অ্যান্টার্কটিকা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
অ্যান্টার্কটিকা
Antarctica (orthographic projection).svg
এই মানচিত্রে লম্ব অভিক্ষেপ ব্যবহৃত হয়েছে। দক্ষিণ মেরু কেন্দ্রের প্রায় নিকটে অবস্থিত, যেথায় অক্ষীয় রেখাগুলো মিলিত হয়েছে।
আয়তন ১,৪০,০০,০০০ কিমি (৫৪,০০,০০০ মা)[১]
জনসংখ্যা স্থায়ী অধিবাসী - শূন্য (২০১৫)[২]
অস্থায়ী অধিবাসী ~ ৫,০০০
ইন্টারনেট টিএলডি .একিউ

অ্যান্টার্কটিকা (মার্কিন ইংরেজি উচ্চারণ শুনুনi/æntˈɑrktɪkə/; ব্রিটিশ ইংরেজি উচ্চারণ /ænˈtɑrktɪkə/ বা /æntˈɑrtɪkə/ বা /ænˈtɑrtɪkə/ বা /ænˈɑrtɪkə/)[পা ১] পৃথিবীর দক্ষিণতম মহাদেশ, যেখানে ভৌগোলিক দক্ষিণ মেরু অবস্থিত। এই মহাদেশ দক্ষিণ গোলার্ধের অ্যান্টার্কটিক অঞ্চলে অ্যান্টার্কটিক চক্রের দক্ষিণে দক্ষিণ মহাসাগর দ্বারা পরিবেষ্টিত অবস্থায় অবস্থিত। এশিয়া, আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকাদক্ষিণ আমেরিকার পর ১,৪০,০০,০০০ বর্গকিলোমিটার (৫৪,০০,০০০ বর্গমাইল) ক্ষেত্রফল বিশিষ্ট এই মহাদেশ বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম মহাদেশ। অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ অপেক্ষা এটি প্রায় দ্বিগুণ আকৃতিবিশিষ্ট। এই মহাদেশের ৯৮% অংশ গড়ে ১.৯ কিলোমিটার (১.২ মা) পুরু বরফাবৃত।[৬]

অ্যান্টার্কটিকা বিশ্বের শীতলতম ও শুষ্কতম মহাদেশ এবং এর গড় উচ্চতা ও বায়ুপ্রবাহবেগও মহাদেশ গুলির মধ্যে সর্বাধিক।[৭] বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ মাত্র ২০০ মিমি. হওয়ায় এই মহাদেশকে শীতল মরুভূমি হিসেবে গণ্য করা হয়।[৮] এই মহাদেশের তাপমাত্রা সর্বনিম্ন রেকর্ড −৮৯ °সে (−১২৯ °ফা) পর্য্যন্ত পৌঁছেছে, যদিও বছরের শীতলতম সময়ে গড় তাপমাত্রা −৬৩ °সে (−৮১ °ফা)। এই মহাদেশে কোন স্থায়ী বাসিন্দা না থাকলেও সারা বছর প্রায় ১,০০০ থেকে ৫,০০০ মানুষ এই মহাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন গবেষণা কেন্দ্রে অবস্থান করেন। প্রবল শৈত্যের সাথে লড়াই করতে সক্ষম উদ্ভিদ ও প্রাণীই এ মহাদেশে টিকে থাকতে সক্ষম, যার মধ্যে রয়েছে পেঙ্গুইন, সিল, নেমাটোড, টার্ডিগ্রেড, মাইট, বিভিন্ন প্রকার শৈবাল এবং অন্যান্য মাইক্রোঅর্গানিজম এবং তুন্দ্রা উদ্ভিদসমূহ।

ব্যুৎপত্তি[সম্পাদনা]

অ্যান্টার্কটিকা শব্দটি গ্রিক যৌগিক শব্দ ἀνταρκτική (আন্তার্কতিকে) -এর রোমান রূপ। ἀνταρκτική শব্দটি ἀνταρκτικός (আন্তার্কতিকোস) শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ।[৯] যার অর্থ আর্কতিক বা উত্তরের বিপরীত।[১০]

আনুমানিক ৩৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে অ্যারিস্টটল তাঁর মেতেওরোলজিকা নামক গ্রন্থে অ্যান্টার্কটিক অঞ্চল সম্বন্ধে লিখেছেন।[১১] দ্বিতীয় শতাব্দীতে তিরের মারিনোস তাঁর বিশ্ব মানচিত্রে এই নামটি ব্যবহার করেছিলেন বলে জানা যায়। গাইয়াস জুলিয়াস হাইগিনাস এবং অ্যাপুলেইয়াস নামক রোমের লেখকরা দক্ষিণ মেরু বোঝাতে পোলাস আন্তার্কতিকাস শব্দটি ব্যবহার করতেন,[১২][১৩] যেখান থেকে ১২৭০ খ্রিস্টাব্দে ফরাসিতে পোলে আন্তার্তিকে (pole antartike) এবং ১৩৯১ খ্রিস্টাব্দে জিওফ্রে চসার ইংরেজিতে পোল আন্টার্টিক (pole antartike) শব্দটি ব্যবহার করেন।[১৪]

উত্তরের বিপরীতে যে কোন স্থান বোঝাতে এই শব্দটি ব্যবহার করা হত, যেমন ষোড়শ শতাব্দীতে ফরাসী উপনিবেশ ব্রাজিলকে ফ্রান্স আন্তার্কতিকে বলা হত। ১৮৯০-এর দশকে স্কট মানচিত্রবিশারদ জন জর্জ বার্থোলোমিউ প্রথম এই মহাদেশকে অ্যান্টার্কটিকা বলে আনুষ্ঠানিক নামকরণ করেন।[১৫]

আবিষ্কারের ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৮২৩ খ্রিস্টাব্দে জেমস ওয়েডেলের দ্বিতীয় অভিযানের চিত্র

অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের কোন স্থায়ি অধিবাসী নেই এবং উনবিংশ শতাব্দীর পূর্ব পর্য্যন্ত কোন মানুষ এই স্থানকে দেখেছিলেন বলে কোন প্রমাণ নেই। এতদ্‌সত্ত্বেও প্রথম শতাব্দী থেকেই একটি বিশ্বাস প্রচলিত ছিল যে, পৃথিবীর দক্ষিণে টেরা অস্ট্রালিস নামক এক বিশাল মহাদেশ উপস্থিত থাকতে পারে। টলেমি মনে করতেন যে, ইউরোপ, এশিয়াউত্তর আফ্রিকা নিয়ে গঠিত তৎকালীন যুগে পরিচিত পৃথিবীর ভূমিসমষ্টির সামঞ্জস্য রক্ষার জন্য এই মহাদেশ দক্ষিণ দিকে অবস্থিত। এমনকি সপ্তদেশ শতাব্দীর শেষার্ধে অভিযাত্রীরা দক্ষিণ আমেরিকাঅস্ট্রেলিয়া আবিষ্কারের পর যখন জানা যায়, এই দুইটি মহাদেশ প্রবাদ হিসেবে প্রচলিত অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের অংশ নয়, তখনও ভৌগোলিকরা বাস্তবের থেকে দ্বিগুণ আকারের মহাদেশের অস্তিত্বের কথা বিশ্বাস করতেন।

অস্ট্রেলিয়া আবিষ্কারের পর এই মহাদেশের নামকরণ টেরা অস্ট্রালিস শব্দটি থেকে করা হয়, কারণ তখন ম্যাথিউ ফ্লিন্ডার্স নামক অভিযাত্রী সহ বেশ কিছু মানুষ মনে করতেন অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণে উল্লেখযোগ্য মাপের কোন মহাদেশ পাওয়া সম্ভব নয়।[পা ২] সেই কারণে অ্যান্টার্কটিকার প্রবাদের সঙ্গে প্রচলিত হলেও টেরা অস্ট্রালিস নামটি এই মহাদেশের নামের সঙ্গে যুক্ত হয়নি।

অ্যান্টার্কটিকা চুক্তি[সম্পাদনা]

১৯৫৯ সালে ১২টি দেশের মধ্যে অ্যান্টার্কটিকা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়; যাতে বর্তমানে ৪৬টি দেশ স্বাক্ষর করেছে। এ চুক্তির মাধ্যমে অ্যান্টার্কটিকায় সামরিক কর্মকান্ড এবং খনিজ সম্পদ খনন নিষিদ্ধ, বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে সহায়তা এবং মহাদেশটির ইকোজোন সুরক্ষিত করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের ৪,০০০ এরও বেশি বিজ্ঞানী অ্যান্টার্কটিকায় বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন।[১৭]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. মূলতঃ শব্দটি প্রথম /k/ ছাড়াই উচ্চারিত হত, কিন্তু বর্তমানে বানান উচ্চারণ প্রচলিত ও অনেক ক্ষেত্রে সঠিকতর বলে বিবেচনা করা হয়। প্রথম ক ও প্রথম ট ছাড়া /ænˈɑrtɪkə/ উচ্চারণটিও প্রচলিত।[৩] ইংরেজি শব্দে "c" বর্ণটি পরবর্তীকালে যুক্ত করা হয় ও স্বল্প শিক্ষিত ব্যক্তিরা এর উচ্চারণ শুরু করে।[৪][৫]
  2. There is no probability, that any other detached body of land, of nearly equal extent, will ever be found in a more southern latitude; the name Terra Australis will, therefore, remain descriptive of the geographical importance of this country and of its situation on the globe: it has antiquity to recommend it; and, having no reference to either of the two claiming nations, appears to be less objectionable than any other which could have been selected.[১৬]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. United States Central Intelligence Agency (২০১১)। "Antarctica"The World Factbook। Government of the United States। সংগৃহীত ২২ অক্টোবর ২০১১ 
  2. "The World Factbook: Population"। CIA। 
  3. American Heritage Dictionary
  4. Crystal, David (২০০৬)। The Fight for English। Oxford University Press। পৃ: ১৭২। আইএসবিএন 978-0-19-920764-0 
  5. Harper, Douglas। "Antarctic"Online Etymology Dictionary। সংগৃহীত ১৬ নভেম্বর ২০১১ 
  6. British Antarctic Survey। "Bedmap2: improved ice bed, surface and thickness datasets for Antarctica" (PDF)। The Cryosphere journal: ৩৯০। সংগৃহীত ৬ জানুয়ারি ২০১৪ 
  7. National Satellite, Data, and Information Service। "National Geophysical Data Center"। Government of the United States। ১৩ জুন ২০০৬-এ মূল থেকে আর্কাইভ। সংগৃহীত ৯ জুন ২০০৬ 
  8. Joyce, C. Alan (১৮ জানুয়ারি ২০০৭)। "The World at a Glance: Surprising Facts"The World Almanac। ৪ মার্চ ২০০৯-এ মূল থেকে আর্কাইভ। সংগৃহীত ৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ 
  9. Liddell, Henry George; Scott, Robert। "Antarktikos"। in Crane, Gregory R.। A Greek–English Lexicon। Perseus Digital Library। Tufts University। সংগৃহীত ১৮ নভেম্বর ২০১১ 
  10. Hince, Bernadette (২০০০)। The Antarctic Dictionary। CSIRO Publishing। পৃ: ৬। আইএসবিএন 978-0-9577471-1-1 
  11. Aristotle. Meteorologica. Book II, Part 5. 350 BC. Translated by E. Webster. Oxford: Clarendon Press, 1923. 140 pp.
  12. Hyginus. De astronomia. Ed. G. Viré. Stuttgart: Teubner, 1992. 176 pp.
  13. Apuleii. Opera omnia. Volumen tertium. London: Valpy, 1825. 544 pp.
  14. G. Chaucer. A Treatise on the Astrolabe. Approx. 1391. Ed. W. Skeat. London: N. Trübner, 1872. 188 pp.
  15. John George Bartholomew and the naming of Antarctica, CAIRT Issue 13, National Library of Scotland, July 2008, ISSN 1477-4186, and also "The Bartholomew Archive" 
  16. Flinders, Matthew. A voyage to Terra Australis (Introduction). Retrieved 25 January 2013.
  17. "Antarctica - The World Factbook"। United States Central Intelligence Agency। ২০০৭-০৩-০৮। সংগৃহীত ২০০৭-০৩-১৪ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]