ট্রাভিস ফ্রেন্ড

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ট্রাভিস ফ্রেন্ড
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামট্রাভিস জন ফ্রেন্ড
জন্ম৭ জানুয়ারি, ১৯৮১
কেউইকেউই, মিডল্যান্ডস, জিম্বাবুয়ে
ডাকনামটেস্টোস্টারন, চাঙ্কস
উচ্চতা১.৮৭ মিটার (৬ ফুট ২ ইঞ্চি)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট
ভূমিকাঅল-রাউন্ডার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৫১)
১৫ জুন ২০০১ বনাম ভারত
শেষ টেস্ট২৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৪ বনাম বাংলাদেশ
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ৫৯)
৩০ সেপ্টেম্বর ২০০০ বনাম নিউজিল্যান্ড
শেষ ওডিআই৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৪ বনাম ভারত
ওডিআই শার্ট নং১৮
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৯৯ - ২০০০সিএফএক্স একাডেমি
২০০০ - ২০০৪মিডল্যান্ডস
২০০৫ডার্বিশায়ার
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ১৩ ৫১ ৪৪ ৮৮
রানের সংখ্যা ৪৪৭ ৫৪৮ ১,৭৯১ ১,১০৫
ব্যাটিং গড় ২৯.৮০ ১৬.১১ ৩১.৪২ ১৬.৪৯
১০০/৫০ ০/৩ ০/৩ ৩/৭ ০/৪
সর্বোচ্চ রান ৮১ ৯১ ১৮৩ ৯১
বল করেছে ২,০০০ ১,৯৩০ ৫,৬০৮ ৩,২০১
উইকেট ২৫ ৩৭ ৭৯ ৭৭
বোলিং গড় ৪৩.৬০ ৪৮.০৮ ৩৯.৯২ ৩৫.৯২
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট - -
সেরা বোলিং ৫/৩১ ৪/৫৫ ৫/১৬ ৪/৩৭
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ২/– ১৭/– ৩৩/– ৩০/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১২ জুন ২০২০

ট্রাভিস জন চাঙ্কস ফ্রেন্ড (ইংরেজি: Travis Friend; জন্ম: ৭ জানুয়ারি, ১৯৮১) মিডল্যান্ডসের কেউইকেউই এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক জিম্বাবুয়ীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ২০০০-এর দশকের সূচনালগ্নে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে মিডল্যান্ডস ও জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট একাডেমি এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ার ও ডার্বিশায়ার দ্বিতীয় একাদশ দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন ‘চাঙ্কস’ ডাকনামে পরিচিত ট্রাভিস ফ্রেন্ড

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৯৯-২০০০ মৌসুম থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ট্রাভিস ফ্রেন্ডের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। দীর্ঘদেহী, মজবুত গড়নের অধিকারী তিনি। ১৯ বছর বয়সে জিম্বাবুয়ের একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশগ্রহণের মাত্র দুই বছর পূর্বে লেগ স্পিন বোলিং করা থেকে নিজেকে বিরত রাখেন ও পেস বোলারে রূপান্তরিত হয়েছিলেন।

জিম্বাবুয়ের অনূর্ধ্ব-১৯ ওডিআই দলের পক্ষে চারটি খেলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। এরপর, ১৯ বছর বয়সে বড়দের দলে যুক্ত হন। হাড়ে ফাটল ধরা পড়লেও পরবর্তীতে টেস্ট দলে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন। গুণগতমানসম্পন্ন পেস বোলিংয়ে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তবে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের অভাবে সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি তিনি। নিঃসন্দেহে তিনি দ্রুততার সাথে বোলিং করতেন। পেস সহযোগে বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাট হাতেও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। প্রায়শঃই মারমুখী ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে তাকে দেখা যেতো। তার ভূমিকা অনেকাংশেই অ্যান্ডি ব্লিগনটের অনুরূপ ছিল।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে তেরোটি টেস্ট ও একান্নটি একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশগ্রহণ করেছেন ট্রাভিস ফ্রেন্ড। ১৫ জুন, ২০০১ তারিখে হারারেতে সফরকারী ভারত দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০০৪ তারিখে বুলাওয়েতে সফরকারী বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

২০০০-০১ মৌসুমে নিউজিল্যান্ড ও ভারতের মাটিতে অতিরিক্ত বোলিংয়ের খেসারত গুণতে হয় তাকে। পিঠের হাড়ে ফাটল ধরা পড়ে। আরোগ্য লাভের পর আবারও টেস্ট ক্রিকেটে ফিরে আসেন। নভেম্বর, ২০০১ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত টেস্ট সিরিজে প্রথম দিনেই ৫/১০৭ পান। কার্যকরী ব্যাটসম্যান হিসেবে সম্মুখের পায়ে ভর রেখে বেশ সুচারূরূপে ড্রাইভ করতেন।

২০০৩ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে সুন্দর বোলিংয়ের ধারা অব্যাহত থাকে। এরপর, দলের সাথে পরের মাসে ইংল্যান্ড গমন করেন। লর্ডসে ঘণ্টা প্রতি ৯০ মাইল বেগের চেয়ে অল্প কম গতিতে বোলিং করে কোচ অ্যালান বুচারের মনোযোগ আকর্ষণে সক্ষম হন।

দলে প্রত্যাখ্যান[সম্পাদনা]

২০০৪ সালে হিথ স্ট্রিককে বরখাস্ত করার পর আর্থিক বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ডের সাথে আর্থিক সংঘাতের কারণে ১৫জন বিদ্রোহী ক্রিকেটারের অন্যতম ছিলেন। ফলশ্রুতিতে, ২০০৪ সাল শেষে তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপণ ঘটে।

২০০৫ সালে ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ারের সাথে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। তবে, কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের খেলায় খুব কমই প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছিলেন। ফলশ্রুতিতে, ২০০৬ সালে তাকে আর দলে রাখা হয়নি। ২০০৯ সালে আইল অব ম্যানে ক্যাসলটাউন ক্রিকেট ক্লাবের সাথে যুক্ত হন। এরফলে, প্রথমবারের মতো কোন সাবেক টেস্ট খেলোয়াড়কে দ্বীপের কোন দলে খেলতে দেখা যায়।

বর্তমানে তিনি বাণিজ্যিকধর্মী বিমানচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। ফ্লাইবি ও কাতার এয়ারওয়েজে কাজ করছেন।[১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Pilots, tenors and administrators"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২৬ এপ্রিল ২০১৭ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]