মাইটোসিস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

টেমপ্লেট:উৎসযুক্ত:ড.মোহাম্মদ আবুল হাসান

মাইটোসিস বিভাজনরত কোষের অনুবীক্ষণ চিত্র

মাইটোসিস বা সমীকরণিক হলো এক ধরনের কোষ বিভাজন। উন্নত শ্রেণীর প্রাণী ও উদ্ভিদের দেহকোষে মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজন ঘটে। প্রকৃতকোষী জীবদেহ গঠনের কোষ বিভাজন হলো মূলত মাইটোসিস কোষ বিভাজন। মাইটোসিস (ENGLISH: Mitosis) বলতে বুঝায় যে পরোক্ষ কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় মাতৃকোষের সমসংখ্যক ও সমগুণসম্পন্ন ক্রোমোজোম ও সমপরিমাণ সাইটোপ্লাসম সহ দুইটি অপত্য নিউক্লিয়াসের সৃষ্টি হওয়াকে। মাইটোসিস কোষ বিভাজন দুই ভাগে ঘটে।

১. ক্যারিওকাইনেসিস(নিউক্লিয়াসের বিভাজন) ২.সাইটোকাইনেসিস(সাইটোপ্লাজমের বিভাজন)

মাইটোসিস ও সাইটোকাইনেসিস কে একসাথে মাইটোটিক বলে ।

কোথায় ঘটে?[সম্পাদনা]

প্রাণীর বর্ধনশীল সমস্ত দেহকোষে মাইটোসিস হয়। মেরুদণ্ডী প্রাণীর অস্থিমজ্জায় , রোমকূপে, অন্ত্রের ভিলাসগুলির অন্তর্বর্তী কূপে, অণ্ডকোষে, ক্ষতস্থানের আশে পাশে সবথেকে বেশি মাইটোসিস হয়। তবে, উদ্ভিদের বর্ধনশীল কান্ডে, ভূণমুকুলে, ভূণমূলে ও ভাজক কলায় মাইটোসিস হয়।

মাইটোসিস বিভাজনের ধাপসমূহ[সম্পাদনা]

  • প্রথমে ইন্টারফেজ দশা শুরু হয়। এই পর্যায়ে কোষের নিউক্লিয়াস পুষ্টি গ্রহণ করে আকারে বড় হয়।

মাইটোসিসকে চারটি পযার্য়ে ভাগ করা যায় :

উদ্ভিদের বর্ধনশীল কান্ডে, ভূণমুকুলে, ভূণমূলে ও ভাজক কলায় মাইটোসিস বিভাজন ঘটে।

মাইটোসিসের গুরুত্ব[সম্পাদনা]

মাইটোসিস কোষ বিভাজন জীবের জন্য খুবই গুরুত্ত্বপূর্ণ; কারণ মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে জীব দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়৷ মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমেই উন্নত ধরনের জীব সৃষ্টি হতে পারে৷ এর মাধ্যমে জননাঙ্গ সৃষ্টি হয় বলে বংশবৃদ্ধির ক্রমধারা রক্ষিত হয়। প্রাণী দেহে কিছু কিছু কোষ আছে যাদের আয়ুষ্কাল নির্দিষ্ট; এসব কোষ বিনষ্ট হলে মাইটোসিসের মাধ্যমে পূরন হয়।

মাইটোসিসের বৈশিষ্ট্য[সম্পাদনা]

১| এ প্রক্রিয়ায় প্রতিটি ক্রোমোসোম লম্বালম্বিভাবে তথা অনুদৈর্ঘ্যে দুটি ক্রোমাটিডে বিভক্ত হয়। ২| প্রতিটি ক্রোমাটিড তথা অপত্য ক্রোমোসোম তার নিকটস্থ মেরুতে পৌছে দুটি অপত্য নিউক্লিয়াসের সৃষ্টি করে। কাজেই দুটি অপত্য কোষেই ক্রোমসোম সংখ্যা সমান থাকে। ৩|অপত্য কোষগুলো মাতৃকোষের সমগুনসম্পন্ন হয়,কারণ জীবের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রক জিনসমূহ বহনকারী ক্রোমোসোমগুলোর প্রতিটি লম্বালম্বিভাবে বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষের নিউক্লিয়াসে যায়। ৪| অপত্য কোষের ক্রোমসোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমসোম সংখ্যার সমান হয়ে থাকে। ৫| অপত্য কোষ বৃদ্ধি পেয়ে মাতৃকোষের সমান আয়তনের হয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:ড.মোহাম্মদ আবুল হাসান