ফাতিমা বিনতে কায়স

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

ফাতিমা বিনতে কায়েস আল ফিহরিয়া মুহাম্মাদ এর একজন নারী সাহাবা ছিলেন। তিনি একজন হাদিস বর্ণনাকারী মহিলা সাহাবা ছিলেন। বিখ্যাত তাবেয়ী ইমাম শাবী তার ছাত্র ছিলেন।

নাম ও বংশ পরিচয়[সম্পাদনা]

ফাতিমা বিনতে কায়সের সংক্ষিপ্ত ফাতিমা। তার পিতার নাম কায়স ইবনে খালিদ এবং মাতার নাম উমাইমা বিনতে রাবিয়া। তার ছোট ভাইয়ের নাম দাহহক ইবনে কায়স, ফাতিমা দাহহাকের ১০ বছরের বড় ছিলেন। ফাতিমার মা উমাইমা ছিলেন বনু কিনানা গোত্রের মেয়ে।

ইসলাম গ্রহণ[সম্পাদনা]

মক্কায় ইসলামী দাওয়াতের সূচনা লগ্নেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং স্থানীয় মহিলাদের সাথে মদিনায় হিজরত করেন।[১] ইসলামী জ্ঞান বিতরণে ফাতিমা সর্বোচ্চ সচেষ্ট ছিলেন।

জীবন বৃত্তান্ত[সম্পাদনা]

আবু আমর হাফস ইবনে মুগীরার সাথে তার প্রথম বিয়ে হয়।[২] দশম হিজরিতে খলিফা আলীর নেতৃত্বে ইয়ামেনের দিকে একটি বাহিনী পাঠানো হয়। ফাতিমার স্বামী আবু আমর হাফস ইবনে মুগীরা এই বাহিনীর একজন সদস্য ছিলেন। পূর্বেই আমর ফাতিমাকে দুই তালাক দিয়েছিলেন। এখন মদীনা থেকে যাত্রাকালে তাদের বিয়ের উকিল আয়াশ ইবনে রাবিয়ার মাধ্যমে তৃতীয় তালাকের খবরটি তাকে পৌছে দেন। আর সেই সাথে তার ভরন পোষণের কিছু কিছু পাথেয় পাঠিয়ে দেন।

ফাতিমা বিনতে কায়সের বিবাহ বিচ্ছেদের পরে মুহাম্মাদ এর পরামর্শে তার চাচাত ভাই অন্ধ সাহাবা আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম এর নিকট ইদ্দত অবস্থান করতে লাগলেন। তার ইদ্দত পূরণ হবার সাথে সাথে মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান, আবু জাহম ও উসামা ইবনে যায়িদ প্রমুখ সাহাবা থেকে বিবাহের প্রস্তাব আস্তে লাগলো। এদের মধ্যে মুহাম্মাদ এর পরামর্শে উসামা ইবনে যায়িদের বিবাহের প্রস্তাব গ্রহণ করলেন।[৩][৪][৫]

২৩ হিজরির দিকে খলিফা উমরের ইন্তিকালের পর মজলিশে শূরার অধিবেশন ফাতিমার বাড়িতে বসতো।[৬][৭] ৫৪ হিজরিতে তার স্বামী উসামা ইবনে যায়িদ ইন্তেকাল হয়। স্বামী ইন্তিকালের পর বিধবা অবস্থায় বাকি জীবন তার ভাই দাহহক ইবনে কায়সের নিকট কাটিয়ে দেন। ইয়াযিদ ইবনে মুয়াবিয়া তার খিলাফতকালে দাহহাক ইবন কায়সকে ইরাকের গভর্নর নিয়োগ করলে ফাতিমা তার সাথে কুফায় চলে যান এবং সেখানেই বসবাস করতে থাকেন।[১]

হাদিস বর্ণনা[সম্পাদনা]

ফাতিমা বিনতে কায়স মুহাম্মাদ থেকে কয়েকটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। বিখ্যাত তাবেয়ী ইমাম শাবী ছিলেন তার ছাত্র। একবার তিনি ফাতিমার সাথে দেখা করতে এলে, ফাতিমা তাকে খুরমা ও ছাতু খেতে দেন।[৮] তার থেকে যারা উল্লেখযোগ্য হাদিসগুলি বর্ণনা করেছেনঃ তারা হলঃ

চারিত্রিক গুণাবলী[সম্পাদনা]

ফাতিমা বিনতে কায়েস ছিলেন একজন রূপবতী মহিলা।[১২] তিনি ছিলেন একজন তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমতি, উন্নত সাংস্কৃতিক রুচি সম্পন্ন পূর্ণ মানের নারী।[১] সেই সাথে মার্জিত, রুচিশীল ও ভদ্র স্বভাবেরও ছিলেন।

মৃত্যু[সম্পাদনা]

ফাতিমা বিনতে কায়সের মৃত্যু সন সঠিকভাবে জানা যায় না। তবে ঐতিহাসিকগণ একমত হয়েছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের এর খিলাফতকাল পর্যন্ত জীবিত ছিলেন।[১৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. [উসুদুল গাবা-৫/৫২৬] 
  2. [আল-ইসতীয়াব-৪/৩৮৩ (আল-ইসাবার পার্শ্বটিকা) : তাবাকাত-৮/২৭৩] 
  3. [তাবাকাত-৮/২৭৪-২৭৫] 
  4. [মুসনাদ-৬/৪১১-৪১৪] 
  5. [সহীহ মুসলিম-১/৪৮৩] 
  6. [আল-ইসতিআব-৪/৩৮৩] 
  7. [উসুদুল গাবা-৫/৫২৭] 
  8. [সহীহ মুসলিম-১/৪৮৪] 
  9. [সিয়ারু আ‘লাম আন-নুবালা-২/৩১৯] 
  10. [আল-ইসতি‘আব-৪/৩৮৩] 
  11. [সাহাবিয়াত-১৮০] 
  12. [আল-ইসাবা-৪/৩৮৪] 
  13. [সহীহ মুসলিম১/৪৮৫]