মাইটোকন্ড্রিয়া

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মানুষের মাইটোকন্ড্রিয়া

মাইটোকন্ড্রিয়া ( Mitochondria) এক প্রকার কোষীয় অঙ্গানু, যা সুকেন্দ্রিক কোষে পাওয়া যায়।

রঞ্জক[সম্পাদনা]

জেনাস গ্রীন।

আবিস্কার[সম্পাদনা]

মাইটোকন্ড্রিয়ার আবিস্কার নিয়ে মতভেদ আছে।একটি মতে,বিজ্ঞানী অল্টম্যান ১৮৯৪ সালে ইহা আবিস্কার করেন।আবার কারও মতে,গ্রিক বিজ্ঞানী সি.বেন্ডা ১৮৯৭ সালে মাইটোকন্ড্রিয়া আবিস্কার করেন।

অবস্থান[সম্পাদনা]

লোহিতরক্তকণিকা এবং সীভনল ব্যতীত সকল প্রকার শক্তিউৎপাদী কোষেই মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে।

সংখ্যা[সম্পাদনা]

২০০-৩০০ প্রতি কোষ এ

বৃদ্ধি[সম্পাদনা]

গঠন[সম্পাদনা]

মাইটোকন্ড্রিয়া দুটি এককপর্দা দিয়ে গঠিত,যাদের প্রত্যেকটির বেধ ৬০Å। ভিতরেরটিকে অন্তঃআবরণী(Inner Membrane)এবং বাইরেরটিকে বহিরাবরণী(Outer Membrane)বলা হয়। দুটি এককপর্দার মধ্যবর্তী স্থানকে পেরিমাইটোকন্ড্রিয়াল স্পেস (৬০-৯০Å) বলে। প্রতিটি এককপর্দা লাইপোপ্রোটিন(P-L-P)নির্মিত। অন্তঃপর্দা ভিতরের দিকে ভাঁজ হয়ে যে বিভেদক প্রাচীর সৃষ্টি করে তাকে ক্রিস্টি(Cristae) বলে। অন্তঃপর্দার ভিতরে অর্ধতরল ধাত্র বা ম্যাট্রিক্স বর্তমান।এই ধাত্রে বিভিন্ন প্রকার উৎসেচক বর্তমান। বহিঃপর্দার বহিঃগাত্রকে C-তল (Cytoplasmic Surface)এবং অভ্যন্তরীণ তলকে M-তল(Matrix surface)বলে। ক্রিস্টির গাত্রে অসংখ্য সবৃন্তক কণা বর্তমান,একে অক্সিজোম বা F1 বা ফার্নান্ডেজ-মোরান অধঃএকক বলে। বর্তমানে জানা গেছে,অক্সিজোম ৫টি অধঃএককের সমন্বয়ে গঠিত।এদের 3α,3β,1γ,1Δ ও 1ε দ্বারা প্রকাশ করা হয়। এই অধঃএককগুলি শ্বাস উৎসেচকে পূর্ণ। অক্সিজোমের গোলাকার মস্তকের ব্যাস ৭৫-১০০Å,বৃন্তটি লম্বাকার অংশ ৫০Å দীর্ঘ এবং চওড়ায় ৩৫-৪০Å। আয়তাকার বেস(Base বা F0 subunit)১১৫Å*৪৫Å আয়তনের বেস।প্রতিটি মাইটোকন্ড্রিয়ায় অক্সিজোমের সংখ্যা ১০০০০-১০০০০০।

প্রতিটি অক্সিজোম পরস্পর থেকে ১০০Å দূরে থাকে। বহিঃপর্দার বহিঃগাত্রে কিছু অবৃন্তক কণা বর্তমান,এদের পারসনের অধঃএকক বলে। মাইটোকন্ড্রিয়ার ম্যাট্রিক্সে ৩-৫টি চক্রাকার DNA বর্তমান,একে মাইটোকন্ড্রিয়াল DNA বলে। ম্যাট্রিক্সে মাঝেমাঝে গুচ্ছাকারে ৫৫S প্রকৃতির রাইবোজোম বর্তমান,এদের মিটোরাইবোজোম বলে।

কাজ[সম্পাদনা]

সবাত শ্বসনের দ্বিতীয় পর্যায় ক্রেবস চক্র ও ইলেক্ট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইনের বিক্রিয়া সমূহ মাইটোকন্ড্রিয়াতে সংঘটিত হয়।এর মাধ্যমে ATP(Adenosine Triphosphate)অণু সংশ্লেষ করে যা সকল শক্তির উৎস বলে মাইটোকন্ড্রিয়াকে Powerhouse of Cell বা কোষের শক্তিঘর বলে। ইহা লেসিথিন এবং ফসফাটাইডাইল-ইথানলামিন নামক দুটি ফ্যাট সংশ্লেষে সহায়তা করে। ইহা ফ্যাটি অ্যাসিড বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে। ইহা জীবদেহে জৈবদ্যুতি(Bio luminescence)ঘটায়।অর্থাৎ মাইটোকন্ড্রিয়া জোনাকির দেহে লুসিফেরন নামক প্রোটিনকে লুসিফেরেজ নামক উৎসেচক দ্বারা জারিত করে ফসফরাসের বিয়োজন ঘটায় যা আলোক সৃষ্টি করে। এখানে হিমোগ্লোবিন এবং মায়োগ্লোবিনের হিম(Haem)অংশ সংশ্লেষিত হয়।