সুকেন্দ্রিক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সুকেন্দ্রিক কোষ
Eukaryota diversity 2.jpg
Eukaryotes and some examples of their diversity
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
ডোমেইন: Eukaryota
(Chatton, 1925) Whittaker & Margulis,1978
Kingdoms[২]
ArchaeplastidaPlants sensu lato

Opisthokonta

Animalia – Animals
Alternative phylogeny[১]
একটি উদ্ভিদ কোষ

সুকেন্দ্রিক কোষে অঙ্গাণু (নিউক্লিয়াস (Nucleus), গলজি বস্তু (Golgi body), মাইটোকোন্ড্রিয়া ([১]), ক্লোরোপ্লাস্ট(chloroplast), এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম(Endoplasmic reticulum)সমূহ দ্বি-স্তরী ঝিল্লির (membrane)দ্বারা আবৃত থাকে।

সকল ছত্রাক(Fungi), শৈবাল(algae), উদ্ভিদ, প্রানীর কোষ সুকেন্দ্রিক।

আবির্ভাব[সম্পাদনা]

খাদ্য শিকারের সময় একটি প্রাককেন্দ্রীক জীব অন্যটির মধ্যে ঢুকে যায়। সেখানে পোষক কোষটির সাথে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারির আত্মীয়তা শুরু করে আভ্যন্তরীণ কোষটি। এই আভ্যন্তরীণ কোষ তার মুক্ত জীবন পরিত্যাগ করে মাইটোকন্ড্রিয়ায় পরিণত হয় যা পোষক কোষের বাড়তি শক্তির একটি যোগান হয়ে দাঁড়ায়। নতুন শক্তিতে বলীয়ান পোষক কোষটি আরো জটিলতর পথে বিবর্তিত হওয়ার সামর্থ্য লাভ করে এবং সুকেন্দ্রীক কোষের উদ্ভব হয়।


কোষীয় গঠন[সম্পাদনা]

প্রকৃত কোষগুলো আকারে একটি আদর্শ আদি কোষের ন্যূনতম ১০ গুণ বড় এবং এর আয়তন আদি কোষের তুলনায় সর্বোচ্চ ১০০০ গুণ পর্যন্ত বেশি হতে পারে। আদি এবং প্রকৃত কোষের মধ্য মূল পার্থক্য হচ্ছে, আদি কোষের মধ্যে ঝিল্লি দ্বারা আবৃত কক্ষ থাকে যার মধ্যে নির্দিষ্ট বিপাকীয় কার্যাবলী সম্পাদিত হয়ে থাকে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে কোষ নিউক্লিয়াস যার মধ্যে প্রকৃত কোষের ডিএনএ অবস্থান করে। নিউক্লিয়াস একটি ঝিল্লি দ্বারা বেষ্টিত কক্ষ হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। এই নিউক্লিয়াসের কারণেই প্রকৃত কোষ তার ইংরেজি নামটি পেয়েছে। ইরেজি নাম "ইউক্যারিয়টিক"-এর অর্থ "প্রকৃত নিউক্লিয়াস"। অন্যান্য পার্থক্যের মধ্যে রয়েছে:

  • প্লাজমা ঝিল্লি অনেকটা আদি কোষের মতই, তবে কার্যাবলী এবং গঠনে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। কোষ প্রাচীর থাকতে পারে আবার নাও থাকতে পারে।
  • প্রকৃত কোষের ডিএনএ এক বা একাধিক রৈখিক অণুতে বিন্যস্ত থাকে যাদেরকে ক্রোমোসোম বলা হয়। ক্রোমোসোম হিস্টোন প্রোটিনের সাথে সম্পর্কিত। সকল কোমোসোমাল ডিএনএ কোষের নিউক্লিয়াসে সজ্জিত থাকে যা একটি ঝিল্লির মাধ্যমে সাইটোপ্লাজম থেকে পৃথকীকৃত থাকে। প্রকৃত কোসের কিছু অঙ্গাণুরও নিজস্ব ডিএনএ রয়েছে।
  • এরা সিলিয়া বা ফ্লাজেলা ব্যবহার করে চলাচল করতে পারে। এদের ফ্লাজেলা আদি কোষের তুলনায় জটিল।[৩]

কোষ বিভাজন[সম্পাদনা]

মাইটোসিস[সম্পাদনা]

যে পরোক্ষ কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় মাতৃকোষের সমসংখ্যক ও সমগুণসম্পন্ন ক্রোমোজোম ও সমপরিমাণ সাইটোপ্লাসমসহ দুইটি অপত্য নিউক্লিয়াসের সৃস্টি হয় তাকে মাইটোসিস বলে। প্রাণীর বর্ধনশীল দেহকোষে মাইটোসিস হয়। ক্ষতস্থানের আশে পাশে , জননাঙ্গে , অস্থিমজ্জায় , আবরণী কলায় ও নীচুতর প্রাণীর ছিন্ন দেহাংশে মাইটোসিস হয়। মাইটোসিসকে পাঁচ পর্যায়ে ভাগ করা যায় :

  • প্রোফেজ
  • প্রো-মেটাফেজ
  • মেটাফেজ
  • এনাফেজ
  • টেলোফেজ

মাইটোসিস কোষ বিভাজন জীবের জন্য খুবই গুরুত্ত্বপূর্ণ ৷ মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে জীব দৈর্ঘ্যে -প্রস্থে লম্বা হয় ৷ মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমেই উন্নত ধরনের জীব সৃষ্টি হতে পারে ৷মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে জননাঙ্গ সৃষ্টি হয়,ফলে বংশবৃদ্ধির ক্রমধারা রক্ষিত হয়।

মিয়োসিস[সম্পাদনা]

মিয়োসিস প্রক্রিয়া দেখানো হয়েছে

মিয়োসিস ( ইংরেজী-meiosis) এক বিশেষ ধরণের কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া যাতে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসটি উপর্যুপরি দুবার বিভাজিত হলেও ক্রোমোসোমের বিভাজন ঘটে মাত্র একবার, ফলে অপত্য কোষে ক্রোমোসোমের সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যায়। ১৮৮৭ খ্রিষ্টাব্দে বোভেরী (Bovery) সর্বপ্রথম গোল কৃমির জননাংগে এরুপ কোষবিভাজন প্রত্যক্ষ করেন। বিজ্ঞানী স্ট্রাসবুর্গার (Strasburgar) ১৮৮৮ খ্রিষ্টাব্দে সপুষ্পক উদ্ভিদের জনন মাতৃকোষে এরুপ কোষবিভাজন প্রত্যক্ষ করেন। এরপর ১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দে জে. বি. ফারমার (J.B. Farmer) ও জে. ই. এস. মুর (J.E.S. Moore) এ বিশেষ ধরণের কোষবিভাজনের নামকরণ করেন। [৪]গ্রীক মূল শব্দ‌ের (meioun=to lessen) উপর ভি‌ত্ত‌ি করে এর বানান করা হয় Meiosis অর্থাৎ মি‌য়ো‌সিস ।[৫]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Cavalier-Smith, T. 2009: Megaphylogeny, cell body plans, adaptive zones: causes and timing of eukaryote basal radiations. Journal of eukaryotic microbiology, 56: 26–33. doi: 10.1111/j.1550-7408.2008.00373.x
  2. Adl, S.M. et al. 2005: The new higher level classification of eukaryotes with emphasis on the taxonomy of protists. Journal of eukaryotic microbiology, 52: 399–451. doi: 10.1111/j.1550-7408.2005.00053.
  3. Satir, Peter; Christensen, ST; Søren T. Christensen (২০০৮-০৩-২৬)। "Structure and function of mammalian cilia"Histochemistry and Cell Biology (Springer Berlin/Heidelberg) 129 (6): 687–693। ডিওআই:10.1007/s00418-008-0416-9পিএমআইডি 18365235পিএমসি 2386530। 1432-119X। সংগৃহীত ২০০৯-০৯-১২ 
  4. J.B. Farmer and J.E.S. Moore, Quarterly Journal of Microscopic Science 48:489 (1905) as quoted in the Oxford English Dictionary, Third Edition, June 2001, s.v.
  5. উচ্চ মাধ্য‌মিক জীব‌বিজ্ঞান,প্রথম পত্র,ড.‌মোহাম্মদ আবুল হাসান