বুরাইদাহ ইবনুল হুসাইব

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

বুরাইদাহ ইবনুল হুসাইব(মৃত্যু- ৬৩ হিজরি) রাসুল(সঃ) এর একজন সাহাবা ছিলেন । তিনি একজন যোদ্ধা সাহাবা ছিলেন । তিনি ১৬৪ টি হাদিস বর্ণনা করেছেন ।[১]

নাম ও বংশ পরিচয়[সম্পাদনা]

বুরাইদাহ ইবনুল হুসাইব এর মূলনাম বুরাইদাহ আর ডাকনাম আবু আবদিল্লাহ ।তার পিতার নাম হুসাইব ইবন আবদিল্লাহ । বুরাইদাহ ইবনুল হুসাইব বনু আসলাম গোত্রের সরদার ছিলেন । তার আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহসুলাইমান ইবনে বুরাইদাহ নামে দুটি ছেলে ছিল ।

ইসলাম গ্রহন ও হিজরত[সম্পাদনা]

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) হিজরতের সময় বুরাইদাহ ইসলাম গ্রহণ করেন । হযরত রাসুল(সঃ) মক্কা থেকে মদীনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে গামীম নামক স্থানে পৌঁছলে বুরাইদাহ সহ ৮০ জন ব্যক্তি একসঙ্গে ইসলাম গ্রহণ করেন ।[২]

ইসলাম গ্রহণের পর তিনি নিজ গোত্রে অবস্থান করতে থাকেন এবং বদর ও উহুদ যুদ্ধের পর ৬ষ্ঠ হিজরিতে মদীনায় হিজরত করেন । অবশ্য তার ইসলাম গ্রহণ ও মদীনায় আসার সময়কাল সম্পর্কে ইতিহাসে ভিন্নমতও রয়েছে ।

যুদ্ধে অংশগ্রহন[সম্পাদনা]

রাসুল(সঃ) এর জীবনে[সম্পাদনা]

ষষ্ঠ হিজরি মদিনায় হিজরতের পর সর্বপ্রথম হুদাইবিয়ার সন্ধিতে অংশগ্রহণ করে ‘বাইয়াতে রিদওয়ানের’ সৌভাগ্য অর্জন করেন।

হিজরী ৭ম সনে খাইবার অভিযানে অংশগ্রহণ করেন।

হিজরী ৮ম সনে মক্কা বিজয় অভিযানে তিনি রাসুল(সাঃ) এর সংগী ছিলেন এবং একটি বাহিনীর পতাকা হাতে নিয়ে মক্কায় প্রবেশ করেন ।[৩]

হিজরী ৮ম সনের জুমাদিউল উলা মাসে তাবুক যুদ্ধের সময় হযরত রাসূলে কারীম (সাঃ) মক্কাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের লোকদের যুদ্ধে যোগদানে উৎসাহিত করার জন্য বিভিন্ন গোত্রের নিকট লোক পাঠান। এ সময় তিনি বুরাইদাকে আসলাম গোত্রের নিকট পাঠান এবং তাকে নির্দেশ দেন তিনি যেন মক্কা মদীনার মধ্যবর্তী স্থান ‘ফুরআ’ নামক স্থানে উপস্থিত হন ।[৪]

মক্কা বিজয়ের পর হযরত রাসূল(সাঃ) হযরত খালিদ ইবনুল ওয়ালীদের নেতৃত্বে একটি বাহিনী ইয়ামনে পাঠান। বুরাইদাহও এ বাহিনীর একজন সদস্য ছিলেন। পরে হযরত আলীর নেতৃত্বে অন্য একটি বাহিনী সেখানে পাঠানো হয় এবং গোটা বাহিনীর নেতৃত্ব আলীর (রাঃ) হাতে অর্পণ করা হয়। বুরাইদাহ ইবনুল হুসাইব উক্ত বাহিনীর সদস্য ছিলেন । [সহীহুল বুখারী─বাবু বা’সু আলী ইলাল ইয়ামন]।

হযরত রাসুল(সঃ) জীবনের শেষ অধ্যায়ে উসামাকে সিরিয়ায় একটি অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। এ বাহিনীর পতাকাবাহী ছিলেন বুরাইদাহ । উসামা তাঁর বাহিনী নিয়ে মদীনা থেকে হয়ে কিছু পথ অতিক্রম করলে রাসুল(সঃ) অন্তিম পর্যায়ের খবর শুনতে পান । তিনি সাথে সাথে যাত্রা স্থগিত করে মদিনায় ফিরে আসেন । সাথে সাহাবা বুরাইদাহও ছিলেন । বুদাইদাহ পতাকা রাসুল(সঃ) ঘরের সামনে গেড়ে দেন ।

রাশিদুন খিলাফত আমলে[সম্পাদনা]

পরে রাসুল(সঃ) ইন্তিকালের পর ১ম খলিফা আবু বকরের নির্দেশে পুনরায় উসামার নেতৃত্বে সিরিয়ায় যাত্রা করেন এবং এই যুদ্ধে অংশগ্রহন করেন ।[৫]

কিছু বর্ণনায় পাওয়া যায়,বুরাইদাহ ইসলাম গ্রহণের পর রাসূলুল্লাহর (সাঃ) জীবদ্দশায় যতগুলি যুদ্ধ হয়েছে সবগুলিতে অংশগ্রহণ করেন। সহীহাইনে তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি রাসূলুল্লাহর (সাঃ) মোট ১৬ টি যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন ।[৬][৭]

মুহাম্মদ(সঃ) ও আবু বকরের খিলাফতকালে বুরাইদাহ মদীনার বাসিন্দা ছিলেন । খলীফা উমারের (রাঃ) খিলাফতকালে বসরা শহরের পত্তন হলে তিনি সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দা হন।

হযরত উসমানের খিলাফতকালে খুরাসান অভিযানে অংশ নিয়ে ‍‘মারভে’ চলে যান এবং সেখানেই থেকে যান ।

বুরাইদাহ একজন বীর যোদ্ধা হওয়া সত্ত্বেও রাশিদুন খলীফাদের আমলে কোন গৃহযুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ করেননি[৮][৯]

হাদিস বর্ণনা[সম্পাদনা]

তিনি রাসুল(সাঃ) বহু হাদীস স্মৃতিতে সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন । তার বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা প্রায় ১৬৪। তারমধ্যে ১ টি হাদিস ইমাম বুখারীমুসলিম উভয়ই বর্ণনা করেছেন । ২টি বুখারী ও ১১টি মুসলিম এককভাবে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর বর্ণিত হাদীস তবে তাবেয়ী বর্ণনা করেছেন । এর মধ্যে,

আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ

সুলাইমান ইবনে বুরাইদাহ

আবদুল্লাহ ইবন খাযায়ী

শা’বী

মালীহ ইবন উসামা বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

একটি হাদিস

বুরাইদাহ ইবন হুসাইব(রাঃ) থেকে বর্ণিত,  রাসূলুল্লাহ ﷺ এক সাহাবীকে বলতে শুনেছেন,

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ أَنِّي أَشْهَدُ أَنَّكَ أَنْتَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ الْأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ

অর্থাৎ, হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আপনার নিকট চাচ্ছি। নিশ্চয় আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আপনিই আল্লাহ। আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, যিনি একক, অমুখাপেক্ষী যিনি কাউকে জন্ম দেন নি, তার থেকে কেউ জন্ম নেন নি এবং তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই।

ওই সময় রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছিলেন- لَقَدْ سَأَلْتَ اللَّهَ بِالِاسْمِ الَّذِي إِذَا سُئِلَ بِهِ أَعْطَى وَإِذَا دُعِيَ بِهِ أَجَابَ তুমি আল্লাহর ওই নাম নিয়ে দোয়া করেছ, যার মাধ্যমে প্রার্থনা করা হলে তিনি তা দান করেন এবং দোয়া করা হলে কবুল করেন ।[১০][১১][১২]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

তিনি ইয়াযীদ ইবন মুয়াবিয়ার খিলাফতকালে হিজরী ৬৩ সনে পারস্যের ‘মারভে’ নামক স্থানে ইনতিকাল করেন ।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. (বইঃ আসহাবে রাসূলের জীবনকথা – দ্বিতীয় খন্ড) 
  2. [হায়াতুস ‍সাহাবা-১/৩] 
  3. [হায়াতুস সাহাব-১/১৬৭] 
  4. [তারীখে ইবন আসাকির-১/১১০] 
  5. [হায়াতুস সাহাবা-১/৪২৫-২৬] 
  6. [আল ইসাবা-১১৪৬] 
  7. [তাবাকাতে ইবন সা’দ─ মাগাযী অধ্যায়-১৩৬] 
  8. [ইবন সা’দ-৪/১৭৬] 
  9. [হায়াতুস সাহাবা-৩/৩৮৮] 
  10. (আবু দাউদ ১৪৯৩) 
  11. (তিরমিযী - ৩৪৭৫) 
  12. (ইবন মাজাহ - ৩৮৫৭)