বিষয়বস্তুতে চলুন

মাহিষ্য

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মাহিষ্য
রাণী রাসমণি, কলকাতার দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা মাহিষ্য পরিবারের
ধর্ম হিন্দুধর্ম
ভাষাবাংলা
জনবহুল অঞ্চলনদীয়া, ২৪ পরগণা, হাওড়া, হুগলী, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান, বাঁকুড়া, মেদিনীপুর, ফরিদপুর, রাজশাহী, পাবনা, দিনাজপুর, মালদহ, ঢাকা, যশোর, কলকাতা (আনু.১৯৩১ সালের আদমশুমারি)

মাহিষ্য হলো ঐতিহাসিকভাবে বাংলার একটি যোদ্ধা কৃষিপ্রধান বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়,[][] এবং অবিভক্ত বাংলায় বৃহত্তম জাতি গঠন করেছিল।[][] মাহিষ্যরা সম্ভবত সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় বাঙালি জাতি ছিল এবং আছে যারা বৈষয়িক অবস্থা ও পদমর্যাদার দিক থেকে সম্ভাব্য সকল শ্রেণির মানুষ নিয়ে গঠিত একটি সমাজ।[]

১৯৩১ সালের আদমশুমারি রিপোর্ট অনুসারে, মাহিষ্যরা ভৌগলিকভাবে সমস্ত অবিভক্ত বাংলায় ছিল এবং বঙ্গদেশের হিন্দু জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশ গঠন করেছিল, তবে তারা জনবহুল ভাবে দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলায় প্রধানত বসবাস করত।[][][]

বর্তমানের মাহিষ্য সম্প্রদায় ব্রিটিশ রাজ আমলে মাহিষ্য, চাষী কৈবর্ত, উত্তর রাঢ়ী কৈবর্ত, পূর্বদেশী কৈবর্ত, পরাশর দাস, চাষী দাস, হালিক দাস প্রভৃতি আঞ্চলিক নামে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে পরিচিত ছিল বা নিজেদের পরিচয় দিত।[][১০][১১] ঐতিহাসিক সুমিত সরকার উল্লেখ করেছেন মাহিষ্যদের বর্তমান মূল বসতি দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গ এবং গাঙ্গেয় ব-দ্বীপের পশ্চিমাঞ্চল।[১২] পন্ডিত লালমোহন বিদ্যানিধি এবংমহিমাচন্দ্র মজুমদারের মতে "মাহিষ্যজাতি মহাবল পরাক্রান্ত হইয়া স্বাধীন রাজ্য স্থাপন করেন, তখন ইহারা অশ্বপতি, গজপতি, নরপতি, ছত্রপতি এই ৪ শাখাতে বিভক্ত হন।''[১৩][১৪][১৫]

খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতাব্দীতে গুপ্ত যুগে বাংলার কলাইকুড়ি-সুলতানপুর তাম্রশাসন লিপিতে কৈবর্তশর্ম্মণ নামে এক ব্রাহ্মণ কুটুম্বিন(কৃষক গৃহস্থ)-এর উল্লেখ পাওয়া যায় যিনি স্থানীয় সভার (অধিকরণ) সদস্য ছিলেন - এটি বাংলার ইতিহাসে কৈবর্ত নামের প্রথম উল্লেখ। ঐতিহাসিক স্বপ্না ভট্টাচার্য উল্লেখ করেছেন যে বরেন্দ্রতে কৈবর্ত শুধুমাত্র নৌকর্মজীবি এবং কৃষিজীবী নয়, ব্রাহ্মণদেরও প্রতিনিধিত্ব করেছিল।[১৬][১৭] ঐতিহাসিক রায়োসুকে ফুরুই উল্লেখ করেছেন বরেন্দ্র-তে উল্লেখিত এই "কৈবর্ত" স্মৃতিশাস্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এমন বৈচিত্র্যময় কোন সামাজিক গোষ্ঠী হতে পারে।[১৮] যুগের তাম্রশাসনে বরেন্দ্রতে উদ্ধন্নকৈবর্তবৃত্তিবহিকল ও ওসিন্নকৈবর্তবৃত্তি নামে দুটি জায়গা বা স্থানবাচক নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। ফুরুই-এর মতে একাদশ শতাব্দীতে পাল রাজাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী সামন্তদের নেতা সম্ভবত এই অঞ্চলের সামন্ত ছিলেন।[১৯]

গৌরিপদ চ্যাটার্জি উল্লেখ করেছেন, মেদিনীপুরের কৈবর্ত হলো উড়িষ্যা এবং মেদিনীপুরের পশ্চিমে অবস্থিত ছোটনাগপুর মালভূমির ভূইয়া আদিবাসী জনজাতির বংশধর এবং এই অঞ্চলে এদের সংখ্যাবল প্রচুর হওয়ায় এরা আর্যদের বাংলায় প্রবেশের সঙ্গেই সসম্মানে হিন্দুধর্ম গ্রহণ করে এবং প্রাচীন কালে এদের মধ্যে থেকে অল্প কিছু ব্রাহ্মণও হয়েছিল।[২০] গদাধর ভট্টের কুলজি অনুযায়ী তমলুক, বালিসীতা (ময়না), তুর্কা, সুজামুঠা ও কুতুবপুরে কৈবর্তরা পাঁচটি ক্ষুদ্র রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে।[২১] আবুল ফজল লিখেছেন আকবরের রাজত্বকালে তমলুকের জমিদার ছিল খন্ডাইত, যেটা মূলত আদিবাসী ভূইয়া সর্দারদের মর্যাদা বৃদ্ধিকারী অভিধেয় ছিল।[২২][২৩] বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ পর্যন্তও তমলুক, ময়না, সুজামুঠায় কৈবর্ত ক্ষুদ্র জমিদার ছিলো।[২১]

রিসলের মতে, কৈবর্তরা হলো আর্য ও দ্রাবিড় জনগোষ্ঠীর সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা একটা জাতি। ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদারের মতে মাহিষ্যরা( চাষী কৈবর্ত) মূলনিবাসী জনগোষ্ঠী ও আর্য জাতির সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা জাতি। ভারতীয় বিজ্ঞানী ও পরিসংখ্যানবিদ প্রশান্ত চন্দ্র মহলানবীশের মতে, নৃতাত্ত্বিকভাবে কায়স্থ, সদগোপ, কৈবর্ত হলো "যথার্থ বঙ্গজন প্রতিনিধি"। [২৪][২৫]

প্রাচীন বাংলায়় মাহিষ্য খুব প্রভাবশালী জনগোষ্ঠী ছিল ‌। বাংলায় বৌদ্ধ ধর্মের বিস্তার হলে এরা বেশিরভাগই বৌদ্ধ হয়ে যায় । পশ্চিমবঙ্গের চাষী কৈবর্ত ও পূর্ববঙ্গের মাহিষ্য(দাস ও পরাশর দাস) পরবর্তীতে একই সম্প্রদায় হিসেবে পরিগণিত হয়।[২৬]

পুরাণ, স্মৃতি ও সংহিতা

[সম্পাদনা]

ত্রয়োদশ শতকে রচিত বৃহদ্ধর্মপুরাণ অনুযায়ী, শূদ্র পিতা ও ক্ষত্রিয় মাতার সন্তান হল দাস, এরা উত্তম সংকর পর্যায়ভুক্ত এবং এদের পেশা কৃষিকর্ম । আবার বৃহদ্ধর্মপুরাণে ক্ষত্রিয় পিতা ও বৈশ্য মাতার সন্তানদের কৈবর্ত বলা হয়েছে।[২৭][২৮] ব্রহ্মবৈবর্ত বা ব্রহ্মকৈবর্ত পুরাণে, যার বাংলার মিশ্র জাতি সংক্রান্ত অধ্যায় ষোড়শ শতকের পরে সংযোজন করা হয়েছে, ক্ষত্রিয় পিতা ও বৈশ্য মাতার সন্তান হল কৈবর্ত।[২৯] গৌতম ও যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতিতে এই ক্ষত্রিয়-বৈশ্য সন্তান মাহিষ্য নামে উল্লেখিত হয়েছে। মনুসংহিতা অনুযায়ী, মাহিষ্যদের পেশা হয় জ্যোতির্বিদ্যা, সঙ্গীতচর্চা, নৃত্যশিল্প ও ফসলাদির রক্ষা করা । সূতসংহিতাতে মাহিষ্যদের অম্বষ্ঠ বলা হয়েছে।[৩০][৩১]

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

বাংলার সর্ববৃহৎ, বৈচিত্র্যময় ও ঐতিহ্যপূর্ণ জনগোষ্ঠী হল মাহিষ্য। বিশিষ্ট ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদারের মতে পূর্ব বঙ্গের মাহিষ্য তথা হালিক দাস ও পরাশর দাস ও পশ্চিমবঙ্গের চাষী কৈবর্ত একই মাহিষ্য জাতি ধরা হত। ঐতিহাসিক রবীন্দ্রনাথ চক্রবর্তী উল্লেখ করেছেন কৈবর্তরা প্রাচীনকাল থেকেই সমুদ্রযাত্রা এবং নৌ বাণিজ্য করত।[৩২][৩৩][৩৪] পাল রাজা দ্বিতীয় মহীপালের সময় সামন্ত রাজা দিব্যক-এর বিদ্রোহ করে বরেন্দ্রভূমি দখল করেন এবং তিনি ও তাঁর দুই বংশধর রূদক ও ভীম প্রায় অর্ধ শতাব্দী বরেন্দ্র শাসন করেন।[৩৫][৩৬] ইতিহাসবেত্তা রোমিলা থাপরের মতে সামন্ত রাজাদের নেতৃত্বে এই লড়াই সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম সফল কৃষক বিদ্রোহ ।[৩৫][৩৭] প্রাচীন বাংলায় মাহিষ্যরা রাজকর্মচারী ও রাজ্যশাসক ছিলেন। পূর্ববঙ্গের মাহিষ্যদের মধ্যে রাজকর্মচারী ও সভাকবি ছিলেন। নীহাররঞ্জন রায়ের মতে ব্রাহ্মণ, অম্বষ্ঠ-বৈদ্য, করন-কায়স্থ ছাড়াও মাহিষ্যরা খুব প্রভাবশালী এক সম্প্রদায় ছিল এবং পরবর্তীতেও খুব সম্ভবত সেই প্রভাব অক্ষুন্ন রেখেছিলেন।[৩৮] পন্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে মাহিষ্যরা পূর্বে অত্যন্ত ক্ষমতাশালী ও যুদ্ধপ্রিয় জাতি ছিল। উত্তরে হিমালয়, দক্ষিণে পদ্মা ও গঙ্গা, পূর্বে যমুনা, পশ্চিমে বিহার সীমানা পর্যন্ত যে অঞ্চল বরেন্দ্রী নামে পরিচিত হত সেখানে যে পরাক্রান্ত হিন্দু বাঙালি জাতির অধিকারভুক্ত ছিল তারা মাহিষ্য জাতির ছিল।[৩৯]

ঊনবিংশবিংশ শতকের শেষের দিকে সমাজে মাহিষ্যদের অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন মতবাদ লক্ষ্য করা গেছে। ১৮৬৪ সালে ঢাকার বিক্রমপুরে সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য ৬৪ জন ব্রাহ্মণ পন্ডিতদের থেকে প্রথম ব্যবস্থাপত্র নেওয়া হয়‌। ঢাকার নান্নুর এর জমিদার কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের উৎসাহে বসন্তকুমার রায় মাহিষ্যদের নিয়ে প্রথম গ্রন্থ লেখেন- "মাহিষ্য বিবৃতি" । ক্রমে এই আন্দোলন পাবনা, নদীয়া , মুর্শিদাবাদ, কলকাতা, মেদিনীপুরে ছড়িয়ে পড়ে।[৪০] প্রাচীনপন্থী সংস্কৃতজ্ঞ পণ্ডিত রাজেন্দ্রলাল মিত্রের মতে, মাহিষ্যরা ক্ষুদ্র চাষী সম্প্রদায়ের যারা আধুনিকতাকে অর্থাৎ বিদ্যালয় শিক্ষা গ্রহণ করতে পারত না। কিন্তু নদীয়া পন্ডিত কলেজের প্রেসিডেন্ট যোগেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যর ১৮৯৬ সালে বাংলার "হিন্দুবর্ণ ও সম্প্রদায়"-এর উপর রচিত প্রধান গ্রন্থ অনুসারে প্রতীয়মান হয় যে, মেদিনীপুরের কাঁথি ও তমলুক মহকুমায় যেখানে চাষী-কৈবর্ত জনসংখ্যা অর্ধেকের বেশি সেখানে চাষী-কৈবর্তরাই সম্ভ্রান্ত শ্রেণী।[৪১] পূর্ববঙ্গের কিছু অঞ্চলে বিশেষত সিলেটে হালিক দাস বা মাহিষ্য ও বৈদ্য, কায়স্থদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল।[৪২] মাহিষ্য একটি অবিশ্বাস্যভাবে বৈচিত্র্যময় জাতি ছিল।  ২৪ পরগণায় তারা সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় 'লাঠদার' জমিদারদের একটি বড় অংশ গঠন করে।  নদিয়া জেলায়, তারা শিক্ষার মাধ্যমে নবজাগরনের সূচনা করে এবং নীলক্ষেত বিরুদ্ধে সংগ্রামী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। বর্ধমান, হুগলি, নদীয়া, ফরিদপুর জেলায় জমিদার, কৃষক গৃহস্থ, কৃষিজাত পণ্যের ব্যবসায়ী ছিল মাহিষ্যরা। ঢাকা জেলায় মাহিষ্যেদের সকল উচ্চ ও মধ্যবিত্তই ছিল জমিদার।[৪৩] কলকাতায় এক বিরাট মাহিষ্য দল ব্যবসায়ী ও আইনজীবী হিসেবে কাজ করত।[৪৪]  কলকাতায় কিছু বিখ্যাত জমিদার পরিবার - যেমন জানবাজারের মাড় পরিবার এবং টালিগঞ্জের বাওয়ালি মণ্ডল পরিবার মাহিষ্য ছিলেন। ঘাটাল, তমলুক, উলুবেড়িয়া মহকুমা অঞ্চলে প্রমুখ মণ্ডল, চৌধুরী, মাইতি, পাঞ্জা, বেরা ইত্যাদি পরিবারেরা রেশম উৎপাদন ও বাণিজ্য করে স্বচ্ছলতা অর্জন করেছিলেন ।[৪৫][৪৬] অপর দিকে মাহিষ্যদের মধ্যে বহু সংখ্যক আইনজীবী ও উদ্যোগপতিও ছিলেন। যেমন এরা ছিলেন ―  বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে হাওড়ার আয়রন ফাউণ্ড্রি সেক্টরের আলামোহন দাশের পরিবার ও অসংখ্য সৎ ও বিনয়ী উদ্যোক্তারা। তবুও তাদের বেশিরভাগই মানুষজন ছিলেন সম্ভবত চাষীই। ১৮৬০ দশকে পূর্ব মেদিনীপুরের একচেটিয়া লবণের ব্যবসা বন্ধের ফলে তারা সে জমি পুনরুদ্ধার করে। সেই সঙ্গে কেউ কেউ গৃহস্থালির কাজে অথবা কৃষি মজদুর হিসাবে কাজ করতে থাকেন।[৪৭]

অনেকেই গ্রামীণ এলাকায় পুরুষানুক্রমে কৃষিকাজে লিপ্ত থাকেন, তবে মাহিষ্য সম্প্রদায়ের বহুসংখ্যক মানুষ কৃষিকাজ ছেড়ে হাওড়া ও কলকাতার শহুরে এলাকায় ইঞ্জিনিয়ারিং এবং প্রশিক্ষিত কর্মী হিসাবে কাজ করতে থাকেন। হাওড়ায় মাহিষ্যেরা সংখ্যায় অনেক এবং একটি বড়ো অংশ সফল ব্যবসায়ী। ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে প্রায় ৬৭ শতাংশ ইঞ্জিনিয়ারিং - সামগ্রীর ব্যবসা মাহিষ্যেরা নিয়ে নেয়।[৪৮][৪৯][৫০]

লৌকিক ধর্ম ও সংস্কৃতি

[সম্পাদনা]

লৌকিক ধর্ম ও সংস্কৃতিতে মাহিষ্য সম্প্রদায়ের অবদান‌ ছিল অনেক। সপ্তদশ শতকে হুগলির সাধক কবি রামদাস আদক ধর্মমঙ্গল সাহিত্য শ্রী অনাদি মঙ্গল বা ধর্মপুরান রচনা করেন।[৫১][৫২][৫৩] শিব সংকীর্তন বা শিবায়ন কাব্যে দক্ষিণ-পশ্চিমবঙ্গের কৃষিনির্ভর সমাজের দরিদ্র সামাজিক অবস্থা নিপুনভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে; এ কাব্যে শিব নিজেই চাষী এবং গৌরী চাষী ঘরণী।[৫৪] বাংলার একটি ঐতিহ্যে শিব চাষী কৈবর্ত রূপে ভবানী ভর্তার সাথে অভিন্ন হয়ে গিয়েছন, অপর ঐতিহ্যে তিনি মৎস্যেন্দ্রনাথ রূপে যোগী ঈশ্বরে পরিণত হয়েছেন।[৫৫]

অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষার্ধে বালকদাস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বালকদাসী সম্প্রদায়, যেটা গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্মের সাথে সম্পর্কিত কিন্তু স্বতন্ত্র একটা লৌকিক ধর্ম সম্প্রদায় ছিল, যেখানে গোপাল বা বালককৃষ্ণ উপাস্য দেবতা ছিল। যশোর-খুলনা অঞ্চলের অনেক ছোট ব্যবসায়ী এবং কৃষক সম্প্রদায়ের মানুষ তাঁর শিষ্য হয়েছিল। বালকদাস চৈতন্য মহাপ্রভুর অচিন্ত্য ভেদ অভেদ তত্ত্ব সরল ও বোধগম্য করে শিষ্যদের দীক্ষা দিতেন ।[৫৬] অষ্টাদশ শতকের শেষে নদীয়ার মেহেরপুরে হাড়ি জাতির বলরাম হাড়ি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত বলরামী সম্প্রদায় ব্রাহ্মণ্য ধর্ম থেকে স্বতন্ত্র একটি লৌকিক ধর্ম ছিল কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পরে এক মাহিষ্য তনু মণ্ডল ( বা পাল) এবং পরবর্তীতে অন্য মাহিষ্যরা এই সম্প্রদায়ের "সরকার" বা গুরু হতে শুরু করার পর থেকে এই লৌকিক সম্প্রদায়ের সংস্কৃতায়ন শুরু হয়। ১৮৭২ সালে নদীয়া , বর্ধমান, বীরভূম, পুরুলিয়া, কলকাতা, পাবনা, রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর জেলার থেকে প্রায় কুড়ি হাজার মানুষ এই সম্প্রদায়ের অনুসারী ছিল।[৫৭] মেদিনীপুরে জনৈক কৈবর্ত হেড়ারাম দাস মানিক কলি বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠা করেন, যেটা কোনো জাতিভেদ প্রথা মানতো না।[৫৮] অন্যদিকে বাওয়ালির মণ্ডল জমিদাররা ও জানবাজারের রাণী রাসমণির পরিবার পরম্পরাগত বৈষ্ণবশাক্ত ধর্মের পৃষ্ঠাপোষকতা করেছিলেন।[৫৯]

স্বাধীনতা আন্দোলনে ভূমিকা

[সম্পাদনা]

নদীয়ার দুই ক্ষুদ্র জমিদার ও মহাজন - দিগম্বর বিশ্বাস ও বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস - নদীয়া ও যশোহরের কৃষকদের সংগঠিত করেন এবং একটি লাঠিয়াল বাহিনী তৈরি করেন। এই অঞ্চলে তাঁরা নীল বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন এবং বিদ্রোহের পরবর্তীতে কৃষকদের ঋণ শোধ করেন। এই বিদ্রোহে অন্যান্য কৃষক সম্প্রদায়ের মানুষ, পূর্বতন নীলকুঠির কর্মচারী এবং গ্রাম প্রধানরা (মণ্ডল) ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করেন।[৬০][৬১]

মাহিষ্যরা কংগ্রেস পরিচালিত জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করে।[৬২][৬৩] ১৯১৩ সালে "মাহিষ্য সমাজ" পত্রিকা থেকে জানা যায় নদীয়ার জমিদার ও "মাহিষ্য ব্যাংকিং এন্ড ট্রেডিং" কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর গগনচন্দ্র বিশ্বাস ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশনে করাচি গিয়েছিলেন ।[৬৪] দেশপ্রাণ বীরেন্দ্রনাথ শাসমল ১৯১৯ সালে ইউনিয়ন বোর্ড করের বিরুদ্ধে মাহিষ্যদের নেতৃত্ব দেন যা পরে মেদিনীপুরে অসহযোগ আন্দোলনের সাথে একীভূত হয়।[৬৫] তিনি ১৯২০-এর দশকে কলকাতার মেয়র পদে সুভাষ চন্দ্র বসুর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। আইন অমান্য আন্দোলনের সময় (১৯৩০-৩৪) মাহিষ্যরা তমলুক এবং কাঁথি অঞ্চলে ব্রিটিশ প্রশাসন ব্যবস্থা ভেঙে দিয়ে ভবিষ্যত আন্দোলনের পথ প্রশস্ত করেছিল।[৬৬]

১৯৪০ এর দশকে কংগ্রেসের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে মাহিষ্যেরা মেদিনীপুরে ও দক্ষিণ বঙ্গে সামগ্রিকভাবে ছিলেন আসল শক্তি। প্রকৃতপক্ষে, ভারত ছাড়ো আন্দোলনে বেশিরভাগ নেতা ও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীরা ছিলেন মাহিষ্য। তারা তমলুকে সমান্তরাল জাতীয় সরকার  ― তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার গঠন করেন এবং এটি প্রায় দু-বছর চলেছিল। সরকারের নিজস্ব সেনাবাহিনী,  বিচার ব্যবস্থা ও অর্থ দপ্তর ছিল।[৬৭][৬৮]

বর্ণ অবস্থান

[সম্পাদনা]

ঊনবিংশ শতকের বাংলায় চাষী কৈবর্তকে সৎশুদ্র হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, যদিও জালিয়া কৈবর্ত এবং কৈবর্তের পুরোহিতরা অশুচি হিসাবে বিবেচিত হত।[৬৯] বাংলার বর্ণ কাঠামোতে মাহিষ্যরা সাধারণত 'মধ্যম-বর্ণ' হিসেবে বিবেচিত হয়।[৭০][৭১] দক্ষিণ ভারতে যেমন সমাজ পুরোহিত, অপুরোহিত- এই ভাবে বিভক্ত ছিল; উত্তর ভারতের মতো চার বর্ণের অস্তিত্ব ছিল না। বাংলাতেও সমাজে অব্রাহ্মণ সকলকেই বিভিন্ন মর্যাদার শূদ্র বা সংকর পর্যায়ভুক্ত করা হয়েছিল। রমেশচন্দ্র মজুমদার এর কারণ হিসেবে বলেছেন, অতীতে বাংলায় তন্ত্র ও বৌদ্ধ ধর্মের প্রাধান্য ছিল; কিছুুু শ্রেণীর ব্রাহ্মণ এভাবে সমাজকে বিভক্ত করেন । অধ্যাপক মজুমদার এর মতে প্রাচীনকাল থেকেই কৈবর্তরা দুটি সম্প্রদায়ে বিভক্ত ছিল- কৃষিজীবী ও মৎস্যজীবী।[৪৪][৭২]

১৯০১ সালে, মাহিষ্যরা নিজেদেরকে বৈশ্য বলে দাবি করেছিল, যে মর্যাদা তাদের পুরোহিত, গৌড়াদ্য ব্রাহ্মণরাও মহিষ্যদের জন্য দাবি করেছিলেন। ১৯৩১ সালের আদমশুমারিতে, তারা নিজেদের ক্ষত্রিয় বা মাহিষ্য ক্ষত্রিয় হিসাবে নথিভুক্ত করার দাবি করে।[৭৩][৭৪][৭৫] ঐতিহাসিক জ্যোতির্ময়ী শর্মা অভিমত দিয়েছেন যে মাহিষ্যদের বর্ণ মর্যাদা 'বিতর্কের বিষয়'।[৭৬]

আর্থসামাজিক অবস্থা

[সম্পাদনা]

যদিও মাহিষ্যদের আর্থিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক সাফল্য উল্লেখযোগ্য, তারা প্রায়শই তাদের কৃষিভিত্তিক শিকড়ের কারণে অপদস্থ হয়েছিল। মাহিষ্যরা কায়িক শ্রমের বিরুদ্ধাচরণ করেনি, যা প্রায়ই "উচ্চ বর্ণের" মধ্যে অভিজাতদের দ্বারা হেয় প্রতিপন্ন করা হত।[৭৭] উদাহরণস্বরূপ, ১৯২৪ সালে কলকাতা মিউনিসিপ্যাল ​​কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদের জন্য যখন সুভাষচন্দ্র বসু এবং বীরেন্দ্রনাথ শাসমলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল, যা তখন বাংলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করত, বোস বিজয়ী হয়েছিলেন। যদিও চিত্তরঞ্জন দাস প্রথমে শাসমলের রাজনৈতিক অবদানের জন্য তাকে ওই পদ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তিনি শীঘ্রই পিছু হটলেন যখন তিনি জানতে পারলেন যে এই নির্বাচন শহরের কায়স্থ চক্রকে অখুশি করবে। যাঁদের মধ্যে একজন এতদূর গিয়ে মন্তব্য করেছিলেন: 'মেদিনীপুরের কেওট থেকে কলকাতায় এসে শাসন করবে?’ আবার একটি সংবাদপত্র রিপোর্ট করেছিল যে উড়ে বংশোদ্ভূত (ওড়িশা) হওয়ার কারণে শাসমলকে অবমাননাকর স্লোগান দিয়ে ভর্ৎসনা জানানো হয়েছিল এবং এই পদের জন্য তাঁর দাবি বাতিল করা হয়েছিল।[৭৮] শাসমল চরম অপমান ও ক্রোধে বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস কমিটি ত্যাগ করেন, এবং কাঁথি ও মেদিনীপুরের তাঁর নিয়ন্ত্রণের স্থানীয় রাজনীতি ও ওকালতি পেশায় চলে যান।[৭৯]

১৯২১ সালের আদমশুমারিতে মাহিষ্যদের "ডিপ্রেসড ক্লাস" তালিকায় চাষী-কৈবর্ত হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, কিন্তু সম্ভ্রান্ত শ্রেণীর ব্যক্তিরা এটি অস্বীকার করেছিল কারণ তারা বিশ্বাস করেছিল যে এরফলে তাদের "উচ্চ বর্ণের হিন্দু" হওয়ার দাবি নস্যাৎ হয়ে যেত। [৮০] ১৯৪৬ সালে, যাইহোক, মাহিষ্যদের একটি জাতি সমিতি নির্দেশ করেছিল যে তারা বাংলার "মধ্যমবর্গ এবং অবদমিত" জাতিগুলির মধ্যে ছিল কারণ তাদের বৈধ দাবি এবং চাকরিতে অংশীদারিত্ব থেকে পরিকল্পিতভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে। তারা ভারতের ব্রিটিশ সরকারকে "বর্ণ হিন্দু" এবং তফসিলি জাতিদের থেকে আলাদা নির্বাচকমণ্ডলী প্রদান করে, শিক্ষা, সমস্ত বিভাগে নিয়োগ ইত্যাদি বিষয়ে বিশেষ সুবিধা প্রদানের দাবি করেছিল।[৮১]

মণ্ডল কমিশন পশ্চিমবঙ্গের ১৭৭টি "অনগ্রসর শ্রেণীর" তালিকায় চাষী-কৈবর্ত এবং মাহিষ্য উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করেছে। ১৯৮৯ সাল থেকে, কমিশনের প্রস্তাবগুলি কার্যকর হওয়ার পরে, নিম্ন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মাহিষ্যদের মধ্যে একটি অংশ ওবিসি মর্যাদার জন্য প্রচারণা চালায়। যদিও এর বিরোধিতা করেছিল সচ্ছল শ্রেণীর কিছু ব্যক্তি, যারা এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে আদালতে গিয়েছিল। ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে সেন কমিশন এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিল যে চাষী-কৈবর্ত একটি অনগ্রসর শ্রেণী গঠন করেছিল এবং মাহিষ্য নামে এটি রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণী ছিল না। এইসময় থেকে এদের মধ্যে যে কেউ নিজেদের চাষী কৈবর্ত বলে নথি দেখিয়ে ওবিসি হতে পারে। ২০০০-এর দশকের গোড়ার দিকে, চাষী-কৈবর্তকে ওবিসি মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। ২০১০-এর দশকে মুসলিম এবং কিছু হিন্দু গোষ্ঠীকে ওবিসি এর মর্যাদা দেওয়া হয় । ২০১০-এর দশকের গোড়া থেকেই মাহিষ্যরা তাদের সমগ্র বর্ণের জন্যই ওবিসি দাবি করে আন্দোলন চালাচ্ছে, কিন্তু এখনো পর্যন্ত মাহিষ্যরা "জেনারেল কাস্ট" শ্রেণীভুক্ত এবং বাংলার বৃহত্তম গোষ্ঠী গঠন করেছে।[৮২][৮৩][৮৪]

উপনাম সমূহ

[সম্পাদনা]

মাহিষ্য সমাজে প্রচলিত উপনাম বা পদবীর মধ্যে বৈচিত্র অনেক বেশি। উপনাম গুলি অন্যান্য সমাজ বা সম্প্রদায়ের মধ্যেও অনেক দেখা যায়। মাহিষ্য সমাজের প্রধান কিছু পদবী হলো - কর, সামন্ত, সিংহ, বিশ্বাস, মণ্ডল/মন্ডল, মান্না, গজেন্দ্র, দাস/দাশ, ভৌমিক, জোয়ার্দার, নায়েক, খাঁ, তালুকদার, তরফদার, শিকদার, লস্কর, রায়, চৌধুরী, মহালদার, হালদার, পুরকাইত, আদক, সাঁতরা, হাজরা, ভাণ্ডারী, ভূঁইয়া, সামন্ত, শাসমল, বৈদ্য, জানা, বেরা, ঘড়াই, ধাড়া, গিরি, মাইতি, বাহুবলীন্দ্র, সেনাপতি, দিন্দা, কারক, বারিক, কোলে, পাঁজা, গুছাইত, প্রধান, পাল, সাহা, বাগ, কাঁড়ার, হাইত, দে, গলুই, দলুই, ধর, নিয়োগী, প্রামানিক, গায়েন, খাঁড়া, কয়াল, মাজী, শীট, বক্সী, রায়চৌধুরী, পাত্র, মহাপাত্র, সরকার, মজুমদার প্রভৃতি।[৮৫][৮৬]

বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Society, Indian Anthropological (২০০৫)। Journal of the Indian Anthropological Society (ইংরেজি ভাষায়)। The Society। পৃ. ১৮৭–১৯১।
  2. Man and Life (ইংরেজি ভাষায়)। Institute of Social Research and Applied Anthropology। ১৯৯২।
  3. Sarma, Jyotirmoyee (১৯৮০)। Caste Dynamics Among the Bengali Hindus (ইংরেজি ভাষায়)। Firma KLM। পৃ. ১১৯। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮৩৬৪-০৬৩৩-৭
  4. Chatterjee, Partha (১৯৯৭)। The Present History of West Bengal: Essays in Political Criticism। Oxford University Press। পৃ. ৭৩। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৫৬৩৯৪৫-২
  5. Pfeffer, Georg; Behera, Deepak Kumar (১৯৯৭)। Contemporary Society: Developmental issues, transition, and change (ইংরেজি ভাষায়)। Concept Publishing Company। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭০২২-৬৪২-০
  6. Bandyopādhyāẏa, Śekhara (১৯৯০)। Caste, Politics, and the Raj: Bengal, 1872-1937 (ইংরেজি ভাষায়)। K.P. Bagchi & Company। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭০৭৪-০৬৬-৭
  7. Singh, K. S. (১৯৯৬)। Communities, Segments, Synonyms, Surnames and Titles (ইংরেজি ভাষায়)। Anthropological Survey of India। পৃ. ৬৩৮। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৫৬৩৩৫৭-৩
  8. Guha, Ayan (২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২)। The Curious Trajectory of Caste in West Bengal Politics: Chronicling Continuity and Change (ইংরেজি ভাষায়)। BRILL। পৃ. ১২১–১৩৪। আইএসবিএন ৯৭৮-৯০-০৪-৫১৪৫৬-০
  9. Jānā, Yudhishṭhira (১৯৬৫)। Br̥hattara Tāmraliptera itihāsa। Kalikātā Pustakālaẏa।
  10. Caudhurī, Acyutacaraṇa (২০০২)। Śrīhaṭṭera itibr̥tta: Uttarāṃśa। Ut̲asa Prakāśana। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৮৪-৬৫০-০০০-৪
  11. SIRCAR, D. C. (১৯৫৯)। STUDIES IN THE SOCIETY AND ADMINISTRATION OF ANCIENT AND MEDIEVAL INDIA VOL. 1। FIRMA K. L. MUKHOPADHYAY, CALCUTTA। পৃ. ১১৮।
  12. Sarkar, Sumit। Essays of Lifetime। State University of New York press। পৃ. ১৩২।
  13. Vidyānidhi, Lālamohana (১৮৯৬)। Sambandhanirṇaya, or, A social history of the principal Hindu castes in Bengal। Śaśībhūshana Bhaṭṭācārya। পৃ. ৫৯০।
  14. MAJUMDAR, MAHIMACHANDRA (১৯০০)। GOURE BRAMHAN ED. 2ND গৌড়ের ব্রাহ্মণ সংষ্করণ ২য় (other ভাষায়)। HARIDAS GHOSH KOLKATA। পৃ. ২৩৮।{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক)
  15. The Orissa Historical Research Journal (ইংরেজি ভাষায়)। Superintendent of Research and Museum। ২০০৪। পৃ. ১৭।
  16. Furui, Ryosuke (২ জুলাই ২০১৯)। Land and Society in Early South Asia: Eastern India 400–1250 AD (ইংরেজি ভাষায়)। Taylor & Francis। পৃ. ৪৯। আইএসবিএন ৯৭৮-১-০০০-০৮৪৮০-১
  17. Bhattacharya, Swapna (১৯৮৫)। Landschenkungen und staatliche Entwicklung im frühmittelalterlichen Bengalen (5. bis 13. Jh. n. Chr.) (জার্মান ভাষায়)। F. Steiner Verlag Wiesbaden। পৃ. ১৬৬। আইএসবিএন ৯৭৮-৩-৫১৫-০৪৫৩৪-৬
  18. Furui, Ryosuke। PRAJÑÅDHARA - ESSAYS ON ASIAN ART, HISTORY, EPIGRAPHY AND CULTURE। পৃ. ৩২২।
  19. Furui, Ryosuke (২০১১)। "Rangpur Copper Plate Inscription of Mahipala I, Year 5"। Journal of Ancient Indian HistoryXXVII
  20. Chatterjee, Gouripada (১৯৮৬)। Midnapore, the Forerunner of India's Freedom Struggle (ইংরেজি ভাষায়)। Mittal Publications। পৃ. ১৫৬, ১৫৭।
  21. 1 2 Ray, Rajat Kanta (১৯৮৪)। Social Conflict and Political Unrest in Bengal, 1875-1927 (ইংরেজি ভাষায়)। Oxford University Press। পৃ. ৭৫, ৭৬। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৫৬১৬৫৪-৫
  22. Bhaumik, Sudarshana (২৬ আগস্ট ২০২২)। The Changing World of Caste and Hierarchy in Bengal: Depiction from the Mangalkavyas c. 1700–1931 (ইংরেজি ভাষায়)। Taylor & Francis। পৃ. ৪০, ৭০। আইএসবিএন ৯৭৮-১-০০০-৬৪১৪৩-১
  23. Ray, Ratnalekha (১৯৭৯)। Change in Bengal Agrarian Society, C1760-1850 (ইংরেজি ভাষায়)। Manohar। পৃ. ১৩২, ১৪৪।
  24. Roy, Nihar Ranjan। Bangalir itihas adiparba। Dey's Publishing। পৃ. ৩৮।
  25. Sengupta, Nitish (২০১১)। Land of Two Rivers। পৃ. ৩০
  26. Majumdar, Ramesh Chandra। Bangladesher Itihas। পৃ. ১৭৮।
  27. ইসলাম, এস. এম. রফিকুল। প্রাচীন বাংলার সামাজিক ইতিহাস:সেনযুগ। ঢাকা: বাংলা একাডেমি। পৃ. ৬১।
  28. Furui, Ryosuke (২ জুলাই ২০১৯)। Land and Society in Early South Asia: Eastern India 400–1250 AD (ইংরেজি ভাষায়)। Taylor & Francis। পৃ. ২২৮। আইএসবিএন ৯৭৮-১-০০০-০৮৪৮০-১
  29. সুর, অতুল (২০০০)। বাঙালির নৃতাত্ত্বিক পরিচয়। কলকাতা: জিঞ্জাসা এজেন্সিস লিমিটেড। পৃ. ৩৮–৩৯।
  30. SIRCAR, D. C. (১৯৫৯)। STUDIES IN THE SOCIETY AND ADMINISTRATION OF ANCIENT AND MEDIEVAL INDIA VOL. 1। FIRMA K. L. MUKHOPADHYAY, CALCUTTA। পৃ. ১১৩।
  31. Majumdar, Ramesh Chandra (১৯৫৭)। Bangla desher itihash। S.C. Das। পৃ. ১৮৬।
  32. Chakraborty, Rabindra Nath (১৯৮৫)। National Integration in Historical Perspective: A Cultural Regeneration in Eastern India (ইংরেজি ভাষায়)। Mittal Publications। পৃ. ১২৫।
  33. Bhandarkar, Devadatta Ramkrishna (১৯৩৯)। Indian Culture Vol. 6। পৃ. ১১৩–১৪।
  34. Kotiyal, H. S. (১৯৭৩)। "Sudra Rulers and Officials in Early Medieval Times"Proceedings of the Indian History Congress৩৪: ৮০–৮৭। আইএসএসএন 2249-1937
  35. 1 2 Majumdar, rameshchandra (১৯৪৫)। Bangla Desher Itih as। পৃ. ১৭৮।
  36. MAJUMDAR, R. C. (১৯৭১)। HISTORY OF ANCIENT BENGAL। G. BHARADWAJ , CALCUTTA।
  37. Thapar, Romila (১৪ অক্টোবর ২০১৩)। The Past Before Us (ইংরেজি ভাষায়)। Harvard University Press। পৃ. ৫০১। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৬৭৪-৭২৬৫১-২
  38. Roy, Nihar Niranjan। Bangalir Itihas Aadi parba। পৃ. ২৫৯।
  39. মন্ডল, ড. সমীর (২০ জুলাই ২০২৫)। "মাহিষ্য সম্প্রদায়ের উৎপহি : কয়েকহি সূত্র"Trisangam International Refereed Journal[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  40. রায়, নিবেদিতা (২০২১)। কৈবর্ত জাতিবর্ণের ইতিহাস। টাঙ্গাইল প্রকাশন। পৃ. ৯৩, ৯৪।
  41. Ray, Rajat Kanta; Ray, Professor and Head of the Department of History Rajat Kanta (১৯৮৪)। Social Conflict and Political Unrest in Bengal, 1875-1927 (ইংরেজি ভাষায়)। Oxford University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৫৬১৬৫৪-৫
  42. Maẏamanasiṃhera jībana o jībika, 1787-1987। Jelā Dviśatabārshikī Udyāpana, Byabasthāpanā, o Samanvaẏa Kamiṭira pakshe Jelā Praśāsana। ১৯৮৭। পৃ. ৫৯।
  43. Bhaumik, Sudarshana (২৬ আগস্ট ২০২২)। The Changing World of Caste and Hierarchy in Bengal: Depiction from the Mangalkavyas c. 1700–1931 (ইংরেজি ভাষায়)। Taylor & Francis। পৃ. ৩৭, ৩৮। আইএসবিএন ৯৭৮-১-০০০-৬৪১৪৩-১
  44. 1 2 Chakrabarty, Bidyut (১৯৯৭)। Local Politics and Indian Nationalism, Midnapur, 1919-1944 (ইংরেজি ভাষায়)। Manohar Publishers & Distributors। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৩০৪-১৫৮-৭
  45. RAY, NIHARRANJAN (১৯৭৮)। HISTORY AND SOCIETY। K.P.BAGCHI,CALCUTTA। পৃ. ৩৬৬।
  46. Sisson, Richard; Wolpert, Stanley (২০ এপ্রিল ২০১৮)। Congress and Indian Nationalism: The Pre-Independence Phase (ইংরেজি ভাষায়)। Univ of California Press। পৃ. ৩৭২। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২০-৩০১৬৩-৪
  47. Singh, K. S.; India, Anthropological Survey of (১৯৯৮)। India's Communities (ইংরেজি ভাষায়)। Oxford University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৫৬৩৩৫৪-২
  48. Lessinger, Johanna M. (১৯৮২)। "The New Vaishyas.": ৯২০–৯২৪। ডিওআই:10.1086/452603 {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  49. Timberg, Thomas A. (১৯৭৮)। The Marwaris, from Traders to Industrialists (ইংরেজি ভাষায়)। Vikas। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭০৬৯-০৫২৮-১
  50. Others (১৯৯১)। Reader In Urban Sociology (ইংরেজি ভাষায়)। Orient Blackswan। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮৬৩১১-১৫২-৫
  51. "আনন্দবাজার পত্রিকা - দক্ষিণবঙ্গ"archives.anandabazar.com। ১৭ জুন ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুন ২০২৩
  52. Sahitya o Samskrti। ১ এপ্রিল ১৯৬৭। পৃ. ৩০৮, ৩১৯।
  53. Mitra, Sudhīrakumāra (১৯৬২)। Hugalī jelāra itihāsa o Baṅgasamāja। পৃ. ২৩, ১০৪।
  54. Bhattacharya, Tarundev (১৯৭৯)। Paścimabaṅga darśana, Medinīpura। Firma KLM। পৃ. ৮৪।
  55. Bandyopādhyāẏa, Ālāpana (১৯৮৭)। Prasaṅga Gorkhālyāṇḍa। কলকাতা: Ānanda Pābaliśārsa। পৃ. ৫৪। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭০৬৬-০৭৮-১
  56. Sarkar, Sumit; Sarkar, Tanika (২০১৬)। Caste in Modern India: A Reader (ইংরেজি ভাষায়)। Permanent black। পৃ. ৫১৩–৩৩। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৮২৪-৩৯৮-৬
  57. Bandyopadhyay, Sekhar (১৯ আগস্ট ২০০৪)। Caste, Culture and Hegemony: Social Dominance in Colonial Bengal (ইংরেজি ভাষায়)। SAGE Publications। পৃ. ৯৪, ১০১। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭৬১৯-৯৮৪৯-৫
  58. Chatterji, Joya (৬ জুন ২০০২)। Bengal Divided: Hindu Communalism and Partition, 1932-1947 (ইংরেজি ভাষায়)। Cambridge University Press। পৃ. ৪২। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২১-৫২৩২৮-৮
  59. বসু, দেবাশিস (১৯৯০)। কলকাতার পুরকথা। পৃ. ৭১, ৭৮।
  60. Kling, Blair B. (১৯৬৬)। The Blue Mutiny: The Indigo Disturbances in Bengal, 1859-1862। University of Pennsylvania Press। পৃ. ৮৪–৮৬, ৯৫। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৫১২৮-০৩৪৯-৫
  61. Bhattacharya, Subhas (১৯৭৭)। "The Indigo Revolt of Bengal"Social Scientist (12): ১৬–১৮। ডিওআই:10.2307/3516809আইএসএসএন 0970-0293
  62. Chakrabarty, Bidyut (১৯৯৭)। Local Politics and Indian Nationalism, Midnapur, 1919-1944 (ইংরেজি ভাষায়)। Manohar Publishers & Distributors। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৩০৪-১৫৮-৭
  63. "তমলুক রাজবাড়ি চত্বরে পা পড়েছিল নেতাজির, ৮৫ তম বর্ষপূর্তিতে আন্তর্জাতিক আলোচনা সভার আয়োজন"এই সময়। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুন ২০২৩
  64. Mukherjee, Partha (২০২১)। "Seeking New Identity"। Journal of People's History and Culture
  65. Bandyopādhyāẏa, Śekhara (২০০৪)। From Plassey to Partition: A History of Modern India (ইংরেজি ভাষায়)। Orient Blackswan। পৃ. ৩০৭–৩০৮। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-২৫০-২৫৯৬-২
  66. Dasgupta, Tapati; Chattopadhyay, R. N. (১৯৯৯)। Rural Development in India: A Socio-historic Approach (ইংরেজি ভাষায়)। National Book Organisation। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৮৫১৩৫-৯৮-৪
  67. Sarkar, Sumit (২৪ জানুয়ারি ১৯৮৯)। Modern India 1885–1947 (ইংরেজি ভাষায়)। Springer। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৩৪৯-১৯৭১২-৫
  68. N.A (১৯৮২)। SARBADHINAYAK VOL.1 সর্বাধিনায়ক খণ্ড.১। TAMRALIPTA SWADHINATA SANGRAM ITIHAS COMMITTEE।
  69. MAJUMDAR, R. C. (১৯৭১)। HISTORY OF ANCIENT BENGAL। G. BHARADWAJ , CALCUTTA। পৃ. ৪২২।
  70. Nicholas, Ralph W (২০০৩)। Fruits of Worship: Practical Religion in Bengal। Orient Longman Ltd। পৃ. ৫৩। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১৮০২৮০০৬১
  71. Shah, Ghanshyam (২০০৪)। Caste and Democratic Politics in India। Orient Blackswan। পৃ. ১১৪। আইএসবিএন ৯৭৮-৮-১৭৮-২৪০৯৫-৪
  72. Sarma, Jyotirmoyee (১৯৮০)। Caste Dynamics Among the Bengali Hindus (ইংরেজি ভাষায়)। Firma KLM। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮৩৬৪-০৬৩৩-৭
  73. Sarma, Jyotirmoyee (১৯৮০)। Caste Dynamics Among the Bengali Hindus (ইংরেজি ভাষায়)। Firma KLM। পৃ. ১১৮–১২০। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮৩৬৪-০৬৩৩-৭
  74. MITRA, A. (১৯৫১)। THE TRIBES AND CASTES OF WEST BENGAL। Alipore, West Bengal: LAND AND LAND REVENUE DEPARTMENT। পৃ. ২২, ৩২, ৬৫।
  75. Sharma, Jyotirmoyee (১৯৮০)। CASTE DYNAMICS AMONG THE BENGALI HINDUS। Calcutta: Firma KLM Pvt. LTD.। পৃ. ১১৭, ১১৮, ১১৯, ১২০।
  76. Sarma, Jyotirmoyee (১৯৮০)। Caste Dynamics Among the Bengali Hindus (ইংরেজি ভাষায়)। Firma KLM। পৃ. ১২০। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮৩৬৪-০৬৩৩-৭
  77. Maity, Sachindranath (১৯৭৫)। Freedom Movement in Midnapore। Kolkata: Firma KLM।
  78. Mohanty, Nivedita (২০০৫)। Oriya Nationalism: Quest for a United Orissa, 1866-1956 (ইংরেজি ভাষায়)। Prafulla। পৃ. ২৬৩। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৯০১৫৮৯-৬-১
  79. Ray, Rajat Kanta (১৯৮৪)। Social Conflict and Political Unrest in Bengal, 1875-1927 (ইংরেজি ভাষায়)। Oxford University Press। পৃ. ৩৩০–৩৩১। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৫৬১৬৫৪-৫
  80. Chandra, Uday; Heierstad, Geir; Nielsen, Kenneth Bo (২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫)। The Politics of Caste in West Bengal (ইংরেজি ভাষায়)। Routledge। পৃ. ৩৫। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৩১৭-৪১৪৭৭-৩
  81. Bhaumik, Sudarshana (২৬ আগস্ট ২০২২)। The Changing World of Caste and Hierarchy in Bengal: Depiction from the Mangalkavyas c. 1700–1931 (ইংরেজি ভাষায়)। Taylor & Francis। পৃ. ২৫৩। আইএসবিএন ৯৭৮-১-০০০-৬৪১৪৩-১
  82. "Seventh Report: WB Commission for Backward Classes"। www.google.com। ১৯৮৪। {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |url= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); |সংগ্রহের-তারিখ= এর জন্য |ইউআরএল= প্রয়োজন (সাহায্য)
  83. "Central List of OBCs for the State of West Bengal"। www.google.com {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |url= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); |সংগ্রহের-তারিখ= এর জন্য |ইউআরএল= প্রয়োজন (সাহায্য)
  84. "Bengal govt wary of implementing Mandal report,says OBC group"The Indian Express (ইংরেজি ভাষায়)। ১০ জানুয়ারি ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুন ২০২৩
  85. রায়, নিবেদিতা (২০২১)। কৈবর্ত জাতিবর্ণের ইতিহাস। রাজশাহী: টাঙ্গাইল প্রকাশন। পৃ. ৭৯, ৮০।
  86. ভৌমিক, খগেন্দ্রনাথ। পদবীর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ। পৃ. বিভাগ 'গ' ৮-৯।