অ্যান্টার্কটিকা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
অ্যান্টার্কটিকা
Location Antarctica.svg
এই মানচিত্রে লম্ব অভিক্ষেপ ব্যবহৃত হয়েছে। দক্ষিণ মেরু কেন্দ্রের প্রায় নিকটে অবস্থিত, যেথায় অক্ষীয় রেখাগুলো মিলিত হয়েছে।
আয়তন ১৪,১০৭,৬৩৭ বর্গকিমি
২৮০,০০০ বর্গকিমি বরফমুক্ত
১৩.৭২ মিলিয়ন বর্গকিমি বরফযুক্ত[১]
জনসংখ্যা প্রায় ১১০০ জন (শীতকালে)
প্রায় ৪৪০০ জন[১](গ্রীষ্মকালে)
জনঘনত্ব <০.১ জন প্রতি বর্গকিমি
সময় অঞ্চলসমূহ ইউটিসি-১২ থেকে ইউটিসি+১২
ইন্টারনেট টিএলডি .aq

অ্যান্টার্কটিকা একটি মহাদেশকুমেরু অর্থাৎ দক্ষিণ মেরু এই মহাদেশে অবস্থিত, এবং এই মহাদেশ পরিবেষ্টন করে আছে দক্ষিণ মহাসাগর (লক্ষ্যণীয়ঃ সুমেরুতে কেবল উত্তর মহাসাগর আছে কিন্তু জমি নেই)। অ্যান্টার্কটিকা পৃথিবীর শুধু দক্ষিণতমই নয়, শীতলতম ও শুষ্কতম মহাদেশ। এর গড় উচ্চতা ও বায়ুপ্রবাহবেগও মহাদেশ গুলির মধ্যে সর্বাধিক।

গড় হিসাবে অ্যান্টার্কটিকা পৃথিবীর শীতলতম, শুষ্কতম এবং ঝড়ো হাওয়াপূর্ণ মহাদেশ এবং অন্য সব মহাদেশের চাইতে এর উচ্চতা বেশি।[২] অ্যান্টার্কটিকাকে একটি মরুভূমি হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ সেখানে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ মাত্র ২০০ মিমি (৮ ইঞ্চি), তাও আবার কেবল উপকূলের কাছাকাছি, ভেতরের দিকে এ পরিমাণ আরও কম।[৩]

বাসিন্দা[সম্পাদনা]

সেখানে স্থায়ীভাবে মানুষ বাস করে না, তবে মহাদেশজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন গবেষণা স্টেশনে ১,০০০ থেকে ৫,০০০ মানুষ বছরের বিভিন্ন সময় অবস্থান করে। প্রবল শৈত্যের সাথে লড়াই করতে সক্ষম উদ্ভিদ ও প্রাণীই এ মহাদেশে টিকে থাকতে সক্ষম, যার মধ্যে রয়েছে পেঙ্গুইন, সিল, নেমাটোড, টার্ডিগ্রেড, মাইট, বিভিন্ন প্রকার শৈবাল এবং অন্যান্য মাইক্রোঅর্গানিজম এবং তুন্দ্রা উদ্ভিদসমূহ।

আবিষ্কার[সম্পাদনা]

সুপ্রাচীনকাল হতেই টেরা অস্ট্রালিস ("দক্ষিণের মহাদেশ") এর ব্যাপারের নানান গল্প-কাহিনি প্রচলিত ছিল, তবে এ মহাদেশটি মানুষের চোখে ধরা পড়ে ১৮২০ সালে, রুশ অভিযাত্রী মিখাইল লাজারেভফাবিয়ান গটলিয়েব ফন বেলিংশসেন সর্বপ্রথম এ মহাদেশের অস্তিত্ব সপ্রমাণ করেন। তবে ১৯ শতকের বাকি অংশ জুড়ে অ্যান্টার্কটিকা বিস্মৃত অবস্থাতেই রয়ে যায়, যার কারণ ছিল মহাদেশটির চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া, জীবনধারণের প্রয়োজনীয় উপাদানের অপ্রতুলতা এবং বিচ্ছিন্নতা। অ্যান্টার্কটিকা নামটির প্রথম আনুষ্ঠানিক ব্যবহার করেন স্কটিশ কার্টোগ্রাফার জন জর্জ বার্থলোমেঅ্যান্টার্কটিকা শব্দটি গ্রিক যৌগিক শব্দ ανταρκτική (অ্যান্টার্কটিকে) এর রোমানিত সংস্করণ,[৪] যার মানে হল উত্তরের বিপরীতে অবস্থিত[৫]

অ্যান্টার্কটিকা চুক্তি[সম্পাদনা]

১৯৫৯ সালে ১২টি দেশের মধ্যে অ্যান্টার্কটিকা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়; যাতে বর্তমানে ৪৬টি দেশ স্বাক্ষর করেছে। এ চুক্তির মাধ্যমে অ্যান্টার্কটিকায় সামরিক কর্মকান্ড এবং খনিজ সম্পদ খনন নিষিদ্ধ, বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে সহায়তা এবং মহাদেশটির ইকোজোন সুরক্ষিত করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের ৪,০০০ এরও বেশি বিজ্ঞানী অ্যান্টার্কটিকায় বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন।[৬]

ভূপ্রকৃতি[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ CIA - The World Factbook - Antarctica, সংগৃহীত: ১লা জুলাই, ২০১৩।
  2. "National Geophysical Data Center"। National Satellite, Data, and Information Service। সংগৃহীত ৯ জুন ২০০৬ 
  3. C. Alan Joyce (২০০৭-০১-১৮)। "The World at a Glance: Surprising Facts"। The World Almanac। সংগৃহীত ২০০৯-০২-০৭ 
  4. Antarktikos, Henry George Liddell, Robert Scott, A Greek-English Lexicon, at Perseus
  5. Hince, Bernadette (২০০০)। The Antarctic Dictionary। CSIRO Publishing। পৃ: ৬। আইএসবিএন 9780957747111। সংগৃহীত ২০০৯-০৪-২৬ 
  6. "Antarctica - The World Factbook"। United States Central Intelligence Agency। ২০০৭-০৩-০৮। সংগৃহীত ২০০৭-০৩-১৪ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]