বিষয়বস্তুতে চলুন

ইয়োহান ভল্ফগাং ফন গ্যোটে

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ইয়োহান ভল্ফগাং ফন গ্যোটে
১৮২৮ সালে যোসেফ কার্ল স্টাইলারের আঁকা গ্যোটের ছবি
১৮২৮ সালে যোসেফ কার্ল স্টাইলারের আঁকা গ্যোটের ছবি
স্থানীয় নাম
Johann Wolfgang von Goethe
জন্ম(১৭৪৯-০৮-২৮)২৮ আগস্ট ১৭৪৯
ফ্রাঙ্কফুর্ট, রোমান সাম্রাজ্য
মৃত্যু২২ মার্চ ১৮৩২(1832-03-22) (বয়স ৮২)
ভাইমার, স্যাক্স-ভাইমার-আইসেনাখ, জার্মান কনফেডারেশন
পেশা
  • কবি
  • ঔপন্যাসিক
  • নাট্যকার
  • চিত্রশিল্পী
  • প্রাকৃতিক দার্শনিক
  • বিজ্ঞানী
  • কূটনীতিবিদ
  • প্রশাসনিক
জাতীয়তাজার্মান
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
  • লিপজিগ বিশ্ববিদ্যালয়
  • স্ট্রাসবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়
সাহিত্য আন্দোলন
উল্লেখযোগ্য রচনা
দাম্পত্যসঙ্গীক্রিস্টিয়ানা ভাল্পিয়াস (বি. ১৮০৬; মৃ. ১৮১৬)
সন্তান৫ (চারজন বাল্যকালে প্রয়াত)
  • অগাস্ট ফন গ্যোটে
  • জুলিয়াস অগাস্ট ভাল্টার (১৭৮৯–১৮৩০)
আত্মীয়কর্নেলিয়া স্ক্লসার (বোন)
ক্রিস্টিয়ান অগাস্ট ভাল্পিয়াস (শ্যালক)
স্বাক্ষর

ইয়োহান ভল্ফগাং ফন গ্যোটে (জার্মান: Johann Wolfgang von Goethe,[] উচ্চারণ [ˈjoːhan ˈvɔlfɡaŋ fɔn ˈɡøːtə] (শুনুন);[] ২৮ আগস্ট ১৭৪৯ – ২২ মার্চ ১৮৩২) ছিলেন একজন জার্মান কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, দার্শনিক, বিজ্ঞানী, চিত্রশিল্পী, কূটনীতিবিদ ও প্রশাসনিক। তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে চারটি উপন্যাস, মহাকাব্যগীতিকাব্য, গদ্য ও গদ্যকাব্য, নাটক, স্মৃতিকথা, একটি আত্মজীবনী, সাহিত্যিকনন্দনতাত্ত্বিক সমালোচনা এবং উদ্ভিদবিদ্যা, শারীরবিদ্যারং বিষয়ক রচনা। এর পাশাপাশি রয়েছে অসংখ্য সাহিত্যিক ও বৈজ্ঞানিক খণ্ডরচনা, ১০ সহস্রাধিক চিঠি এবং প্রায় ৩ হাজার চিত্রকর্ম। তাঁকে আধুনিক যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ জার্মান সাহিত্যিক বিবেচনা করা হয়।[]

জর্জ ইলিয়ট তাঁর সম্পর্কে বলেছিলেন— “জার্মানির শ্রেষ্ঠতম গুণী ব্যক্তি এবং পৃথিবীর সর্বশেষ সত্যিকারের বহুশাস্ত্রজ্ঞ”। গোটে একাধারে কবিতা, নাটক, সাহিত্য, ধর্মতত্ত্ব, মানবতাবাদ এবং বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন। গ্যোটের সেরা সাহিত্যকীর্তি হচ্ছে দু খণ্ডের নাটক ফাউস্ত যাকে বিশ্ব সাহিত্যের অন্যতম সেরা রত্ন হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। ষোড়শ শতাব্দীর বিখ্যাত জার্মান উপকথা ফাউস্তের উপর ভিত্তি করে এই নাটক লেখা হয়েছিল। তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে প্রচুর কবিতা, Wilhelm Meister's Apprenticeship নামক Bildungsroman এবং The Sorrows of Young Werther নামক উপন্যাস।[] গ্যোটে জার্মান সাহিত্য বিশেষত ১৮ ও ১৯-শতকে বিকশিত ভাইমার ক্লাসিসিজ্‌ম আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব। এই আন্দোলনের সাথে জড়িয়ে ছিল একই সাথে আলোকময়তা, আবেগময়তা (Empfindsamkeit), Sturm und Drang এবং রোমান্টিসিজ্‌ম।[]

প্রারম্ভিক জীবন

[সম্পাদনা]
ফ্রাঙ্কফুর্টে (গ্রোসার হিরশগ্রাবেন) গ্যোটের জন্মস্থান

তার মাতামহীর বংশসূত্রে গ্যোটে ছিলেন সোলদান পরিবারের বংশধর।[][] বের্ন্ট এঙ্গেলমান বলেছেন যে, "প্রাচ্য বংশোদ্ভূত এই জার্মান কবি-রাজপুত্র [অর্থাৎ গ্যোটে] কোনো মতেই বিরল ব্যতিক্রম নন।"[]

গ্যোটের দাদা Friedrich Georg Goethe [de] ১৬৮৭ সালে থুরিনজিয়া থেকে চলে আসেন এবং তার পদবি 'Göthe' থেকে বদলে 'Goethe' করেন। ফ্রাঙ্কফুর্টে তিনি প্রথমে দর্জি হিসেবে কাজ করেন এবং পরে একটি পানশালা খোলেন। তার উপার্জিত সম্পদের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীকালে তার ছেলে ও নাতি-নাতনিরা জীবনযাপন করেন। ফ্রিডরিশ গেয়র্গ গ্যোটে দুইবার বিবাহ করেছিলেন; তার প্রথম স্ত্রী ছিলেন আনা এলিজাবেথ লুৎজ, যার গর্ভে তার পাঁচ সন্তান জন্মায়। ১৭০৫ সালে প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর তিনি কর্নেলিয়া শেলহর্নকে বিয়ে করেন, যার গর্ভে আরও চার সন্তান জন্মায়। তাদেরই একজন ছিলেন জোহান কাসপার গ্যোটে, যিনি জোহান উলফগ্যাং ফন গ্যোটে-র পিতা।

গ্যোটের পিতা জোহান কাসপার গ্যোটে তার পরিবার নিয়ে ফ্রাঙ্কফুর্টের একটি বিশাল বাড়িতে (বর্তমানে গ্যোটে হাউস) বসবাস করতেন, যা তখন পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যের একটি মুক্ত রাজকীয় শহর ছিল। যদিও তিনি লাইপ্‌ৎসিশে আইন অধ্যয়ন করেছিলেন এবং রাজকীয় উপদেষ্টা পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন, তবুও জোহান কাসপার শহরের দাপ্তরিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন না।[] জোহান কাসপার ২০ আগস্ট ১৭৪৮ সালে গ্যোটের মা ক্যাথারিনা এলিজাবেথ টেক্সটর-কে বিয়ে করেন। জোহান উলফগ্যাং এবং তার বোন কর্নেলিয়া ফ্রেডেরিকা ক্রিস্টিয়ানা ছাড়া তাদের বাকি সব সন্তান শৈশবেই মারা যায়।

তরুণ গ্যোটে তার বাবা এবং গৃহশিক্ষকদের কাছে সে সময়ের প্রচলিত বিষয়গুলো, বিশেষ করে ভাষা (লাতিন, গ্রিক, বাইবেলীয় হিব্রু, ফরাসি, ইতালীয় এবং ইংরেজি) শিক্ষা লাভ করেন। এ ছাড়াও তিনি নাচ, ঘোড়সওয়ারি এবং অসিচালনা শিখেছিলেন। জোহান কাসপার চাইতেন তার সন্তানরা যেন সেই সব সুযোগ-সুবিধা পায় যা তিনি নিজে পাননি।[]

চিত্রাঙ্কনের প্রতি গ্যোটের প্রবল অনুরাগ থাকলেও দ্রুতই তিনি সাহিত্যের প্রতি আকৃষ্ট হন; ফ্রিডরিশ গটলিব ক্লপস্টক এবং হোমার ছিলেন তার শৈশবের প্রিয় লেখক। থিয়েটারের প্রতিও তার গভীর অনুরাগ ছিল। তার বাড়িতে ফরাসি সৈন্যদের আয়োজিত পুতুল নাচ তাকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছিল, যা পরবর্তীতে তার সাহিত্যকর্ম ভিলহেম মাইস্টার্স অ্যাপ্রেন্টিসশিপ-এ একটি পুনরাবৃত্তিমূলক বিষয় হিসেবে উঠে আসে।

তিনি ইতিহাস ও ধর্ম বিষয়ক বই পড়তেও আনন্দ পেতেন। এই সময়কাল সম্পর্কে তিনি লিখেছেন:

শৈশব থেকেই আমার একটি অদ্ভুত অভ্যাস ছিল যে, আমি সবসময় বইয়ের শুরু এবং কাজের বিভাজনগুলো মুখস্থ করতাম, প্রথমে মোজেসের পাঁচটি বই, তারপর ইনিড এবং ওভিডের মেটামরফোসিস। ... যদি কখনও কল্পনা আমাকে বিভ্রান্ত করার উপক্রম করত, তবে আমি সেই প্রাচ্য অঞ্চলে পালিয়ে যেতাম এবং মোজেসের প্রথম বইগুলোতে ডুবে যেতাম; সেখানে যাযাবর মেষপালক উপজাতিদের মাঝে আমি নিজেকে একই সাথে চরম নির্জনতা এবং শ্রেষ্ঠ সমাজের মধ্যে খুঁজে পেতাম।[১০]

গ্যোটে ফ্রাঙ্কফুর্টের অভিনেতাদের সাথেও পরিচিত হন। তার প্রাথমিক সাহিত্যিক প্রচেষ্টায় 'গ্রেচেন'-এর প্রতি মোহ পরিলক্ষিত হয়, যা পরবর্তীতে তার ফাউস্ট নাটকে পুনরায় আবির্ভূত হয়। তিনি কারিতাস মেক্সনার নামক এক ধনী বণিকের মেয়ের প্রতিও অনুরক্ত ছিলেন।

আইনি কর্মজীবন

[সম্পাদনা]
আনা ক্যাথারিনা (কেচেন) শ্যোনকপ

গ্যোটে ১৭৬৫ থেকে ১৭৬৮ সাল পর্যন্ত লাইপ্‌ৎসিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন অধ্যয়ন করেন। তিনি আইনি নিয়ম মুখস্থ করা ঘৃণা করতেন, বরং তার বদলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও কবি ক্রিস্টিয়ান ফুর্চটেগট গেলার্টের পাঠে অংশ নিতে পছন্দ করতেন। লাইপ্‌ৎসিশে গ্যোটে এক কারিগর ও পানশালা মালিকের মেয়ে আনা ক্যাথারিনা শ্যোনকপের প্রেমে পড়েন এবং তাকে নিয়ে রোকোকো শৈলীতে আনন্দঘন কবিতা লিখেন। ১৭৭০ সালে তিনি বেনামে তার প্রথম কবিতা সংকলন অ্যানেট (Annette) প্রকাশ করেন। এই সময়েই তিনি প্রচুর লেখালেখি করেন, কিন্তু তার কমেডি নাটক ডি মিটশুলডিগেন (Die Mitschuldigen) ছাড়া প্রায় সব লেখাই বর্জন করেন। ১৭৬৮ সালের আগস্টের শেষে তিনি ফ্রাঙ্কফুর্টে ফিরে আসতে বাধ্য হন।

ফ্রাঙ্কফুর্টে ফিরে গ্যোটে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। সুস্থ হওয়ার পর ১৭৭০ সালের এপ্রিলে তিনি পড়াশোনা শেষ করতে স্ত্রাসবুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যান।

আলসেস অঞ্চলে গ্যোটে বিকশিত হতে থাকেন। স্ত্রাসবুরে গ্যোটে জোহান গটলিব হার্ডারের সাথে পরিচিত হন। তারা ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে ওঠেন এবং হার্ডারই তার মধ্যে উইলিয়াম শেক্সপিয়র, ওসিয়ান এবং লোককবিতার (Volkspoesie) প্রতি আগ্রহ জাগিয়ে তোলেন। শেক্সপিয়রের কাজের সাথে পরিচয়কে তিনি তার সাহিত্যিক জীবনের জাগরণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

১৭৭০ সালের অক্টোবরে সেসেনহাইম গ্রামে এক ভ্রমণে গ্যোটে ফ্রিডেরিকে ব্রায়নের প্রেমে পড়েন, কিন্তু ১৭১১ সালের আগস্টে তাদের সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়। গ্যোটের বেশ কিছু বিখ্যাত কবিতা যেমন "Willkommen und Abschied" এবং "Heidenröslein" এই সময়েরই সৃষ্টি।

১৭৭১ সালের আগস্টের শেষে গ্যোটে স্ত্রাসবুর থেকে আইনের লাইসেন্সিয়েট ডিগ্রি লাভ করেন এবং ফ্রাঙ্কফুর্টে একটি ছোট আইনি পেশা শুরু করেন। তবে অভিজ্ঞতার অভাবে তিনি তার প্রথম মামলাগুলোতেই তিরস্কৃত হন এবং মক্কেল হারাতে থাকেন। এর ফলে কয়েক মাসের মধ্যেই তার আইনি কর্মজীবনের অবসান ঘটে। এই সময়ে তিনি দর্মস্টাট (Darmstadt) আদালতের সংস্পর্শে আসেন এবং পুনরায় সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন। তিনি ১৭৭৩ সালে গ্যোটজ ফন বের্লিখিনগেন নামক একটি নাটক লিখেন যা সমসাময়িকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

১৭৭৪ সালে তিনি সেই বইটি লিখেন যা তাকে বিশ্বজোড়া খ্যাতি এনে দেয়—দ্য সরোজ অব ইয়ং ওয়ার্থার (তরুণ ওয়ার্থারের দুঃখগাথা)। এই উপন্যাসের প্লটটি মূলত গ্যোটে ভেৎসলার (Wetzlar) থাকাকালীন তার নিজের অভিজ্ঞতা এবং তার বন্ধু কার্ল উইলহেম জেরুজালেমের আত্মহত্যার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ওয়ার্থার অভাবনীয় সাফল্য পেলেও এটি তাকে খুব বেশি আর্থিক স্বচ্ছলতা এনে দেয়নি, কারণ সে সময় কপিরাইট আইন ছিল না।

ভাইমারে প্রাথমিক বছরগুলো

[সম্পাদনা]
গ্যোটে আনু.১৭৭৫

১৭৭৫ সালে, দ্য সরোজ অব ইয়ং ওয়ার্থার-এর রচয়িতা হিসেবে প্রাপ্ত খ্যাতির সুবাদে, গ্যোটে স্যাক্স-ভাইমার-আইসেনাখের ডিউক কার্ল আগস্টের দরবারে আমন্ত্রিত হন, যিনি পরবর্তীকালে ১৮১৫ সালে গ্র্যান্ড ডিউক হয়েছিলেন। ডিউকের মা, ডাচেস আনা আমালিয়া, ১৭৭৫ সাল পর্যন্ত তার ছেলের পক্ষে দীর্ঘকাল প্রতিনিধি (regent) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং তিনি ছিলেন তার সময়ের শিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পৃষ্ঠপোষক, যা তার দরবারকে শিল্পের কেন্দ্রে পরিণত করেছিল। ১৭৭৪ সালের একটি অগ্নিকাণ্ডে শ্লস ভাইমার ধ্বংস হওয়ার আগে পর্যন্ত তার দরবার আবেল সাইলারের প্রখ্যাত সাইলার থিয়েটার কোম্পানিকে আতিথ্য প্রদান করত। ১৭৭৫ সালে আঠারো বছর পূর্ণ হলে কার্ল আগস্ট প্রাপ্তবয়স্ক হন, যদিও তার মা দরবারে একটি প্রধান ব্যক্তিত্ব হিসেবে অব্যাহত ছিলেন। এভাবেই গ্যোটে ভাইমারে বসবাস শুরু করেন, যেখানে তিনি জীবনের বাকি সময় অতিবাহিত করেন[১১] এবং যেখানে বহু বছর ধরে তিনি ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন দাপ্তরিক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, যার মধ্যে ডুকাল লাইব্রেরির তত্ত্বাবধায়ক পদটি অন্যতম।[১২] তদুপরি, তিনি ছিলেন ডিউকের বন্ধু এবং প্রধান উপদেষ্টা[১৩]


১৭৭৬ সালে, গ্যোটে তার চেয়ে সাত বছরের বড় এক বিবাহিত নারী শার্লট ফন স্টেইনের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তার সাথে এই ঘনিষ্ঠ বন্ধন দশ বছর স্থায়ী হয়েছিল, যার পর গ্যোটে তার সঙ্গীকে কোনো পূর্ব নোটিশ না দিয়েই হঠাৎ ইতালির উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেই সময় শার্লট মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত তাদের মধ্যে পুনরায় মিটমাট হয়েছিল।[১৪]

দাপ্তরিক দায়িত্বের পাশাপাশি, গ্যোটে ডিউক কার্ল আগস্টের বন্ধু ও বিশ্বাসভাজন ছিলেন এবং দরবারের বিভিন্ন কার্যকলাপে অংশ নিতেন। গ্যোটের জন্য ভাইমারে তার প্রথম দশ বছরকে অভিজ্ঞতার এমন একটি পর্যায় হিসেবে বর্ণনা করা যেতে পারে যা সম্ভবত অন্য কোনো উপায়ে অর্জন করা সম্ভব ছিল না। ১৭৭৯ সালে, খনি ও মহাসড়ক কমিশনের পাশাপাশি গ্যোটে স্যাক্স-ভাইমার গ্র্যান্ড ডাচির যুদ্ধ কমিশনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৭৮২ সালে যখন ডাচির অর্থমন্ত্রী পদত্যাগ করেন, তখন গ্যোটে তার স্থলাভিষিক্ত হতে রাজি হন এবং আড়াই বছর সেই দায়িত্ব পালন করেন; এই পদটি তাকে কার্যত ডাচির প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান প্রতিনিধিতে পরিণত করেছিল। গ্যোটে ১৭৮২ সালে আভিজাত্য বা নাইটহুড লাভ করেন (যার ফলে তার নামের মাঝে "ফন" শব্দটি যুক্ত হয়)। সেই একই বছর গ্যোটে তার ভাইমারের প্রধান বাসভবনে স্থানান্তরিত হন, যেখানে তিনি পরবর্তী ৫০ বছর অবস্থান করেছিলেন।[১৫]

স্যাক্স-ভাইমার যুদ্ধ কমিশনের প্রধান হিসেবে, গ্যোটে মার্কিন বিপ্লবের সময় প্রুশীয় এবং ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীতে ভাড়াটে সৈন্য নিয়োগে অংশ নিয়েছিলেন। লেখক ড্যানিয়েল উইলসনের দাবি, গ্যোটে এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ভবঘুরে, অপরাধী এবং রাজনৈতিক ভিন্নমতালম্বীদের জোরপূর্বক বিক্রির আলোচনায় জড়িত ছিলেন।[১৬]

ইতালি ভ্রমণ

[সম্পাদনা]
গ্যোটে, ৩৮ বছর বয়সে অ্যাঞ্জেলিকা কাফম্যানের আঁকা, ১৭৮৭
ভাইমারে গ্যোটের বাসভবন ও জাদুঘর

১৭৮৬ থেকে ১৭৮৮ সাল পর্যন্ত গ্যোটে ইতালীয় উপদ্বীপ এবং সিসিলি ভ্রমণ করেন যা তার নান্দনিক এবং দার্শনিক বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। জোহান জোয়াকিম উইঙ্কেলম্যানের কাজ প্রাচীন গ্রিক ও রোমান শিল্পের প্রতি তার আগ্রহ জাগিয়ে তুলেছিল। এই ভ্রমণ গ্যোটের কাছে ছিল এক প্রকার তীর্থযাত্রার মতো। ইতালিতে থাকাকালীন তিনি চিত্রশিল্পী অ্যাঞ্জেলিকা কাফম্যান এবং টিশবাইনের সাথে বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হন।

তিনি সিসিলি ভ্রমণ করে লিখেছিলেন, "সিসিলি না দেখে ইতালি দেখা মানে আদতে ইতালিকেই না দেখা, কারণ সিসিলিই হলো সবকিছুর মূল চাবিকাঠি।" দক্ষিণ ইতালি এবং সিসিলিতে গ্যোটে প্রথমবারের মতো প্রকৃত গ্রিক স্থাপত্যের সংস্পর্শে আসেন এবং এর সরলতা দেখে মুগ্ধ হন।

এই সময়ের ডায়েরিগুলোর ওপর ভিত্তি করে তিনি তার বিখ্যাত গদ্যগ্রন্থ ইতালীয় ভ্রমণ (Italian Journey) রচনা করেন। এই বইটি প্রকাশের পর পরবর্তী কয়েক দশক ধরে অগণিত জার্মান যুবক গ্যোটের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ইতালি ভ্রমণে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন।


ভাইমার

[সম্পাদনা]
মাইনজ প্রজাতন্ত্রের (Republic of Mainz) সীমান্তে একটি 'লিবার্টি পোল' বা স্বাধীনতার স্তম্ভ চিত্রিত গ্যোটের একটি জলরঙ চিত্র। এটি ফরাসি বিপ্লবের প্রভাবে তৈরি হয়েছিল এবং ১৭৯৩ সালে মাইনজ অবরোধের সময় ধ্বংস হয়ে যায়, যেখানে গ্যোটে নিজেও অংশ নিয়েছিলেন।

১৭৯২ সালের শেষভাগে, গ্যোটে বিপ্লবী ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ভালমির যুদ্ধে অংশ নেন এবং ফ্রান্সের ব্যর্থ আক্রমণের সময় স্যাক্স-ভাইমার-আইসেনাখের ডিউক কার্ল আগস্টকে সহায়তা করেন। পুনরায় মাইনজ অবরোধের সময় তিনি একজন সামরিক পর্যবেক্ষক হিসেবে কার্ল আগস্টকে সহায়তা করেছিলেন। এই ঘটনাবলির লিখিত বিবরণ তার সামগ্রিক রচনাবলীতে (Complete Works) পাওয়া যায়।

১৭৯৪ সালে, ফ্রিডরিশ শিলার গ্যোটে-কে বন্ধুত্বের প্রস্তাব দিয়ে একটি চিঠি লেখেন; ১৭৮৮ সালে প্রথম পরিচিত হওয়ার পর থেকে তাদের মধ্যে কেবলমাত্র একে অপরের প্রতি সতর্কতামূলক সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল। এই সহযোগিতামূলক বন্ধুত্ব ১৮০৫ সালে শিলারের মৃত্যু পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল।

১৮০৬ সালে, গ্যোটে ভাইমারে তার রক্ষিতা ক্রিস্টিয়ানা ভুলপিয়াস (আর্কাইভিস্ট জোহান ফ্রিডরিশ ভুলপিয়াসের কন্যা এবং ক্রিস্টিয়ান অগাস্ট ভুলপিয়াসের বোন) এবং তাদের পুত্র অগাস্ট ফন গ্যোটের সাথে বসবাস করছিলেন। ১৩ অক্টোবর, নেপোলিয়নের সেনাবাহিনী শহরটি দখল করে। ফরাসি "স্পুন গার্ডস" (spoon guards), যারা ছিল সবচেয়ে বিশৃঙ্খল সৈন্যদল, গ্যোটের বাড়ি দখল করে নেয়:

'স্পুন গার্ডস'রা ঘরে ঢুকে পড়েছিল, তারা মদ্যপান করেছিল, প্রচণ্ড চিৎকার-চেঁচামেচি করছিল এবং বাড়ির মালিককে খুঁজছিল। গ্যোটের সচিব রিমার জানান: 'যদিও তিনি তখন পোশাক ছেড়ে কেবল তার ঢিলেঢালা নাইটগাউন পরে ছিলেন... তবুও তিনি সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসেন এবং তাদের কাছে জানতে চান তারা কী চায়.... তার মর্যাদাপূর্ণ অবয়ব, সম্মান জাগানো ব্যক্তিত্ব এবং তার আধ্যাত্মিক ভাবভঙ্গি এমনকি তাদেরও প্রভাবিত করেছিল বলে মনে হয়েছিল।' কিন্তু তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। গভীর রাতে তারা উন্মুক্ত বেয়নেট নিয়ে তার শোবার ঘরে ঢুকে পড়ে। গ্যোটে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন, ক্রিস্টিয়ানা প্রচণ্ড চিৎকার শুরু করেন এবং এমনকি তাদের সাথে ধস্তাধস্তিও করেন, গ্যোটের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া অন্যান্য ব্যক্তিরা ছুটে আসেন এবং শেষ পর্যন্ত লুণ্ঠনকারীরা সেখান থেকে সরে যায়। ফ্রাউয়েনপ্ল্যানে (Frauenplan) অবস্থিত বাড়িটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা ও সংগঠিত করার মূল কৃতিত্ব ছিল ক্রিস্টিয়ানার। রান্নাঘর ও মাটির নিচের ঘরটি লুণ্ঠনকারী সৈন্যদের হাত থেকে বাঁচাতে ব্যারিকেড তৈরি করা ছিল তারই কাজ। গ্যোটে তার ডায়েরিতে লিখেছিলেন: "অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠন, এক ভয়ানক রাত... দৃঢ়তা এবং ভাগ্যের জোরে বাড়িটি রক্ষা পেয়েছে।" সেই ভাগ্য ছিল গ্যোটের, আর দৃঢ়তা প্রদর্শন করেছিলেন ক্রিস্টিয়ানা।[১৭]

এর কয়েক দিন পর, ১৯ অক্টোবর ১৮০৬ সালে, গ্যোটে ভাইমারের জাকোবকিরহে (Jakobskirche) একটি সাধারণ বিবাহ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ক্রিস্টিয়ানার সাথে তাদের ১৮ বছরের সম্পর্কের বৈধতা দেন। এই সময়ের মধ্যে তাদের বেশ কয়েকটি সন্তান হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল তাদের পুত্র জুলিয়াস অগাস্ট ওয়াল্টার ফন গ্যোটে (১৭৮৯–১৮৩০), যার স্ত্রী ওটিলি ফন পোগউইশ ১৮৩২ সালে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত বৃদ্ধ গ্যোটের সেবা করেছিলেন। অগাস্ট ও ওটিলির তিনটি সন্তান ছিল: ভালথার ফন গ্যোটে (১৮১৮–১৮৮৫), উলফগ্যাং ফন গ্যোটে (১৮২০–১৮৮৩) এবং আলমা ফন গ্যোটে (১৮২৭–১৮৪৪)। ১৮১৬ সালে ক্রিস্টিয়ানা ফন গ্যোটে মৃত্যুবরণ করেন। জোহান স্মৃতিচারণ করে বলেছিলেন, "কোলে সন্তান নিয়ে থাকা মায়ের চেয়ে মোহনীয় দৃশ্য আর কিছু নেই, এবং সন্তানদের মাঝে থাকা মায়ের চেয়ে শ্রদ্ধেয় আর কিছু নেই।"[১৮]

উলরিকে ফন লেভেতৎসো

পরবর্তী জীবন

[সম্পাদনা]

১৭৯৩ সালের পর, গ্যোটে প্রধানত সাহিত্যের পেছনে তার প্রচেষ্টা উৎসর্গ করেন। ১৮১২ সালে তিনি টেপলাইস এবং ভিয়েনা ভ্রমণ করেন এবং উভয় স্থানেই তার অনুরাগী লুডভিগ ফন বেটোফেনের সাথে সাক্ষাৎ করেন, যিনি এর দুই বছর আগে ১৮১০ সালে এগমন্ট-এ সুরারোপ করেছিলেন। ১৮২০ সালের মধ্যে গ্যোটে কাসপার মারিয়া ফন স্টার্নবার্গের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে আবদ্ধ হন।

মারিয়েনবাডে হাইনরিখ ড্রেক নির্মিত গ্যোটে এবং উলরিকের ভাস্কর্য

১৮২১ সালে একটি প্রায় প্রাণঘাতী হৃদরোগ থেকে সুস্থ হওয়ার পর, ৭২ বছর বয়সী গ্যোটে তৎকালীন ১৭ বছর বয়সী উলরিকে ফন লেভেতৎসোর প্রেমে পড়েন।[১৯] ১৮২৩ সালে তিনি তাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু উলরিকের মায়ের বিরোধিতার কারণে তিনি কখনোই বিয়ের প্রস্তাব দেননি। ১৮২৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর কার্লসবাডে তাদের শেষ সাক্ষাৎ তার "মারিয়েনবাড এলিজি" কবিতাটিকে অনুপ্রাণিত করেছিল, যা তিনি তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাজ হিসেবে বিবেচনা করতেন।[২০][২১] এই সময়ে তিনি পোলিশ পিয়ানোবাদক মারিয়া সিমানভস্কার (তৎকালীন ৩৩ বছর বয়স) সাথেও একটি গভীর আবেগীয় সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং মারিয়া তার স্বামীর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান।[২২]

১৮২১ সালে গ্যোটের বন্ধু কার্ল ফ্রেডরিখ জেল্টার তার সাথে ১২ বছর বয়সী ফেলিক্স মেন্ডেলসনের পরিচয় করিয়ে দেন। গ্যোটে, যিনি তখন তার সত্তরের কোঠায়, এই শিশুটির দ্বারা অত্যন্ত অভিভূত হয়েছিলেন, যার ফলে গ্যোটে এবং জেল্টারের মধ্যে নিম্নোক্ত কথোপকথনে সম্ভবত মোজার্টের সাথে প্রাচীনতম নিশ্চিত তুলনাটি উঠে আসে:

"সঙ্গীতের বিস্ময়বালক... সম্ভবত এখন আর তেমন বিরল নয়; কিন্তু এই ছোট্ট মানুষটি উপস্থিত বুদ্ধিতে এবং প্রথম দেখায় যা বাজাতে পারে তা অলৌকিকের সমতুল্য, এবং আমি এত অল্প বয়সে এটি সম্ভব হতে পারে তা বিশ্বাস করতে পারতাম না।" "তবুও আপনি তো ফ্রাঙ্কফুর্টে সাত বছর বয়সে মোজার্টকে শুনেছিলেন?" জেল্টার বললেন। "হ্যাঁ", গ্যোটে উত্তর দিলেন, "...কিন্তু তোমার ছাত্র ইতিমধ্যে যা অর্জন করেছে, সে সময়ের মোজার্টের সাথে তার সম্পর্ক অনেকটা একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির মার্জিত কথার সাথে একটি শিশুর আধো-আধো বোলার মতো।"[২৩]

মেন্ডেলসনকে পরবর্তীকালে আরও বেশ কয়েকবার গ্যোটের সাথে সাক্ষাতের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল,[২৪] এবং তিনি গ্যোটের বেশ কিছু কবিতায় সুরারোপ করেছিলেন। গ্যোটে দ্বারা অনুপ্রাণিত তার অন্যান্য রচনার মধ্যে রয়েছে ওভারচার শান্ত সমুদ্র এবং সমৃদ্ধ যাত্রা (Calm Sea and Prosperous Voyage, ওপি. ২৭, ১৮২৮), এবং ক্যান্টাটা ডি এরস্টে ভালপুরগিসনাখট (The First Walpurgis Night, ওপি. ৬০, ১৮৩২)।[২৫]

হাইনরিখ হাইনে, জার্মানিতে তার পদযাত্রার সময় (যা তার ডি হার্জরেইজ রচনায় অমর হয়ে আছে) ১৮২৪ সালে ভাইমারে গ্যোটের সাথে সাক্ষাতের সুযোগ পান।[২৬] হাইনে তার প্রাথমিক যৌবনে গ্যোটের একজন বড় ভক্ত ছিলেন এবং তার কিছু প্রাথমিক কাজ প্রশংসাসূচক নোটসহ তাকে পাঠিয়েছিলেন।[২৭] এই সাক্ষাৎটি অত্যন্ত বিফল প্রকৃতির ছিল বলে মনে করা হয়, কারণ হাইনে তার হার্জরেইজ-এ এই সাক্ষাতের কথা পুরোপুরি বাদ দিয়েছিলেন এবং পরবর্তী জীবনে এটি নিয়ে বিদ্রূপাত্মক কথা বলেছিলেন।[২৮]

মৃত্যু

[সম্পাদনা]
ভাইমার ভল্টে গ্যোটে ও শিলার-এর কফিন

১৮৩২ সালে গ্যোটে ভাইমারে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। তাকে ভাইমারের ঐতিহাসিক গোরস্থানে ডুকাল ভল্টে (Ducal Vault) সমাহিত করা হয়।

শেষ কথা

[সম্পাদনা]

গ্যোটের শেষ কথাগুলোকে সাধারণত Mehr Licht! বা "আরও আলো!" হিসেবে সংক্ষেপে প্রকাশ করা হয়, যদিও তার প্রকৃত শেষ উক্তিটি আরও দীর্ঘ ছিল বলে দাবি করা হয়।

প্রাচীনতম পরিচিত বিবরণটি ছিল কার্ল উইলহেম মুলারের, যেখানে গ্যোটের সম্পূর্ণ শেষ কথাগুলো উল্লেখ করা হয়েছে:[২৯] "Macht doch den zweiten Fensterladen in der Stube auch auf, damit mehr Licht hereinkomme." ("বসার ঘরের দ্বিতীয় জানালাটিও খুলে দাও যাতে আরও আলো ভেতরে আসতে পারে।")


তার চিকিৎসক কার্ল ভোগেলের [de] মতে, গ্যোটের শেষ কথা ছিল, Mehr Licht! (আরও আলো!), কিন্তু এটি বিতর্কিত। কারণ গ্যোটে যখন মারা যান তখন ভোগেল সেই ঘরে উপস্থিত ছিলেন না, যা তিনি নিজেই তার বিবরণে স্বীকার করেছেন:[৩০] "[...] বলা হয়ে থাকে যে 'আরও আলো' ছিল সেই ব্যক্তির শেষ কথা, যিনি সর্বদাই অন্ধকারকে ঘৃণা করতেন; যখন তিনি মারা যান তখন আমি মুহূর্তের জন্য কক্ষের বাইরে ছিলাম। [...]"

টমাস কার্লাইল তার ভাই জন কার্লাইলকে লেখা একটি চিঠিতে (২ জুলাই ১৮৩২) উল্লেখ করেছেন যে তিনি সারাহ অস্টিনের কাছ থেকে একটি সংস্করণ শুনেছিলেন যা হলো: Macht die Fensterladen auf, damit ich mehr Licht bekomme! ("জানালাগুলো খুলে দাও যাতে আমি আরও আলো পাই!"):[৩১] "[...] মিসেস অস্টিন সম্প্রতি লিখেছেন যে গ্যোটের শেষ কথা ছিল, Macht die Fensterladen auf, damit ich mehr Licht bekomme! মহিমান্বিত মানুষ! সুখী মানুষ! আমি শ্রদ্ধা ও গর্ব ছাড়া কখনোই তার কথা ভাবি না। [...]" জন রাস্কিন তার প্রিটেরিটা (Præterita) গ্রন্থে ১৮৭৪ সালের ২৫ অক্টোবরের ডায়েরি থেকে একটি স্মৃতি উল্লেখ করেছেন যেখানে কার্লাইল বলছিলেন যে, "[...] তিনি গ্যোটের শেষ কথাগুলো উদ্ধৃত করছিলেন, 'জানালা খুলে দাও, আমাদের আরও আলো দরকার' (এটি ব্যথাহীন মৃত্যুর প্রায় এক ঘণ্টা আগের কথা, যখন তার দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে আসছিল)।"[৩২]

যদিও এর মূল প্রেক্ষাপট ছিল সাধারণ, তবুও এই শব্দগুলো—বিশেষ করে এর সংক্ষিপ্ত রূপটি একটি প্রবাদে পরিণত হয়েছে, যা সাধারণত গ্যোটের আলোকায়ন-পন্থী (Enlightenment) বিশ্বদর্শনকে ফুটিয়ে তুলতে ব্যবহৃত হয়।

মৃত্যুর পরবর্তী প্রভাব

[সম্পাদনা]

১৮৫০ সালে ভাইমারে রিচার্ড ওয়াগনারের অপেরা লোহেনগ্রিন-এর প্রথম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এর কন্ডাক্টর বা পরিচালক ছিলেন ফ্রাঞ্জ লিজট, যিনি গ্যোটের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে ২৮ আগস্ট তারিখটি বেছে নিয়েছিলেন (গ্যোটে ১৭৪৯ সালের ২৮ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন)।[৩৩]

বংশধর

[সম্পাদনা]

ক্রিস্টিয়ানা ভুলপিয়াসের সাথে গ্যোটের পাঁচ সন্তান ছিল। তাদের মধ্যে কেবল জ্যেষ্ঠ পুত্র অগাস্ট পূর্ণবয়স্ক বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। এক সন্তান মৃত অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেছিল এবং বাকিরা শৈশবেই মারা যায়। পুত্র অগাস্ট এবং পুত্রবধূ ওটিলির মাধ্যমে জোহান গ্যোটের তিনজন নাতি-নাতনি ছিল: ভালথার, উলফগ্যাং এবং আলমা। আলমা ১৬ বছর বয়সে ভিয়েনায় প্রাদুর্ভাব ঘটা টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।


ভালথার এবং উলফগ্যাং বিয়ে করেননি এবং তাদের কোনো সন্তানও ছিল না। ভালথারের সমাধিপাথরে খোদাই করা আছে: "তার সাথেই গ্যোটের রাজবংশের সমাপ্তি ঘটল, এই নাম চিরকাল বেঁচে থাকবে," যা গ্যোটের ব্যক্তিগত রক্তধারার সমাপ্তি চিহ্নিত করে। যদিও গ্যোটের কোনো সরাসরি বংশধর নেই, তবে তার ভাইবোনদের বংশধারা এখনো বিদ্যমান।

বংশধর

[সম্পাদনা]

ক্রিস্টিয়ানা ভুলপিয়াসের গর্ভে গ্যোটের পাঁচ সন্তান জন্মায়, তবে কেবল জ্যেষ্ঠ পুত্র অগাস্ট পূর্ণবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। অগাস্টের মাধ্যমে গ্যোটের তিন নাতি-নাতনি ছিল— ভালথার, উলফগ্যাং এবং আলমা। আলমা ১৬ বছর বয়সে টাইফয়েডে মারা যান। ভালথার এবং উলফগ্যাং বিয়ে করেননি এবং তাদের কোনো সন্তান ছিল না। ১৮৮৫ সালে ভালথারের মৃত্যুর মাধ্যমে গ্যোটের সরাসরি বংশধারা শেষ হয়ে যায়।

সাহিত্যকর্ম

[সম্পাদনা]
দ্য সরোজ অব ইয়ং ওয়ার্থার-এর প্রথম সংস্করণ

গ্যোটের ভাইমারে যাওয়ার আগে রচিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো ছিল গ্যোটজ ফন বের্লিখিনগেন (১৭৭৩), একটি ট্র্যাজেডি যা তাকে প্রথম সাহিত্যিক স্বীকৃতি এনে দেয়, এবং উপন্যাস দ্য সরোজ অব ইয়ং ওয়ার্থার (জার্মান: Die Leiden des jungen Werthers) (১৭৭৪)। এই উপন্যাসটি তাকে স্টুর্ম উন্ড ড্রাং যুগে লেখক হিসেবে বিশাল খ্যাতি এনে দিয়েছিল, যা ছিল রোমান্টিকতাবাদের প্রাথমিক পর্যায়। প্রকৃতপক্ষে, ওয়ার্থার-কে প্রায়শই এই আন্দোলনের "স্ফুলিঙ্গ" হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং একে বিশ্বের প্রথম "বেস্টসেলার" বলা যেতে পারে। ১৭৯৪ সালে শিলারের সাথে সাক্ষাতের আগের বছরগুলোতে ভাইমারে থাকাকালীন তিনি ভিলহেম মাইস্টার্স অ্যাপ্রেন্টিসশিপ শুরু করেন[৩৪] এবং ইফিজেনিয়া ইন টাউরিস,[৩৫] এগমন্ট,[৩৬]টরকুয়াটো টাসো নাটকগুলো[৩৭] এবং রেইনেকে ফুকস নামক উপকথাটি রচনা করেন।[৩৮]

শিলারের সাথে তার বন্ধুত্বের সময়কালে ভিলহেম মাইস্টার্স জার্নিম্যান ইয়ার্স (ভিলহেম মাইস্টার্স অ্যাপ্রেন্টিসশিপ-এর ধারাবাহিকতা), হারমান উন্ড ডোরোথিয়া, রোমান এলিজি এবং কাব্যনাটক দ্য ন্যাচারাল ডটার-এর পরিকল্পনা ও রচনা সম্পন্ন হয়।[৩৯] ১৮০৫ সালে শিলারের মৃত্যু এবং তার নিজের মৃত্যুর মধ্যবর্তী শেষ পর্যায়ে প্রকাশিত হয়— ফাউস্ট, প্রথম খণ্ড (১৮০৮), ইলেকটিভ অ্যাফিনিটিস (১৮০৯), ওয়েস্ট-ইস্টার্ন ডিওয়ান (১৮১৯ সালে প্রকাশিত পারস্য শৈলীর কবিতার সংকলন, যা হাফেজ-এর কাজের দ্বারা প্রভাবিত), তার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ আউস মাইনেম লেবেন: ডিখটুং উন্ড ওয়াহরহিত (আমার জীবন থেকে: কবিতা ও সত্য, ১৮১১ থেকে ১৮৩৩ সালের মধ্যে প্রকাশিত) যা তার প্রাথমিক জীবন এবং ভাইমার যাত্রার আগ পর্যন্ত সময়কালকে ধারণ করে, তার ইতালীয় ভ্রমণ (১৮১৬–১৭) এবং শিল্পকলা বিষয়ক প্রবন্ধের একটি সিরিজ। ১৮৩২ সালে তার মৃত্যুর আগে ফাউস্ট, দ্বিতীয় খণ্ড সমাপ্ত হয় এবং সেই বছরই মরণোত্তর প্রকাশিত হয়। তার লেখাসমূহ তৎক্ষণাৎ সাহিত্য ও শিল্পকলা মহলে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।[৩৯]

গ্যোটে কালিদাসের অভিজ্ঞানশকুন্তলম দ্বারা মুগ্ধ হয়েছিলেন, যা ইংরেজি থেকে জার্মান ভাষায় অনূদিত হওয়ার পর ইউরোপে পরিচিত হওয়া সংস্কৃত সাহিত্যের অন্যতম প্রাথমিক নিদর্শন ছিল।[৪০]

ভাইমারে অবস্থিত গ্যোটে-শিলার স্মৃতিস্তম্ভ (১৮৫৭)

নির্বাচিত রচনাবলির বিস্তারিত

[সম্পাদনা]

১৭৭৪ সালে প্রকাশিত Die Leiden des jungen Werthers বা দ্য সরোজ অব ইয়ং ওয়ার্থার (তরুণ ওয়ার্থারের দুঃখগাথা) একটি সংক্ষিপ্ত পত্রোপন্যাস (epistolary novel), যেখানে একটি অসুখী রোমান্টিক মোহের বিবরণ দেওয়া হয়েছে যা শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়। গ্যোটে স্বীকার করেছিলেন যে তিনি "নিজেকে বাঁচাতে তার নায়ককে গুলি করেছিলেন"; এটি মূলত একজন তরুণীর প্রতি গ্যোটের আত্মঘাতী উন্মাদনার ইঙ্গিত, যা তিনি লেখালেখির মাধ্যমে প্রশমিত করেছিলেন। উপন্যাসটি আজও ডজনখানেক ভাষায় মুদ্রিত হচ্ছে এবং এর প্রভাব অনস্বীকার্য। এর কেন্দ্রীয় নায়ক—যে তরুণী লোটের প্রতি তার একতরফা প্রেমের কারণে হতাশায় নিমজ্জিত হয়—সাহিত্যের একটি চিরন্তন আদিরূপ (archetype)-এ পরিণত হয়েছে। ওয়ার্থার উপন্যাসের সমাপ্তি ঘটে নায়কের আত্মহত্যা এবং অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার মাধ্যমে—যে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় "কোনো পাদ্রি উপস্থিত ছিলেন না"। বেনামে প্রকাশিত হওয়ার পর বইটি নিয়ে গভীর বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল, কারণ এটি আত্মহত্যাকে মহিমান্বিত করছে বলে মনে করা হয়েছিল। খ্রিস্টীয় মতবাদ অনুযায়ী আত্মহত্যাকে মহাপাপ বলে গণ্য করা হয়; সে সময় আত্মহত্যাকারীদের খ্রিস্টীয় রীতিতে সমাধিস্থ করা হতো না এবং প্রায়শই মৃতদেহ বিকৃত করা হতো। এমনকি আত্মহত্যাকারীর সম্পত্তি চার্চ বাজেয়াপ্ত করত।[৪১]

গ্যোটে তার আত্মজীবনীতে ওয়ার্থার ব্যবহারের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, তিনি "বাস্তবতাকে কবিতায় রূপান্তরিত করেছেন, কিন্তু তার বন্ধুরা ভেবেছিল যে কবিতাকে বাস্তবে রূপান্তর করা উচিত এবং কবিতাটি অনুকরণীয়।" তিনি কবিতার এই ধরনের ব্যাখ্যার বিরোধী ছিলেন।[৪২] সেই সময়ে পত্রোপন্যাস বেশ প্রচলিত ছিল, কারণ চিঠিপত্রই ছিল যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। গ্যোটের বইটিকে অন্যান্য উপন্যাস থেকে যা আলাদা করেছিল তা হলো—অসম্ভব আনন্দের প্রতি সীমাহীন আকাঙ্ক্ষা, কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবাধ্য বিদ্রোহের চেতনা এবং এর সামগ্রিক আত্মমুখিতা (subjectivity); যা রোমান্টিক আন্দোলনের পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করেছিল।

গ্যোটের পরবর্তী কাজ, তার মহাকাব্যিক পাঠ্যনাটক ফাউস্ট (Faust), বিভিন্ন পর্যায়ে সম্পন্ন হয়েছিল। প্রথম অংশটি ১৮০৮ সালে প্রকাশিত হয় এবং এটি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। গ্যোটে তার মৃত্যুর বছরে ফাউস্ট, দ্বিতীয় খণ্ড সমাপ্ত করেন এবং এটি তার মরণোত্তর প্রকাশিত হয়। ফাউস্ট নাটকের গ্যোটের মূল খসড়াটি সম্ভবত ১৭৭৩ থেকে ১৭৭৪ সালের মধ্যে তৈরি হয়েছিল, যা বর্তমানে উরফাউস্ট (Urfaust) নামে পরিচিত; এটিও তার মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয়।[৪৩]

১৮১৪ সালে লুইস স্পোর গ্যোটের ফাউস্ট-এর প্রথম অপেরা সংস্করণ তৈরি করেন। পরবর্তীতে এই কাজটি শুমান, বারলিওজ, গোনো, বোইটো, বুসোনি এবং স্নিটকে-কে অপেরা ও ওরাটোরিও রচনায় অনুপ্রাণিত করে। পাশাপাশি এটি লিজট, ওয়াগনার এবং ম্যালার-এর সিম্ফোনিক কাজগুলোতেও প্রভাব ফেলে। ১৯শ শতাব্দীতে 'ফাউস্ট' একটি আদি-পুরাণে (ur-myth) পরিণত হয়। পরবর্তীকালে এর গল্পের একটি দিক—অর্থাৎ ভৌত জগতের ওপর ক্ষমতার জন্য শয়তানের কাছে নিজের আত্মা বিক্রি করা—সাহিত্যিক গুরুত্ব পেতে শুরু করে এবং এটি প্রযুক্তি ও শিল্পায়নের বিজয়ের প্রতীক হিসেবে দেখা হতে থাকে, যার নেপথ্যে ছিল মানুষের নৈতিক অবক্ষয়। ১৯১৯ সালে গ্যোটেয়ানেমে ফাউস্ট-এর প্রথম পূর্ণাঙ্গ প্রযোজনা মঞ্চস্থ হয়।

জোহান হাইনরিখ উইলহেম টিশবাইন অঙ্কিত রোমান ক্যাম্পানায় গ্যোটে (১৭৮৬)

গ্যোটের কাব্যিক কাজ জার্মান কবিতার একটি সম্পূর্ণ ধারার জন্য মডেল হিসেবে কাজ করেছিল যাকে ইনারলিখকাইট (Innerlichkeit) বা "অন্তর্মুখিতা" বলা হয় এবং হাইনে এর অন্যতম প্রতিনিধি। গ্যোটের শব্দগুচ্ছ মোজার্ট, বেটোফেন (যিনি গ্যোটে-কে আদর্শ মানতেন), শুবার্ট, বারলিওজ এবং উলফের অসংখ্য রচনাকে অনুপ্রাণিত করেছে।[৪৪] সম্ভবত সবচেয়ে প্রভাবশালী অংশটি হলো "মিগননের গান" (Mignon's Song), যা শুরু হয়েছে জার্মান কবিতার অন্যতম বিখ্যাত চরণে, যেখানে ইতালির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে: "Kennst du das Land, wo die Zitronen blühn?" ("তুমি কি চেনো সেই দেশ, যেখানে লেবু গাছ ফুটে ওঠে?")।

তিনি ব্যাপকভাবে উদ্ধৃত একজন ব্যক্তিত্ব। তার বিভিন্ন এপিগ্রাম বা সংক্ষিপ্ত উক্তি আজও ব্যবহৃত বা অনুদিত হয়; যেমন: "সমালোচনার বিরুদ্ধে একজন মানুষ প্রতিবাদ বা আত্মরক্ষা কোনোটিই করতে পারে না; তাকে এর মধ্যেই কাজ করে যেতে হবে এবং তবেই তা ধীরে ধীরে তার কাছে নতি স্বীকার করবে", "বিভাজন করো ও শাসন করো, এটি একটি ভালো নীতি; ঐক্যবদ্ধ করো ও নেতৃত্ব দাও, এটি আরও ভালো নীতি", এবং "যখন পারো আনন্দ করো এবং যখন প্রয়োজন তখন সহ্য করো"। ফাউস্ট নাটকের বেশ কিছু চরণ যেমন— "Das also war des Pudels Kern" (অর্থাৎ 'আসল রহস্য তবে এটিই'), "Das ist der Weisheit letzter Schluss" (প্রজ্ঞার চরম সিদ্ধান্ত), অথবা "Grau ist alle Theorie" (সব তত্ত্বই ধূসর) দৈনন্দিন জার্মান ভাষায় প্রবেশ করেছে।

কিছু সুপরিচিত উক্তি প্রায়শই ভুলভাবে গ্যোটের নামে চালানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে হিপোক্রেটিসের "শিল্প দীর্ঘ, জীবন সংক্ষিপ্ত" (Art is long, life is short), যা গ্যোটের ফাউস্ট এবং ভিলহেম মাইস্টার্স অ্যাপ্রেন্টিসশিপ-এ প্রতিধ্বনিত হয়েছে।

বৈজ্ঞানিক কাজ

[সম্পাদনা]

একজন কবি হিসেবে আমি যা করেছি... তাতে আমি খুব একটা গর্ববোধ করি না... কিন্তু আমার এই শতাব্দীতে আমিই একমাত্র ব্যক্তি যে রঙের জটিল বিজ্ঞানের সত্য জানি—এজন্য আমি যথেষ্ট গর্বিত এবং আমি অনেকের চেয়ে শ্রেষ্ঠত্বের চেতনা অনুভব করি।

জোহান একারম্যান, গ্যোটের সাথে কথোপকথন (Conversations with Goethe)
১৮১০ সালে গ্যোটে। চিত্রশিল্পী: গেরহার্ড ফন কুজেলগেন

যদিও তার সাহিত্যকর্মই সবচেয়ে বেশি আগ্রহ আকর্ষণ করেছে, গ্যোটে প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের গবেষণায়ও গভীরভাবে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি অঙ্গসংস্থানবিদ্যা (morphology) এবং রঙের তত্ত্বের ওপর বেশ কিছু কাজ লিখেছিলেন। ১৭৯০-এর দশকে তিনি গ্যালভানিক পরীক্ষা চালান এবং আলেকজান্ডার ফন হামবোল্টের সাথে শারীরস্থানিক বিষয়গুলো অধ্যয়ন করেন। ইউরোপে তার সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত খনিজ সংগ্রহ ছিল। তার মৃত্যুর সময় পর্যন্ত ভূতত্ত্বের ওপর ব্যাপক ধারণা লাভের উদ্দেশ্যে তিনি ১৭,৮০০টি পাথরের নমুনা সংগ্রহ করেছিলেন।

অঙ্গসংস্থানবিদ্যা এবং যা পরবর্তীতে সমসংস্থিতি (homology) নামে পরিচিত হয়, তার ওপর গ্যোটের আলোকপাত ১৯-শতাব্দীর প্রাকৃতিক বিজ্ঞানীদের প্রভাবিত করেছিল। যদিও তার রূপান্তরের ধারণা ছিল জীবন্ত বস্তুর নিরবচ্ছিন্ন মেটামরফোসিস সম্পর্কে এবং সমসাময়িক "ট্রান্সফরমিজম" বা প্রজাতির রূপান্তরের ধারণার সাথে তার মিল ছিল না। সমসংস্থিতি বা এতিয়েন জিওফ্রয় সেন্ট-হিলেয়ারের ভাষায় "অ্যানালজি" (analogie)-কে চার্লস ডারউইন সাধারণ বংশোদ্ভূত হওয়া এবং প্রকরণের আইনের শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন।

১৭৮৪ সালে গ্যোটে স্বাধীনভাবে মানুষের ইন্টারম্যাক্সিলারি অস্থি (intermaxillary bone) আবিষ্কার করেন, যা "গ্যোটের অস্থি" নামেও পরিচিত। যদিও তার কয়েক বছর আগে ব্রুসোনেট এবং ভিক ডি'আজির ভিন্ন পদ্ধতিতে এটি শনাক্ত করেছিলেন, গ্যোটে প্রথম প্রমাণ করেছিলেন যে এটি সমস্ত স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে বিদ্যমান। গ্যোটের এই আবিষ্কারে সাহায্যকারী হাতির খুলিটি বর্তমানে জার্মানির ক্যাসেলের অটোনিউমে "গ্যোটিয় হাতি" (Goethean Elephant) নামে প্রদর্শিত হচ্ছে।

তার ইতালি ভ্রমণের সময় গ্যোটে উদ্ভিদের রূপান্তরের একটি তত্ত্ব প্রণয়ন করেন যেখানে উদ্ভিদের আদি রূপটি "পাতায়" পাওয়া যায়। তিনি লিখেছেন, "একটি উদ্ভিদের উপর থেকে নিচ পর্যন্ত সবই পাতা, যা ভবিষ্যতের কুঁড়ির সাথে এমন অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত যে একটিকে ছাড়া অন্যটি কল্পনা করা যায় না।" ১৭৯০ সালে তিনি তার বিখ্যাত বই উদ্ভিদের রূপান্তর (Metamorphosis of Plants) প্রকাশ করেন। বিবর্তনীয় চিন্তাধারার ইতিহাসে একজন অগ্রদূত হিসেবে গ্যোটে ১৮৩১ সালে লিখেছেন:

উদ্ভিদ রূপের চিরপরিবর্তনশীল প্রদর্শনী যা আমি এত বছর ধরে অনুসরণ করেছি, তা আমার মধ্যে ক্রমবর্ধমানভাবে এই ধারণার জন্ম দেয়: আমাদের চারপাশের উদ্ভিদের রূপগুলো সময়ের কোনো এক বিন্দুতে তৈরি হয়ে নির্দিষ্ট ছাঁচে আটকে যায়নি, বরং তাদের একটি চমৎকার গতিশীলতা ও নমনীয়তা দেওয়া হয়েছে যা তাদের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন অবস্থার সাথে বেড়ে উঠতে এবং মানিয়ে নিতে সাহায্য করে।

গ্যোটে টরিসেলির নীতি ব্যবহার করে "গ্যোটে ব্যারোমিটার"-কেও জনপ্রিয় করেছিলেন। হেগেলের মতে, গ্যোটে আবহাওয়াবিদ্যা নিয়েও প্রচুর কাজ করেছেন এবং ১৮২২ সালের ডিসেম্বরের ব্যারোমেট্রিক রিডিংয়ের একটি তুলনামূলক সারণী তৈরি করেছিলেন যা প্রমাণ করে যে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বিভিন্ন উচ্চতায় এবং বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যারোমেট্রিক স্তরের পরিবর্তন একই অনুপাতে ঘটে।

রঙের বর্ণালী, গ্যোটের রঙের তত্ত্ব থেকে। গ্যোটে পর্যবেক্ষণ করেছেন যে প্রিজমের মাধ্যমে আলো-অন্ধকারের প্রান্তে রঙের উদ্ভব হয় এবং যেখানে এই রঙিন প্রান্তগুলো একে অপরকে আবৃত করে সেখানে বর্ণালী তৈরি হয়।

১৮১০ সালে গ্যোটে তার রঙের তত্ত্ব (Theory of Colours) প্রকাশ করেন, যা তিনি তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ বলে মনে করতেন। এতে তিনি যুক্তি দেন যে, আলো এবং অন্ধকারের গতিশীল মিথস্ক্রিয়ার ফলে রঙের উদ্ভব হয়। ১৮১৬ সালে শোপেনহাওয়ার গ্যোটের পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে তার নিজস্ব তত্ত্ব প্রদান করেন। ১৮৪০ সালে এটি ইংরেজিতে অনূদিত হওয়ার পর শিল্প জগতে, বিশেষ করে চিত্রশিল্পী জে. এম. ডব্লিউ. টার্নারের কাছে এটি ব্যাপকভাবে গৃহীত হয়। দার্শনিক লুডভিগ উইটগেনস্টাইনও এই কাজের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে তার রিমার্কস অন কালার লিখেছিলেন। গ্যোটে রঙের ক্ষেত্রে নিউটনের গাণিতিক বিশ্লেষণের কট্টর বিরোধী ছিলেন। যদিও গ্যোটের অভিজ্ঞতাগত পর্যবেক্ষণগুলো সঠিক ছিল, তার নান্দনিক দৃষ্টিভঙ্গি আধুনিক বিজ্ঞানের গাণিতিক বিশ্লেষণের মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি। তবে গ্যোটে রঙের শারীরিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব নিয়ে পদ্ধতিগতভাবে অধ্যয়ন করা প্রথম ব্যক্তি ছিলেন। তার তৈরি "কালার হুইল" বা রঙের চক্রের প্রতিসম বিন্যাস আধুনিক বিজ্ঞানের অনেক ধারণাকে আগাম ইঙ্গিত দিয়েছিল।

গ্যোটে তার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিকে ১৮৭২ সালের একটি প্রবন্ধে ব্যাখ্যা করেছেন। সম্পাদক রুডলফ স্টেইনার গ্যোটের বিজ্ঞানের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিকে "প্রপঞ্চতাত্ত্বিক" (phenomenological) হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। স্টেইনারের মতে, গ্যোটের জৈবিক আদিরূপ বা 'টাইপাস' বোঝার হাতিয়ার ছিল অন্তর্দৃষ্টি।

ভূতাত্ত্বিক এবং খনি প্রকৌশলী নোভালিস মন্তব্য করেছিলেন যে গ্যোটে ছিলেন তার সময়ের প্রথম পদার্থবিজ্ঞানী এবং পদার্থবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ব্যক্তিত্ব। তার মতে গ্যোটের আলো, উদ্ভিদের রূপান্তর এবং পতঙ্গের ওপর গবেষণা প্রমাণ করে যে একজন শিল্পীর কাজের পরিধির মধ্যেই নিখুঁত শিক্ষামূলক বক্তৃতা নিহিত থাকে।

কামজ ভাব ও যৌনতা

[সম্পাদনা]

গ্যোটের অনেক রচনায়, বিশেষ করে ফাউস্ট, রোমান এলিজি এবং ভেনেশীয় এপিগ্রাম-এ কামজ আবেগ ও আচরণের চিত্রায়ন দেখা যায়। উদাহরণস্বরূপ, ফাউস্ট নাটকে শয়তানের সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর ফাউস্ট তার ক্ষমতার প্রথম ব্যবহার করেন একজন কিশোরীকে প্রলুব্ধ করার মাধ্যমে। ভেনেশীয় এপিগ্রাম-এর কিছু অংশ অত্যন্ত যৌনতাপূর্ণ বিষয়বস্তুর কারণে সে সময়ে প্রকাশ করা হয়নি। গ্যোটে স্পষ্টভাবে মানুষের যৌনতাকে কাব্যিক ও শৈল্পিক চিত্রায়নের যোগ্য একটি বিষয় হিসেবে দেখেছিলেন; যা এমন এক সময়ে অত্যন্ত বিরল ছিল যখন যৌনতার ব্যক্তিগত প্রকৃতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হতো।[৪৫]

১৮৩০ সালের ৭ এপ্রিল এক কথোপকথনে গ্যোটে উল্লেখ করেন যে, কিশোরকাম (pederasty) একটি "বিচ্যুতি" (aberration) যা সহজেই "পাশবিক ও স্থূল বৈষয়িক" আচরণের দিকে পরিচালিত করে। তিনি আরও বলেন, "কিশোরকাম মানবতার মতোই প্রাচীন এবং তাই বলা যেতে পারে যে এটি প্রকৃতির মধ্যেই বাস করে, যদিও এটি প্রকৃতির বিরুদ্ধে যায়.... প্রকৃতি থেকে সংস্কৃতি যা অর্জন করেছে তা কোনো মূল্যে বিসর্জন দেওয়া যাবে না।"[৪৬] তার একটি এপিগ্রামে (যা প্রায়শই বিদ্রূপাত্মক ও ব্যঙ্গাত্মক হতো) তিনি লিখেছেন: "আমি বালকদেরও ভালোবাসি, কিন্তু কন্যারা আমার কাছে আরও প্রিয়। যদি বালিকা হিসেবে তাকে দেখে আমি ক্লান্ত হয়ে পড়ি, তবে সে বালক হিসেবেও আমার প্রয়োজন মেটাবে।"[৪৭]

১৯৯৯ সালের একটি জার্মান স্ট্যাম্পে গ্যোটে

ধর্ম ও রাজনীতি

[সম্পাদনা]

গ্যোটে ছিলেন একজন মুক্তচিন্তক, যিনি বিশ্বাস করতেন যে কোনো নির্দিষ্ট গির্জার অনুসারী না হয়েও অন্তরে খ্রিস্টান হওয়া সম্ভব। তিনি গির্জার অনেক কেন্দ্রীয় শিক্ষার তীব্র বিরোধিতা করতেন এবং যিশুর মূল শিক্ষার সাথে খ্রিস্টীয় ধর্মতত্ত্বের মতবাদের সুস্পষ্ট পার্থক্য টানতেন। তিনি গির্জার ইতিহাসকে "ভুল এবং সহিংসতার এক জগাখিচুড়ি" হিসেবে সমালোচনা করেছিলেন।[৪৮] খ্রিস্টীয় বিশ্বাসের সাথে তার সম্পর্কের বর্ণনা বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্নভাবে পাওয়া গেছে। গ্যোটের সচিব একারম্যান তাকে খ্রিস্টধর্ম, যিশু, মার্টিন লুথার এবং প্রোটেস্ট্যান্ট সংস্কার সম্পর্কে উৎসাহী হিসেবে চিত্রিত করেছেন এবং এমনকি খ্রিস্টধর্মকে "চূড়ান্ত ধর্ম" হিসেবে অভিহিত করেছেন।[৪৯] তবে অন্য এক প্রসঙ্গে গ্যোটে নিজেকে "খ্রিস্টান-বিরোধী নন, অ-খ্রিস্টানও নন, তবে নিশ্চিতভাবেই অ-খ্রিস্টীয়" হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তার ৬৬তম ভেনেশীয় এপিগ্রামে গ্যোটে ক্রুশ চিহ্নকে তার সবচেয়ে অপছন্দের চারটি জিনিসের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।[৫০] নিটশে-র মতে, গ্যোটের মধ্যে "এক ধরণের আনন্দময় এবং বিশ্বাসী নিয়তিবাদ (fatalism)" ছিল যা বিশ্বাস করত যে কেবল সামগ্রিকতার মধ্যেই সবকিছু নিজেকে সংশোধন করে এবং ন্যায়সঙ্গত হিসেবে আবির্ভূত হয়।

১৮০৬ সালে ফার্ডিনান্ড জাগেম্যান অঙ্কিত জোহান উলফগ্যাং ফন গ্যোটের প্রতিকৃতি

একটি লুথারান পরিবারে জন্মগ্রহণ করা গ্যোটের প্রাথমিক বিশ্বাস ১৭৫৫ সালের লিসবন ভূমিকম্প এবং সপ্তবর্ষীয় যুদ্ধের মতো ঘটনার সংবাদে কেঁপে উঠেছিল।

মৃত্যুর এক বছর আগে সুলপিজ বোইসেরিকে লেখা একটি চিঠিতে গ্যোটে লিখেছিলেন যে, তিনি অনুভব করেন সারা জীবন তিনি "হিপসিস্টেরিয়ান" (Hypsistarians) হিসেবে যোগ্য হওয়ার চেষ্টা করেছেন। এটি কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলের একটি প্রাচীন গোষ্ঠী যারা গ্যোটের বুঝ অনুযায়ী পরমেশ্বরের নিকটবর্তী হওয়ার মাধ্যম হিসেবে জগতের সর্বোত্তম ও নিখুঁত জ্ঞানকে শ্রদ্ধা করত। গ্যোটের অপ্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে তাকে "মহান পৌত্তলিক" (the great heathen) বলা হতো, যা তৎকালীন কর্তৃপক্ষের মধ্যে অবিশ্বাসের সৃষ্টি করেছিল। গ্যোটের আপত্তিকর ধর্মীয় মতবাদের কারণে তারা তার কোনো স্মৃতিস্তম্ভ তৈরির বিরোধিতা করেছিল।[৫১] অগাস্ট উইলহেম শ্লেগেল গ্যোটে-কে এমন একজন পৌত্তলিক মনে করতেন যিনি "ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।"

গ্যোটে ইসলামসহ অন্যান্য ধর্মের প্রতিও আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। ২৩ বছর বয়সে তিনি 'মাহোমেটস গেসাং' (Mahomets Gesang) বা "মোহাম্মদের গান" নামক একটি কবিতা লিখেছিলেন। ১৮১৯ সালে তিনি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে একটি কাব্যিক সংলাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে তার পশ্চিম-পূর্ব দিওয়ান প্রকাশ করেন।[৫২]


রাজনৈতিকভাবে গ্যোটে নিজেকে একজন "মধ্যপন্থী উদারবাদী" হিসেবে বর্ণনা করতেন। তিনি বেন্থামের উগ্রপন্থা বা র‍্যাডিক্যালিজমের সমালোচক ছিলেন এবং ফরাসি রাজনীতিবিদ ফ্রাঁসোয়া গিজোর উদারতাবাদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছিলেন। ফরাসি বিপ্লবের সময় তিনি ছাত্র এবং অধ্যাপকদের উত্তেজনাকে তাদের শক্তির অপব্যবহার বলে মনে করতেন এবং শাসনের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সক্ষমতা নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। তবে গ্যোটে আমেরিকান বিপ্লবের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন এবং লিখেছিলেন, "আমেরিকা, তুমি আমাদের এই পুরাতন মহাদেশের চেয়ে ভালো আছো।" ১৮১২ সালের নেপোলিয়ন-বিরোধী হাওয়ায় তিনি যোগ দেননি এবং তৎকালীন উগ্র জাতীয়তাবাদকে তিনি অবিশ্বাসের চোখে দেখতেন।

গ্যোটে একজন ফ্রিম্যাসন ছিলেন এবং ১৭৮০ সালে ভাইমারের 'অ্যামালিয়া' লজে যোগ দিয়েছিলেন। তার কাজে প্রায়শই বিশ্বজনীন ভ্রাতৃত্বের ম্যাসোনিক থিম ফুটে উঠত। এ ছাড়াও তিনি ১৭৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বাভারিয়ান গোপন সংগঠন ইলুমিনাতি-র প্রতিও আকৃষ্ট হয়েছিলেন।

যদিও তাকে প্রায়ই জাতীয়তাবাদী আবেগ জাগানো কবিতা লেখার অনুরোধ করা হতো, গ্যোটে তা সবসময় প্রত্যাখ্যান করতেন। বৃদ্ধ বয়সে তিনি একারম্যানের কাছে এর কারণ ব্যাখ্যা করেছিলেন:

আমি কীভাবে ঘৃণার গান লিখব যখন আমি কোনো ঘৃণা অনুভব করি না? এবং আমাদের নিজেদের মধ্যে কথা হলো, আমি ফরাসিদের কখনোই ঘৃণা করিনি, যদিও তারা বিদায় হওয়ায় আমি ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলাম। আমি, যার কাছে একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হলো সংস্কৃতি এবং বর্বরতা, আমি কীভাবে এমন একটি জাতিকে ঘৃণা করতে পারি যারা বিশ্বের সবচেয়ে সংস্কৃত জাতিগুলোর একটি এবং যাদের কাছে আমি আমার নিজের সংস্কৃতির বিশাল অংশের জন্য ঋণী? যাই হোক, জাতিগুলোর মধ্যে এই ঘৃণার বিষয়টি একটি অদ্ভুত জিনিস। আপনি একে সর্বদা সংস্কৃতির নিম্নস্তরে সবচেয়ে শক্তিশালী এবং বর্বর হিসেবে পাবেন। কিন্তু এমন একটি স্তর আছে যেখানে এটি সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যায় এবং যেখানে একজন মানুষ জাতির ঊর্ধ্বে দাঁড়ায় এবং প্রতিবেশী জনগণের সুখ বা দুঃখকে নিজের মতো করে অনুভব করে।[৫৩]

প্রভাব

[সম্পাদনা]
শিকাগোর লিঙ্কন পার্কে (১৯১৩) "জার্মান জাতির শ্রেষ্ঠ মনীষী গ্যোটে-র প্রতি" উৎসর্গীকৃত স্মৃতিস্তম্ভ

১৯৩২ সালে লিওপোল্ড ক্যাসপারকে লেখা একটি চিঠিতে আইনস্টাইন লিখেছিলেন যে তিনি গ্যোটে-কে 'একজন অতুলনীয় কবি এবং সর্বকালের অন্যতম মেধাবী ও জ্ঞানী ব্যক্তি' হিসেবে শ্রদ্ধা করেন। তিনি আরও বলেন, 'এমনকি তার পাণ্ডিত্যপূর্ণ ধারণাগুলোও অত্যন্ত সম্মানের দাবিদার এবং তার ত্রুটিগুলো যে কোনো মহান মানুষের মতোই সাধারণ।'

উনবিংশ শতাব্দীর ওপর গ্যোটের প্রভাব ছিল অত্যন্ত ব্যাপক যা বহুলাংশে আধুনিক চিন্তাধারার অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। তিনি বিপুল পরিমাণে কবিতা, প্রবন্ধ, সমালোচনা, একটি রঙের তত্ত্ব এবং বিবর্তনভাষাবিজ্ঞানের ওপর প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন করেছেন। তিনি খনিজ বিজ্ঞানের প্রতি মুগ্ধ ছিলেন এবং তার সম্মানে লৌহ আকরিক খনিজ গ্যোথাইট (আয়রন অক্সাইড)-এর নামকরণ করা হয়েছে।[৫৪] তার অ-কাল্পনিক লেখাসমূহ, যার বেশিরভাগই প্রকৃতিগতভাবে দার্শনিক এবং সারগর্ভ (aphoristic), জর্জ উইলহেম ফ্রিডরিশ হেগেল, আর্থার শোপেনহাওয়ার, সোরেন কিয়ের্কেগার্ড, ফ্রিডরিশ নিটশে, আর্নস্ট ক্যাসিরার এবং কার্ল ইয়ুং-সহ অনেক চিন্তাবিদকে প্রভাবিত করেছে। শিলারের পাশাপাশি তিনি ছিলেন ভাইমার ধ্রুপদবাদের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব। শোপেনহাওয়ার গ্যোটের উপন্যাস ভিলহেম মাইস্টার্স অ্যাপ্রেন্টিসশিপ-কে ট্রিস্ট্রাম শ্যান্ডি, লা নুভেল এলোইস এবং ডন কিহোতে-র সাথে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ চারটি উপন্যাসের একটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নিটশে লিখেছিলেন, "চারটি যুগল ছিল যারা আমার ত্যাগের কাছে নিজেদের অস্বীকার করেনি: এপিকিউরাস ও মন্টাইন, গ্যোটে ও স্পিনোজা, প্লেটো ও রুসো, পাস্কাল ও শোপেনহাওয়ার।"

ফিডাস কর্তৃক একজন ধ্রুপদী কবি হিসেবে গ্যোটের অলঙ্করণ (১৯০১)

গ্যোটে পরবর্তী শতাব্দীর শিল্পের অনেক পরস্পরবিরোধী ধারার সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন: তার কাজ একই সাথে প্রগাঢ় আবেগীয়, কঠোরভাবে আনুষ্ঠানিক, সংক্ষিপ্ত ও ব্যঙ্গোক্তিপূর্ণ এবং মহাকাব্যিক হতে পারত। তিনি যুক্তি দিতেন যে ধ্রুপদবাদ বা ক্লাসিকবাদ ছিল শিল্পকে নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যম এবং রোমান্টিকতাবাদ ছিল একটি ব্যাধি; যদিও তিনি নিজে স্মরণীয় চিত্রকল্পে সমৃদ্ধ কবিতা লিখেছেন এবং জার্মান কবিতার ব্যাকরণ নতুন করে তৈরি করেছেন। ভলফগাং আমাদেউস মোজার্ট থেকে শুরু করে গুস্তাভ মালার পর্যন্ত প্রায় প্রত্যেক প্রধান অস্ট্রীয় ও জার্মান সুরকার তার কবিতায় সুরারোপ করেছেন এবং তার প্রভাব ফরাসি নাটক ও অপেরাতেও ছড়িয়ে পড়েছিল। বেটোফেন ঘোষণা করেছিলেন যে একটি "ফাউস্ট" সিম্ফনি হবে শিল্পের জন্য শ্রেষ্ঠতম সৃষ্টি। ফ্রাঞ্জ লিজট এবং মালার উভয়ই এই কালজয়ী কাজ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে সম্পূর্ণ বা আংশিক সিম্ফনি তৈরি করেছিলেন, যা ১৯শ শতাব্দীকে এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদাহরণ প্রদান করেছিল: ডক্টর ফাউস্টাস।

দ্বিতীয় গ্যোটেয়ানেম
১৮৩০ সালে গ্যোটের সামনে মেন্ডেলসনের পিয়ানো বাদন: মরিটজ ওপেনহেইমের আঁকা চিত্র, ১৮৬৪

ফাউস্ট (Faust) ট্র্যাজেডি বা নাটকটি—যাকে প্রায়শই Das Drama der Deutschen (জার্মানদের নাটক) বলা হয়—কয়েক দশকের ব্যবধানে দুটি খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছিল। এটি গ্যোটের সবচেয়ে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ এবং বিখ্যাত শৈল্পিক সৃষ্টি হিসেবে বিবেচিত। বিংশ শতাব্দীর আধ্যাত্মিক সাধক রুডলফ স্টেইনারের অনুসারীরা তার সম্মানে গ্যোটেয়ানেম নামে একটি থিয়েটার নির্মাণ করেন—যেখানে আজও ফাউস্ট-এর উৎসবকালীন প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

গ্যোটে ছিলেন একজন অন্যতম সাংস্কৃতিক শক্তি। ১৮০৮ সালে নেপোলিয়নের সাথে তার প্রথম সাক্ষাতের সময় নেপোলিয়ন প্রখ্যাতভাবে মন্তব্য করেছিলেন: "Vous êtes un homme (আপনি একজন প্রকৃত মানুষ)!"[৫৫] তারা দুজন রাজনীতি, ভলতেয়ারের লেখা এবং গ্যোটের দ্য সরোজ অব ইয়ং ওয়ার্থার নিয়ে আলোচনা করেন। নেপোলিয়ন এই বইটি সাতবার পড়েছিলেন এবং এটি তার প্রিয় বইগুলোর একটি ছিল।[৫৬] সাক্ষাতের পর গ্যোটে নেপোলিয়নের প্রখর বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞান এবং পুরাতন জরাজীর্ণ ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে তার নতুন সমাজ গড়ার প্রচেষ্টা দেখে গভীরভাবে মুগ্ধ হন। গ্যোটে সর্বদা নেপোলিয়নের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করে কথা বলতেন এবং স্বীকার করতেন যে, নেপোলিয়নের সাথে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করতে পারাটা ছিল তার জীবনের অন্যতম আনন্দদায়ক ও শ্রেষ্ঠ ঘটনা। ১৮০৮ সালের ১৪ অক্টোবর গ্যোটে স্বয়ং নেপোলিয়নের হাত থেকে 'লেজিওঁ দনোর' (Légion d'honneur) সম্মাননা গ্রহণ করেন। এ ছাড়াও তিনি রাশিয়ার সম্রাট আলেকজান্ডারের কাছ থেকে 'অর্ডার অফ সেন্ট আন্না' (Order of Saint Anna) পদক লাভ করেন।

জার্মেইন ডি স্টায়েল ১৮১৩ সালে তার 'ডি ল'অ্যালেমাগনে' (De l'Allemagne) গ্রন্থে জার্মান ধ্রুপদবাদ (Classicism) এবং রোমান্টিকতাবাদকে (Romanticism) ইউরোপের আধ্যাত্মিক কর্তৃত্বের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং গ্যোটে-কে একজন "জীবন্ত ধ্রুপদী" হিসেবে চিহ্নিত করেন।[৫৭] তিনি গ্যোটের প্রশংসা করে বলেন যে, তার মধ্যে "জার্মান প্রতিভার প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ" বিদ্যমান এবং তিনি "জার্মান মননের শ্রেষ্ঠ গুণাবলির" এক সমন্বয়। ডি স্টায়েলের এই চিত্রায়ন গ্যোটে-কে তার সমসাময়িক অন্যান্য বিখ্যাত জার্মান লেখকদের ঊর্ধ্বে স্থান দিতে এবং তাকে একজন ইউরোপীয় সাংস্কৃতিক নায়কে পরিণত করতে সাহায্য করেছিল। গ্যোটে তার এবং তার সঙ্গী বেঞ্জামিন কনস্ট্যান্টের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন, যাদের সাথে গ্যোটের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের সম্পর্ক ছিল।

ভিক্টোরীয় ইংল্যান্ডে গ্যোটের প্রধান অনুসারী ছিলেন টমাস কার্লাইল, যিনি "Faustus" (১৮২২), "Goethe's Helena" (১৮২৮), "Goethe" (১৮২৮), "Goethe's Works" (১৮৩২), "Goethe's Portrait" (১৮৩২), এবং "Death of Goethe" (১৮৩২) প্রবন্ধগুলো লিখেছিলেন; যা ইংরেজি পাঠকদের কাছে গ্যোটে-কে নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দেয়। কার্লাইল এমন এক সময়ে গ্যোটের Wilhelm Meister's Apprenticeship (১৮২৪) ও Travels (১৮২৬), "Faust's Curse" (১৮৩০), "The Tale" (১৮৩২), "Novelle" (১৮৩২) এবং "Symbolum" অনুবাদ করেছিলেন যখন খুব কম ইংরেজই জার্মান ভাষা পড়তে পারত। গ্যোটের সাথে কার্লাইলের নিয়মিত পত্রালাপও চলত।[৫৮] গ্যোটে জর্জ এলিয়টের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলেছিলেন, যার সঙ্গী জর্জ হেনরি লিউইস একটি 'লাইফ অব গ্যোটে' (কার্লাইলকে উৎসর্গীকৃত) লিখেছিলেন।[৫৯] এলিয়ট গ্যোটে-কে এমন একজন মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন যিনি "আমাদের পর্যবেক্ষণের এক উচ্চতর শিখরে উঠতে সাহায্য করেন" এবং তিনি গ্যোটের "বিশাল সহনশীলতার" প্রশংসা করেছিলেন যা কোনো নৈতিক বিচার ছাড়াই "ঘটনা ও জীবনের প্রবাহকে নীরবে অনুসরণ করে।"[৫৯] ম্যাথু আর্নল্ড গ্যোটের মধ্যে "লৌহ যুগের চিকিৎসক" এবং "আধুনিক সময়ের সবচেয়ে স্বচ্ছ, বৃহত্তম এবং সবচেয়ে সহায়ক চিন্তাবিদ"-কে খুঁজে পেয়েছিলেন যার জীবনের প্রতি একটি "মহৎ ও উদার দৃষ্টিভঙ্গি" ছিল।[৬০]

লাইপ্‌ৎসিশের আল্টে হ্যান্ডেলসবোর্সের সামনে গ্যোটে স্মৃতিস্তম্ভ

১৯১৯ সালে জার্মানির একটি নতুন সংবিধান প্রণয়নের জন্য যে জাতীয় পরিষদ (National Assembly) আহ্বান করা হয়েছিল, তার স্থান হিসেবে ভাইমার শহরটিকে বেছে নেওয়ার পেছনে গ্যোটের খ্যাতির উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল। এই সংবিধানের মাধ্যমেই জার্মানির ইতিহাসের সেই অধ্যায়টি শুরু হয় যা ভাইমার প্রজাতন্ত্র নামে পরিচিত। টমাস মান প্রজাতন্ত্র রক্ষায় তার ভাষণ ও প্রবন্ধগুলোতে গ্যোটে-কে এক প্রধান আদর্শ হিসেবে ব্যবহার করতেন।[৬১] তিনি গ্যোটের "সাংস্কৃতিক ও স্ব-বিকাশমুখী ব্যক্তিবাদ", মানবতাবাদ এবং বিশ্বজনীনতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছিলেন।[৬১]

জার্মানির ফেডারেল রিপাবলিকের আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গ্যোটে-ইনস্টিটিউট তার নামেই নামকরণ করা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে জার্মান ভাষা শিক্ষার প্রসার ঘটায় এবং জার্মানির সংস্কৃতি, সমাজ ও রাজনীতি সম্পর্কে তথ্য প্রদানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জার্মানি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

গ্যোটে এবং শিলার আর্কাইভসে সংরক্ষিত গ্যোটের সাহিত্যিক উত্তরাধিকারকে এর ঐতিহাসিক গুরুত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০১ সালে ইউনেস্কো-র মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড আন্তর্জাতিক রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।[৬২]

গ্যোটের প্রভাব ছিল নাটকীয় কারণ তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে ইউরোপীয় সংবেদনশীলতায় একটি রূপান্তর ঘটছে, যেখানে ইন্দ্রিয়বোধ, অবর্ণনীয় বিষয় এবং আবেগের ওপর গুরুত্ব বাড়ছে। এর মানে এই নয় যে তিনি অতি-আবেগপ্রবণ বা উগ্র ছিলেন; বরং তিনি ব্যক্তিগত সংযমের প্রশংসা করতেন এবং মনে করতেন যে আতিশয্য একটি ব্যাধি। তার মতে: "রুচিহীন কল্পনার চেয়ে খারাপ আর কিছু নেই"। গ্যোটে আধুনিক বিজ্ঞানের অন্যতম বড় অগ্রগতি হিসেবে পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে বিজ্ঞানের সমর্থন এবং চিন্তাধারায় শক্তিশালী বিপ্লবের জন্য ফ্রান্সিস বেকনের প্রশংসা করেছিলেন।[৬৩] তবে তিনি বেকনের আরোহী পদ্ধতি (inductive method) এবং কেবল শ্রেণিবিভাগের ওপর ভিত্তি করে করা পদ্ধতির সমালোচক ছিলেন। তিনি তার বৈজ্ঞানিক অধ্যয়ন (Scientific Studies)-এ বলেছেন:

আমরা প্রতিটি প্রাণীকে একটি ক্ষুদ্র জগত হিসেবে কল্পনা করি, যা তার নিজস্ব কারণে এবং নিজস্ব উপায়ে বিদ্যমান। প্রতিটি জীব নিজেই নিজের অস্তিত্বের কারণ। এর সমস্ত অংশ একে অপরের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে, একে অপরের সাথে সম্পর্কিত এবং এভাবেই ক্রমাগত জীবনের চক্রকে পুনর্নবীকরণ করে; তাই আমরা প্রতিটি প্রাণীকে শারীরবৃত্তীয়ভাবে নিখুঁত বলে বিবেচনা করার অধিকার রাখি। ভেতর থেকে দেখলে, প্রাণীর কোনো অংশই গঠনমূলক তাড়নার (formative impulse) কোনো নিরর্থক বা খামখেয়ালি পণ্য নয় (যেমনটি প্রায়ই ভাবা হয়)। বাহ্যিকভাবে কিছু অংশ নিরর্থক মনে হতে পারে কারণ প্রাণীর প্রকৃতির অভ্যন্তরীণ সংগতি বাইরের পরিস্থিতির কথা বিবেচনা না করেই তাদের এই রূপ দিয়েছে। তাই... প্রশ্নটি এটি নয় যে, 'এগুলো কীসের জন্য?' বরং প্রশ্নটি হওয়া উচিত, 'এগুলো কোথা থেকে এসেছে?'[৬৪]

১৮৯৭ সালের কাছাকাছি সময়ে জেনাতে শিলার, আলেকজান্ডারউইলহেম ফন হামবোল্ট এবং গ্যোটে

গ্যোটের বৈজ্ঞানিক ও নান্দনিক ধারণাগুলোর সাথে দ্যনি দিদরোর অনেক মিল ছিল, যার কাজ তিনি অনুবাদ এবং অধ্যয়ন করেছিলেন। দিদরো এবং গ্যোটে উভয়েই প্রকৃতির গাণিতিক ব্যাখ্যার প্রতি অনীহা প্রকাশ করেছিলেন; উভয়েই মহাবিশ্বকে গতিশীল এবং নিরন্তর পরিবর্তনশীল হিসেবে দেখতেন। তারা দুজনেই শিল্প ও বিজ্ঞানকে সাধারণ কল্পনাপ্রসূত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যুক্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ শাখা হিসেবে দেখেছিলেন এবং সব ধরণের মানসিক সৃষ্টির মূলে থাকা অবচেতন তাড়নাকে উপলব্ধি করেছিলেন।

তার এই দৃষ্টিভঙ্গি তাকে অ্যাডাম স্মিথ, টমাস জেফারসন এবং বেটোফেনের সাথে দুই জগতের এক ব্যক্তিত্বে পরিণত করে: একদিকে তিনি সুরুচি, শৃঙ্খলা এবং সূক্ষ্ম খুঁটিনাটির প্রতি অনুরাগী ছিলেন যা আলোকায়ন যুগ এবং নব্য-ধ্রুপদী স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য; অন্যদিকে তিনি ব্যক্তিগত, স্বজ্ঞাত এবং আত্মিক অভিব্যক্তির সন্ধান করেছিলেন যা জৈব ব্যবস্থার ধারণাকে সমর্থন করে। জর্জ হেনরি লিউইস প্রাণীর গঠন সম্পর্কে গ্যোটের এই বৈপ্লবিক উপলব্ধির প্রশংসা করেছিলেন।

র‍্যালফ ওয়াল্ডো এমারসনের মতো চিন্তাবিদগণ ১৮০০-এর দশকে গ্যোটের অনেক ধারণা গ্রহণ করেছিলেন। বিবর্তন সম্পর্কে গ্যোটের ধারণাগুলো মূলত সেই প্রশ্নটিকেই কাঠামোগত রূপ দিয়েছিল যা পরবর্তীতে ডারউইন এবং ওয়ালেস বৈজ্ঞানিক প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করেছিলেন। সার্বীয় উদ্ভাবক ও বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী নিকোলা টেসলা গ্যোটের ফাউস্ট দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত ছিলেন। এটি ছিল তার প্রিয় কবিতা এবং তিনি এর সম্পূর্ণ অংশ মুখস্থ করেছিলেন। একটি নির্দিষ্ট চরণ আবৃত্তি করার সময় তার মাথায় সেই বিশেষ চিন্তাটি আসে যা তাকে আবর্তনশীল চৌম্বক ক্ষেত্র (rotating magnetic field) এবং শেষ পর্যন্ত পরিবর্তী বিদ্যুৎ (alternating current) আবিষ্কারের ধারণার দিকে নিয়ে গিয়েছিল।[৬৫]

জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট আম মেইন শহরের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম গ্যোটের সম্মানে গ্যোটে বিশ্ববিদ্যালয় রাখা হয়েছে।

গ্যোটে সম্পর্কিত গ্রন্থাবলি

[সম্পাদনা]
  • বিরমান, বার্থোল্ড (সম্পা.)। গ্যোটের জগত: চিঠিপত্র ও স্মৃতিকথায় যেমন দেখা যায় (Goethe's World: As Seen in Letters and Memoirs)।
  • বয়েল, নিকোলাসগ্যোটে: কবি এবং যুগ (Goethe: The Poet and the Age) (২ খণ্ড)।
  • ব্র্যান্ডেস, জর্জউলফগ্যাং গ্যোটে (Wolfgang Goethe)। নিউ ইয়র্ক: ক্রাউন পাবলিশার্স, ১৯৩৬।
  • একারম্যান, জোহান পিটারগ্যোটের সাথে কথোপকথন (Conversations with Goethe)।
  • আইসলার, কার্ট আর.গ্যোটে: একটি মনোবিশ্লেষণমূলক অধ্যয়ন (Goethe: A Psychoanalytic Study)।
  • ফ্রিডেন্টাল, রিচার্ড। গ্যোটে: তার জীবন এবং সময় (Goethe: His Life and Times)।
  • গ্যোটে-ওয়োর্টারবুখ (গ্যোটে অভিধান, সংক্ষেপে GWb)। স্টুটগার্ট। Kohlhammer Verlag; আইএসবিএন ৯৭৮-৩-১৭-০১৯১২১-১
  • হ্যামার, কার্ল জুনিয়র। গ্যোটে এবং রুসো: তাদের মননের অনুরণন (Goethe and Rousseau: Resonances of their Mind)।
  • হলম-হাডুলা, রেইনার ম্যাথিয়াস। গ্যোটের সৃজনশীলতার পথ: প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, বিজ্ঞানী এবং কবির একটি মনো-জীবনী (Goethe's Path to Creativity: A Psycho-Biography of the Eminent Politician, Scientist and Poet)। নিউ ইয়র্ক: রাউটলেজ, ২০১৯। আইএসবিএন ৯৭৮০৪২৯৪৫৯৫৩৫
  • লিউইস, জর্জ হেনরিগ্যোটের জীবন (The Life of Goethe)।
  • লুডভিগ, এমিলগ্যোটে: একজন মানুষের ইতিহাস (Goethe: The History of a Man)।
  • মান, টমাসলটে ইন ভাইমার: দ্য বিলাভেড রিটার্নস (Lotte in Weimar: The Beloved Returns)।
  • নিকোলস, অ্যাঙ্গাস। গ্যোটের ডেমোনিক ধারণা: প্রাচীনদের পর (Goethe's Concept of the Daemonic: After the Ancients)।
  • পাগেল, লুই। জনপ্রিয় কিংবদন্তির ডক্টর ফাউস্টাস: মার্লো, পুতুল-নাটক, গ্যোটে এবং লেনার ঐতিহাসিক ও সমালোচনামূলক আলোচনা (Doctor Faustus of the Popular Legend: Marlowe, the Puppet-Play, Goethe, and Lenau)। ১৮৮৩।
  • রিড, টি. জে.গ্যোটে (Goethe)।
  • শোয়াইৎজার, আলবার্টগ্যোটে: চারটি অধ্যয়ন (Goethe: Four Studies)।
  • আনসেল্ড, সিগফ্রিড। গ্যোটে এবং তার প্রকাশকগণ (Goethe and his Publishers)।
  • উইলকিনসন, ই. এম. এবং এল. এ. উইলবিগ্যোটে কবি এবং চিন্তাবিদ (Goethe Poet and Thinker)।
  • উইলিয়ামস, জন। গ্যোটের জীবন: একটি সমালোচনামূলক জীবনী (The Life of Goethe. A Critical Biography)।

রচনাবলি

[সম্পাদনা]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তার নামে নামাঙ্কিত পুরস্কারসমূহ

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]

উদ্ধৃতি

[সম্পাদনা]
  • Mercer-Taylor, Peter (২০০০)। The Life of Mendelssohn। Cambridge, England: Cambridge University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২১-৬৩৯৭২-৯
  • Todd, R. Larry (২০০৩)। Mendelssohn – A Life in Music। Oxford, England; New York: Oxford University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৫১১০৪৩-২
  • Unseld, Siegfried (১৯৯৬)। Goethe and His Publishers। University of Chicago Press। আইএসবিএন ৯৭৮০২২৬৮৪১৯০৮

আরও পড়ুন

[সম্পাদনা]
  • Bell Matthew. 1994. Goethe's Naturalistic Anthropology : Man and Other Plants. Oxford: Clarendon Press.
  • Browning, Oscar (১৮৭৯)। "Johann Wolfgang von Goethe" । Baynes, T. S. (সম্পাদক)। Encyclopædia Britannica। খণ্ড X (9th সংস্করণ)। New York: Charles Scribner's Sons।
  • Calder, Angus (1983), '"Scott & Goethe: Romanticism and Classicism", in Hearn, Sheila G. (ed.), Cencrastus No. 13, Summer 1983, pp. 25–28, আইএসএসএন 0264-0856
  • ফন গ্রোনিকা, আন্দ্রে। ১৯৬৮। The Russian Image of Goethe. Volume 1 Goethe in Russian Literature of the First Half of the Nineteenth Century. ফিলাডেলফিয়া: ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভানিয়া প্রেস।
  • Robertson, Ritchie. 2016. Goethe: A Very Short Introduction. অক্সফোর্ড: অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস।
  • Santayana, George (১৯১০)। "Goethe's Faust"। Harvard Studies in Comparative Literature, Volume 1: Three Philosophical Poets: Lucretius, Dante, and Goethe, Critical Edition। Harvard University Press। পৃ. ১৩৯–২০২।


[সম্পাদনা]

Electronic editions

[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:Goethe

টেমপ্লেট:German literature

  1. "Goethe"মেরিয়াম-ওয়েবস্টার ডিকশনারি (ইংরেজি ভাষায়)।
  2. Wells, John (২০০৮)। Longman Pronunciation Dictionary (3rd সংস্করণ)। Pearson Longman। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪০৫৮-৮১১৮-০
  3. এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকায় ইয়োহান ভল্ফগাং ফন গ্যোটে
  4. "Johann Wolfgang von Goethe (Accessed 13 Apr 2014)"। ১৯ অক্টোবর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ এপ্রিল ২০১৪
  5. Johann Wolfgang von Goethe
  6. Meier-Braun, Karl-Heinz [in German] (2017), Die 101 wichtigsten Fragen: Einwanderung und Asyl, C.H. Beck, "Dass Johann Wolfgang von Goethe türkische Vorfahren hatte, war bekannt. Dass diese Wurzeln jedoch nach Baden-Württemberg zurückreichen, weniger. Das hat jedenfalls der Brackenheimer Dekan Werner-Ulrich Deetjen herausgefunden Laut dem promovierten Kirchenhistoriker gehen Goethes Vorfahren auf Sadok Selim zurück, der gegen Ende des 13. Jahrhunderts bei Kämpfen mit Kreuzfahrern im Heiligen Land in die Gefangenschaft des Deutschritterordens geriet."
  7. Leiprecht, Rudolf [in German] (2005), Schule in der Einwanderungsgesellschaft: ein Handbuch, Wochenschau Verlag, p. 29, ISBN 9783879202744, "Johann Wolfgang von Goethe, einen fremdländischen Vorfahren : Er soll von dem türkischen Offizier Sadok Seli Zoltan abstammen, den Graf Reinhart von Württemberg im Jahre 1291 von einem der Kreuzzüge aus dem Heiligen Land mit nach Süddeutschland gebracht hatte"
  8. Engelmann, Bernt [in German] (1991), Du deutsch?: Geschichte der Ausländer in Deutschland, Steidl, p. 59, ISBN 9783882431858
  9. 1 2 Herman Grimm: Goethe. Vorlesungen gehalten an der Königlichen Universität zu Berlin. Vol. 1. J.G. Cotta'sche Buchhandlung Nachfolger, Stuttgart / Berlin 1923, p. 36
  10. Goethe, Johann Wolfgang von. The Autobiography of Goethe: Truth and Poetry, From My Own Life, Volume 1 (1897), translated by John Oxenford, pp. 114, 129
  11. Robertson, John George (১৯১১)। "Goethe, Johann Wolfgang von" । চিসাম, হিউ (সম্পাদক)। ব্রিটিশ বিশ্বকোষ। খণ্ড ১২ (১১তম সংস্করণ)। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃ. ১৮৩।
  12. Gosnell, Charles F., and Géza Schütz. 1932. "Goethe the Librarian." Library Quarterly 2 (January): 367–374.
  13. Hume Brown, Peter (১৯২০)। Life of Goethe। পৃ. ২২৪–২২৫।
  14. চিসাম, হিউ, সম্পাদক (১৯১১)। "Stein, Charlotte von" ব্রিটিশ বিশ্বকোষ। খণ্ড ২৫ (১১তম সংস্করণ)। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃ. ৮৭১।
  15. "The Goethe Residence"Klassik Siftung Weimar। ২৯ জুলাই ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জুলাই ২০২২
  16. Craig, Gordon A.; Wilson, W. Daniel। "The Goethe Case | W. Daniel Wilson"The New York Review of Books 2022 (ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0028-7504। ২২ জুলাই ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুলাই ২০২২
  17. Safranski, Rüdiger (১৯৯০)। Schopenhauer and the Wild Years of Philosophy। Harvard University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৬৭৪-৭৯২৭৫-৩
  18. Chamberlain, Alexander (১৮৯৬)। The Child and Childhood in Folk Thought: (The Child in Primitive Culture), p. 385 (ইংরেজি ভাষায়)। MacMillan। আইএসবিএন ৯৭৮১৪২১৯৮৭৪৮৪ {{বই উদ্ধৃতি}}: আইএসবিএন / তারিখের অসামঞ্জস্যতা (সাহায্য)
  19. Gersdorff, Dagmar von [in জার্মান] (২০০৫)। Goethes späte Liebe (জার্মান ভাষায়)। Insel Verlag। আইএসবিএন ৯৭৮-৩-৪৫৮-১৯২৬৫-৭
  20. "Ulrika von Levetzowová"hamelika.cz (চেক ভাষায়)। ১৮ অক্টোবর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ মার্চ ২০২২
  21. এই সাক্ষাতের বর্ণনা স্টেফান সোয়াইগের ১৯২৭ সালের বই, ডিসাইসিভ মোমেন্টস ইন হিস্ট্রি-তে পাওয়া যায়
  22. Briscoe, J. R. (Ed.). (2004). New Historical Anthology of Music by Women (Vol. 1). Indiana University Press. pp. 126–127.
  23. Todd 2003, পৃ. 89।
  24. Mercer-Taylor 2000, পৃ. 41–42, 93।
  25. Todd 2003, পৃ. 188–190, 269–270।
  26. Spencer, Hanna (১৯৮২)। Heinrich Heine। MA: Boston: Twayne Publishers। পৃ. ৩৪। সংগ্রহের তারিখ ৩ জুন ২০২৪
  27. Ibid.
  28. Ibid.
  29. Müller, Karl Wilhelm (১৮৩২)। Goethe's letzte literarische Thätigkeit, Verhältmiss zum Ausland und Scheiden nach dem Mittheilungen seiner freunde। Jena: Friedrich Frommann। পৃ. ২৯। আইএসবিএন ৯৭৮-৩-৫৯৮-৫০৯২৪-৭। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০২৪ {{বই উদ্ধৃতি}}: আইএসবিএন / তারিখের অসামঞ্জস্যতা (সাহায্য)
  30. Vogel, Carl (১৮৩৩)। "Die letzte Krankheit Goethe's beschrieben und nebst einigen andern Bemerkungen über denselben"Journal der Practischen HeilkundeLXXVI (II): ১৭। [...] "Mehr Licht" sollen, während ich das Sterbezimmer auf einen Moment verlassen hatte, die letzten Worte des Mannes gewesen seyn, dem Finsterniss in jeder Beziehung stets verhasst war. [...]
    ক্রিস্টোফ উইলহেম হুফেল্যান্ড তার পুনশ্চে মন্তব্য করেছেন: "তিনি 'আরও আলো'—এই শব্দগুলোর মাধ্যমে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এখন তিনি তা লাভ করেছেন। আমরা একে একটি শোকবার্তা হিসেবে গ্রহণ করতে চাই, যা আমাদের উৎসাহিত ও উজ্জীবিত করবে।" Hufeland, C. W. (১৮৩৩)। "Nachschrift"Journal der Practischen HeilkundeLXXVI (II): ৩২। Er endete mit den Worten: "Mehr Licht" —Ihm ist es nun geworden.— Wir wollen es uns gesagt seyn lassen, als Nachruf, zur Ermunterung und Belebung.
  31. Froude, James Anthony (১৮৮২)। Thomas Carlyle: a History of the First Forty Years of His Life, 1795-1835 — In Two Volumes (Vol. II)। New York: Charles Scribner's Sons। পৃ. ২৪১।
  32. Ruskin, John (১৮৮৮)। Præterita: Outlines of Scenes and Thoughts, Perhaps Worth of Memory, in My Past Life (Vol. II)। New York: John Wiley & Sons। পৃ. ৪২৮। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০২৪
  33. Grove's Dictionary of Music and Musicians, 5th ed., 1954
  34. Ludwig, Emil (1928) Goethe: The History of a Man 1749–1833, Schiller and Wilhelm Meister Translated by Ethel Colburn Mayne, New York: G.P. Putnum's Sons.
  35. Johann Wolfgang von Goethe (১৯৬৬)। Iphigenia in Tauris। Manchester University Press। পৃ. ১৫।
  36. Sharpe, Lesley (জুলাই ১৯৮২)। "Schiller and Goethe's 'Egmont'"। The Modern Language Review৭৭ (3): ৬২৯–৬৪৫। ডিওআই:10.2307/3728071জেস্টোর 3728071
  37. Lamport, Francis John. 1990. German Classical Drama: Theatre, Humanity and Nation, 1750–1870. Cambridge: Cambridge University Press. আইএসবিএন ০-৫২১-৩৬২৭০-৯. p. 90.
  38. "Johann Wolfgang von Goethe: Return to Weimar and the French Revolution (1788–94)"Encyclopædia Britannica
  39. 1 2 See, generally Schiller, F. (1877). Correspondence between Schiller and Goethe, from 1794 to 1805 (Vol. 1). G. Bell.
  40. Baumer, Rachel Van M.; Brandon, James R. (১৯৯৩)। Sanskrit Drama in Performance। Motilal Banarsidass। পৃ. ৯। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-২০৮-০৭৭২-৩
  41. "The Stigma of Suicide – A history"। Pips Project। ৬ অক্টোবর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। See also: "Ophelia's Burial"। ২৫ জুন ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ আগস্ট ২০০৭
  42. Goethe, Johann Wolfgang von (১৮৪৮)। "The Auto-Biography of Goethe. Truth and Poetry: From My Own Life"John Oxenford কর্তৃক অনূদিত। London: Henry G. Bohn Internet Archive এর মাধ্যমে।
  43. Goethe's Plays, by Johann Wolfgang von Goethe, translated into English with introductions by Charles E. Passage, Publisher Benn Limited, 1980, আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫১০-০০০৮৭-৫
  44. Wigmore, Richard। "A meeting of genius: Beethoven and Goethe, July 1812"Gramophone। Haymarket। সংগ্রহের তারিখ ৬ জুলাই ২০১২
  45. Outing Goethe and His Age; edited by Alice A. Kuzniar.
  46. Goethe, Johann Wolfgang (১৯৭৬)। Gedenkausgabe der Werke, Briefe und Gespräche। Zürich : Artemis Verl.। পৃ. ৬৮৬। সংগ্রহের তারিখ ২৭ এপ্রিল ২০১৬
  47. Goethe, Johann Wolfgang von (১৮৮৪)। Zarncke, Friedrich (সম্পাদক)। Notizbuch von der schlesischen Reise im Jahre 1790। Leipzig: Breitkopf & Härtel। পৃ. ১৫।
  48. গ্যোটে তার "Zahme Xenien" IX-এ এই শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেছেন: "Mischmasch von Irrtum und Gewalt", Goethes Gedichte in Zeitlicher Folge, Insel Verlag 1982, p. 1121
  49. Goethe, Johann Wolfgang von (১৮৫০)। Conversations of Goethe with Eckermann and Soret, Vol. II, pp. 423–424
  50. Thompson, James (১৮৯৫)। Venetian Epigrams Venetian Epigrams, 66
  51. Krimmer, Elisabeth; Simpson, Patricia Anne (২০১৩)। Religion, Reason, and Culture in the Age of Goethe। Boydell & Brewer। পৃ. ৯৯।
  52. Dallmayr, F. (2002). Dialogue Among Civilizations. NY: Macmillan Palgrave. p. 152.
  53. Will Durant (১৯৬৭)। The Story of Civilization Volume 10: Rousseau and Revolution। Simon&Schuster। পৃ. ৬০৭।
  54. "Goethite Mineral Data"
  55. Friedenthal, Richard (২০১০)। Goethe: His Life & Times। Transaction Publishers। পৃ. ৩৮৯।
  56. Broers, Michael (২০১৪)। Europe Under Napoleon। I.B. Tauris। পৃ. ৪।
  57. Gillespie, Gerald Ernest Paul; Engel, Manfred (২০০৮)। Romantic Prose Fiction। John Benjamins Publishing। পৃ. ৪৪।
  58. Sorensen, David R. (২০০৪)। "Goethe, Johann Wolfgang von"। Cumming, Mark (সম্পাদক)। The Carlyle Encyclopedia। Madison and Teaneck, NJ: Fairleigh Dickinson University Press। পৃ. ২০০। আইএসবিএন ৯৭৮০৮৩৮৬৩৭৯২০
  59. 1 2 Röder-Bolton, Gerlinde (১৯৯৮)। George Eliot and Goethe: An Elective Affinity। Rodopi। পৃ. ৩–৮।
  60. Connell, W.F. (২০০২)। The Educational Thought and Influence of Matthew Arnold। Routledge। পৃ. ৩৪।
  61. 1 2 Mundt, Hannelore (২০০৪)। Understanding Thomas Mann। Univ of South Carolina Press। পৃ. ১১০–১১১।
  62. "The literary estate of Goethe in the Goethe and Schiller Archives"। UNESCO Memory of the World Programme। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
  63. Richter, Simon J. (২০০৭)। Goethe Yearbook 14। Harvard University Press। পৃ. ১১৩–১১৪।
  64. Scientific Studies, Suhrkamp ed., vol. 12, p. 121; trans. Douglas Miller
  65. Seifer, Marc J. (১৯৯৮)। Wizard: The Life and Times of Nikola Tesla: Biography of a Genius। Citadel Press। পৃ. ২২, ৩০৮।