কোষ নিউক্লিয়াস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
নিউক্লিয়াস

নিউক্লিয়াস (ইংরেজি: Cell Nucleus) হল প্রোটোপ্লাজমের সবচেয়ে ঘন, পর্দাঘেরা এবং প্রায় গোলাকার অংশ। প্রকৃত (ইউক্যারিওটিক) কোষের যে অঙ্গাণুটি দ্বিস্তর বিশিষ্ট আবরণী বেষ্টিত থাকা অবস্থায় প্রোটপ্লাজমিক রস এবং ক্রোমাটিন জালিকা ধারণ করে, এছাড়াও কোষের সব জৈবনিক ক্রিয়া বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রন করে তাকে বলা হয় নিউক্লিয়াসরবার্ট ব্রাউন (Robert Brown) সর্বপ্রথম ১৮৩১ সালে অর্কিড পাতার কোষে নিউক্লিয়াস দেখতে পান এবং এর নামকরণ করেন।[১]

গঠন[সম্পাদনা]

এর আকৃতি গোলাকার, ডিম্বাকার, নলাকার, উপবৃত্তাকার, প্যাঁচানো থালার মত এবং শাখান্বিও হতে পারে ৷ রাসায়নিকভাবে নিউক্লিয়াস মূলত প্রোটিন ও নিউক্লিক এসিড দ্বারা গঠিত। এতে অন্যান্য উপাদানও থাকে। যেমনঃ প্রোটিন (Protein), আরএনএ(RNA), ডিএনএ(DNA) । সিভকোষ বা লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না৷[২] নিউক্লিয়াসে বংশগতির বৈশিষ্ট্য নিহিত ৷ এটি কোষে সংঘটিত বিপাকীয় কার্যাবলিসহ সব ক্রিয়া-বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রন করে ৷ সুগঠিত নিউক্লিয়াসে নীচের অংশগুলো দেখা যায়:

নিউক্লিয়াস ঝিল্লি বা নিউক্লিও পর্দা[সম্পাদনা]

উচ্চমানসম্পন্ন মাইক্রোস্কোপ এ দৃশ্যমান নিউক্লিয়াস

নিউক্লিয়াস কে ঘিরে রাখে যে ঝিল্লী তাকে নিউক্লিয়াস ঝিল্লী বলে ৷ এটি দ্বিস্তর বিশিষ্ট ঝিল্লী ৷ এ ঝিল্লী লিপিডপ্রোটিন এর সমন্বয়ে গঠিত ৷ এ ঝিল্লীতে মাঝে মাঝে কিছু ছিদ্র থাকে একে নিউক্লিওরন্ধ্র বলে ৷ এই ছিদ্রের মাধ্যমে কেন্দ্রিকা ও সাইটোপ্লাজম এর মধ্যে কিছু বস্তু চলাচল করে ৷ এই ঝিল্লী সাইটোপ্লাজম থেকে কেন্দ্রিকার অন্যান্য বস্তুকে পৃথক করে ও বিভিন্ন বস্তুর চলাচল নিয়ন্ত্রন করে ৷[৩]

নিউক্লিওপ্লাজম[সম্পাদনা]

কেন্দ্রিকা ঝিল্লীর অভ্যন্তরে জেলির ন্যায় বস্তু বা রসকে কেন্দ্রকারস বা নিউক্লিওপ্লাজম বলে ৷ কেন্দ্রিকা রসে নিউক্লিক অ্যাসিড , প্রোটিন , উৎসেচক ও কতিপয় খনিজ লবণ থাকে ৷

নিউক্লিওলাস[সম্পাদনা]

কেন্দ্রিকার মধ্যে ক্রোমোজম এর সাথে লাগানো গোলাকার বস্তুকে নিউক্লিওলাস বা কেন্দ্রিকাকাণু বলে ৷ ক্রোমোজোমের রঙঅগ্রাহী অংশের সাথে এরা লেগে থাকে ৷ এরা RNAপ্রোটিন দ্বারা গঠিত ৷ এরা নিউক্লিক অ্যাসিড মজুত করে ও প্রোটিন সংশ্লেষণ করে ৷ নিউক্লিওলাস ক্রোমোজোমের যে স্থানটিতে লাগানো থাকে তাকে বলা হয় স্যাটেলাইট।

ক্রোমাটিন জালিকা বা নিউক্লিও জালিকা[সম্পাদনা]

কোশের বিশ্রামকালে কেন্দ্রিকায় কুন্ডলী পাকানো সূক্ষ সুতার ন্যায় অংশই হল ক্রোমাটিন জালিকা ৷ কোশ বিভাজনের সময় এরা মোটা ও খাটো হয় তাই তখন তাদের অালাদা ক্রোমোজোম হিসেবে দেখা হয় ৷

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. হাসান, ড. মোহাম্মদ আবুল। "কোষ"। জীববিজ্ঞান-২য় পত্র (2 সংস্করণ)। হাসান বুক হাউস। 
  2. আজমল, গাজী; আসমত, গাজী। "কোষ"। উচ্চ মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান (2 সংস্করণ)। গাজী পাবলিসার্স। 
  3. রীপা, রাহাত পারভীন (২০১১-১০-০১)। "নিউক্লিয়াস ও ক্রোমোজোম"। BdFISH Bangla।