উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ
উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ | |
|---|---|
বেঞ্জামিন রবার্ট হায়ডনের আঁকা উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থের একটি প্রতিকৃতি (ন্যাশনাল পোর্ট্রেট গ্যালারি, লন্ডন). | |
| জন্ম | ৭ এপ্রিল ১৭৭০ কোকারমাউথ, কাম্বারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য |
| মৃত্যু | ২৩ এপ্রিল ১৮৫০ (বয়স ৮০) কাম্বারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য |
| পেশা | কবি |
| শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান | ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় |
| সাহিত্য আন্দোলন | রোমান্টিকতা |
| উল্লেখযোগ্য রচনা | লিরিক্যাল ব্যালাডস, পোয়েমস ইন টু ভলিউমস, দ্য এক্সকারশন, দ্য প্রিলিউড |
উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ (৭ এপ্রিল ১৭৭০ – ২৩ এপ্রিল ১৮৫০) ছিলেন একজন ইংরেজ রোমান্টিক কবি। তিনি এবং স্যামুয়েল টেলর কোলরিজ তাদের যৌথ প্রকাশনা লিরিক্যাল ব্যালাডস (১৭৯৮)-এর মাধ্যমে ইংরেজি সাহিত্যে রোমান্টিক যুগের সূচনা করতে সহায়তা করেছিলেন।
ওয়ার্ডসওয়ার্থের শ্রেষ্ঠ কাজ (magnum opus) হিসেবে সাধারণত দ্য প্রিলিউড-কে বিবেচনা করা হয়; এটি তাঁর প্রথম জীবনের একটি আধা-আত্মজীবনীমূলক কবিতা যা তিনি বহুবার সংশোধন ও পরিবর্ধন করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর কবিতাটির নামকরণ করা হয় এবং এটি তাঁর স্ত্রীর উদ্যোগে প্রকাশিত হয়। এর আগে এটি সাধারণত "কোলরিজের উদ্দেশ্যে রচিত কবিতা" (The Poem to Coleridge) নামে পরিচিত ছিল।
ওয়ার্ডসওয়ার্থ ১৮৪৩ সাল থেকে ১৮৫০ সালের ২৩ এপ্রিল প্লুরিসি রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের পোয়েট লরিয়েট (রাজকবি) ছিলেন। তিনি ইংরেজি কবিতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সুপরিচিত নাম এবং রোমান্টিক কবিদের মধ্যে একজন প্রধান ব্যক্তিত্ব হিসেবে আজও সমাদৃত।
প্রারম্ভিক জীবন
[সম্পাদনা]পরিবার ও শিক্ষা
[সম্পাদনা]জন ওয়ার্ডসওয়ার্থ ও অ্যান কুকসনের পাঁচ সন্তানের মধ্যে উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ ছিলেন দ্বিতীয়। তিনি ১৭৭০ সালের ৭ এপ্রিল কাম্বারল্যান্ডের (বর্তমানে কাম্ব্রিয়া) ককারমাউথের একটি বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন, যা বর্তমানে ওয়ার্ডসওয়ার্থ হাউস নামে পরিচিত। উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের মনোরম অঞ্চল লেক ডিস্ট্রিক্ট-এর অন্তর্ভুক্ত এই এলাকাটি তাঁর জন্মস্থান। উইলিয়ামের ছোট বোন ছিলেন কবি ও রোজনামচাকার ডরোথি ওয়ার্ডসওয়ার্থ, যাঁর সাথে তাঁর সারাজীবন ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ডরোথি পরবর্তী বছর জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁদের দুজনকে একসাথেই দীক্ষিত (baptised) করা হয়েছিল। তাঁদের আরও তিন ভাইবোন ছিল: জ্যেষ্ঠ ভাই রিচার্ড ছিলেন একজন আইনজীবী; ডরোথির পরে জন্ম নেওয়া জন ওয়ার্ডসওয়ার্থ সমুদ্রযাত্রায় যেতেন এবং ১৮০৫ সালে তাঁর পরিচালিত জাহাজ আর্ল অফ অ্যাবারগাভেনি ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলে বিধ্বস্ত হলে তিনি মৃত্যুবরণ করেন; এবং কনিষ্ঠ ভাই ক্রিস্টোফার চার্চে যোগ দিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে ট্রিনিটি কলেজ, কেমব্রিজ-এর মাস্টার পদে উন্নীত হন।[১]
ওয়ার্ডসওয়ার্থের বাবা ছিলেন লন্সডেলের প্রথম আর্ল জেমস লোথারের আইনি প্রতিনিধি। তাঁর প্রভাবে তিনি ছোট শহরের একটি বড় অট্টালিকায় বাস করতেন। কাজের প্রয়োজনে তিনি প্রায়ই বাড়ির বাইরে থাকতেন, তাই উইলিয়াম ও তাঁর ভাইবোনদের সাথে বাবার সম্পর্ক ছিল কিছুটা দূরত্বপূর্ণ; ১৭৮৩ সালে বাবার মৃত্যুর আগে পর্যন্ত এই অবস্থা বজায় ছিল।[২] তবে তিনি উইলিয়ামকে প্রচুর পড়তে উৎসাহিত করতেন এবং বিশেষ করে মিল্টন, শেকসপিয়র ও স্পেন্সারের কবিতার বিশাল অংশ মুখস্থ করাতেন, যা উইলিয়াম তাঁর বাবার ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে বসে গভীরভাবে অধ্যয়ন করতেন। উইলিয়াম কাম্বারল্যান্ডের পেনরিথে তাঁর মাতামহের বাড়িতেও সময় কাটাতেন। সেখানকার প্রান্তরের সাথে পরিচিত হলেও তাঁর নানা বা মামার সাথে সম্পর্ক ভালো ছিল না। তাঁদের সাথে বিরূপ সম্পর্কের কারণে তিনি এতটাই বিষণ্ণ থাকতেন যে একবার আত্মহত্যার কথাও চিন্তা করেছিলেন।[৩]
ওয়ার্ডসওয়ার্থ তাঁর মায়ের কাছে পড়তে শেখেন। প্রথমে তিনি ককারমাউথের একটি সাধারণ মানের স্কুলে এবং পরে পেনরিথের উচ্চবিত্ত পরিবারের শিশুদের জন্য একটি স্কুলে পড়াশোনা করেন। সেখানে তাঁর শিক্ষিকা ছিলেন অ্যান বার্কেট, যিনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞানচর্চা ও স্থানীয় ঐতিহ্যের (যেমন ইস্টার, মে ডে এবং শ্রোভ টুয়েসডে উৎসব) প্রতি আগ্রহ তৈরি করতেন। ওয়ার্ডসওয়ার্থকে সেখানে মূলত বাইবেল এবং দ্য স্পেক্টেটর পড়ানো হতো। পেনরিথের স্কুলেই তাঁর সাথে হাচিনসন পরিবারের পরিচয় হয়, যাদের মধ্যে মেরি হাচিনসন পরবর্তীতে তাঁর স্ত্রী হন।[৪]
১৭৭৮ সালে ওয়ার্ডসওয়ার্থের মায়ের মৃত্যুর পর তাঁর বাবা তাঁকে ল্যাঙ্কাশায়ারের (বর্তমানে কাম্ব্রিয়া) হকসহেড গ্রামার স্কুল-এ পাঠান এবং ডরোথিকে ইয়র্কশায়ারে আত্মীয়দের কাছে বসবাসের জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপর পরবর্তী নয় বছর উইলিয়াম ও ডরোথির আর দেখা হয়নি।
১৭৮৭ সালে দ্য ইউরোপিয়ান ম্যাগাজিন-এ একটি সনেট প্রকাশের মাধ্যমে লেখক হিসেবে ওয়ার্ডসওয়ার্থের আত্মপ্রকাশ ঘটে। একই বছর তিনি সেন্ট জন’স কলেজ, কেমব্রিজ-এ পড়াশোনা শুরু করেন এবং ১৭৯১ সালে বিএ ডিগ্রি লাভ করেন।[৫] কেমব্রিজে থাকাকালীন প্রথম দুই গ্রীষ্মকালীন ছুটি তিনি হকসহেডে কাটান এবং পরবর্তী ছুটিগুলোতে প্রায়ই পায়ে হেঁটে ভ্রমণে বের হতেন, বিশেষ করে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত স্থানগুলো পরিদর্শনে যেতেন। ১৭৯০ সালে তিনি ইউরোপ ভ্রমণে যান, যার মধ্যে তিনি আল্পস পর্বতমালা এবং ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড ও ইতালির বিভিন্ন অঞ্চল বিস্তারিতভাবে ঘুরে দেখেন।[৬]
অ্যানেট ভ্যালনের সাথে সম্পর্ক
[সম্পাদনা]১৭৯১ সালের নভেম্বরে ওয়ার্ডসওয়ার্থ বিপ্লবী ফ্রান্স সফর করেন এবং সেখানকার প্রজাতন্ত্রকামী (Republican) আন্দোলনের প্রতি গভীরভাবে অনুরক্ত হয়ে পড়েন। সেখানে তিনি অ্যানেট ভ্যালন নামে এক ফরাসি নারীর প্রেমে পড়েন, যিনি ছিলেন একজন ফরাসি রাজতন্ত্রবাদীর (Royalist) কন্যা।[৭] ১৭৯২ সালে তাঁদের কন্যা ক্যারোলিন জন্মগ্রহণ করেন। তবে আর্থিক সংকট এবং ফ্রান্সের সাথে ব্রিটেনের সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে তিনি পরবর্তী বছর একাই ইংল্যান্ডে ফিরে আসতে বাধ্য হন।[৮] তাঁর ফিরে আসার পরিস্থিতি এবং পরবর্তী আচরণ অ্যানেটকে বিয়ে করার ইচ্ছার বিষয়ে কিছুটা সন্দেহের সৃষ্টি করলেও, পরবর্তী জীবনে তিনি তাঁর কন্যা ও অ্যানেটকে যথাসম্ভব আর্থিক সহায়তা করেছিলেন। ফ্রান্সে 'সন্ত্রাসের রাজত্ব' (Reign of Terror) শুরু হলে ওয়ার্ডসওয়ার্থ ফরাসি বিপ্লবের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েন। ১৭৯২ সালের ডিসেম্বর বা ১৭৯৩ সালের জানুয়ারিতে তাঁর পরিবার তাঁর মাসোহারা বন্ধ করে দেয় এবং তাঁকে ইংল্যান্ডে ফিরে আসার নির্দেশ দেয়।[৭]
১৮০২ সালে অ্যামিয়েন্সের শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে পুনরায় ফ্রান্সে ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হয়। সে বছর ওয়ার্ডসওয়ার্থ এবং তাঁর বোন ডরোথি ক্যালে-তে অ্যানেট ও ক্যারোলিনের সাথে দেখা করতে যান। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল মেরি হাচিনসনের সাথে তাঁর আসন্ন বিবাহের কথা অ্যানেটকে জানানো।[৮] এই সফরের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি তাঁর বিখ্যাত সনেট "ইট ইজ আ বিউটিয়াস ইভনিং, কাম অ্যান্ড ফ্রি" রচনা করেন, যেখানে তিনি তাঁর নয় বছর বয়সী কন্যা ক্যারোলিনের সাথে সমুদ্র সৈকতে হাঁটার স্মৃতিচারণ করেছেন। মেরি হাচিনসনও ক্যারোলিনের ভবিষ্যতের ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন। ১৮১৬ সালে ক্যারোলিনের বিয়ের সময় ওয়ার্ডসওয়ার্থ তাঁর জন্য বার্ষিক ৩০ পাউন্ড (যা ২০২১ সালের মুদ্রাস্ফীতি অনুযায়ী প্রায় ২৩০০ পাউন্ডের সমতুল্য) বরাদ্দ করেন, যা ১৮৩৫ সাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।[৯][১০]
প্রাথমিক কর্মজীবন
[সম্পাদনা]প্রথম প্রকাশনা এবং 'লিরিক্যাল ব্যালাডস'
[সম্পাদনা]We Are Seven
I met a little cottage girl:
She was eight years old, she said;
Her hair was thick with many a curl
That clustered round her head.
She had a rustic, woodland air,
And she was wildly clad;
Her eyes were fair, and very fair; -
Her beauty made me glad.
“Sisters and brothers, little maid,
How many may you be?”
“How many? Seven in all,” she said,
And wondering looked at me.
“And where are they? I pray you tell.”
She answered, “Seven are we;
And two of us at Conway dwell,
And two are gone to sea;
“Two of us in the churchyard lie,
My sister and my brother;
And, in the churchyard cottage, I
Dwell near them with my mother.”
“My stockings there I often knit;
My kerchief there I hem;
And there upon the ground I sit,
And sing a song to them.
“And often after sunset, sir,
When it is light and fair,
I take my little porringer,
And eat my supper there.
“How many are you, then,” said I,
“If they two are in heaven?”
Quick was the little maid’s reply:
“O Master! we are seven.”
“But they are dead; those two are dead!
Their spirits are in heaven!” -
’T was throwing words away; for still
The little maid would have her will,
And said, “Nay, we are seven!”
From the "We Are Seven" poem[১১]

১৭৯৩ সালে ওয়ার্ডসওয়ার্থের প্রথম কাব্যসংগ্রহ অ্যান ইভনিং ওয়াক (An Evening Walk) এবং ডেসক্রিপটিভ স্কেচেস (Descriptive Sketches) প্রকাশিত হয়। ১৭৯৫ সালে রেইজলি কালভার্টের কাছ থেকে ৯০০ পাউন্ডের একটি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত অর্থ তাঁকে কবি হিসেবে পেশা গড়ার ক্ষেত্রে আর্থিক স্বচ্ছলতা প্রদান করে।
১৭৯৫ সালেই সমারসেটে তাঁর সাথে স্যামুয়েল টেলর কোলরিজের দেখা হয়। এই দুই কবির মধ্যে দ্রুতই গভীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। ১৭৯৫ সাল থেকে পরবর্তী দুই বছর উইলিয়াম এবং ডরোথি ডরসেটের রেসডাউন হাউসে বসবাস করেন। তাঁরা প্রতিদিন প্রায় দুই ঘণ্টা করে ওই এলাকায় হাঁটতেন। সেখানকার পাহাড়গুলো ডরোথিকে তাঁর নিজ জন্মভূমি লেক ডিস্ট্রিক্টের কথা মনে করিয়ে দিত।
১৭৯৭ সালে এই ভাই-বোন সমারসেটের অ্যালফোক্সটন হাউসে চলে আসেন, যা কোলরিজের বাড়ি থেকে মাত্র কয়েক মাইল দূরে ছিল। ওয়ার্ডসওয়ার্থ এবং কোলরিজ (ডরোথির গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণসহ) যৌথভাবে লিরিক্যাল ব্যালাডস (১৭৯৮) প্রকাশ করেন, যা ইংরেজি রোমান্টিক আন্দোলনে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে বিবেচিত।[১২] এই কাব্যসংগ্রহের প্রথম সংস্করণে লেখক হিসেবে ওয়ার্ডসওয়ার্থ বা কোলরিজ কারও নামই ছিল না। এই সংকলনেই ওয়ার্ডসওয়ার্থের অন্যতম বিখ্যাত কবিতা "টিনটার্ন অ্যাবে" এবং কোলরিজের "দ্য রাইম অফ দ্য অ্যানশেন্ট মেরিনার" প্রকাশিত হয়।
১৮০০ সালে প্রকাশিত দ্বিতীয় সংস্করণে লেখক হিসেবে কেবল ওয়ার্ডসওয়ার্থের নাম ছিল এবং এতে কবিতার একটি দীর্ঘ ভূমিকা (Preface) অন্তর্ভুক্ত করা হয়।[১৩] এই ভূমিকায় ওয়ার্ডসওয়ার্থ কবিতার এক নতুন সংজ্ঞায়ন করেন। তিনি কবিতাকে "শক্তিশালী অনুভূতির স্বতঃস্ফূর্ত বহিঃপ্রকাশ" (the spontaneous overflow of powerful feelings) হিসেবে অভিহিত করেন এবং বলেন যে এর উৎপত্তি হয় "প্রশান্তির মাঝে রোমন্থন করা আবেগ থেকে" (emotion recollected in tranquility)। তিনি আঠারো শতকের কৃত্রিম কাব্যিক ভাষার পরিবর্তে মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের "প্রকৃত ব্যবহৃত ভাষা" ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ১৮০৫ সালে এই গ্রন্থের চতুর্থ ও চূড়ান্ত সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
দ্য বর্ডারের্স
[সম্পাদনা]১৭৯৫ থেকে ১৭৯৭ সালের মধ্যে ওয়ার্ডসওয়ার্থ তাঁর একমাত্র নাটক দ্য বর্ডারের্স (The Borderers) রচনা করেন। এটি ইংল্যান্ডের রাজা তৃতীয় হেনরির শাসনকালের পটভূমিতে রচিত একটি কাব্যিক বিয়োগান্তক নাটক (verse tragedy)। নাটকটির কাহিনী আবর্তিত হয়েছে উত্তর ইংল্যান্ডের ইংরেজদের সাথে স্কটিশ সীমান্ত দস্যুদের (border reivers) সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে। তিনি ১৭৯৭ সালের নভেম্বরে নাটকটি মঞ্চস্থ করার প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। তবে কভেন্ট গার্ডেন থিয়েটারের ব্যবস্থাপক থমাস হ্যারিস এটি প্রত্যাখ্যান করেন এবং মন্তব্য করেন যে, "মঞ্চায়নের মাধ্যমে এই নাটকটির সফল হওয়া অসম্ভব"। ওয়ার্ডসওয়ার্থ এই প্রত্যাখ্যানকে সহজভাবে গ্রহণ করতে পারেননি এবং ব্যাপক সংশোধনের পর ১৮৪২ সালের আগে নাটকটি প্রকাশিত হয়নি।[১৪]
জার্মানি ভ্রমণ এবং লেক ডিস্ট্রিক্টে বসবাস
[সম্পাদনা]I travelled among unknown men
I travelled among unknown men,
In lands beyond the sea;
Nor, England! did I know till then
What love I bore to thee.
'T is past, that melancholy dream!
Nor will I quit thy shore
A second time, for still I seem
To love thee more and more.
Among thy mountains did I feel
The joy of my desire;
And she I cherished turned her wheel
Beside an English fire.
Thy mornings showed, thy nights concealed,
The bowers where Lucy played;
And thine too is the last green field
That Lucy's eyes surveyed.
১৭৯৮ সালের শরৎকালে ওয়ার্ডসওয়ার্থ, ডরোথি এবং কোলরিজ জার্মানি ভ্রমণ করেন। এই ভ্রমণ কোলরিজকে বৌদ্ধিকভাবে অনুপ্রাণিত করলেও ওয়ার্ডসওয়ার্থের ওপর এর প্রধান প্রভাব ছিল গৃহকাতরতা।[৮] ১৭৯৮-৯৯ সালের প্রচণ্ড শীতের সময় ওয়ার্ডসওয়ার্থ ডরোথির সাথে গোসলার-এ বসবাস করেন এবং চরম মানসিক চাপ ও একাকীত্ব সত্ত্বেও তাঁর আত্মজীবনীমূলক রচনার কাজ শুরু করেন, যা পরবর্তীতে দ্য প্রিলিউড নামে পরিচিতি পায়। গোসলারে থাকাকালীন তিনি আরও বেশ কিছু বিখ্যাত কবিতা রচনা করেন, যার মধ্যে অন্যতম হলো "লুসি কবিতাসমূহ" (The Lucy poems)। ১৭৯৯ সালের শরৎকালে ওয়ার্ডসওয়ার্থ এবং তাঁর বোন ইংল্যান্ডে ফিরে আসেন এবং সাকবার্নে হাচিনসন পরিবারের সাথে দেখা করেন। কোলরিজ ইংল্যান্ডে ফিরে আসার পর তাঁদের প্রকাশক জোসেফ কটলের সাথে ওয়ার্ডসওয়ার্থের সাথে দেখা করতে উত্তর দিকে যান এবং লেক ডিস্ট্রিক্টে একটি ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন। এর সূত্র ধরেই এই ভাই-বোন লেক ডিস্ট্রিক্টের গ্রাসমেয়ারের ডোভ কটেজে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সেখানে কাছেই আরেকজন কবি রবার্ট সাউদি বাস করতেন। ওয়ার্ডসওয়ার্থ, কোলরিজ এবং সাউদি একত্রে "লেক পোয়েটস" (Lake Poets) নামে পরিচিতি পান।[১৬] এই সময়ের ওয়ার্ডসওয়ার্থের অনেক কবিতাই মৃত্যু, সহনশীলতা, বিচ্ছেদ এবং শোকের বিষয়বস্তুকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে।
বিবাহিত জীবন
[সম্পাদনা]
১৮০২ সালে লোথারের উত্তরাধিকারী উইলিয়াম লোথার ওয়ার্ডসওয়ার্থের বাবার পাওনা ৪,০০০ পাউন্ড (যা ১৮০২ সালের হিসেবে বর্তমানে প্রায় £৩৫০৮০৫ পাউন্ডের সমতুল্য) পরিশোধ করেন। মূলত এই অর্থ প্রাপ্তির ফলেই ওয়ার্ডসওয়ার্থের বিবাহের আর্থিক সচ্ছলতা তৈরি হয়।[১৭] অ্যানেটের সাথে সব বিষয়ে মীমাংসা করার জন্য ডরোথিকে নিয়ে ফ্রান্স সফর শেষ করে আসার পর, ১৮০২ সালের ৪ অক্টোবর ওয়ার্ডসওয়ার্থ তাঁর শৈশবের বন্ধু মেরি হাচিনসনকে ব্র্রম্পটনের অল সেন্টস চার্চে বিয়ে করেন।[৮] ডরোথি এই দম্পতির সাথেই বসবাস চালিয়ে যান এবং মেরির সাথেও তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তী বছরগুলোতে মেরি ও উইলিয়াম দম্পতির পাঁচ সন্তানের জন্ম হয়, যাঁদের মধ্যে তিনজনেই মা-বাবার জীবদ্দশায় মৃত্যুবরণ করেন:
- রেভারেন্ড জন ওয়ার্ডসওয়ার্থ (১৮ জুন ১৮০৩ – ২৫ জুলাই ১৮৭৫): তিনি কাম্বারল্যান্ডের ব্রিগহামের ভিকার এবং প্লাম্বল্যান্ডের রেক্টর ছিলেন। তাঁকে লন্ডনের হাইগেট কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে। তিনি চারবার বিবাহ করেন:[১৮]
- ইসাবেলা কারওয়েন (মৃত্যু ১৮৪৮): তাঁর ছয়টি সন্তান ছিল—জেন স্ট্যানলি, হেনরি, উইলিয়াম, জন, চার্লস এবং এডওয়ার্ড।
- জেন স্ট্যানলি (১৮৩৩–১৯১২): তিনি রেভারেন্ড বেনেট শেরার্ড কেনেডিকে বিয়ে করেন। তাঁদের পুত্র রবার্ট হারবরো শেরার্ড তাঁর বন্ধু অস্কার ওয়াইল্ড-এর প্রথম জীবনীকার হিসেবে পরিচিতি পান।[১৯]
- হেলেন রস (মৃত্যু ১৮৫৪): তাঁদের কোনো সন্তান ছিল না।
- মেরি অ্যান ডোলান (মৃত্যু ১৮৫৮-এর পর): তাঁর ডোরা নামে এক কন্যা ছিল।
- ডোরা ওয়ার্ডসওয়ার্থ (১৮৫৮–১৯৩৪)।[২০]
- মেরি গ্যাম্বল: তাঁদের কোনো সন্তান ছিল না।
- ইসাবেলা কারওয়েন (মৃত্যু ১৮৪৮): তাঁর ছয়টি সন্তান ছিল—জেন স্ট্যানলি, হেনরি, উইলিয়াম, জন, চার্লস এবং এডওয়ার্ড।
- ডোরা ওয়ার্ডসওয়ার্থ (১৬ আগস্ট ১৮০৪ – ৯ জুলাই ১৮৪৭): ১৮৪১ সালে তিনি এডওয়ার্ড কুইলিনানকে বিয়ে করেন।
- থমাস ওয়ার্ডসওয়ার্থ (১৫ জুন ১৮০৬ – ১ ডিসেম্বর ১৮১২)।
- ক্যাথরিন ওয়ার্ডসওয়ার্থ (৬ সেপ্টেম্বর ১৮০৮ – ৪ জুন ১৮১২)।
- উইলিয়াম "উইলি" ওয়ার্ডসওয়ার্থ (১২ মে ১৮১০ – ১৮৮৩): তিনি ফ্যানি গ্রাহামকে বিয়ে করেন এবং তাঁদের চার সন্তান ছিল—মেরি লুইসা, উইলিয়াম, রেজিনাল্ড এবং গর্ডন।
পরবর্তী কর্মজীবন
[সম্পাদনা]আত্মজীবনীমূলক কাজ এবং পোয়েমস, ইন টু ভলিউমস
[সম্পাদনা]ওয়ার্ডসওয়ার্থ দীর্ঘ বছর ধরে তিনটি খণ্ডে একটি দীর্ঘ দার্শনিক কবিতা লেখার পরিকল্পনা করেছিলেন, যার নাম তিনি দিতে চেয়েছিলেন দ্য রিক্লুস (The Recluse)।[২১] ১৭৯৮-৯৯ সালে তিনি একটি আত্মজীবনীমূলক কবিতা শুরু করেন, যাকে তিনি "কোলরিজের উদ্দেশ্যে রচিত কবিতা" হিসেবে অভিহিত করতেন। তাঁর পরিকল্পনা ছিল এটি দ্য রিক্লুস নামক বৃহৎ কর্মটির একটি পরিশিষ্ট হিসেবে কাজ করবে। ১৮০৪ সালে তিনি এই আত্মজীবনীমূলক কাজটিকে আরও সম্প্রসারিত করতে শুরু করেন এবং এটিকে পরিশিষ্টের বদলে একটি প্রস্তাবনা (prologue) হিসেবে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেন।[২২] তিনি ১৮০৫ সালে এই কাজটি সমাপ্ত করেন, যা বর্তমানে সাধারণত দ্য প্রিলিউড-এর প্রথম সংস্করণ হিসেবে পরিচিত। তবে তিনি পুরো দ্য রিক্লুস সমাপ্ত না করা পর্যন্ত এই ব্যক্তিগত কাজটি প্রকাশ করতে রাজি হননি। ১৮০৫ সালে তাঁর ভাই জনের মৃত্যু তাঁকে গভীরভাবে শোকাহত করে এবং ধারণা করা হয় এটি তাঁর সাহিত্যিক সিদ্ধান্তগুলোকে প্রভাবিত করেছিল।

দ্য প্রিলিউড এবং "লাইনস রিটেন আ ফিউ মাইলস অ্যাবাভ টিনটার্ন অ্যাবে"-র মতো ছোট কবিতাগুলোতে ওয়ার্ডসওয়ার্থের যে দার্শনিক আনুগত্য প্রকাশ পেয়েছে, তা দীর্ঘকাল ধরে সমালোচকদের বিতর্কের বিষয় হয়ে রয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে মনে করা হতো যে ওয়ার্ডসওয়ার্থ দার্শনিক দিকনির্দেশনার জন্য প্রধানত কোলরিজের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক গবেষকরা ধারণা করেন যে, ১৭৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে কোলরিজের সাথে বন্ধুত্ব হওয়ার বহু বছর আগেই ওয়ার্ডসওয়ার্থের নিজস্ব ধারণাগুলো গঠিত হয়েছিল। বিশেষ করে, ১৭৯২ সালে বিপ্লবী প্যারিসে থাকাকালীন ২২ বছর বয়সী ওয়ার্ডসওয়ার্থের সাথে রহস্যময় পরিব্রাজক জন "ওয়াকিং" স্টুয়ার্ট (১৭৪৭–১৮২২)-এর দেখা হয়।[২৩] স্টুয়ার্ট তখন ভারত থেকে শুরু করে পারস্য, আরব, আফ্রিকা ও ইউরোপ হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত তাঁর দীর্ঘ ত্রিশ বছরের পদযাত্রা শেষ পর্যায়ে ছিলেন। তাঁদের পরিচয়ের সময় স্টুয়ার্ট দ্য অ্যাপোক্যালিপস অফ নেচার (লন্ডন, ১৭৯১) শিরোনামে বস্তুবাদী দর্শনের ওপর একটি উচ্চাভিলাষী কাজ প্রকাশ করেছিলেন, যার কাছে ওয়ার্ডসওয়ার্থের অনেক দার্শনিক চিন্তাধারা ঋণী হতে পারে।
১৮০৭ সালে ওয়ার্ডসওয়ার্থ তাঁর পোয়েমস, ইন টু ভলিউমস (Poems, in Two Volumes) প্রকাশ করেন, যার মধ্যে "ওড: ইনটিমেশনস অফ ইমর্টালিটি ফ্রম রিকালেকশনস অফ আরলি চাইল্ডহুড" অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই সময় পর্যন্ত ওয়ার্ডসওয়ার্থ কেবল লিরিক্যাল ব্যালাডস-এর জন্য পরিচিত ছিলেন এবং তিনি আশা করেছিলেন এই নতুন সংকলনটি তাঁর খ্যাতি সুপ্রতিষ্ঠিত করবে। তবে এটি পাঠকদের কাছে আশানুরূপ সাড়া পায়নি।
১৮১০ সালে কোলরিজের আফিমের আসক্তির কারণে ওয়ার্ডসওয়ার্থের সাথে তাঁর সম্পর্কের অবনতি ঘটে।[৮] ১৮১২ সালে তাঁর ৩ বছর বয়সী কন্যা ক্যাথরিনের মৃত্যুর ছয় মাস পর ৬ বছর বয়সে পুত্র থমাসও মৃত্যুবরণ করে। পরবর্তী বছর তিনি ওয়েস্টমোরল্যান্ডের 'ডিস্ট্রিবিউটর অফ স্ট্যাম্পস' (সরকারি স্ট্যাম্প শুল্ক বিতরণকারী) হিসেবে নিযুক্ত হন। এই পদের বার্ষিক ৪০০ পাউন্ডের ভাতা তাঁকে আর্থিকভাবে সচ্ছল করে তোলে, যদিও এর বিনিময়ে তাঁকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা কিছুটা বিসর্জন দিতে হয়। ১৮১৩ সালে তিনি সপরিবারে (ডরোথিসহ) আম্বলসাইডের রাইডাল মাউন্ট-এ চলে আসেন এবং জীবনের বাকি সময় সেখানেই অতিবাহিত করেন।[৮]
দ্য প্রসপেক্টাস (প্রস্তাবনা)
[সম্পাদনা]১৮১৪ সালে ওয়ার্ডসওয়ার্থ তিন খণ্ডের পরিকল্পিত কাব্যগ্রন্থ দ্য রিক্লুস-এর দ্বিতীয় অংশ হিসেবে দ্য এক্সকারশন প্রকাশ করেন, যদিও তিনি এর প্রথম বা তৃতীয় অংশ কখনোই সম্পন্ন করতে পারেননি। তবে তিনি দ্য রিক্লুস-এর জন্য একটি কাব্যিক 'প্রসপেক্টাস' বা প্রস্তাবনা লিখেছিলেন, যেখানে তিনি পুরো কাজটির গঠন ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন। এই প্রস্তাবনায় মানবমন এবং প্রকৃতির মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে ওয়ার্ডসওয়ার্থের কিছু বিখ্যাত পঙ্ক্তি রয়েছে:
... my voice proclaims
How exquisitely the individual Mind
(And the progressive powers perhaps no less
Of the whole species) to the external World
Is fitted: — and how exquisitely, too —
Theme this but little heard of among Men,
The external World is fitted to the Mind;
And the creation (by no lower name
Can it be called) which they with blended might
Accomplish ...[২৪]
... আমার কণ্ঠ ঘোষণা করে
কত নিপুণভাবে স্বতন্ত্র মন
(এবং সম্ভবত পুরো মানবজাতির
ক্রমবিকাশমান শক্তিও কম নয়) বাহ্যিক বিশ্বের সাথে
মানিয়ে যায়:—এবং কত নিপুণভাবে, সেও—
মানবসমাজে খুব কমই আলোচিত এই বিষয়,
বাহ্যিক বিশ্ব মনের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়;
এবং সেই সৃষ্টি (এর চেয়ে ছোট কোনো নামে
একে ডাকা যায় না) যা তারা সম্মিলিত শক্তিতে
সম্পন্ন করে ...[২৫]
কিছু আধুনিক সমালোচক[২৬] মনে করেন যে, ১৮১০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে ওয়ার্ডসওয়ার্থের সৃজনশীলতায় কিছুটা ভাটা পড়তে শুরু করে। এর কারণ হতে পারে তাঁর প্রাথমিক কবিতাগুলোর প্রধান অনুষঙ্গগুলো (ক্ষতি, মৃত্যু, সহনশীলতা, বিচ্ছেদ এবং একাকীত্ব) ততদিনে তাঁর লেখা ও ব্যক্তিগত জীবনে একটি পরিণতি পেয়ে গিয়েছিল। ১৮২০ সাল নাগাদ তিনি যথেষ্ট সাফল্য উপভোগ করতে শুরু করেন এবং তাঁর আগের কাজগুলো নিয়ে সমকালীন সমালোচকদের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিও ইতিবাচক হতে শুরু করে।
কবি ও শিল্পী উইলিয়াম ব্লেক, যিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের কাজের সাথে পরিচিত ছিলেন, কবিতায় মানবমনকে কেন্দ্রবিন্দু করার সাহসিকতা দেখে অভিভূত হয়েছিলেন। ওয়ার্ডসওয়ার্থের কাব্যিক কর্মসূচির প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে (যেখানে বলা হয়েছে— "যখন আমরা তাকাই / আমাদের মনে, মানুষের মনে– / আমার বিচরণক্ষেত্র, এবং আমার গানের প্রধান অঞ্চল") উইলিয়াম ব্লেক তাঁর বন্ধু হেনরি ক্র্যাব রবিনসনকে লিখেছিলেন যে, এই অংশটি তাঁকে এতটাই আলোড়িত করেছিল যে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।[২৭]
১৮২৩ সালে তাঁর বন্ধু চিত্রশিল্পী উইলিয়াম গ্রিন-এর মৃত্যুর পর ওয়ার্ডসওয়ার্থ কোলরিজের সাথে তাঁর সম্পর্কের টানাপোড়েন মিটিয়ে ফেলেন। ১৮২৮ সালে তাঁরা একসাথে রাইনল্যান্ড সফর করেন এবং তাঁদের মধ্যে পূর্ণ পুনর্মিলন ঘটে।[৮] ১৮২৯ সালে ডরোথি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং জীবনের বাকি সময় তিনি শয্যাশায়ী ছিলেন। ১৮৩৪ সালে কোলরিজ এবং চার্লস ল্যাম্ব উভয়েই মৃত্যুবরণ করেন, যা ওয়ার্ডসওয়ার্থের জন্য ছিল এক বিশাল ধাক্কা। পরবর্তী বছর জেমস হগও পরলোকগমন করেন। তাঁর অনেক সমসাময়িক কবি ও বন্ধুর মৃত্যু হলেও, তাঁর কবিতার জনপ্রিয়তা অক্ষুণ্ণ থাকায় একদল তরুণ বন্ধু ও গুণগ্রাহী তাঁর একাকীত্ব পূরণ করতে এগিয়ে আসেন।
ধর্মীয় ও দার্শনিক বিশ্বাস
[সম্পাদনা]ওয়ার্ডসওয়ার্থের যৌবনের রাজনৈতিক উগ্রতা কোলরিজের মতো তাঁকে তাঁর ধর্মীয় চেতনার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে বাধ্য করেনি। ১৮১২ সালে তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে, তিনি প্রতিষ্ঠিত চার্চ অফ ইংল্যান্ড-এর জন্য নিজের রক্ত ঝরাতেও প্রস্তুত। তাঁর এই মনোভাব ১৮২২ সালের 'একলেসিয়াস্টিক্যাল স্কেচেস' (Ecclesiastical Sketches)-এ ফুটে উঠেছে। তাঁর এই ধর্মীয় রক্ষণশীলতা ১৮১৪ সালের দীর্ঘ কবিতা দ্য এক্সকারশন-কেও প্রভাবিত করেছিল, যা ঊনবিংশ শতাব্দীতে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এই কবিতায় তিনটি প্রধান চরিত্র রয়েছে: পরিব্রাজক (Wanderer), নিভৃতচারী (Solitary)—যিনি ফরাসি বিপ্লবের আশা ও দুর্দশা উভয়ই প্রত্যক্ষ করেছেন, এবং যাজক (Pastor)—যিনি কবিতার শেষ এক-তৃতীয়াংশ জুড়ে প্রধান ভূমিকা পালন করেন।[২৮]
ওয়ার্ডসওয়ার্থের কাব্যদর্শন
[সম্পাদনা]বেলার[২৯] উল্লেখ করেছেন যে, ওয়ার্ডসওয়ার্থ মানুষের হৃদয়ের সেই মৌলিক অনুভূতিগুলোকে জাগ্রত করতে চেয়েছিলেন যা একজন মানুষ ধারণ করে এবং প্রকাশ করে। তিনি তাঁর বন্ধু এস. টি. কোলরিজের দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গিকে আমূল পরিবর্তন করেছিলেন; কোলরিজের কৌশল ছিল 'এমন এক পরিবেশে চরিত্র সৃষ্টি করা যাতে সাধারণ মানুষ তাদের দূরবর্তী কোনো স্থান ও সময়ের বলে মনে করে'। ওয়ার্ডসওয়ার্থের এই দার্শনিক উপলব্ধি তাঁকে তাঁর কবিতার ভাষা ও কাঠামোগত বিন্যাসে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহৃত ভাষা নির্বাচনের সুযোগ করে দিয়েছিল।[৩০] কারল্যান্ড লিখেছেন যে, ভাষার কথোপকথনের বৈশিষ্ট্য মূলত সামাজিক প্রয়োজনীয়তা থেকেই উদ্ভূত হয়।[৩১] এই সামাজিক প্রয়োজনীয়তা বক্তাদের মধ্যে সঠিক জ্ঞান, আগ্রহ এবং দৃষ্টিভঙ্গির ঐক্য তৈরি করে। উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ তাঁর কবিতায় আলাপচারিতার ভঙ্গি ব্যবহার করেছেন যাতে কবির ব্যক্তিগত 'আমি' সত্তা সামষ্টিক 'আমরা' সত্তায় বিলীন হয়ে যেতে পারে। "ফেয়ারওয়েল" (Farewell) কবিতাটিতে কবি এবং তাঁর বোনের অভিন্ন অনুভূতির প্রতিফলন দেখা যায়:
"আমরা তোমাকে এখানে নির্জনে বসবাসের জন্য রেখে যাচ্ছি/ আমাদের কোমল চিন্তার এই শেষ উপহারগুলো নিয়ে; তুমি সকালের মতো তোমার জাফরান পোশাকে,/ উজ্জ্বল গাওয়ান এবং মার্শ-মেরিগোল্ড, বিদায়!" (পঙ্ক্তি ১৯–২২)।
এই ধরনের আলাপচারিতামূলক সুর কবির সমগ্র কাব্যিক যাত্রায় বিদ্যমান ছিল, যা তাঁকে সমাজের এমন একজন মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করে যিনি সাধারণ জনমানুষের সাথে নিবিড় সংযোগ স্থাপনের উদ্দেশ্যে কথা বলেন।[৩২] একইভাবে, "প্রিফেস টু লিরিক্যাল ব্যালাডস" (Preface to Lyrical Ballads) হলো সেই দালিলিক প্রমাণ যেখানে কবি ব্যক্ত করেছেন যে তিনি কেন লিখছেন, কী লিখছেন এবং এটি মানবজাতির কী উপকারে আসবে।
রাজকবি পদ ও অন্যান্য সম্মাননা
[সম্পাদনা]ওয়ার্ডসওয়ার্থ তাঁর পরবর্তী জীবনেও একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। ১৮৩৭ সালে স্কটিশ কবি ও নাট্যকার জোয়ানা বেইলি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সাথে তাঁর দীর্ঘদিনের জানাশোনার স্মৃতিচারণ করে লিখেছিলেন, "তিনি এমন একজন মানুষ যার সাথে কথা বলতে হলে অর্থবহ কিছু না বললে চলে না। তবে তিনি মাঝে মাঝে বেশ প্রফুল্লভাবে ও সুন্দরভাবে আলাপ করেন। আর যখন কেউ জানতে পারে তিনি কতটা দয়ালু ও চমৎকার একজন মানুষ, তখন তাঁর প্রতি মুগ্ধ না হয়ে উপায় থাকে না।"[৩৩]
১৮৩৮ সালে ওয়ার্ডসওয়ার্থ ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেওয়ানি আইনে (Civil Law) সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তী বছর তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও একই সম্মানসূচক ডিগ্রি লাভ করেন। সেখানে জন কিবল তাঁকে "মানবতার কবি" (poet of humanity) হিসেবে অভিহিত করেন, যা ওয়ার্ডসওয়ার্থকে অত্যন্ত আনন্দিত করেছিল।[৮][৩৪] (অনেকে মনে করেন যে ওয়ার্ডসওয়ার্থের প্রভাব কিবলের অত্যন্ত জনপ্রিয় ভক্তিমূলক কাব্যগ্রন্থ দ্য খ্রিস্টান ইয়ার (১৮২৭)-এর ওপর ব্যাপকভাবে ছিল।[৩৫]) ১৮৪২ সালে সরকার তাঁকে বার্ষিক ৩০০ পাউন্ডের একটি 'সিভিল লিস্ট' পেনশন প্রদান করে।
১৮৪৩ সালে রবার্ট সাউদির মৃত্যুর পর ওয়ার্ডসওয়ার্থ যুক্তরাজ্যের রাজকবি (Poet Laureate) নিযুক্ত হন। শুরুতে তিনি এই সম্মান গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিলেন এই বলে যে তিনি অনেক বৃদ্ধ হয়ে গেছেন। কিন্তু তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রবার্ট পিল যখন তাঁকে আশ্বস্ত করেন যে "আপনার কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক কবিতা লেখার বাধ্যবাধকতা থাকবে না", তখন তিনি এটি গ্রহণ করেন। এর ফলে ওয়ার্ডসওয়ার্থই একমাত্র রাজকবি হন যিনি কোনো আনুষ্ঠানিক পঙ্ক্তি রচনা করেননি। ১৮৪৭ সালে ৪২ বছর বয়সে তাঁর কন্যা ডোরার আকস্মিক মৃত্যু বৃদ্ধ কবিকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে এবং গভীর বিষণ্ণতার কারণে তিনি শেষ পর্যন্ত নতুন কিছু লেখা বন্ধ করে দেন।
মৃত্যু
[সম্পাদনা]১৮৫০ সালের ২৩ এপ্রিল উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ রাইডাল মাউন্টে তাঁর নিজ বাড়িতে প্লুরিসি (ফুসফুসবেষ্টক ঝিল্লির প্রদাহ) রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।[৩৬][৩৭] তাঁকে গ্রাসমেয়ারের সেন্ট অসওয়াল্ড চার্চে সমাহিত করা হয়। তাঁর মৃত্যুর কয়েক মাস পর তাঁর বিধবা স্ত্রী মেরি ওয়ার্ডসওয়ার্থ তাঁর দীর্ঘ আত্মজীবনীমূলক "কোলরিজের উদ্দেশ্যে রচিত কবিতা" (Poem to Coleridge)-টি দ্য প্রিলিউড শিরোনামে প্রকাশ করেন।[৩৮] যদিও সেই সময়ে এটি পাঠকদের মধ্যে তেমন সাড়া ফেলতে ব্যর্থ হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে এটি ওয়ার্ডসওয়ার্থের শ্রেষ্ঠ কীর্তি বা কালজয়ী সৃষ্টি (masterpiece) হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি লাভ করে।[৩৯][৪০]
সাঙ্গীতিক রূপায়ণ
[সম্পাদনা]- ডমিনিক আর্জেন্তো ১৯৭৩ সালে তাঁর গানগুচ্ছ (song cycle) টু বি সাং আপন দ্য ওয়াটার-এ ওয়ার্ডসওয়ার্থের আটটি কবিতায় সুরারোপ করেন।[৪১]
- আর্নল্ড ব্যাক্স ১৯০০ সালে ছাত্রাবস্থায় "টু দ্য কুকু" (To the Cuckoo) কবিতাটিতে সুর দেন।[৪২]
- রিচার্ড রডনি বেনেট ২০০০ সালে 'আ কাপেলা' (যন্ত্ৰসঙ্গীতহীন সমবেত কণ্ঠ) কোরাস এবং একটি বাদ্যযন্ত্রের জন্য ইনটিমেশনস অফ ইমর্টালিটি-তে সুরারোপ করেন।[৪৩]
- বেঞ্জামিন ব্রিটেন তাঁর গানগুচ্ছ নকচার্ন (১৯৫৮)-এ দ্য প্রিলিউড-এর একটি অংশ (যা "But that night, When on my bed I lay" দিয়ে শুরু) ব্যবহার করেছেন।
- আলিসিয়া ভ্যান বিউরেন (১৮৬০–১৯২২) তাঁর "ইন আর্লি স্প্রিং" গানের জন্য "লাইনস রিটেন ইন আর্লি স্প্রিং" কবিতার পাঠ্য ব্যবহার করেছিলেন।[৪৪]
- রোনাল্ড কর্প তাঁর ক্যানটাটা (গীতি-আলেখ্য) লডামাস (১৯৯৪)-এ দ্য প্রিলিউড-এর অংশবিশেষ এবং তাঁর গানগুচ্ছ দ্য মিউজিক অফ ওয়ার্ডসওয়ার্থ ও ফ্লাওয়ার অফ সিটিস-এ বিভিন্ন কবিতা ব্যবহার করেছেন।
- জর্জ ডাইসন-এর কোরাস ও অর্কেস্ট্রার জন্য রচিত কুয়ো ভাদিস (১৯৩৬-১৯৪৫)-এ "আওয়ার বার্থ ইজ বাট আ স্লিপ" (ইনটিমেশনস অফ ইমর্টালিটি থেকে সংগৃহীত) অংশটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।[৪৫]
- জেরাল্ড ফিঞ্জি ১৯৫০ সালে টেনর কণ্ঠ, কোরাস এবং অর্কেস্ট্রার জন্য ওড ইনটিমেশনস অফ ইমর্টালিটি-তে সুরারোপ করেন।[৪৬]
- চার্লস আইভস ১৯০১ সালে "আই ট্রাভেলড অ্যামং আননোন মেন" কবিতাটিতে সুর দেন। চেম্বার অর্কেস্ট্রার জন্য তাঁর সৃষ্টিকর্ম দ্য রেইনবো (১৯১৪)-কে "উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থের কবিতার অনুসরণে" হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি এই পাঠ্যটিকে একটি গান হিসেবেও সুরারোপ করেছেন।
- ফ্রেডরিক সেপ্টিকাস কেলি ১৯১৩ সালে "দ্য ড্যাফোডিলস" কবিতাটিতে সুরারোপ করেন।[৪৭]
- এলিজাবেথ লুটিয়েন্স তাঁর ভয়েস অফ কোয়ায়েট ওয়াটার্স (অপাস ৮৪) নামক মিশ্র কোরাস ও এনসেম্বল (১৯৭৩) কাজের জন্য "আই ট্রাভেলড অ্যামং আননোন মেন" কবিতাটি ব্যবহার করেন।[৪৮]
- মারিয়ন মোরে রিখটার তাঁর "ড্যাফোডিলস" গানের জন্য ওয়ার্ডসওয়ার্থের পাঠ্য ব্যবহার করেছিলেন।[৪৯]
- আর্থার সোমারভেল ১৮৯৪ সালে কোরাস ও অর্কেস্ট্রার জন্য একটি ক্যানটাটা হিসেবে "অন দ্য পাওয়ার অফ সাউন্ড"-এর আটটি অংশ ব্যবহার করেন।[৫০] বারীটোন সোলো ও কোরাসের জন্য তাঁর মেডিটেশন অন ওয়ার্ডসওয়ার্থ’স ইনটিমেশনস অফ ইমর্টালিটি ১৯০৭ সালে প্রথম পরিবেশিত হয়েছিল, তবে ১৯৩৪ সালে এটি পুনরায় লেখা হয়।[৫১]
- উইলিয়াম ওয়ালটন ১৯৬২ সালে তাঁর গানগুচ্ছ আ সং ফর দ্য লর্ড মেয়র'স টেবিল-এ "রিমেমব্রেন্স অফ কলিন্স" কবিতাটিতে সুর দেন।[৫২]
জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে
[সম্পাদনা]কেন রাসেলের ১৯৭৮ সালের চলচ্চিত্র উইলিয়াম অ্যান্ড ডরোথি-তে উইলিয়াম ও তাঁর বোন ডরোথির পারস্পরিক সম্পর্ক ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।[৫৩]
ওয়ার্ডসওয়ার্থ ও কোলরিজের বন্ধুত্ব নিয়ে ২০০০ সালে জুলিয়েন টেম্পল তাঁর পান্ডেমোনিয়াম (Pandaemonium) চলচ্চিত্রে বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন।[৫৪]
বিভিন্ন কাল্পনিক সাহিত্যে ওয়ার্ডসওয়ার্থ একটি চরিত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে:
- মার্গারেট লুইসা উডস – আ পোয়েটস ইউথ (১৯২৩)
- উইলিয়াম কিনসলভিং – মিস্টার ক্রিশ্চিয়ান (১৯৯৬)
- জ্যাসপার ফোর্ড – দ্য আয়ার অ্যাফেয়ার (২০০১)
- ভাল ম্যাকডার্মিড – দ্য গ্রেভ ট্যাটু (২০০৬)
- সু লিম্ব – দ্য ওয়ার্ডস্মিথস অ্যাট গোর্সমিয়ার (২০০৮)
আইজ্যাক আসিমভের ১৯৬৬ সালের উপন্যাস ফ্যান্টাস্টিক ভয়েজ-এ ডক্টর পিটার ডুভাল ওয়ার্ডসওয়ার্থের দ্য প্রিলিউড থেকে পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করেছেন। যখন ক্ষুদ্রাকৃতির সাবমেরিনটি মানুষের মস্তিষ্কের চারপাশের সেরিব্রাল ফ্লুইডের মধ্য দিয়ে যাত্রা করে, তখন তিনি একে "চিন্তার অদ্ভুত সমুদ্র" (strange seas of thought)-এর সাথে তুলনা করেন।
টেইলর সুইফটের ২০২০ সালের অ্যালবাম ফোকলোর-এর বোনাস ট্র্যাক "দ্য লেকস"-এ ওয়ার্ডসওয়ার্থের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। গানটি মূলত লেক ডিস্ট্রিক্ট অঞ্চলকে কেন্দ্র করে রচিত বলে ধারণা করা হয়।[৫৫]
স্মরণ
[সম্পাদনা]২০২০ সালের এপ্রিলে, ওয়ার্ডসওয়ার্থের ২৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রয়্যাল মেইল একগুচ্ছ স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে। রোমান্টিক যুগের প্রধান ব্রিটিশ কবিদের সম্মান জানিয়ে ১০টি প্রথম শ্রেণির ডাকটিকিট প্রকাশ করা হয়। এই তালিকায় ওয়ার্ডসওয়ার্থ ছাড়াও ছিলেন উইলিয়াম ব্লেক, জন কিটস, লর্ড বায়রন, জন ক্লেয়ার, স্যামুয়েল টেলর কোলরিজ, মেরি রবিনসন, লেটিশিয়া এলিজাবেথ ল্যান্ডন, পার্সি বিশি শেলি এবং ওয়াল্টার স্কট। প্রতিটি ডাকটিকিটে সেই কবির অত্যন্ত জনপ্রিয় ও চিরস্থায়ী কোনো রচনার উদ্ধৃতাংশ ছিল; ওয়ার্ডসওয়ার্থের জন্য তাঁর বিখ্যাত কবিতা "দ্য রেইনবো" থেকে উদ্ধৃতি নির্বাচন করা হয়।[৫৬]
প্রধান রচনাবলী
[সম্পাদনা]- লিরিক্যাল ব্যালাডস, উইথ আ ফিউ আদার পোয়েমস (১৭৯৮)
- "সাইমন লি" (Simon Lee)
- "উই আর সেভেন" (We Are Seven)
- "লাইনস রিটেন ইন আর্লি স্প্রিং" (Lines Written in Early Spring)
- "এক্সপোস্টুলেশন অ্যান্ড রিপ্লাই" (Expostulation and Reply)
- "দ্য টেবলস টার্নড" (The Tables Turned)
- "দ্য থর্ন" (The Thorn)
- "লাইনস কম্পোজড আ ফিউ মাইলস অ্যাবাভ টিনটার্ন অ্যাবে"
- লিরিক্যাল ব্যালাডস, উইথ আদার পোয়েমস (১৮০০)
- লিরিক্যাল ব্যালাডসের ভূমিকা (Preface to the Lyrical Ballads)
- "স্ট্রেঞ্জ ফিটস অফ প্যাশন হ্যাভ আই নোন"[৫৭]
- "শি ডোয়েল্ট অ্যামং দ্য আনট্রডেন ওয়েজ"[৫৭]
- "থ্রি ইয়ারস শি গ্রিউ" (Three years she grew)[৫৭]
- "আ স্লাম্বার ডিড মাই স্পিরিট সিল"[৫৭]
- "আই ট্রাভেলড অ্যামং আননোন মেন" (I travelled among unknown men)[৫৭]
- "লুসি গ্রে" (Lucy Gray)
- "দ্য টু এপ্রিল মর্নিংস" (The Two April Mornings)
- "নাটিং" (Nutting)
- "দ্য রুইন্ড কটেজ" (The Ruined Cottage)
- "মাইকেল" (Michael)
- "দ্য কিটেন অ্যাট প্লে" (The Kitten at Play)
- পোয়েমস, ইন টু ভলিউমস (১৮০৭)
- "রেজোলিউশন অ্যান্ড ইনডিপেনডেন্স"
- "আই ওয়ান্ডারড লোনলি অ্যাজ আ ক্লাউড" (এটি "ড্যাফোডিলস" নামেও পরিচিত)
- "মাই হার্ট লিপস আপ"
- "ওড: ইনটিমেশনস অফ ইমর্টালিটি"
- "ওড টু ডিউটি"
- "দ্য সলিটারি রিপার"
- "এলেজিয়াক স্ট্যানজাস"
- "কম্পোজড আপন ওয়েস্টমিনিস্টার ব্রিজ, সেপ্টেম্বর ৩, ১৮০২"
- "লন্ডন, ১৮০২"
- "দ্য ওয়ার্ল্ড ইজ টু মাচ উইথ আস"
- "ফ্রেঞ্চ রেভোলিউশন" (১৮১০)[৫৮]
- গাইড টু দ্য লেকস (১৮১০)
- "টু দ্য কুকু" (To the Cuckoo)
- দ্য এক্সকারশন (১৮১৪)
- লাওডামিয়া (১৮১৫, ১৮৪৫)
- দ্য হোয়াইট ডো অফ রাইলস্টোন (১৮১৫)
- পিটার বেল (১৮১৯)
- একলেসিয়াস্টিক্যাল সনেটস (Ecclesiastical Sonnets) (১৮২২)
- দ্য প্রিলিউড (১৮৫০)
References
[সম্পাদনা]- ↑ Allport, Denison Howard; Friskney, Norman J. (১৯৮৬)। "Appendix A (Past Governors)"। A Short History of Wilson's School। Wilson's School Charitable Trust।
- ↑ Moorman 1968 pp. 5–7.
- ↑ Moorman 1968:9–13.
- ↑ Moorman 1968:15–18.
- ↑ "Wordsworth, William (WRDT787W)"। A Cambridge Alumni Database। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়।
- ↑ Andrew Bennett (২০১৫)। William Wordsworth in Context। Cambridge University Press। পৃ. ১৯১। আইএসবিএন ৯৭৮-১-১০৭-০২৮৪১-৮।
- 1 2 Baker, Harry T. (১৯১৮)। "Wordsworth and Annette"। The North American Review। ২০৭ (748): ৪৩৩–৪৩৯। আইএসএসএন 0029-2397। জেস্টোর 25121814।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 Everett, Glenn, "William Wordsworth: Biography" at The Victorian Web, accessed 7 January 2007.
- ↑ Gill (1989) pp. 208, 299
- ↑ "Purchasing Power of British Pounds from 1245 to Present"। MeasuringWorth.com। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মে ২০১২।
- ↑ A Library of Poetry and Song: Being Choice Selections from The Best Poets. With An Introduction by William Cullen Bryant, New York, J.B. Ford and Company, 1871, pp. 14–15.
- ↑ Lyricall Ballads: With a Few Other Poems (1 সংস্করণ)। London: J. & A. Arch। ১৭৯৮। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০১৪। via archive.org
- ↑ Wordsworth, William (১৮০০)। Lyrical Ballads with Other Poems। খণ্ড I (2 সংস্করণ)। London: Printed for T.N. Longman and O. Rees। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০১৪।
- ↑ Stephen Gill, William Wordsworth: A Life, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৮৯, পৃ. ১৩২–১৩৩।
- ↑ A Library of Poetry and Song: Being Choice Selections from The Best Poets. With An Introduction by William Cullen Bryant, New York, J.B. Ford and Company, 1871, p. 442.
- ↑ Recollections of the Lake Poets.
- ↑ Moorman 1968 p. 8
- ↑ Ward, John Powell (১ মার্চ ২০০৫)। "Wordsworth's Eldest Son: John Wordsworth and the Intimations Ode"। The Wordsworth Circle। ৩৬ (2): ৬৬–৮০। ডিওআই:10.1086/TWC24045111। এস২সিআইডি 159651742। সংগ্রহের তারিখ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১।
- ↑ Hanberry, Gerard (২০১১)। More Lives Than One (ইংরেজি ভাষায়)। Gill & Macmillan Ltd। পৃ. ২৯। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৮৪৮৮৯-৯৪৩-৮। সংগ্রহের তারিখ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১।
- ↑ "Wordsworth mss. II, 1848–1909"। archives.iu.edu। আর্কাইভস অনলাইন অ্যাট ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি। সংগ্রহের তারিখ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১।
- ↑ "William Wordsworth | The Asian Age Online, Bangladesh"। The Asian Age (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুন ২০২২।
- ↑ "William Wordsworth – English History" (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ১৮ নভেম্বর ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুন ২০২২।
- ↑ Kelly Grovier, "Dream Walker: A Wordsworth Mystery Solved", Times Literary Supplement, 16 February 2007
- ↑ Poetical Works। Oxford Standard Authors। London: Oxford U.P.। ১৯৩৬। পৃ. ৫৯০।
- ↑ Poetical Works। Oxford Standard Authors। London: Oxford U.P.। ১৯৩৬। পৃ. ৫৯০।
- ↑ Hartman, Geoffrey (১৯৮৭)। Wordsworth's Poetry, 1787–1814। New Haven: Yale University Press। পৃ. ৩২৯–৩৩১। আইএসবিএন ৯৭৮০৬৭৪৯৫৮২১০।
- ↑ Abrams, M.H. (১৯৭১)। Natural Supernaturalism: Tradition and Revolution in Romantic Literature। Norton। পৃ. ২৪।
- ↑ "Wordsworth's Religion"। www.victorianweb.org।
- ↑ Behler, Ernst (১৯৬৮)। "The Origins of the Romantic Literary Theory"। Colloquia Germanica। ২: ১০৯–১২৬। আইএসএসএন 0010-1338। জেস্টোর 23979800।
- ↑ Doolittle, James (১ ডিসেম্বর ১৯৬৯)। "The Demonic Imagination: Style and Theme in French Romantic Poetry."। Modern Language Quarterly। ৩০ (4): ৬১৫–৬১৭। ডিওআই:10.1215/00267929-30-4-615। আইএসএসএন 0026-7929।
- ↑ "Dan Kurland's www.criticalreading.com – Strategies for Critical Reading and Writing"। www.criticalreading.com। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুন ২০২২।
- ↑ Ahmed, Sheikh Saifullah (১ জানুয়ারি ২০২০)। "The Sociolinguistic Perspectives of the Stylistic Liberation of Wordsworth"। Sparkling International Journal of Multidisciplinary Research Studies।
- ↑ Baillie, Joanna (২০১০)। Thomas McLean (সম্পাদক)। Further Letters of Joanna Baillie। Madison, NJ: Fairleigh Dickinson University Press। পৃ. ১৮১। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮৩৮৬-৪১৪৯-১।
- ↑ Gill, pp. 396–97
- ↑ "The Religious Influence of the Romantic Poets"।
- ↑ "Poet Laureate", দ্য ব্রিটিশ মোনার্কি অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
- ↑ Stephen Gill, William Wordsworth: A Life, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৮৯, পৃ. ৪২২–২৩।
- ↑ উদা:, ডরোথি ওয়ার্ডসওয়ার্থের জার্নাল ২৬ ডিসেম্বর ১৮০১
- ↑ "Brandeis University Press: The Prelude" (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ১৫ অক্টোবর ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ১৩ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ Kirsch, Adam (২৭ নভেম্বর ২০০৫)। "Wordsworth's Strange Fits of Passion"। দ্য নিউ ইয়র্কার (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0028-792X। সংগ্রহের তারিখ ১৩ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ To be Sung Upon the Water, Lieder.net
- ↑ "Too the Cuckoo", Lieder.net
- ↑ The Glory and the Dream, Novello (2000)
- ↑ "Collection: Papers of Alicia Keisker Van Buren, 1889–1915 | Hollis for"। hollisarchives.lib.harvard.edu। সংগ্রহের তারিখ ১৮ এপ্রিল ২০২১।
- ↑ 'Dyson, Quo Vadis' in Gramophone, June 2003
- ↑ "Intimations of Immortality, Op. 29"। Hyperion Records।
- ↑ '6 Songs, Op.6 (Kelly, Frederick Septimus)', score at IMSLP
- ↑ Voice of Quiet Waters, Op. 84, University of York Music Press
- ↑ Stewart-Green, Miriam (১৯৮০)। Women composers: a checklist of works for the solo voice। A Reference publication in women's studies। Boston, Mass: G.K. Hall। পৃ. ৬০। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮১৬১-৮৪৯৮-৯।
- ↑ 'Highbury Philharmonic Society', in The Musical Times, Vol. 39 (1898), p. 100
- ↑ 'Ode on the Intimations of Immortality (Somervell, Arthur)', score at IMSLP
- ↑ Richard Stokes. The Penguin Book of English Song (2016) pp. 298–312
- ↑ "William and Dorothy (1978)"। BFI (ইংরেজি ভাষায়)।
- ↑ Van Gelder, Lawrence (১৩ জুলাই ২০০১)। "Film in Review; 'Pandaemonium'"। The New York Times (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0362-4331।
- ↑ "Taylor Swift dedicates Folklore song to the Lake District"। BBC। ১২ আগস্ট ২০২০।
- ↑ "New stamps issued on 250th anniversary of William Wordsworth's birth"। ITV। সংগ্রহের তারিখ ১ অক্টোবর ২০২২।
- 1 2 3 4 5 এম. এইচ. আব্রামস, যিনি দ্য নর্টন অ্যান্থোলজি অফ ইংলিশ লিটারেচার: দ্য রোমান্টিক পিরিয়ড-এর সম্পাদক, এই পাঁচটি কবিতা সম্পর্কে লিখেছেন: "সম্পাদকরা প্রায়শই এই কবিতাটিকে এবং এর পরের চারটি কবিতাকে 'লুসি কবিতা' হিসেবে একত্রিত করেন, যদিও 'আ স্লাম্বার ডিড মাই স্পিরিট সিল' কবিতায় কার কথা বলা হয়েছে তা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়নি। শেষ কবিতাটি বাদে সবকটিই ১৭৯৯ সালে রচিত হয়েছিল, যখন ওয়ার্ডসওয়ার্থ এবং তাঁর বোন জার্মানিতে থাকাকালীন গৃহকাতরতায় ভুগছিলেন। লুসির পরিচয় নিয়ে অনেক গবেষণা হলেও তা এখনও অনুমাননির্ভর। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত যে, তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের 'লুসি গ্রে' কবিতার সেই মেয়েটি নন" (আব্রামস ২০০০)।
- ↑ Wordsworth, William (৪ জানুয়ারি ১৮১০)। "French Revolution"। The Friend। নং 20। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুন ২০১৮।
Further reading
[সম্পাদনা]- Juliet Barker. Wordsworth: A Life, HarperCollins, New York, 2000, আইএসবিএন ৯৭৮-০০৬০৭৮৭৩১৮
- Jeffrey Cox, William Wordsworth, Second-Generation Romantic: Contesting Poetry After Waterloo, 2021, আইএসবিএন ৯৭৮-১১০৮৮৩৭৬১৩
- Hunter Davies, William Wordsworth: A Biography, Frances Lincoln, London, 2009, আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭১১২-৩০৪৫-৩
- Stephen Gill, William Wordsworth: A Life, Oxford University Press, 1989, আইএসবিএন ৯৭৮-০১৯২৮২৭৪৭০
- Emma Mason, The Cambridge Introduction to William Wordsworth (Cambridge University Press, 2010)
- Minto, William; Chisholm, Hugh (১৯১১)। । চিসাম, হিউ (সম্পাদক)। ব্রিটিশ বিশ্বকোষ। খণ্ড ২৮ (১১তম সংস্করণ)। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃ. ৮২৬–৮৩১।
- Mary Moorman, William Wordsworth, A Biography: The Early Years, 1770–1803 v. 1, Oxford University Press, 1957, আইএসবিএন ৯৭৮-০১৯৮১১৫৬৫৬
- Mary Moorman, William Wordsworth: A Biography: The Later Years, 1803–1850 v. 2, Oxford University Press, 1965, আইএসবিএন ৯৭৮-০১৯৮১১৬১৭২
- M. R. Tewari, One Interior Life – A Study of the Nature of Wordsworth's Poetic Experience (New Delhi: S. Chand & Company Ltd, 1983)
- Report to Wordsworth, Written by Boey Kim Cheng, as a direct reference to his poems "Composed Upon Westminster Bridge" and "The World Is Too Much with Us"
- Daniel Robinson, The Oxford Handbook of William Wordsworth, Oxford University Press, 2015, আইএসবিএন ৯৭৮০১৯৯৬৬২১২৮
- Duncan Wu, “William Wordsworth,” in Then & Now: Romantic-Era Poets in the Encyclopædia Britannica, 1910–1911, ed. G. Kim Blank (2023)
External links
[সম্পাদনা]- গুটেনবের্গ প্রকল্পে উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ-এর সাহিত্যকর্ম ও রচনাবলী (ইংরেজি)
- ইন্টারনেট আর্কাইভে উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ কর্তৃক কাজ বা সম্পর্কে তথ্য
- লিব্রিভক্সের পাবলিক ডোমেইন অডিওবুকসে
উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ - William Wordsworth Collection. General Collection, Beinecke Rare Book andManuscript Library, Yale University.
- Cornelius Patton (AC 1883) William Wordsworth Manuscript Collection at the Amherst College Archives & Special Collections
| অফিস আদালত | ||
|---|---|---|
| পূর্বসূরী Robert Southey |
British Poet Laureate 1843–1850 |
উত্তরসূরী Alfred Tennyson |
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]আরও পড়ুন
[সম্পাদনা]- Hunter Davies, William Wordsworth: A Biography, Frances Lincoln Ltd, London,2009 আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭১১২-৩০৪৫-৩
- Stephen Gill, William Wordsworth: A Life, Oxford University Press, 1989 আইএসবিএন ৯৭৮-০১৯২৮২৭৪৭০
- Emma Mason, The Cambridge Introduction to William Wordsworth (Cambridge University Press, 2010)
- Mary Moorman, William Wordsworth, A Biography: The Early Years, 1770-1803 v. 1, Oxford University Press, 1957 আইএসবিএন ৯৭৮-০১৯৮১১৫৬৫৬
- Mary Moorman, William Wordsworth: A Biography: The Later Years, 1803-1850 v. 2, Oxford University Press, 1965 আইএসবিএন ৯৭৮-০১৯৮১১৬১৭২
- M.R. Tewari, One Interior Life—A Study of the Nature of Wordsworth's Poetic Experience, (New Delhi: S. Chand & Company Ltd, 1983)
- Report to Wordsworth, Written by Boey Kim Cheng, as a direct reference to his poems Composed Upon Westminster Bridge and The World is too Much with us
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]সাধারণ তথ্য এবং জীবনী নকশা
- Internet archive of Volume 1 of Christopher Wordsworth's 1851 biography
- Internet archive of Volume 2 of Christopher Wordsworth's 1851 biography
- Biography and Works
- গ্রন্থাগারে উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ সম্পর্কিত বা কর্তৃক কাজ (ওয়ার্ল্ডক্যাট ক্যাটালগ) (ইংরেজি)
- Romanticon: Wordsworth's Corpus Reflects the Growth of a Conservative's Mind ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২২ মার্চ ২০১৫ তারিখে; City Journal, Summer 2009
- Short biographical sketch by Glenn Everett
- Wordsworth's hidden arguments ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৫ অক্টোবর ২০০৮ তারিখে: an article in the TLS by Dan Jacobson, 31 October 2007
- Worsworth's links with Claines, Worcester
- Wordsworth and the Lake District
- Wordsworth's Grave
- The Wordsworth Trust
- Romantic Circles: Editions & articles on Wordsworth and other authors of the Romantic period
- Hawkshead Grammar School Museum
- ন্যাশনাল পোট্রেট গ্যালারি, লন্ডনে William Wordsworth-এর পোট্রেট
- টেমপ্লেট:NRA
বই
- Anonymous; Wordsworth at Cambridge. A Record of the Commemoration Held at St John’s College, Cambridge in April 1950; Cambridge University Press, 1950 (reissued by Cambridge University Press, 2009, আইএসবিএন ৯৭৮-১-১০৮-০০২৮৯-৯)
- Mallaby, George, Wordsworth: a Tribute (1950)
ওয়ার্ডসওয়ার্থের কাজ
- Works by William Wordsworth at Bartleby.com (HTML)
- Works by William Wordsworth at Internet Archive (scanned books original editions color illustrated)
- গুটেনবের্গ প্রকল্পে William Wordsworth-এর সাহিত্যকর্ম ও রচনাবলী (ইংরেজি) (plain text and HTML)
- Poems by William Wordsworth
- Selected Poems by W.Wordsworth
- Selected Works at Poetry Index
- Biography and Works
- Poetry Archive: 166 poems of William Wordsworth
- To Toussaint Louverture – poem by William Wordsworth
- Extensive Information on Wordsworth's Poem, Lines Written a Few Miles above Tintern Abbey ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১১ মার্চ ২০০৫ তারিখে
- Britain Unlimited's page on William Wordsworth
- Stephen, Leslie (১৮৯৮)। "Wordsworth's Youth"। Studies of a Biographer। London: Duckworth and Co.। পৃ. ২২৭–২৬৭।
- "Breathless We Strive" by Florence Earle Coates
| অফিস আদালত | ||
|---|---|---|
| পূর্বসূরী রবার্ট সাউথি |
ব্রিটিশ রাজকবি ১৮৪৩–১৮৫০ |
উত্তরসূরী আলফ্রেড টেনিসন |
- William Wordsworth
- 1770 births
- 1850 deaths
- 18th-century Christian mystics
- 18th-century English poets
- 18th-century English writers
- 18th-century English male writers
- 19th-century Christian mystics
- 19th-century English poets
- 19th-century English writers
- 19th-century English male writers
- Alumni of St John's College, Cambridge
- Anglican poets
- Anglican writers
- Burials in Cumbria
- English Anglicans
- English male poets
- 19th-century mystics
- People associated with Durham University
- People educated at Hawkshead Grammar School
- People from Cockermouth
- People from Grasmere (village)
- Protestant mystics
- Romantic poets
- Sonneteers
- Sports poets
- Wordsworth family
- National Portrait Gallery (London) person ID উইকিউপাত্তের মত একই
- উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ
- ১৭৭০-এ জন্ম
- ১৮৫০-এ মৃত্যু
- ইংরেজ কবি
- অ্যাংলিকান লেখক
- ১৮শ শতাব্দীর ইংরেজ কবি
- ইংরেজ অ্যাংলিকান
- ১৯শ শতাব্দীর ইংরেজ কবি
- ১৯শ শতাব্দীর ইংরেজ লেখক
- ইংরেজ ঔপন্যাসিক
- কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
- সনেট রচয়িতা
- রোমান্টিক কবি
- ১৯শ শতাব্দীর পুরুষ লেখক
- ইংরেজ পুরুষ কবি
- অ্যাংলিকান কবি
- সেন্ট জন কলেজ, কেমব্রিজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
- ১৮শ শতাব্দীর ইংরেজ পুরুষ লেখক
- ১৮শ শতাব্দীর ইংরেজ লেখক
- ১৯শ শতাব্দীর ইংরেজ পুরুষ লেখক