার
উচ্চতা৫ ফুট ১০ ইঞ্চি (১.৭৮ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি মিডিয়াম-ফাস্ট
ভূমিকাঅল-রাউন্ডার
সম্পর্কঅ্যালেন ইলহাম (পিতা)
সিমন উইলস (শ্যালক)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৫৮০)
৪ জুলাই ১৯৯৬ বনাম ভারত
শেষ টেস্ট২১ জুন ১৯৯৮ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ১৩৬)
২৩ মে ১৯৯৬ বনাম ভারত
শেষ ওডিআই১২ জুন ২০০১ বনাম পাকিস্তান
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৮৯ - ২০০৩কেন্ট
২০০৪ - ২০০৯নটিংহ্যামশায়ার
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ৬৪ ২৮১ ৪১৭
রানের সংখ্যা ২১০ ৭১৬ ১১,৩৪৯ ৬,৩২৬
ব্যাটিং গড় ২১.০০ ১৭.৪৬ ৩১.৯৬ ২৩.৯৬
১০০/৫০ ০/২ ০/০ ১৩/৬৭ ১/২৬
সর্বোচ্চ রান ৫৩* ৪৫ ১৫৩* ১১২
বল করেছে ১,০৬০ ৩,২২৭ ৩৮,৪৩৪ ১৮,৫০০
উইকেট ১৭ ৬৭ ৬৪৩ ৪৭৭
বোলিং গড় ২৮.৭০ ৩২.৭৯ ২৭.৯৩ ২৬.৫০
ইনিংসে ৫ উইকেট ২৪
ম্যাচে ১০ উইকেট - -
সেরা বোলিং ৪/২১ ৫/১৫ ৮/৩৬ ৬/৫৩
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৪/– ৯/– ১৫৮/– ১১০/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৭ অক্টোবর ২০২০

মার্ক অ্যালেন ইলহাম (ইংরেজি: Mark Ealham; জন্ম: ২৭ আগস্ট, ১৯৬৯) কেন্টের উইলসবোরা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সময়কালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্ট ও নটিংহ্যামশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন ‘ইলি’ ডাকনামে পরিচিত মার্ক ইলহাম

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

স্টোর ভ্যালি সেকেন্ডারি স্কুলে অধ্যয়ন করেন। কেন্টের উইলসবোরা এলাকায় মার্ক ইলহামের জন্ম। কেন্ট কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের মাধ্যমে খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। তার পিতা অ্যালেন ইলহাম তার পুরো খেলোয়াড়ী জীবন কেন্টের পক্ষেই অতিবাহিত করেছিলেন। ১৯৮৯ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট ও লিস্ট এ ক্রিকেটে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয় তার।

১৯৮৯ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত মার্ক ইলহামের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। সম্মুখের পায়ে ভর রেখে মিতব্যয়ী বোলিংয়ের স্বাক্ষর রাখেন তিনি। মাঝে-মধ্যে কিছুটা দেরীতে ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে বলকে বাঁক খাওয়াতেন। স্কয়ার, লেগসাইড ও কভার ড্রাইভের সংমিশ্রণে তার ব্যাটিং পরিচালিত হতো।

দল পরিবর্তন[সম্পাদনা]

পিতা অ্যালেন ইলহামের ন্যায় তিনিও কেন্ট দলের পক্ষে খেলেছিলেন। তার ফিল্ডিং বিস্ময়করভাবে বেশ চটপটে মনোভাবের ছিল। জনপ্রিয়তার মানদণ্ডে তিনি ক্রিস কাউড্রে’র পরের স্থান দখল করেছিলেন। ক্যান্টারবারিতে জন্মগ্রহণ করলেও তিনি কাউন্টি দল ত্যাগ করে ২০০৪ সালের শুরুতে নটিংহ্যামশায়ারে যোগ দেন। ২০০৩ সালের পূর্বেই কেন্ট ত্যাগ করেন মার্ক ইলহাম। নটিংহ্যামশায়ারের পক্ষে তিন বছরের জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন।

এখানে থাকাকালীন ২০০৫ সালের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা জয় করে তার দল। দল পরিবর্তন করে তাৎক্ষণিক সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। ২০০৫ সালের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ী নটিংহ্যামশায়ার দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন।

ঐ মৌসুমে ১৫ খেলায় অংশ নিয়ে ৫৬ উইকেট পান। এ সংখ্যাটি নটিংহ্যামশায়ারের বোলারদের মধ্যে শীর্ষে ও প্রথম বিভাগে পঞ্চম স্থান দখল করে। ২০.৮০ গড়ে সংগৃহীত উইকেটগুলো প্রথম বিভাগে ২০-এর অধিক উইকেট লাভকারী বোলারদের মধ্যে চতুর্থ সর্বনিম্ন গড় ছিল। চার দিন ও একদিনের ক্রিকেটে দলের মূল্যবান খেলোয়াড়ে পরিণত হন। ২০০৬ সালে জাতীয় বোলিং গড়ে তৃতীয় স্থান দখল করেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে আটটিমাত্র টেস্ট ও চৌষট্টিটি একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশগ্রহণ করেছেন মার্ক ইলহাম। ৪ জুলাই, ১৯৯৬ তারিখে নটিংহামে সফরকারী ভারত দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ১৮ জুন, ১৯৯৮ তারিখে লর্ডসে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

১৯৯৭ সাল থেকে ২০০১ সালের শুরুরদিক পর্যন্ত তিনি ইংল্যান্ডের একদিনের আন্তর্জাতিক দলে কার্যকর অল-রাউন্ডার হিসেবে অংশ নিতেন। একদিনের তুলনায় টেস্টে তিনি কম সফলতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। মাত্র আটটি টেস্টে অংশ নিতে পেরেছিলেন তিনি। তাসত্ত্বেও, ১৯৯৭ সালে এজবাস্টন টেস্টে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে স্মরণীয় খেলা প্রদর্শন করেছিলেন।

১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ড দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রিত হন। এ পর্যায়ে তাকে ভারত গমনার্থে মনোনীত করা হয়। ২৩ মে তারিখে একদিনের আন্তর্জাতিকে অভিষেক ঘটে তার। বৃষ্টির কারণে খেলাটি পরিত্যক্ত ঘোষিত হলেও তিনি ৪০ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। জুলাইয়ে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তার টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। আরও একবার ইলহাম তার সুন্দর খেলা প্রদর্শনে সচেষ্ট হন। প্রথম ইনিংসে ৫১ রানের ইনিংস খেলেন। এরপর, দ্বিতীয় ইনিংসে ৪/২১ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। পরবর্তীকালে এটিই তার সেরা বোলিং ছিল।

জানুয়ারি, ২০০০ সালে খেলোয়াড়ী জীবনের সেরা মুহূর্ত উদ্‌যাপন করেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত ত্রি-দেশীয় সিরিজে পঞ্চম খেলায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দূর্দান্ত খেলেন। ৫/১৫ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন তিনি। ঐ সময়ে এটিই যে-কোন ইংরেজ বোলারের একদিনের আন্তর্জাতিকে সেরা বোলিং ছিল। সবগুলো আউটই তিনি এলবিডব্লিউ’র মাধ্যমে লাভ করেছিলেন। এটিও অদ্যাবধি একদিনের আন্তর্জাতিকে রেকর্ড হিসেবে চিত্রিত হয়ে আছে।[১]

টেস্ট অভিষেক পর্বে যথেষ্ট প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রাখেন তিনি। তবে, সীমিত ওভারের ক্রিকেটেই সর্বাধিক সফলতা পান। তিনি মুক্তভাবে ব্যাটিংয়ে অভ্যস্ত ছিলেন। ২০০৫ সালে টুয়েন্টি২০ কাপে ডারহামের বিপক্ষে মাত্র ১৭ বল ৪৫ রানের ঝড়ো ইনিংস উপহার দেন। এ পর্যায়ে এক ওভার থেকেই তিনি ৩৪ রান হাঁকিয়েছিলেন।

অবসর[সম্পাদনা]

ঘরোয়া ক্রিকেটে ২০ মৌসুম অতিবাহিত করার পর সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সালে মার্ক ইলহাম অবসর গ্রহণ করেন।[২] এরপর তিনি ক্যান্টারবারির কিংস স্কুলে ক্রিকেটের দায়িত্বে থাকেন।[৩] কিংস কলেজে থাকাকালীন অলি রবিনসনসহ কেন্ট একাডেমির বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে প্রশিক্ষণ দেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Cricinfo - A legend is born
  2. No regrets on retirement - Ealham bbc.co.uk Thursday, 9 July 2009 09:57 UK
  3. Ealham Prepares For Life After Notts ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৭ জুন ২০১১ তারিখে NCCC News 29 September 2009

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]