প্রথম আব্বাস (পারস্য)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
পারস্যের সাফাভি রাজবংশ[১][২]
سلسلهٔ صفويان
Ṣafawīyān Irân
১৫০১–১৭৩৬
পতাকা প্রতীক
প্রথম শাহ আব্বাসের অধীনে সাফাভি সাম্রাজ্য
রাজধানী তাবরিজ
(১৫০১-১৫৫৫)
কাজভিন
(১৫৫৫–১৫৯৮)
ইসফাহান
(১৫৯৮–১৭৩৬)
ভাষাসমূহ
  • ফার্সি‌ (সরকারি,[৩] মুদ্রা,[৪][৫] বেসামরিক প্রশাসন,[৬] আদালত (ইসফাহান রাজধানী হওয়ার আগ পর্যন্ত),[৭] high literature,[৬] সাহিত্য,[৪][৮] ধর্মতত্ত্ব,[৪] কূটনৈতিক সম্পর্ক, কাব্য-সাহিত্য (আদাব), ইতিহাসচর্চা,[৯] দরবার ভিত্তিক ধর্মীয় বিবৃতি[১০]) *আজারবাইজানি (দরবার, (ইসফাহান রাজধানী হওয়ার আগ পর্যন্ত)[৭] ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, সামরিক)[৯][১১][১২][১৩]
ধর্ম বারোপন্থি শিয়া ইসলামa
সরকার ধর্মরাষ্ট্র রাজতন্ত্র
 -  ১৭৩২–১৭৩৬ তৃতীয় আব্বাস (শেষ)
আইন-সভা আলোচনা সভা
ইতিহাস
 -  সাফিউদ্দিন আরদাবিলি কর্তৃক সাফাভিয়া প্রতিষ্ঠা ১৩০১
 -  সংস্থাপিত ১৫০১
 -  হুতাকি আক্রমণ ১৭২২
 -  ভাঙ্গিয়া দেত্তয়া হয়েছে মার্চ ১৭৩৬
 -  নাদির শাহের ক্ষমতালাভ ১ অক্টোবর ১৭৩৬
আয়তন  বর্গ কি.মি. ( বর্গ মাইল)
মুদ্রা তুমান, আব্বাসি, শাহি.[১৪] *১ তুমান = ৫০ আব্বাসি *১ তুমান = ৫০ ফরাসি লিভ্রে *১ তুমান = £3 6s 8d.
পূর্বসূরী
উত্তরসূরী
তিমুরি রাজবংশ
আক কোয়ুনলু
মারাশিয়ান
পাদুসপানি
মিহরাবানি
আফরাসিয়া রাজবংশ
কিয়াই রাজবংশ
হুতাকি রাজবংশ
আফশারি রাজবংশ
মসুল এলায়েত
বাগদাদ এলায়েত
বসরা এলায়েত
বর্তমানে অংশ
a State religion.[১৫]
সতর্কীকরণ: "মহাদেশের" জন্য উল্লিখিত মান সম্মত নয়

প্রথম আব্বাস (ফার্সি: شاه عباس بزرگ‎; শ আব্বসে বোযোর্গ) ( ২৭শে জানুয়ারি ১৫৭১– ১৯ জানুয়ারি ১৬২৯) যিনি মহান আব্বাস নামেও পরিচিত, ১৫৮৭ থেকে ১৬২৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত পারস্যের শাহ ছিলেন। তিনি তার পিতা শাহ মোহাম্মদ খোদাবন্দের পরে সাফাভি রাজবংশের ৫ম শাহ হিসেবে মাত্র ১৬ বছর বয়সে পারস্যের শাসনভার গ্রহণ করেন। আব্বাসকে সবচেয়ে শক্তিশালী সাফাভি রাজা হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি পারস্য থেকে উসমানীয় ও উজবেক সৈন্যদের বিতাড়িত করে এবং একটি সদাপ্রস্তুত সেনাবাহিনী গঠন করে পারস্যে সাফাভি রাজবংশের কর্তৃত্ব সুসংহত করেন। আব্বাস এসফাহন শহরকে তার রাজধানী বানান। তার শাসনামলে এসফাহন বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর একটি শহরে পরিণত হয়।

আব্বাসের আমলে শিল্পকলায় পারস্যের কীর্তি শীর্ষে আরোহণ করে। আলোকিত পাণ্ডুলিপি, মৃত শিল্প, চিত্রকলা এ সবই বিকাশ লাভ করে। পর্তুগি, ওলন্দাজ ও ইংরেজরা পারস্যের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপনে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। আব্বাস গণজীবনে একজন উদারমনা ও সহিষ্ণু শাসক ছিলেন। তিনি খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে বিশেষ সুযোগ সুবিধা দেন। তিনি জনগণে কল্যাণের ব্যাপারেও আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ব্যাপারে ভীতির কারণে তিনি তার ঘনিষ্ঠ পরিবার স্বজনদের সাথে নির্মম আচরণ করতেন। তিনি তার পুত্রদেরকে হয় হত্যা করেন বা অন্ধ করে দেন।

বাল্যকাল[সম্পাদনা]

সাফাভি রাজবংশের সময়কাল

শাহ্‌ আব্বাস ২৭ জানুয়ারি, ১৫৭১খ্রিষ্টাব্দে হেরাতে(বর্তমানে আফগানিস্তান,খোরাসানেরদুইটি প্রধান শহরগুলোর অন্যতম)।তিনি পারস্যের সাফাভি বংশের চতুর্থ শাসক মোহাম্মদ খোদাবান্দার তৃতীয় পুত্র এবং তার মাতা খায়ের আন নিসা বেগম ("মাহ-ই-উলা" নামে পরিচিত),তিনি মাজান্দারান প্রদেশের মারাশি শাসকের কন্যা ছিলেন,যারা নিজেদের চতুর্থ শিয়া ইমাম জয়নাল আবিদীনের বংশধর বলে দাবি করতেন।তার জন্মের সময়ে তার পিতামহ শাহ তাহমাসপ পারস্যের শাহ ছিলেন।তার জন্মের কিছুদিন পর তার পিতা-মাতা তাকে ধাত্রীর নিকট প্রেরন করেন এবং ধাত্রী হিসেবে হেরাতের গভর্নর আলি কুলি খান শামলুর মাতা খানি খান খনমকে নিয়োগ করে।

ক্ষমতা সুদৃঢ়করণঃ[সম্পাদনা]

সিংহাসনে আরোহনের পর শাহ আব্বাস নানা বিপদের সম্মুখীন হন। তিনি কিজিলবাস গোত্রপতিদের সাহায্যে ক্ষমতা লাভ করেছিলেন। তাদের নেতা ছিলেন মুর্শিদকুলী খান। তিনি শাহ্ আব্বাসের উপর প্রভাব বিস্তার করে সাম্রাজ্যের শাসনক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চেয়েছিলেন। তার নেতৃত্বধীনে কিজিলবাসগণ ক্ষমতা নিয়ে অত্যন্থ্য বাড়াবাড়ি শুরু করল। ফলে সাম্রাজ্যে অশান্তি দেখা দিল। সুতরাং শাহ ্ আব্বাস তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করতে বাধ্য হলেন। তিনি গুপ্তঘাতকের সাহায্যে মুর্শিদকুলী খানকে হত্যওা করলেন। অন্যান্য উদ্ধত ও শান্তিভঙ্গকারী কিজিলবাস দলপতিদের বিরুদ্ধেও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হলো।

পিতাপুত্রের গৃহবিবাদ, কিজিলবাসদের উচ্ছৃংখলতা ও অন্যান্য গোলযোগের ফলে পারস্যের শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। এর দুর্বলতার সুযোগ গ্রহণ করে তুরুস্কের সুলতান সুলায়মানের নির্দেশে ফরহাদ পাশা পারস্য আক্রমন করেন। ১৫৮৭ খ্রিষ্টাব্দে বাগদাদের নিকটবর্তী এক যুদ্ধে পারসিকগণ পরাজিত হলো। ফলে খুজিস্তান, লুরিস্থান ও ইরাক আজম শাহ্ আব্বাসের হাতছাড়া হয়ে যায়। পরবর্তী বছর ফরহাদ পাশা পুনরায় পারস্য আক্রমন করে কারাবাগ ও গান্জ অধিকার করেন এবং বিজিত অঞ্চলে সৈন্যসমাবেশ ও দুর্গ নির্মাণ করে নিজেকে শক্তিশালী করে তোলেন। এদিকে উজবেকগণ তাঁর সাম্রাজ্যের উত্তর-পশ্চিম সীমানায় বার বার লুটপাট করে জনসাধারণের জীবন ও শাসনব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। এক সাথে দুই দিক হতে আক্রমন মোকাবিলা করা অসম্ভব মনে করে তিনি তাব্রিজ, জর্জিয়া, সিরওয়ান ও লুরিস্তান ছেড়ে দিয়ে তুকীদের সাথে সন্ধি করলেন (১৫৯০খ্রি)। বলা বাহুল্য এ সন্ধিচুক্তি ছিল সাফাভীদের জন্য অপমানজনক। 

এ সময় সাফাভীদের চিরশত্রু উজবেকগণ রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহর নেতৃত্বে খুব শক্তিশালী হয়ে উঠে। তারা পূর্বে ফারগানা, কাশগড় ও খোটান এবং দক্ষিণে বলথ, বাদাখশান ও তুর্কীস্থান জয় করে রাজ্যের সীমা বর্ধিত করে। তারা পশ্চিমে অস্ত্রাবাদ দখল ও জিলান বিধ্বস্ত করে । এর পর তারা দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয় এবং কয়েক মাস অবরোধের পর হিরাত অধিকার করে । মেশেদ আক্রমনের সময় শাহ আব্বাস এর রক্ষাকল্পে অগ্রসর হলেন, কিন্তু অসুস্থতার জন্য সময়মত তিনি উপস্থিত হতে পারলেন না। ফলে মেশেদ উজবেকদের হস্তগত হলো। নিশাপুর, সাবজার,ইস্পাহান ও খোরাসানের অন্যান্য শহর একে একে উজবেকদের হাতে চলে গেলে অবস্থা চরমে উঠল। কাজেই শাহ আব্বাস আর চুপ করে বসে থাকতে পারলেন না। স্বীয় সেনাবাহিনীকে সংগঠিত করে তিনি উজবেকদের বিরুদ্ধে অগ্রসর হলেন। সৌভাগ্যবশত এ সময় উজবেক নেতা আবদুল্লাহ ও আবদুল মমিনের মৃত্যু হলে উজবেকগণ আত্মঘাতী গৃহবিবাদে লিপ্ত হয়ে পড়ে। ফলে তাদের শক্তি ও বহুলাংশে খর্ব হয়ে পড়ে। এ সুযোগে শাহ্ আব্বাস বিরাট এক সৈন্যবাহিনী নিয়ে হিরাতের নিকট উজবেকদেরকে আক্রমন করে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করলেন (১৫৯৭) । দীর্ঘ দশ বছর পর হিরাত ও মেশেদ তার হস্তগত হলো। এ সম্বন্ধে ঐতিহাসিক লকহার্ট বলেন, “অসাধারণ ক্ষমতা ও দক্ষ নেতৃত্ব দ্বারা শাহ্ আব্বাস শুধু উজবেকদের দমন এবং পরবর্তীকালে তুর্কীদেরকে তার রাজ্য হতে বিতাড়িরতই করেননি ,দীর্ঘকাল ধরে উপজাতীয় তুর্কীরা যে সামরিক একাধিপত্য ভোগ করেছিলেন তাও চুর্ণ বিচুর্ণ করে দেন। ”

এর পরে অনেক বছর যাবৎ উজবেকগণ আর সীমান্ত আক্রমণ করেনি। উজবেদদের আক্রমণ হগতে সীমান্তকে ভবিষ্যে ত রক্ষা করার জন্য শাহ্ আব্বাস কয়েক সহস্য কুর্দ পরিবারকে স্থায়ীভাবে সীমান্তে বসবাস করার ব্যবস্থা করেন। 

১৫৯৮ খ্রিস্টাব্দে ইউরোপীয় ভাগ্যান্বেষী এ্যান্তনী শালিং ও রবার্ট শার্লি ভ্রাতৃদ্বয় ২৬ জন অনুচরসহ পারস্য আগমন করেন। শাহ্ আববাস উজবেকদেরকে পরাস্ত করে রাজধানীতে প্রত্যাবর্তন করলে শার্লি ভ্রাতৃদ্বয় পারসিক কায়দায় নজর ও তোহফা নিয়ে তার দরবারে হাজিন হন এবং শাহের অধীনে চাকরির আবেদন জানান। শাহ তাদের সৌজন্যে সন্তুষ্ট হয়ে তাদেরকে উপহান প্রদান ও চাকরির অবেদন মঞ্জুর করেন। শাহ্ আব্বাসের সেনাবাহিনীত পুনর্গঠনে শার্লিভ্রাতৃদ্বয় বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। 

সেনাবাহিনীর সংস্থার শাহ্ আবাবসের অন্যতম কৃতিত্ব। এতকাল পারস্যের সেনাবাহিনী প্রধানত কিজিলবাস গোত্রগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ছিল এ বং গোত্রপতিরাই এ সেনাবাহিনীর সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন । এতদ্বতীত, প্রচলিতক প্রথানুযায়ী পারস্য সা¤্রাজ্য কিজিলবাস দলপতিদের মধ্যেই বিভক্ত ছিল। ক্ষমতাসীন দলপতিগণ তাদের নিজ নিজ জায়গীর হতে খাজনা আদায় করতেন এবং এ সংগ্রহীত রাজসেব্র কিচু অংশ রাজকোষে  প্রেরণ  করে বাকী অর্থ তারা নিজেদের ব্যক্তিগত ও সৈন্যবাহিনী সংরক্ষনের কাজে ব্যয় করতেন । 

যুধ-বিগ্রহঃ[সম্পাদনা]

আরও দেযুদ্ধবিগ্রহ বা অন্য কোন প্রয়োজনের সময় দলপতিগণ তাঁদের সৈন্য দ্বারা শাহকে সাহায্য করতেন । কিন্তু এ ব্যবস্থার ফলে অনেক অসুবিধার সৃষ্টি হয়েছিল। প্রথমতঃ কিজিলবাস দলপতিগণ প্রায় ক্ষেত্রেই নির্ধারিত সংখ্যক সৈন্য সংরক্ষণ করতে ব্যর্থ হতেন। তদুপরি, তারা সৈন্যদের সামরিক নৈপুন্য অর্জনের দিকেও তেমন একটা নজর দিতেন না। এত স্বাভাবিকভাবেই সৈন্যদের রণকৌশলগত মান হ্রাস পায়। দ্বিতীয়তঃ কিজিলবাস সৈন্যবাহিনী তাদের গোত্রীয় দলপতি ছাড়া অন্য কারও আদেশ পালন করতে চাইনা । এমনকি, সময় সময় শাহের আদেশও তারা পালন করতে চাই না। এতে কেন্দ্রীয় শক্তির দুর্বলতা প্রকাশ পায়। এ দুর্বলতার সুযোগে স্বার্থান্বেষী দলপতিগণ তাদের অনুগত সৈন্যদের সাহায্যে অনেক সময়ই  বিদ্রোহ ঘোষনা করে বসতেন । আবার কখনওবা শাহের উপর অবৈধ  প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা চালাতেন। এরুপ পরিস্থিতির জন্যই শাহের পক্ষে কোন অবাধ্য অথবা স্বার্থান্বেষী বিদ্রোহী দলপতিকে শায়েস্তা করা সম্ভব হতো না। কারণ বিদ্রোহী দলপতিকে শায়েস্তা করতে গেলেই তার অনুগত সৈন্যগণ বিদ্রোহ ঘোষনা করে শাহের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাড়াত। 

সিংহাসন লাভের পর হতেই শাহ আব্বাস সৈন্যবাহিনীর এ অব্যবস্থা লক্ষ্য করে আসছিলেন এবং এর সংস্কারের জন্য সচেষ্টও ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে কোন পদক্ষেপ গ্রহন করা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। কারন তখন পর্যন্তও তার সামরিক শক্তির প্রধান উৎস ছিল কিজিলবাসদের অশ্বারোহী বাহিনী। কাজেই শাহ আব্বাস স্বীয় দুরদর্শিতা দ্বারা বুঝতে পেরেছিলেন যে, সাফাভীদের আজ্ঞাবহ একটি জাতীয় বাহিনী গঠন করা না হলে কিজিলবাস দলপতি ও সৈন্যদের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি খর্ব করা যাবে না। এজন্যই তিনি তরুস্কের জেনেসারী বাহিনীর অনুকরণে একটি নতুন জাতীয় সৈন্যবাহিনী গঠনে মনোযোগী হলেন। তিনি গোত্রীয় সৈন্য সংখ্যা অর্ধেক কমিয়ে দিয়ে জর্জিয়া ও আর্মেনিয়া হতে আগত নও মুসলমানদের নিয়ে ১০,০০০ সৈন্যের একটি অশ্বারোহী বাহিনী এবং স্থানীয় বিত্তহীন কৃষকদের নিয়ে ১২,০০০ পদাতিক ও পর্বতারোহী সৈন্যের দু’টি শক্তিশালী বাহিনী গঠন করলেন। এ বাহিনীদ্বয়কে যথাক্রমে গুলাম ও তুফাংচি’ নামে আখ্যায়িত করা হলো। তিনি জর্জিয়ানদের সমন্বয়ে ৩,০০০ সৈন্যের একটি ব্যক্তিগত দেহরক্ষী বাহিনীও গঠন করলেন। এর নাম ছিল ‘মুলাজিমান’। 

শাহ আব্বাস এ্যান্থনী শার্লি ও রবার্ট শার্লি সক্রিয় সহায়তায় সৈন্যবাহিনীকে আধুনিক সামারিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলেন। শার্লি ভ্রাতৃদ্বয়ের দলে কামান নির্মাণে একজন দক্ষ সদস্য ছিলেন। তারঁ সহায়তায় পাঁচশত কামান সম্বলিত ১২,০০০ সৈন্যের একটি সাজোয়া বাহিনী গঠন করা হলো। এতে শাহ্ আব্বাসের সৈন্যসংখ্যা ৩৭,০০০ এ উন্নীত হয়। শাহ্ আব্বাসের গুলামবাহিনী হতে আল্লাহ্বর্দী খান নামক এক ব্যক্তিকে প্রধান সেনাপতি পদে নিয়োগ করেন। তিনি ছিলেন সুযোগ্য ও বিশ্বস্ত এবং শালিং ভ্রাতৃদ্বয়ের পরামর্শ  ও সাহায্যে তিনি সেনাবাহিনীকে সম্পূর্ণরুপে শাহ আব্বাসের আজ্ঞাবহ ও তার প্রতি আনুগত্যশীল করে তোলেন। শাহ আব্বাস তার এ নব প্রতিষ্ঠিত স্থায়ী বিশাল বাহিনীকে রাজকোষ হতে নগদ বেতন প্রদানের ব্যবস্থা করেন। এতে বিশেষ আর্থিক সংকটের সৃষ্টি হলে তিনি খাস জমি সরকারী দখলে এনে তা হতে প্রাপ্ত দ্বারা সৈন্যবাহিনীর বেতন দানের ব্যবস্থা করেন। 

সৈন্যবাহিনীর আমূল সংস্কারের ফলে প্রতিপত্তিশালী কিজিলবাস গোত্রসমূহের ক্ষমতা অনেকাংশে খর্ব হয়ে পড়েছিল। ফলে কিজিলবাস দলপতিগণ শাহের এ সংস্কার সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করতে পারলেন না। তারা এর বিরুদ্ধে  প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠলেন। ক্ষমতায় সুপ্রতিষ্ঠিত শাহ আব্বাস এবার বিক্ষুদ্ধ কিজিলবাসদের  বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠলেন। ক্ষমতায় সুপ্রতিষ্ঠিত শাহ আব্বাস এবার বিক্ষুদ্ধ কিজিলবাসদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর মনোভাব গ্রহন করলেন। কতর্বকাজে অবহেলা, উচ্ছৃংখলা ও অবাধ্যতহার অভিযোগে বহু কিজিলবাস দলপতিকে কঠিন সাজা দেয়া হলো। অনেকেই সেনাপতির পদ ও জায়গীর হারালেন। এমনকি, শাহের প্রতি সম্পূর্ণ অনুগত কিজিলবাস সেনাপতি ও শাস্তির হাত হতে রক্ষা পেলেন না। শাহের কঠোর শাস্তির হাত হতে রেহাই পাওয়ার জন্য কিজিলবাস  সম্প্রদায়ের বহু লোক অটোমান তুর্কি সুলতানের নিকট গিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করল। এ ভাবে শাহ আব্বাস ক্ষেত্রে কিজিলবাসদের প্রতিপত্তি খর্ব করার জন্য তিনি শাহ সাভান বা শাহের বন্ধু নামে একটি নতুন দল গঠন করলেন। সর্বপ্রকার রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করার ফলে অচিরেই এ দলে হাজার হাজার লোক এসে যোগদান করে । এতে কিজিলবাস গোত্র দুর্বল হয়ে পড়লে শাহের শক্তি বৃদ্ধি পায়। 

শার্লি ভ্রাতৃদ্বয় ১৫৯৮ খ্রিষ্টাব্দে শাহ আব্বাসের দরবারে গমন করেন এবং শাহকে সৈন্যবাহিনী গঠনে  যথেষ্ঠ সাহায্য করেন। পরে তুরস্কের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় রাজন্যবর্গের সাহায্য রাভের জন্য শাহ আব্বাস এ্যান্থনি শার্লিকে দূত হিসেবে ইউরোপে পাঠান। তিনি বিভিন্ন রাজদরবার হয়ে স্পেন গমন করেন এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়। 

অটোমান তুর্কীদের বিরুদ্ধে অভিযান

শাহ্ আব্বাস ১৫৯৭ খ্রিষ্টাব্দে উজবেকদের পরাজিত করে সাফাভী সা¤্রাজ্যকে এক প্রবল শত্রুর হাত হতে রক্ষা করেছিলেন। এর পর হতেই তিনি অটোমান তুর্কীদের বিরুদ্ধে অগ্রসর হবার সুযোগ খুজছিলেন। কারণ ১৫৯০ খ্রিষ্টাব্দে তুর্কীদের সাথে সন্ধিচুক্তি স্বাক্ষরিত মূলতঃ তা ছিল সাফাভীদের জন্য অপমানজনক। 

কাজেই শাহ আব্বাস এ সন্ধি চুক্তি ভঙ্গ করে তুর্কীদের নিকট হতে হৃতরাজ্যাংশ পুনরুদ্ধারের জন্য যখন পরিকল্পনা আটছিলেন। ঠিক তখনই তার সম্মুখ সুবর্ণ সুযোগ এসে গেল। আজারবাইজানে অবস্থানরত তুর্কীবাহিনী এ সময় আকস্মিকভাবে সাফাভী সা¤্রাজ্যভুক্ত সালমাস আক্রমণ করে উভয় দেশের মধ্যকার সন্ধিচুক্তি লংঘন করল। শাহ আব্বাস আর কালক্ষয় না করে তুরস্কের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হলেন। ১৬০৩ খ্রিষ্টাব্দে এক অভিযান চালিয়ে তিনি তাব্রিজ পুনরুদ্ধার করে নিলেন। অতঃপর এরিভ্যান, রিওয়ান ও ফারস ও তার হস্তগত হলো। তুর্কীদের এ বিপর্যয়কালে সুলতান তৃতীয় মুহম্মদ পররোক গমন করেন। এবং দতস্থলে যুবরাজ আহমদ তুরস্কের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। সিংহাসনে আরোহণ করেই তিনি সাফাভীদের  বিরুদ্ধে নব উদ্যম সমর প্রস্তুতি গ্রহণ করেন এবং সেনাপতি সিকালা পাশার নেতৃত্বে ১২০০০০ সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী পারস্য অভিমুখে প্রেরণ করেন। তুর্কীদের গতিরোধ কারার জন্য শাহ আব্বাস ও ৬২০০০ সুশিক্ষিত সেন্য নিয়ে সমরাভিযানে বের হলেন। ১৬০৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি আজারবাইজানের উপর আক্রমণ চালালেন। অতঃপর উরুমিয়া হ্রদের তীরবর্তী সিস নামক স্থানে তুর্কী ও পারস্য বাহিনীর মধ্যে ভীষণ যুদ্ধ হরো। যুদ্ধে প্রখ্যাত সেনাপতি সিকালা পাশার  নেতৃত্বাধীন তুর্কী বাহিনী শোচনীয়ভাবে পরাজয় বরণ করল এবং ২০,০০০ হাজার তুর্কী সৈন্য যুদ্ধের ময়দানে নিহত হলো। এভাবে শাহ আব্বাস তুর্কীদের পরাস্ত করে দীর্ঘদিন পর আজারবাইজান নাখচিভান, পাজা,ি তফফিস এবং মেসোপটেমিয়া, মশুল, দিয়ারবেকির , কুর্দিস্থান, বাগদাদ, কারবালা ও নজফ পুনর্দুধার করলেন। এ সাফল্যের ফলে দেশের ভেতরে ও বাইরে শাহের খ্যাতি ও প্রতিপত্তি বহুগণে বেড়ে গেল। 

সাফাভীদের কাছে পরাজয়ের পর অটোমান তুর্কীগণ শাহের নিকট সন্ধি প্রস্তাব করল। অতঃপর আলাপ আলোচনার মাধ্যমে ১৬১২ খ্রিষ্টাব্দে পারস্যের অনুকুলে উভয়পক্ষের এক সন্ধিচুক্তি স্বাক্ষরিত হলো। সন্ধির শর্তানুসারে তুর্কীগণ সুলতান মুরাদ ও তৃতীয় মুহম্মদের সময়ে বিজিত পারস্যের সকল অঞ্চল ছেড়ে দিতে বাধ্য হলো। অপরপক্ষে, সাফাভীগণ তুর্কী সুলতানকে প্রতি বছর দুইশত  গাইট রেশম প্রদান করবে বলে সাব্যস্ত হলো। 

কিন্তু এ সন্ধি চুক্তি দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়নি। কারণ সন্ধি স্থাপনের অল্পকাল পরেই শাহ আব্বাস চুক্তি অনুযায়ী তুর্কী সুলতানকে নির্ধারিত পরিমাণ রেশম প্রদানে অস্বীকৃতি জানান এবং জর্জিয়ার উপর আক্রমণ চালান। ফলে ১৬১৬ খ্রিষ্টাব্দে তুর্কী ও পারসিকদের মধ্যে পুনরায় যুদ্ধের দাবানল জ্বলে উঠল। তুর্কীগণ এশিয়া মাইনর হতে এরিভান ও তাব্রিজের উপর আক্রমণ চালাল। কিন্তু সাফাভীগণ সাফল্যের সাথে তা প্রতিহত করে দিল । প্রায় দুই বছর পর্যন্ত তুর্কীগণ হৃতরাজ্য উদ্ধার করার চেষ্টা করে ব্যার্থ হলো। অবশেষে ১৬১৮ খ্রিষ্টাব্দে উভয় দেশের মধ্যে অর একবার শান্তি চুক্তি স্থাপিত হয়। কিন্তু এটিও বেশিদিন স্থায়ী হলো না। কারণ ১৬২৪ খ্রিষ্টাব্দে তুর্কীগণ পুনরায় বাগদাদ আক্রমন করল। শাহ আব্বাস এবারও দৃঢ়তার সাথে তুর্কীদের মোকাবিলা করলেন। এ যুদ্ধে উভয়পক্ষের  ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হলো। শেষ পর্যন্ত সাফাভীদের প্রচন্ড প্রতিরোধের মুখে তুর্কীবাহিনীর পশ্চাদপদসারণে বাধ্য হলো। এভাবে শাহ আব্বাস বারবার তুর্কী আক্রমণ প্রতিহত করে সাদাভী সা¤্রাজ্যকে বিদেশী আগ্রাসনের হাত  হতে রক্ষা করেছিলেন। 

শাহ আব্বাসের অন্যান্য সাফল্য

শাহ আব্বাস  কেবল উজবেক ও তুর্কী আক্রমণ প্রতিহত করে সাম্রাজ্য সীমাই রক্ষা করেননি, বরং অন্যান্য ক্ষেত্রেও যথেষ্ট সাফল্যের পরিচয় দিয়েছেন। ১৬০২ খ্রিষ্টাব্দে বাহরাইন অধিকার তার সাফল্যের একটি প্রকৃষ্ট প্রমাণ। এতদ্বতীত, ভারতের মুঘল স¤্রাটের নিকট হতে কান্দাহার পুনরুদ্ধার তার রাজত্বকালের আর একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। মহান মুঘল স¤্রাট আকবর ১৫৯১ খ্রিষ্টাব্দে সাফাভীদের নিকট হতে কান্দাহার দখল করে নিয়েছিলেন। ফলে উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। শাহ্ আব্বাস সম্রাট জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালে কান্দাহার পুনরাধিকার করতে সক্ষম হন ( ১৬২২ খ্রি)। 

কান্দাহার পুনর্দখলের পর তিনি পর্তুগীজদের প্রতি দৃষ্টি দেন এবং তাদের নিকট হতে পারস্য উপসাগরস্থ ওরমুজ বন্দর দখলের পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন। এখানে উল্লেখযোগ্য যে, শতাব্দীকালে পূর্বে পর্তুগীজগণ ওরমুজ বন্দর অধিকার করে নেয় (১৫০৭) এবং তাদের প্রচেষ্টায় কালক্রমে এটা প্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বানিজ্যবন্দরে পরিণত হয় । সাফাভী সা¤্রাজ্যের জন্য এ বন্দরটির প্রয়োজন ছিল। কাজেই শাহ্ আব্বাস এ বন্দরটি অধিকারের জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠেন। কিন্তু তার একক শক্তির পক্ষে এটা অধিকার করা সহজসাধ্য ছিল না। এ কারনেই তিনি ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাথে পর্তুগীজ বিরোধী মৈত্রীচুক্তি সম্পাদান করেন। চুক্তির শর্তানুযায়ী কোম্পানিকে যুদ্ধলব্দ সম্পদের অর্ধাংশ এবং বন্দরের শাসন ও শুল্ক আদায়ের সমানাধিকারের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। এ চুক্তি সম্পাদানের পর শাহ্ আব্বাস পারস্যেরপসাগরে অবস্থানরত ব্রিটিশ নৌাবাহিনীর সহায়তায় পর্তুগীজদের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী নৌবহর প্রেরণ করলেন। সাভাভী নৌ-সেনাপতি ইমাম কুলীর উপর এ অভিযানের নেতৃত্ব দেয়া হলো। ইমাম কুলীর নির্দেশে ওরমুজ বন্দরের উপর আক্রমণ চালান হয়। উভয় পক্ষের তুমুল সংঘর্ষের পর বন্দরের পতন ঘটল। পরাজিত পর্তুগীজরা বাধ্য হয়ে শাহের নিকট আত্মসমর্পণ করল। এভাবে সুদীর্ঘ শতাব্দী কাল পর ওরমুজ বন্দর পারসিকদের অধীন হলো। প্রচন্ড যুদ্ধের ফলে ওরমুজ বন্দর প্রায় বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছিল। শাহ আব্বাসের প্রচেষ্টায় অল্পকালের মধ্যেই এটাকে নতুনভাবে গড়ে তোলা হয় এবং তার নামানুসারে এর নাম রাখা হয় বন্দর আব্বাস  । আধুনিক অধিকারের  পর শাহ আব্বাস ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া  কোম্পানিকে সেখানে কুঠি নির্মানের অধিকার দিয়েছিলেন সত্য কিন্তু পূর্ব চুক্তি অনুযায়ী তাদের অন্য কোন সুযোগ সুবিধা দেননি। কেননা তিনি স্বীয় দুরদর্শিতা দ্বারা বুঝতে পেরেছিলেন যে, বিতাড়িত পর্তুগীজদের স্থলে ইংরেজদের প্রতিষ্ঠিত করা হলে তা ভবিষ্যঃ বিপদের কারণ হয়ে দাড়াবে। এ কারনেই তিনি ইংরেজদের প্রতি উদার মনোভাব গ্রহণ করতে পারেননি। 

শাহ আব্বাস কেবল অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রেই নয়, বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রেও বিরাট সাফল্য অর্জন  করেছিলেন। তার উদার বৈদেশিক নীতি ও ধর্মীয় স্বাধীনতার জন্যই ক্রিমিয়ার তাতার খান ও মস্কোর যুবরাজের সাথে সাফাভীদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠে। শাহ আব্বাস ভারতের মুঘল স¤্রাটদের সাথেও  সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সচেষ্ট ছিলেন। কিন্তু মহান মুঘল স¤্রাট আকবর কর্তৃক পারস্যের অধিকারভুক্ত কান্দাহার দখল ও এবং পরবর্তীকালে শাহ কর্তৃক স¤্রাট জাহাঙ্গীরের নিকট হতে কান্দাহার পুনরাধিকারের ফলে উভয়পক্ষের  সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তার সময় স্পেন, পর্তুগাল ও ইংল্যান্ডের সাথেও পারস্যের বিশেষ হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক অক্ষুন্ন ছিল। এ সমস্ত দেশ বন্ধুত্বের নিদর্শনস্বরুপ তাদের রাজদূত পারস্যের সাফাভী দরবারে প্রেরণ করেছিল। এদের মধ্যে  স্পেনের  রাজা তৃতীয় ফিলিপির দূত তিনবার ইস্পাহানে আগমন করেন। বৈদেশিক মৈত্রী সুদৃঢ় করার উদ্দ্যেশ শাহ আব্বাস ও এ্যান্থনি শার্লি ও পারস্যের হুসাইন আলী বেগকে ইউরোপ সফর পাঠিয়েছিলেন (১৫৮৯)। সে দূতদ্বয় প্রাগ, ভেনিস, রোম ও লিসবন সফর করলেও তারা শাহের আশা সম্পূর্ণ পূরণ করতে পারেন নি। এজন্যই শাহ আব্বাস কিছুকাল পরে এ্যান্থনি শার্লির ভ্রাতা রবার্ট শার্লিকে পুনরায় ইউরোপীয় রাজন্যবর্গের  দরবারে দূত হিসেবে প্রেরণ করেন (১৬০৯)। রবার্ট শার্লি পোল্যান্ড, জার্মানী ও রোম স¤্রাটের দরবার হয়ে ভারতগামী ব্রিটিশ জাহাজে আরোহণ  করে ভারতে এসে  পৌছান; পরে ভারত হতে পারস্যে গমন করেন। ১৬১৩ খ্রিষ্টাব্দে রবার্ট শার্লিকে দূত হিসেবে ইংল্যান্ডে পাঠানো হয়। প্রত্যাবর্তনকালে তিনি নক্কাদ আলী নামক জনৈক পারসিক কর্তৃক অপমানিত হয়ে আত্মহত্যা করেন। যা হোক, বিভিন্ন দেশের দূত বিনিময়ের ফলে সাফাভী সা¤্রাজ্যের খ্যাতি ও প্রতিপত্তি বহুলাংশে বেড়ে যায় এবং শাহ্ আব্বাসের সুনামও দেশবিদেশে ছড়িয়ে পড়ে। শাহ আব্বাসের শেষ জীবন সুখের হয়নি এবং এটা নির্মম ও নিষ্ঠুর কার্যের দ্বারা চিহ্নিত হয়ে রয়েছে। তার চার পুত্র ছিল ; তাদের চরিত্র নানাগুনে বিভূষিত ছিল। কিন্তু আব্বাস তাদের জনপ্রিয়তার ঈর্ষান্বিত হয়ে তাদের উপদেষ্টাদের শত্রু মনে করতেন এবং তাদের ক্ষতি সাধন করনে। কথিত আছে, তার চার পুত্রের মধ্যে প্রথম পুত্রকে বেহবুদ খানের দ্বারা হত্যা করান হয়; দ্বিতীয় পুত্র স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেন এবং অপর দুই পুত্রকে অন্ধ করে সিংহাসন নিষ্টকন্টক করা হয় । শাহ আব্বাসের এ নির্মমতার পিছনে হয়ত যথেষ্ট কারণ ছিল, যা অজ্ঞাত রয়েছে। সাম্রাজ্যের বৃহত্তর কল্যানেই তিনি হয়ত নিষ্ঠুর হতে াবাধ্য হয়েছিলেন। দীর্ঘ বিয়াল্লিশ বছর গৌরবময় রাজত্বের পর তিনি মাজেন্দ্রানে প্রাণত্যাগ করেন (১৬২৯)। পারস্যের এ মহান বাদশাহের তিরোধানের সাথে সাথে পারস্যের  অগ্রগতি স্তিমিত হয়ে পড়ে। 

শাহ আব্বাসের কৃতিত্ব ও চরিত্র। [সম্পাদনা]

শাহ আব্বাস কেবল পারস্যের সাফাভী বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ নুপতিই ছিলেন না, তিনি এশিয়া ও ইউরোপের শ্রেষ্ঠ রাজন্যবর্গের অন্যতম ছিলেন। প্রতিভা ও কৃতিত্বের বিচারে তিনি তার সমসামায়িক ভারতের মুঘল স¤্রাট মহামতি আকবর, ইংল্যান্ডের রাণী প্রথম এলিজাবেথ, ফ্রা্েসর রাজা পঞ্চম চার্লস ও তুরস্কের সুলতান সুলায়মানের সমকক্ষ ছিলেন। অবশ্য, কোন কোন ক্ষেত্রে তিনি এ সব নৃপতিদের কৃতিত্বও অতিক্রম করে গিয়েছিলেন। অভূতপূর্ব প্রজ্ঞা, প্রতিভাত, অনন্যসাধারণ সমর নৈপুন্য, শাসনতান্ত্রিক, কলাকৌশল, আধুনিক ধ্যান-ধারণা, স্থাপত্য কলার পৃষ্ঠপোষকতা এবং সর্বতোমুখী প্রতিভার  ক্রমবিকাশের মাধ্যমে মহান শাহ আব্বাস ষোড়শ শতাব্দীর পারস্যের ইতিহাসে এক বিষ্ময়কর ও যুগান্তকারী অধ্যায়ের সুচনা করেছিলেন। এ সম্পর্কে ঐতিহাসিক স্যার পার্শী সাইকস বলেছেন যে, শাহ আব্বাসের ধ্যান ধারনা তার যুগে প্রচলিত চিন্তাধারার চেয়ে অনেক বেশি অগ্রগামী ছিল। আর এ কারনেই পারস্যের অন্য কোন স¤্রাট তার মত অধিক শ্রদ্ধা ও ভালবাসা লাভ করতে পারেন নি। 

শাহ আব্বাস অত্যন্ত দুর্যোগপূর্ণ সময়ে পারস্যের সিংহাসনে আরোহণ করেন। এ সময় দেশে আইন শৃংখলা বলতে কিছুই ছিলনা। প্রভাবশালী কিজিলবাস স¤্রদায়ের আত্মঘাতী কোন্দল ও অশুভ তৎপরতার ফলে সা¤্রাজ্যের আভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছিল। আর এ দুঃসময়ে সাফাভীদের চিরশত্রু উজবেক ও তুর্কীরা পারস্যের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শাহ আব্বাস এ বিপর্যয়কর পরিস্থিতির বিরুদ্ধে দৃঢ় আত্মপ্রতয় ও আপোসহীন মনোভাব নিয়ে দন্ডায়মান হন। অত্যান্ত সাফল্যের সাথে তিনি অবাধ্য ও উচ্ছৃংখলা কিজিলবাসদের দমন এবং উজবেক ও তুর্কীদের আক্রমন প্রতিহত করেছিলেন । কালক্রমে সমগ্র পারস্যভূমিকে শত্রু কবল হতে মুক্ত করে তিনি সাম্রাজ্যে সুদুঢ় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করেন। 

শাহ আববাসের খ্যাতি কেবল সামরিক বিজয়ের সীমাবদ্ধ ছিল না, শাসন ক্ষেত্রেও তিনি যোগ্যতা ও প্রতিভার পরিচয় দিয়েছিলেন। শাসক হিসেবে শাহ আব্বাস ছিলেন উদার ও ন্যায়পরায়ন। তিনি নিরপেক্ষভাবে অপরাধের বিচার করতেন। বিচার বিভাগীয় শাসনকার্য সুষ্ঠুভাবে নির্বাহের জন্য তিনি শাইখ উল ইসলাম, কাজী, মুফতি হাকিম প্রমুখ কর্মকর্তাদের সাহায্য গ্রহন করতেন। কুরআন ও শিয়া মতানুযায়ী তিনি শাসনকার্য  পরিচালনার ব্যবস্থা করেন। যদিও মধ্যযুগীয় রীতি অনুযায়ী শাহ আব্বাস পুরাপুরি স্বেচ্ছাচারী শাসক ছিলেন। এবং তার আদেশই আইন হিসেবে গন্য হত, তবু সামরিক ও বেসামরিক শাসনকার্য পরিচালনার জন্য তিনি ইতিমাদউদ্দৌলা ( প্রধান উজির) বেলার বেগ (প্রদেশ পাল) কালান্দর (নগর পরিচালক) দারোগা (পুলিশ প্রধান ) এবং কেদখুদ্দাহ ও রইস (গ্রাম্য  মোড়ল) নামক বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও সাহায্য গ্রহণ করতেন। শাসনকার্যের সুবিধার জন্য তিনি রাজধানী ইস্পানে স্থানান্তরিত করেন। তার প্রচেষ্টায় ইস্পাহানে কালক্রমে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নগরীর মর্যাদা লাভ করে। 

শাহ আব্বাসের পূর্বে পারস্যের সেনাবাহিনীর কিজিলবাস গোত্রের লোক দ্বারা গঠিত ছিল। বস্তুত সেনাবাহিনীতে এ সময় সামন্তান্ত্রিক ও গোত্রতান্ত্রিক ব্যবস্থ্যা প্রচলিত ছিল। এ ব্যবস্থার ফলে সৈন্যদের উপর শাহের কোন কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ছিল না। কারণ কিজিলবাস সৈন্যগণ গোত্রীয় দলপতির আদেশ ছাড়া অন্য কারও নির্দেশ মান্য করতে চাই ত না। এতে প্রায়ই শাহকে বিপদের সম্মুখীন হতে হত। সামরিক প্রশাসনের এ অব্যবস্থা দূর করার জন্য শাহ আব্বাস গোত্রীয় সৈন্য সংখ্যা অর্ধেক  কমিয়ে দিয়ে তুরস্কের জেনিসারী বাহিনীর অনুকরণে একটি নিয়মিত ও বেতনভোগী সৈন্যবাহিনী গঠন করেন এবং এ বাহিনীকে এ্যান্থনি শার্লি ও রবার্র্ট শার্লি নামক দুইজন ইউরোপীয় কর্মচারীর সাহায্যে পুনর্গঠিত ও শক্তিশালী করে তোলেন। এর পর হতে শাহ বিপদের সময় এ বাহিনীর উপর সম্পূর্ণ নির্ভর করতে পারতেন । কিজিলবাসদের একগুয়েমি, স্বার্থপরতা ও আধিপত্য আরও খর্ব করার জন্য শাহ আব্বাস বিভিন্ন গোত্রের সমন্বয়ে শাহ সাভান অর্থাৎৎ শাহের বন্ধু নামে একটি নিজস্ব গোত্রের সৃষ্টি করেন। এভাবে সেনাবাহিনীর পুনর্গঠন ও নিজস্ব গোত্রীয় প্রভাব বৃদ্ধি করে তিনি নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। 

শাহ আব্বাসের কৃতিত্ব কেবল সামরিক ও শাসনতান্ত্রিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ ছিলনা, জনহিতকর কার্যাবলীর ক্ষেত্রেও তিনি অনন্য কৃতিত্ব রেখে গিয়েছেন। জনগনের সুখ সুবিধারর প্রতি লক্ষ্য রেখেই তিনি দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি সাধন করেন। তার নির্মিত কতকগুলো রাস্তা বিশেষ করে জিলান ও মাজেন্দ্রানের রাস্তাগুলো আজও তার কীর্তির পরিচয় বহন করছে। তিনি দেশের সর্বত্র সরাইখানা ও সেতু নির্মাণ করেছিলেন। রাজধানী ইস্পাহানকে  নতুন শহরে পরিণত করাই হলো তার শ্রেষ্ঠ কীর্তি । তিনি রাজধানীকে খুব উন্নত এবং সুন্দর ও সুরুচিসম্পন শিল্প ও কারুকার্যখচিত প্রাসাদ দ্বারা সুশোভিত করেছিলেন। এতদ্ব্যতীত তিনি কাস্পিয়ান উপসাগর তীরবর্তী অঞ্চলে আশরাফ ও ফারাহাবাদ নামে দুটি মনোরম নগরী নির্মাণ করেন। এটা শাহের শীতকালীন আবাস ও দেশের দ্বিতীয় রাজধানী হিসেবে বিবেচিত হত। তার সময়ে অনেক ইউরোপীয় পরিব্রাজক পারস্য ও সাফাভী দরবার পরিদর্শন করেন। তারা এ উচ্ছসিত প্রশংসা করে গেছেন। এ সময়ে ইস্পাহান নগরীর লোকসংখ্যা ছিল ছয় লক্ষ এবং ১৬২টি মসজিদ, ৪৮টি ধর্মীয় কলেজ, ১৮০২ টি সরাইখানা ও ২৭৩টি জনসাধারনের গোসলখানা ছিল। কথিত আছে, অনেক গুলো রাজপথ সংকীর্ণ থাকলেও প্রায় প্রত্যেক বাড়িতে ছোট ছোট বাগান ছিল। তার সময়ে মনোরম হর্ম্যরাজি, সৌধমালা, রাজপথ ও অন্যান্য রাজকীয় প্রাসাদ স¤ৃদ্ধ ইস্পাহানের গৌরব এতদূর বৃদ্ধি পেয়েছিল যে, ইস্পাহানকে নেসফ ই জাহান বা জগতের অর্ধাংশে বলা হত। 

শাহ আব্বাস মধ্যযুগীয় নরপতিও হলেও তিনি জাতি কিংবা ধর্মালম্বী ছিলেন না। তিনি সকল অমুসলমানদের প্রতি উদার ছিলেন এবং তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের জন্য অবাধ স্বাধীনতা দান করেছিলেন ।  এ প্রসঙ্গে এখানে উল্লেখ করা যায় যে, শাহ আব্বাস প্রায় পাঁচ হাজার আর্মেনীয় খ্রিস্টান বন্দীকে দাস হিসেবে পরিণত না করে তাদেরকে মুক্তি দেন এবং আজারবাইজানের অরস অঞ্চলের জুলকা নামক স্থানে তাদের স্থায়ী বসবাসের ব্যবস্থা করেন। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় কালক্রমে জুলকাতে বিশাল খ্রিস্টান পল্লী গড়ে উঠে এবং এটা ব্যবসায়া বাণিজ্রের ক্ষেত্রে পরিণত হয়। শাহ আব্বাস মাজেন্দ্রানেও অনুরুপ নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলেন; কিন্তু আবহাওয়ারও জন্য তার এ প্রচেষ্ঠা ব্যর্থ হয়ে যায়। শাহ আব্বাসের ধর্মীয় মনোভাব সম্পর্কে উইলবার বলেছেন যে, তিনি অমুসলমানদের প্রতি সহনশীল ও জনগনের নিরাপত্তা বিধানে উদ্যোগী ছিলেন; ন্যায় ও নিরপেক্ষ বিচার  ব্যবস্থায় কঠোর ও দান ধর্মে উদার ছিলেন। 

শাহ আব্বাস ছিলেন পারসিক জাতীয়তাবাদের সংগঠক। তিনি পারস্যের সকল গোত্রকে একত্রিত করে একটি জাতিকে পরিণতক করার প্রচেষ্টা চালান। এ প্রসঙ্গে ঐতিহাসিক পি. সাইকস এর মন্তব্যটি প্রণিধানযোগ্য। তার মতে, পারস্যে বসবাসকারী বিভিন্ন গোত্র ও জাতির মধ্যে সংহতি স্থাপনের দুরুহ কর্মতৎপরতার শাহ আব্বাসের বাস্তব প্রতিভা যেভাবে বিকশিত হয়েছে, অন্য কোন ক্ষেত্রে তদ্রুপ হয়নি। 

এক জাতি এক রাষ্ট্র গঠনের উদ্দেশ্যে তিনি শিয়া মতবাদকে জনপ্রিয় করে তোলেন। 

এতদ্ব্যতীত, মেশেদে তিনি ইমাম আলী আর রেজার সমাধি সৌধ নির্মাণ করে এক শিয়াদের তীর্থস্থান বলে ঘোষণা করেন। অতঃপর মক্কা ও কারবালা হতে পারসিক শিয়া তীর্থযাত্রীগণকে তিনি মেশেদে তীর্থযাত্রার জন্য উৎ সাহিত করতে থাকেন। এমনকি, তিনি নিজেও বহু বার পরিষদবর্গসহ নগ্নপদে ও পদব্রজে ইস্পাহান হতে সুদীর্ঘ পথ অতিক্রম করে মেশেদে তীর্থযাত্রা করেছিলেন। তার এরূপ প্রচেষ্টার ফলে পারসিকদের নিকট মেশেদের ধর্মীয় গুরুত্ব ও প্রাধান্য বেড়ে যায় এবং এটি জনগনের জাতীয় তীর্থস্থানের মর্যাদা লাভ করে। এভাবে শাহ আব্বাস প্রাচীন সামন্ততান্ত্রিক প্রথার পরিবর্তে ধর্মভিত্তিক শক্তিশালী কেন্দ্র শাসিত রাষ্ট্র ব্যবস্থার গোড়া পত্তন করেন। 

মহান শাহ আব্বাস পারসিক শিল্প, সাহিত্য ও স্থাপত্যকলার একনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তিনি জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকল স্তরের সুযোগ্য পন্ডিত লোককে স্বীয় দরবারে স্থান দিতেন। পন্ডিত সদরউদ্দীন ও দার্শনিক বাহাউদ্দিন তার রাজদরবারের অলংকারস্বরুপ ছিলেন। এতদ্ব্যতীত বিশ্ববিখ্যাত হস্তলিপি ও চিত্রবিশারদ রেজা ই আব্বাসী মোজাফফর আলী, জয়নুল আবেদীন ও কিতাবদার সাদেকী বেগ সাফাভী দরবারে কর্মরত থেকে হস্তলিপি ও চিত্রশিল্প নতুন দিগন্তের সূচনা করেন। শাহ আব্বাসের আমলে মৃৎপাত্র ও কার্পেট নির্মাণের ক্ষেত্রেও বিরাট 

সাফল্য অর্জিত হয়েছিল। মৃৎশিল্পের উন্নয়নের জন্য তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান বিশেষত চীন হতে তিন শতাধিক শিল্পি আনয়ন করেছিলেন। স্থাপত্রকলার ক্ষেত্রেও শাহ আব্বাস অবিস্বরণীয় কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। ইস্পাহান নগরীর নির্মানকার্য হতেই তার স্থাপত্য শৈলীর প্রমাণ পাওয়া যায়। শাহ আবব্বাসের পৃষ্ঠপোষকতায় পারসিক শিল্প, সাহিত্য ও স্থাপত্য কালক্রমে সমগ্র মুসলিম জাহানের উপর এক বিরাট প্রভাব বিস্তার করেছিল কাজেই সমস্ত বিষয় বিবেচনা করে শাহ আব্বাসের রাজত্বকালকে পারস্যের শ্রেষ্ঠ গৌরবের যুগ এবং তাকে মহান শাহ বলে আখ্যায়িত করা হয়। 

শাহ আব্বাস পারস্যের সর্বশ্রেষ্ঠ হলেও মধ্যযুগীয় দোষত্রুটি হতে মুক্ত ছিলেন না। সমকালীন অন্যান্য নরপতির ন্যায় তিনিও মদ্যপায়ী ছিলেন।চরিত্রগতভাবে তিনি ছিলেন সন্দেহপ্রবণ ও নির্মম প্রকৃতির। পিতা ও পুত্রের প্রতি আচরণ চরম নির্মমতারই পরিচায়ক। পিতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষনা ও তাকে অন্ধ করে তিনি সিংহাসন দখল করেন। অন্যদিকে সুযোগ্য পুত্রদের সাহসিকতা ও বীরত্বে তার সিন্দগ্ন মন ঈর্ষান্বিত হয়ে উঠে এবং পুত্রগণ কর্তৃক সিংহাসনচ্যুত হতে পারেন। এ আশংকায় তিনি পুত্রদের কাউকেও হত্যা এবং কাউকেও অন্ধ করে সিংহাসনের পথ নিষ্কন্টক করেন। ঐতিহাসিকগণ শাহ্ আব্বাসের উদারতা, পরধর্মসহিষ্ণুতা, ন্যায়পরায়নতা ও মহানুভবতা ভূয়সী প্রশংসা করলেও পুত্রদের প্রতি তার নৃশংসতা সমর্থন করতে পারেন নি। অবশ্য শাহ ্আব্বাসের নির্মমতার পিছনে হয়ত কোন যুক্তিসঙ্গত কারণ ছিল, না হলে তার মত এত ন্যায়বান ও মহান শাসক এমন নৃশংসতার পরচিয় দতিে পারতনে না।তার চরত্রিরে এ নষ্ঠিুরতার দকিটি বাদ দলিতোকে আমরা মহান ব্যক্তি হসিবেে দখেতে পাই।মধযুগীয় পরবিশেে জন্মগ্রহন করলওে শাহ্‌ আব্বাস আধুনকি রুচসিম্পন্ন নরপতি ছলিনে। সাহসকিতা র্কমদক্ষতা ও অসামান্য প্রতভিার জন্য তনিি বশিষে খ্যাতি র্অজন করনে।তনিি ছলিনে প্রজাবৎসল নরপত।ি সম্রাজ্যরে মঙ্গল ও প্রজাসাধারনরে জন্য তনিি তার সকল শ্রম ও সাধনা নয়িজতি করছেলিনে।এজন্য প্রজাদরে নকিট তনিি অত্যন্ত প্রয়ি ছলিনে এবং জনগণ তাকে খুব ভক্তি করত।এ প্রসঙ্গে প.ি সাইকস মন্তব্য করছেনে, “পারস্যে এ র্পযন্ত যে সব রাজারা রাজত্ব করছেন্তোদরে মধ্যে মহান শাহ্‌ আব্বাসরে ন্যায় কউে এত সম্মানতি ও সমাদৃত হনন।ি”কাজইে এ কথা নঃিসন্দহে বলা যায় য,ে শাহ্‌ আব্বাস স্বীয় চারত্রিকি মহত্ত্ব ও শ্রষ্ঠেত্বরে জন্যই ‘মহান’ উপাধতিে ভূষতি হয়েছে।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]


তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Safavid dynasty"। Britannica। 
  2. "Safavid Persia"। Books। Google। 
  3. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; Roemer 189 নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  4. Rudi Matthee, "Safavids" in Encyclopædia Iranica, accessed on April 4, 2010. "The Persian focus is also reflected in the fact that theological works also began to be composed in the Persian language and in that Persian verses replaced Arabic on the coins." "The political system that emerged under them had overlapping political and religious boundaries and a core language, Persian, which served as the literary tongue, and even began to replace Arabic as the vehicle for theological discourse".
  5. Ronald W Ferrier, The Arts of Persia. Yale University Press. 1989, p. 9.
  6. John R Perry, "Turkic-Iranian contacts", Encyclopædia Iranica, January 24, 2006: "...written Persian, the language of high literature and civil administration, remained virtually unaffected in status and content"
  7. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; Cyril Glassé 2003, pg 392 নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  8. Arnold J. Toynbee, A Study of History, V, pp. 514-15. excerpt: "in the heyday of the Mughal, Safawi, and Ottoman regimes New Persian was being patronized as the language of literae humaniores by the ruling element over the whole of this huge realm, while it was also being employed as the official language of administration in those two-thirds of its realm that lay within the Safawi and the Mughal frontiers"
  9. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; mazzaoui নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  10. Ruda Jurdi Abisaab. "Iran and Pre-Independence Lebanon" in Houchang Esfandiar Chehabi, Distant Relations: Iran and Lebanon in the Last 500 Years, IB Tauris 2006, p. 76: "Although the Arabic language was still the medium for religious scholastic expression, it was precisely under the Safavids that hadith complications and doctrinal works of all sorts were being translated to Persian. The 'Amili (Lebanese scholars of Shi'i faith) operating through the Court-based religious posts, were forced to master the Persian language; their students translated their instructions into Persian. Persianization went hand in hand with the popularization of 'mainstream' Shi'i belief."
  11. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; savory07 নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  12. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; cambridgesafa নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  13. Price, Massoume (২০০৫)। Iran's Diverse Peoples: A Reference Sourcebook। ABC-CLIO। পৃষ্ঠা 66। আইএসবিএন 978-1-57607-993-5The Shah was a native Turkic speaker and wrote poetry in the Azerbaijani language. 
  14. Ferrier, RW, A Journey to Persia: Jean Chardin's Portrait of a Seventeenth-century Empire, p. ix.
  15. The New Encyclopedia of Islam, Ed. Cyril Glassé, (Rowman & Littlefield Publishers, 2008), 449.

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]