রেচন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search

শক্তি এবং বৃদ্ধির প্রয়োজনে জীব (উদ্ভিদ এবং প্রাণী) খাদ্য গ্রহণ করে । খাদ্যদ্রব্যগুলোর পরিপাক এবং বিপাক এর কালে কিছু অপ্রয়োজনীয় পদার্থ সৃষ্টি করে । অপ্রয়োজনীয় এবং ক্ষতিকর বস্তুগুলো একটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় দেহ থেকে নিষ্কাষিত হয় । প্রক্রিয়াটির নাম রেচন

নিঃসরণ বা বহিঃষ্করণ এবং রেচন এক নয় । নিঃসরণে বস্তুসমূহ কোষ নির্গত হওয়ার পর নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে । রেচন প্রক্রিয়ায় নিষ্কাষিত বস্তুগুলোকে বলা হয় রেচন পদার্থ । রেচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী অঙ্গগুলোকে বলা হয় রেচন অঙ্গ ।

প্রাণীদের রেচনঃ[সম্পাদনা]

ভার্টেব্রেটা প্রজাতির প্রানীদের প্রধান রেচন অঙ্গ হল বৃক্ক, ফুসফুস , যকৃৎ এবং ত্বক

এককোষী জীবসমূহে রেচন পদার্থসমূহ সরাসরি কোষের বাইরে নির্গত হয় ।

জলজ প্রাণী সমূহ বর্জ্য পদার্থ হিসেবে সাধারনত অ্যামোনিয়া ত্যাগ করে । অ্যামোনিয়া উচ্চমাত্রায় দ্রবণীয় বলে পানিতে এটা দ্রবীভূত থাকে ।

পাখিরা নাইট্রোজেনজাত বর্জ্য পদার্থ ইউরিক অ্যাসিড ত্যাগ করে ।

ইনসেকটা পর্বের প্রাণীদের ম্যালপিজিয়ান নালিকা নামক রেচন অঙ্গ থাকে । ম্যালপিজিয়ান নালিকা রেচন পদার্থ সমূহ দেহের বাইরে ত্যাগ করে । কিছু রেচন পদার্থ মালপিজিয়ান নালিকায় আজীবনের জন্য সঞ্চিত থাকে ।

উদ্ভিদের রেচনঃ[সম্পাদনা]

প্রাণীদের তুলনায় উদ্ভিদের বিপাক ক্রিয়া ধীরগতিতে সম্পন্ন হয় এবং উদ্ভিদের নির্দিষ্ট রেচন অঙ্গ না থাকায় বর্জ্য পদার্থের নিষ্কাশন ও একটি ধীর প্রক্রিয়া ।

সবুজ উদ্ভিদ এবং ক্লোরোফিলবিহীন উদ্ভিদ অন্ধকারে শ্বসন এর সময় বর্জ্য পদার্থ হিসেবে কার্বন ডাই অক্সাইড এবং পানি উৎপন্ন করে । কার্বন ডাই অক্সাইড দিনের বেলা সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়ে যায়। সালোকসংশ্লেষণে উৎপন্ন অক্সিজেন স্টোমাটা, আন্তঃকোষীয় ছিদ্র ইত্যাদির মাধ্যমে বের করে দেওয়া হয় । উদ্ভিদের অতিরিক্ত পানি প্রস্বেদন এর মাধ্যমে বের করে দেওয়া হয় । গাছের ঝরে যাওয়া পাতাতেও কিছু রেচন পদার্থ সঞ্চিত থাকতে দেখা যায়।

তথ্যসূত্রঃ[সম্পাদনা]

  • wikipedia(english)
  • উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান- গাজী আজমল