শুভাশিস রায়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
শুভাশিস রায়
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামশুভাশিস রায়
জন্ম (1988-11-29) ২৯ নভেম্বর ১৯৮৮ (বয়স ৩০)
বাংলাদেশ
ডাকনামশুভ[১]
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি মিডিয়াম
ভূমিকাবোলার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৮২)
১২ জানুয়ারি ২০১৭ বনাম নিউজিল্যান্ড
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ১২১)
২৯ ডিসেম্বর ২০১৬ বনাম নিউজিল্যান্ড
ওডিআই শার্ট নং১০
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
২০০৭-বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড একাডেমি
২০০৭-রংপুর বিভাগ
২০১২সিলেট বিভাগ
২০১৫-সিলেট সুপার স্টার্স
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা ওডিআই এফসি এলএ টি২০
ম্যাচ সংখ্যা ৫১ ৪৮ ২০
রানের সংখ্যা ১৩৪ ৪৬
ব্যাটিং গড় - ৩.৪৩ ৫.৭৫ -
১০০/৫০ -/- ০/০ -/- ০/০
সর্বোচ্চ রান * ৩৩ ১২* ২*
বল করেছে ৬০ ৭৪৯৮ ২২২৮ ৪১৪
উইকেট ১৩৬ ৫৯ ২৩
বোলিং গড় ৪৫.০০ ২৮.২৭ ২৭.৯১ ২৪.২১
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট - - -
সেরা বোলিং ১/৪৫ ৫/১৮ ৪/৩০ ৪/২৭
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং -/– ১৭/– ১১/– ৫/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো, ১২ জানুয়ারি ২০১৭

শুভাশিস রায় (জন্ম: ২৯ নভেম্বর, ১৯৮৮) প্রথিতযশা বাংলাদেশী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড একাডেমি, রংপুর বিভাগসিলেট সুপার স্টার্সের পক্ষে খেলছেন। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে সিলেট বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করছেন। ‘শুভ’ ডাকনামে পরিচিত শুভাশিস রায় মূলতঃ বোলার। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করে থাকেন।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

বিখ্যাত অস্ট্রেলীয় ফাস্ট বোলার গ্লেন ম্যাকগ্রা’র বোলিং ভঙ্গীমা ও নিখুঁত লেন্থের সাথে তার বোলিংয়ের বেশ মিল রয়েছে ও তাকে আদর্শ মানেন শুভাশিস। ১৮ বছর বয়সে ২০০৬-০৭ মৌসুমে ঢাকা লীগে ক্রিকেট কোচিং স্কুলের পক্ষে অভিষেক ঘটে। শুরুতে তার বোলিং নিয়ে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। পপিং ক্রিজে এসে বল ছোড়ার মূহুর্তে গতি কমে যেতো। কোচ সারওয়ার ইমরানসাইফুল ইসলামের সহায়তায় তার এ সমস্যা দূরীভূত হয়।

১০ নভেম্বর, ২০০৭ তারিখে সিলেট বিভাগের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষিক্ত হন ও বরিশাল বিভাগের বিরুদ্ধে খেলেন। এ খেলায় তিনি ৭ উইকেট দখল করে সকলের নজর কাড়েন।[২] একই মাসের ১৪ তারিখে একই দলের বিপক্ষে লিস্ট এ ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার।

২০০৮ সালে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পক্ষে খেলার জন্য মনোনীত হন। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্য থাকাকালে স্বদেশে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলেন। ফতুল্লায় অনুষ্ঠিত খেলায় পাঁচ-উইকেট দখল করে বাংলাদেশকে সিরিজ জয়ে সবিশেষ ভূমিকা রাখেন।

২০০৮-০৯ মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২১ উইকেট পান। তন্মধ্যে দুইবার পাঁচ-উইকেট দখল করেছিলেন তিনি। ২০১৪-১৫ মৌসুমে ঢাকা প্রিমিয়ার লীগের লিস্ট এ ক্রিকেটে ২১ উইকেট নেন। পরের মৌসুমেও ১৮ উইকেট নেন যা তার বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে অন্তর্ভূক্তির প্রবল দাবীদার হয়ে উঠে।

খেলোয়াড়ী জীবন[সম্পাদনা]

ঘরোয়া ক্রিকেট দূর্দান্ত সাফল্য পেলেও সমসাময়িক অন্যান্যদের তুলনায় তাকে বেশ দেরীতে জাতীয় দলে অন্তর্ভূক্ত হতে হয়। অক্টোবর, ২০১৬ সালে সফরকারী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের জন্য সাব্বির রহমানশফিউল ইসলামকে বিশ্রামে পাঠিয়ে মোসাদ্দেক হোসেন-সহ তাকে বাংলাদেশ দলে নেয়া হয়।[৩] কিন্তু কয়েকদিন পরই সাব্বির রহমান সুস্থ হয়ে যাবার কথা ঘোষণা করার প্রেক্ষিতে তার টেস্ট অভিষেক হয়নি।[৪]

নিউজিল্যান্ড সফরকে সামনে রেখে নভেম্বর, ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ায় স্থাপিত প্রশিক্ষণ শিবিরে বাংলাদেশের ২২-সদস্যবিশিষ্ট প্রাথমিক তালিকায় তিনিও অন্তর্ভূক্ত হন।[৫] ডিসেম্বর, ২০১৬ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজে খেলার জন্য তাকেও দলে রাখা হয়।[৬] ২৬ ডিসেম্বর ক্রাইস্টচার্চে সিরিজের প্রথম ওডিআইয়ে রুবেল হোসেন, মেহেদী হাসানতানভীর হায়দারের সাথে তারও খেলার কথা ছিল।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

অবশেষে ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৬ তারিখে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের ২য় একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তার এ দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটে। নেলসনের স্যাক্সটন ওভালে নুরুল ইসলামতানভীর হায়দারের সাথে তার এ অভিষেক পর্বটি অবশ্য সুখকর হয়নি।[৭] বাংলাদেশ টসে জয়লাভ করে ও পরবর্তীতে ম্যান অব দ্য ম্যাচ পুরস্কারপ্রাপ্ত নিল ব্রুমের অপরাজিত ১০৯* রানের সুবাদে নিউজিল্যান্ড মাঝারি মানের ২৫১ রানের সংগ্রহ করে। তিনি নির্ধারিত ১০ ওভারে এক মেইডেন নিয়ে ৪৫ রানের বিনিময়ে মিচেল স্যান্টনারকে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা’র হাতে কট দিয়ে নিজের প্রথম উইকেট তুলে নেন। এরপর ১১ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৯ বল খরচায় অপরাজিত ১* রান তুলেন। খেলায় বাংলাদেশ দল ৬৭ রানের ব্যবধানে পরাজিত হয় ও ৩ ওডিআইয়ে গড়া এ সিরিজে ০-২ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১২ জানুয়ারি, ২০১৭ তারিখে এ সফরেই তাসকিন আহমেদের সাথে তার টেস্ট অভিষেক হয়।[৮]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Subashis Roy - Cricinfo profile" [খেলোয়াড়ের প্রোফাইল - শুভাশিস রায়]। ইএসপিএন ক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৫ নভেম্বর ২০১৫ 
  2. "Barisal Division v Sylhet Division, 10-13 November 2007" [বরিশাল বিভাগ বনাম সিলেট বিভাগ, ১০-১৩ নভেম্বর, ২০০৭]। ইএসপিএন ক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৫ নভেম্বর ২০১৫ 
  3. "Mosaddek, Subashis called up for second Test" [দ্বিতীয় টেস্টের জন্য মোসাদ্দেক, শুভাশিসকে ডাকা হয়েছে]। ইএসপিএন ক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৪ অক্টোবর ২০১৬ 
  4. "Ill Shabbir declared fit for second Test" [দ্বিতীয় টেস্ট খেলার জন্য সাব্বির উপযুক্ত]। ইএসপিএন ক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৬ অক্টোবর ২০১৬ 
  5. "Bangladesh include Mustafizur in preparatory squad" [বাংলাদেশের প্রাথমিক দলে মুস্তাফিজুরের অন্তর্ভূক্তি]। ইএসপিএন ক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৪ নভেম্বর ২০১৬ 
  6. "Mustafizur returns to Bangladesh ODI squad" [বাংলাদেশের ওডিআই দলে মুস্তাফিজুরের প্রত্যাবর্তন]। ইএসপিএন ক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০ ডিসেম্বর ২০১৬ 
  7. "Bangladesh tour of New Zealand, 2nd ODI: New Zealand v Bangladesh at Nelson, Dec 29, 2016" [নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশ দলের সফর, ২য় ওডিআই: নিউজিল্যান্ড ব বাংলাদেশ, নেলসন, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৬]। ইএসপিএন ক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৬ 
  8. "Bangladesh tour of New Zealand, 1st Test: New Zealand v Bangladesh at Wellington, Jan 12-16, 2017"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৬ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]