মাহিষ্য

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
রাণী রাসমণি, কলকাতার দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা মাহিষ্য পরিবারের

মাহিষ্য হলো ঐতিহাসিকভাবে কৃষিপ্রধান বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়,[১][২] এবং অবিভক্ত বাংলায় বৃহত্তম জাতি গঠন করেছিল।[৩][৪][৫][৬] মাহিষ্যদের অগ্রগামী জাতি হিসাবে বিবেচনা করা হয়।[৭] মাহিষ্যেরা পশ্চিমবঙ্গের - হাওড়াপশ্চিম মেদিনীপুরপূর্ব মেদিনীপুরহুগলি, উত্তর চব্বিশ পরগনাদক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান এবং নদিয়া জেলার প্রধান অধিবাসী। বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধের তথ্য অনুসারে মাহিষ্যদের দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যম শ্রেণী এবং অবিভক্ত মেদিনীপুর ও চব্বিশ পরগনা জেলার দক্ষিণাংশে প্রভাবশালী সম্প্রদায় হিসাবে ধরা হয়েছিল।।[৮][৯][১০][১১]

উৎস[সম্পাদনা]

বর্তমানের মাহিষ্য সম্প্রদায় পূর্বে চাষী কৈবর্ত, লক্ষ্মীনারায়ণ কৈবর্ত, উত্তর রাঢ়ী ও দক্ষিণ রাঢ়ী কৈবর্ত, পরাশর দাস, দাস, হানিফ দাস, দেবদাস, মাহিষ্য ইত্যাদি আঞ্চলিক নামে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে পরিচিত ছিল বা নিজেদের পরিচয় দিত।[১২][১৩][১৪][১৫]

গৌরিপদ চ্যাটার্জির মতে, কৈবর্তরা উড়িষ্যা এবং মেদিনীপুরের পশ্চিমে অবস্থিত ছোটনাগপুর মালভূমির পূর্বের অধিবাসী এবং এরা আর্যদের বাংলায় প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই হিন্দুধর্ম গ্রহণ করেন এবং প্রাচীন কালে এদের মধ্যে থেকে কিছু ব্রাহ্মণ হয়েছিল।[১৬]

মেদিনীপুরের ঐতিহ্য অনুযায়ী, কৈবর্তদের আদি বাসস্থান ছিল অযোধ্যার সরযূ নদীর তীরবর্তী এলাকা। পাঁচজন সেনানায়কের নেতৃত্বে তারা বিন্ধ্য পর্বতের পাদদেশে থেকে মধ্য ভারত ও ছোটনাগপুর মালভূমি হয়ে মেদিনীপুরে আসেন এবং মেদিনীপুর জয় করে সেখানে তমলুক, বালিসীতা (বর্তমান ময়নাগড়), তুর্ক, সুজামাথা ও কুতুবপুরে পাঁচটি রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন।[১৭][১৮] কিছু ঐতিহাসিকদের মতে বিন্ধ্য পর্বতের পাদদেশে নর্মদার তীরে অবস্থিত বর্তমান রত্নাবতী পূর্বে মহিষ্মতি নামে পরিচিত ছিল, যা ছিল মাহিষ্যদের প্রাচীন রাজধানী।[১৯][২০]

রিসলের মতে, কৈবর্তরা হলো আর্য ও দ্রাবিড় জনগোষ্ঠীর সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা একটা জাতি। ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদারের মতে মাহিষ্যরা( চাষী কৈবর্ত) মূলনিবাসী জনগোষ্ঠী ও আর্য জাতির সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা জাতি। ভারতীয় বিজ্ঞানী ও পরিসংখ্যানবিদ প্রশান্ত চন্দ্র মহলানবীশের মতে, নৃতাত্ত্বিকভাবে কায়স্থ, কৈবর্ত ও সদগোপরা হলো "যথার্থ বঙ্গজন প্রতিনিধি"। [২১][২২]

প্রাচীন বাংলায়় কৈবর্তরা খুব প্রভাবশালী জনগোষ্ঠী ছিল ‌। বাংলায় বৌদ্ধ ধর্মের বিস্তার হলে এরা বেশিরভাগই বৌদ্ধ হয়ে যায় । পশ্চিমবঙ্গের চাষী কৈবর্ত ও পূর্ববঙ্গের মাহিষ্য(দাস ও পরাশর দাস) পরবর্তীতে একই সম্প্রদায় হিসেবে পরিগণিত হয়।[২৩][২৪]

পুরাণ, স্মৃতি ও সংহিতা[সম্পাদনা]

ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ অনুযায়ী ক্ষত্রিয় পিতা ও বৈশ্য মাতার সন্তান হল কৈবর্ত।[২৫] গৌতম ও যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতিতে এই কৈবর্তগণই মাহিষ্য নামে উল্লেখিত হয়েছে। বৃহদ্ধর্মপুরাণ অনুযায়ী, শূদ্র পিতা ও ক্ষত্রিয় মাতার সন্তান হল দাস, এরা উত্তম সংকর পর্যায়ভুক্ত এবং এদের পেশা কৃষিকর্ম ।[২৬] [২৭] মনুসংহিতা অনুযায়ী, মাহিষ্যদের পেশা হয় জ্যোতির্বিদ্যা, সঙ্গীতচর্চা, নৃত্যশিল্প ও ফসলাদির রক্ষা করা । সূতসংহিতাতে মাহিষ্যদের অম্বষ্ঠ বলা হয়েছে।[২৮][২৯]

বর্ণ অবস্থান[সম্পাদনা]

ঊনবিংশ শতকের বাংলায় চাষী কৈবর্তকে সৎশুদ্র হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, যদিও জালিয়া কৈবর্ত এবং কৈবর্তের পুরোহিতরা অশুচি হিসাবে বিবেচিত হত।[৩০] বাংলার বর্ণ কাঠামোতে মাহিষ্যরা সাধারণত 'মধ্যম-শ্রেণির শূদ্র' হিসেবে বিবেচিত হয়।[৩১][৩২] দক্ষিণ ভারতে যেমন সমাজ পুরোহিত, অপুরোহিত- এই ভাবে বিভক্ত ছিল; উত্তর ভারতের মতো চার বর্ণের অস্তিত্ব ছিল না। বাংলাতেও সমাজে অব্রাহ্মণ সকলকেই বিভিন্ন মর্যাদার শূদ্র বা সংকর পর্যায়ভুক্ত করা হয়েছিল। রমেশচন্দ্র মজুমদার এর কারণ হিসেবে বলেছেন, অতীতে বাংলায় তন্ত্র ও বৌদ্ধ ধর্মের প্রাধান্য ছিল; কিছুুু শ্রেণীর ব্রাহ্মণ এভাবে সমাজকে বিভক্ত করেন । অধ্যাপক মজুমদার এর মতে প্রাচীনকাল থেকেই কৈবর্তরা দুটি সম্প্রদায়ে বিভক্ত ছিল- কৃষিজীবী ও মৎস্যজীবী।[৩৩][৩৪]

১৯০১ সালে, মহিষ্যরা নিজেদেরকে বৈশ্য বলে দাবি করেছিল, যে মর্যাদা তাদের পুরোহিত, গৌড়াদ্য ব্রাহ্মণরাও মহিষ্যদের জন্য দাবি করেছিলেন। ১৯৩১ সালের আদমশুমারিতে, তারা নিজেদের ক্ষত্রিয় বা মাহিষ্য ক্ষত্রিয় হিসাবে নথিভুক্ত করার দাবি করে।[৩৫][৩৬][৩৭]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

বাংলার সর্ববৃহৎ, বৈচিত্র্যময় ও ঐতিহ্যপূর্ণ জনগোষ্ঠী হল মাহিষ্য। বিশিষ্ট ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদারের মতে পূর্ব বঙ্গের মাহিষ্য তথা হালিক দাস ও পরাশর দাস ও পশ্চিমবঙ্গের চাষী কৈবর্ত একই জাতি ধরা হত। পাল রাজা দ্বিতীয় মহীপালের সময় সামন্ত রাজা দিব্য-এর বিদ্রোহ করে বরেন্দ্রভূমি দখল এবং তিনি ও তাঁর দুই বংশধর রূদক ও ভীমের শাসন থেকে বোঝা যায় প্রাচীনকাল থেকেই বাংলায় রাষ্ট্র ও সমাজে মাহিষ্যদের যথেষ্ট প্রতিপত্তি ছিল।[৩৮][৩৯] ইতিহাসবেত্তা রোমিলা থাপরের মতে সামন্ত রাজাদের নেতৃত্বে নিজেদের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য এই লড়াই সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম সফল কৃষক বিদ্রোহ ।[৪০] মাহিষ্যদের মধ্যে অনেক জমিদার ও তালুকদার ছিলেন । মেদিনীপুরে এরা অতি সম্ভ্রান্ত শ্রেণী।[৩৮] প্রাচীন বাংলায় মাহিষ্যরা রাজকর্মচারী ও রাজ্যশাসক ছিলেন। পূর্ববঙ্গের মাহিষ্যদের মধ্যে রাজকর্মচারী ও সভাকবি ছিলেন। নীহাররঞ্জন রায়ের মতে ব্রাহ্মণ, অম্বষ্ঠ-বৈদ্য, করন-কায়স্থ ছাড়াও মাহিষ্যদের এক সম্প্রদায় খুব প্রভাবশালী ছিলেন এবং পরবর্তীতেও খুব সম্ভবত সেই প্রভাব অক্ষুন্ন রেখেছিলেন।[৪১]

ঊনবিংশবিংশ শতকের শেষের দিকে সমাজে মাহিষ্যদের অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন মতবাদ লক্ষ্য করা গেছে। প্রাচীনপন্থী সংস্কৃতজ্ঞ পণ্ডিত রাজেন্দ্রলাল মিত্রের মতে, মাহিষ্যরা ক্ষুদ্র চাষী সম্প্রদায়ের যারা আধুনিকতাকে অর্থাৎ বিদ্যালয় শিক্ষা গ্রহণ করতে পারত না। কিন্তু যোগেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যর ১৮৯৬ সালে বাংলার "হিন্দুবর্ণ ও সম্প্রদায়"-এর উপর রচিত প্রধান গ্রন্থ অনুসারে প্রতীয়মান হয় যে, মাহিষ্যরা যথেষ্ট উন্নত জাতের, মেদিনীপুরের পরিসংখ্যানে তারা আধা-রাজকীয় পরিবারের অন্তর্ভুক্ত, আইনজীবি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক সহ বেশিরভাগই বিভিন্ন পেশায় নিযুক্ত মানুষ।[৪২] পূর্ববঙ্গের কিছু অঞ্চলে বিশেষত সিলেটে মাহিষ্য ও বৈদ্য, কায়স্থদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল।[৪৩] মাহিষ্যরা সম্ভবত সর্বাধিক বিচিত্র বাঙালি সম্প্রদায় বাংলার। তারা ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত ভাবে সচ্ছল আর্থিক অবস্থা অর্জন করেছে। তাদের মধ্যে মেদিনীপুরের কিংবদন্তি রাজা বা জমিদার  ―  যেমন ছিলেন শাসমলেরা বা কলকাতার জানবাজারের বাসিন্দা রাণী রাসমণি। অপর দিকে মাহিষ্যদের মধ্যে বহু সংখ্যক আইনজীবী ও উদ্যোগপতিও ছিলেন। যেমন এরা ছিলেন ―  বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে হাওড়ার আয়রন ফাউণ্ড্রি সেক্টরের আলামোহন দাশের পরিবার ও অসংখ্য সৎ ও বিনয়ী উদ্যোক্তারা। তবুও তাদের বেশিরভাগই মানুষজন ছিলেন সম্ভবত ক্ষুদ্র চাষীই। ১৮৬০ দশকে পূর্ব মেদিনীপুরের একচেটিয়া লবণের ব্যবসা বন্ধের ফলে তারা সে জমি পুনরুদ্ধার করে। সেই সঙ্গে কেউ কেউ গৃহস্থালির কাজে অথবা কৃষি মজদুর হিসাবে কাজ করতে থাকেন। এদের কেউ সৈন্য হিসাবে কাজ করত এবং অনেকে প্রফেশনাল এবং অফিশিয়াল কাজ করত‌।[৪৪] যদিও তাদের অনেকেই গ্রামীণ এলাকায় পুরুষানুক্রমে কাজে লিপ্ত থাকেন, মাহিষ্য সম্প্রদায়ের বহুসংখ্যক মানুষ কৃষিকাজ ছেড়ে হাওড়া ও কলকাতার শহুরে এলাকায় ইঞ্জিনিয়ারিং এবং প্রশিক্ষিত কর্মী হিসাবে কাজ করতে থাকেন। হাওড়ায় মাহিষ্যেরা সংখ্যায় অনেক এবং প্রায় সবাই সফল ব্যবসায়ী। বিশ শতকের শুরুতে জেলার বেশিরভাগ জমি ও কারখানার মালিক ছিলেন কায়স্থ সম্প্রদায়ের। কিন্তু ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে প্রায় ৬৭ শতাংশ ইঞ্জিনিয়ারিং - সামগ্রীর ব্যবসা মাহিষ্যেরা নিয়ে নেয়।[৪৫][৪৬][৪৭]

স্বাধীনতা আন্দোলনে ভূমিকা[সম্পাদনা]

দেশপ্রাণ বীরেন্দ্রনাথ শাসমল[৪৮] ছিলেন মাহিষ্য সম্প্রদায়ের মূল রাজনৈতিক নেতা যিনি মেদিনীপুরে অসহযোগ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন  এবং ১৯২০ দশকে কলকাতার মেয়র পদে সুভাষচন্দ্র বসুর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। যদিও মাহিষ্যদের সেসময় আর্থিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থান উল্লেখযোগ্য ছিল, কিন্তু কেবল কৃষিভিত্তিক সমাজের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে তথাকথিত উচ্চবর্ণের দ্বারা অনেক সময় হেনস্থা বা অপদস্থ হতে হয়েছে। মাহিষ্যরা শারীরিক শ্রমের প্রতি বিরূপ হননি (প্রায়শই "উচ্চ বর্ণের" দ্বারা সম্মানিত বিবেচনা করা হত না);[৪৫] অতি দক্ষ প্রশাসক হওয়া সত্বেও কেবলমাত্র জাতের দোহাই দিয়ে বীরেন্দ্রনাথ শাসমলকে কলকাতা কর্পোরেশনের  এক্সিকিউটিভ অফিসার হতে দেন নি তৎকালীন উচ্চ বর্ণের মানুষ এই কারণে যে, শহরের কায়স্থেরা বিক্ষুব্ধ হবেন।[৪৯] শেষ পর্যন্ত সেই পদে সুভাষ চন্দ্র বসু নিযুক্ত হন।[৫০]

১৯৪০ এর দশকে কংগ্রেসের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে মাহিষ্যেরা মেদিনীপুরে ও দক্ষিণ বঙ্গে সামগ্রিকভাবে ছিলেন আসল শক্তি। প্রকৃতপক্ষে, ভারত ছাড়ো আন্দোলনে বেশিরভাগ নেতা ও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীরা ছিলেন মাহিষ্য। তারা তমলুকে সমান্তরাল জাতীয় সরকার  ― তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার গঠন করেন এবং এটি প্রায় দু-বছর চলেছিল। সরকারের নিজস্ব সেনাবাহিনী,  বিচার ব্যবস্থা ও অর্থ দপ্তর ছিল। সমান্তরাল জাতীয়  সরকারের মুখপত্র বিপ্লবী ইংরাজীতে প্রকাশিত হত। মূল মুখপত্রের কপি দিল্লির নেহেরু মেমোরিয়াল মিউজিয়া অ্যান্ড লাইব্রেরীতে আজো সংরক্ষিত আছে। সেসময় বাংলার গান্ধীবাদী নেতা সতীশচন্দ্র সামন্ত ছিলেন একজন মাহিষ্য।[৫১][৫২]

সামাজিক অবস্থান[সম্পাদনা]

যদিও মহিষ্যদের আর্থিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক সাফল্য উল্লেখযোগ্য, তারা প্রায়শই তাদের কৃষি শিকড়ের কারণে কলঙ্কিত হয়েছে। মহিষ্যরা কায়িক শ্রমের বিরুদ্ধাচরণ করেনি (প্রায়শই 'উচ্চ বর্ণ' দ্বারা অবমাননাকর বলে মনে করা হয়); উদাহরণ স্বরূপ, বীরেন্দ্রনাথ শাসমলকে কলকাতা মিউনিসিপ্যাল ​​কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী পদে চিত্তরঞ্জন দাস অনুমতি দেননি এই কারণে যে তার নিয়োগ শহরের কায়স্থদের বিরক্তির কারণ হবে। শেষ পর্যন্ত চাকরি চলে যায় সুভাষ চন্দ্র বসুর কাছে।[৪৫] [৫৩] সম্প্রতি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের রিপোর্ট অনুযায়ী মাহিষ্য ও চাষী কৈবর্তরা কার্যতক্ষেত্রে দুটি পৃথক জাতি হয়ে গেছে। মাহিষ্য নামের জাতিটি অগ্রসর জাতি(জেনারেল কাস্ট), আর চাষী কৈবর্ত নামের জাতিটি অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণীতে(ওবিসি) তালিকাভুক্তির দাবি করেন, যা পরবর্তীতে মেনে নেওয়া হয়।[৫৪][৫৫] মাহিষ্য নামের জাতিটিই সংখ্যাগুরু এবং বাংলার সর্ববৃহৎ জাতি ‌।

বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Society, Indian Anthropological (২০০৫)। Journal of the Indian Anthropological Society (ইংরেজি ভাষায়)। The Society। পৃষ্ঠা 187–191। 
  2. Man and Life (ইংরেজি ভাষায়)। Institute of Social Research and Applied Anthropology। ১৯৯২। 
  3. Sarma, Jyotirmoyee (১৯৮০)। Caste Dynamics Among the Bengali Hindus (ইংরেজি ভাষায়)। Firma KLM। পৃষ্ঠা 119। আইএসবিএন 978-0-8364-0633-7 
  4. Pfeffer, Georg; Behera, Deepak Kumar (১৯৯৭)। Contemporary Society: Developmental issues, transition, and change (ইংরেজি ভাষায়)। Concept Publishing Company। আইএসবিএন 978-81-7022-642-0 
  5. Chatterjee, Partha (১৯৯৭)। The Present History of West Bengal: Essays in Political Criticism। Oxford University Press। পৃষ্ঠা 73। আইএসবিএন 978-0-19-563945-2 
  6. Das, Pyari Mohan। The Mahishyas 
  7. Pfeffer, Georg; Behera, Deepak Kumar (১৯৯৭)। Contemporary Society: Developmental issues, transition, and change (ইংরেজি ভাষায়)। Concept Publishing Company। আইএসবিএন 978-81-7022-642-0 
  8. Beech, Robert Paul; Beech, Mary Jane (১৯৬৯)। South Asia Series Occasional Paper (ইংরেজি ভাষায়)। Asian Studies Center, Michigan State University। 
  9. Tropical Man (ইংরেজি ভাষায়)। E.J. Brill। ১৯৭২। 
  10. Chatterjee, Gouripada (১৯৮৬)। Midnapore, the Forerunner of India's Freedom Struggle (ইংরেজি ভাষায়)। Mittal Publications। 
  11. Others (১৯৯১)। Reader In Urban Sociology (ইংরেজি ভাষায়)। Orient Blackswan। আইএসবিএন 978-0-86311-152-5 
  12. Jānā, Yudhishṭhira (১৯৬৫)। Br̥hattara Tāmraliptera itihāsa। Kalikātā Pustakālaẏa। 
  13. Caudhurī, Acyutacaraṇa (২০০২)। Śrīhaṭṭera itibr̥tta: Uttarāṃśa। Ut̲asa Prakāśana। আইএসবিএন 978-984-650-000-4 
  14. দাস, নরহরি (২০১০)। জাতি-তত্ত্ব ও উপাধিমালা। কলকাতা: নবপত্র প্রকাশন। পৃষ্ঠা ৩৪। 
  15. ভট্টাচার্য্য, ঘোষ, ঘোষ, যতীন্দ্র কুমার, শৈলেন্দ্র কুমার, সৌরিন্দ্র কুমার (১৯৯০)। অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ রচনাবলী, ৩য় খন্ড। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুস্তক পর্ষদ। পৃষ্ঠা ২০৬। 
  16. Chatterjee, Gouripada (১৯৮৬)। Midnapore, the Forerunner of India's Freedom Struggle (ইংরেজি ভাষায়)। Mittal Publications। পৃষ্ঠা ১৫৬,১৫৭। 
  17. Chatterjee, Gouripada (১৯৮৬)। Midnapore, the Forerunner of India's Freedom Struggle (ইংরেজি ভাষায়)। Mittal Publications। পৃষ্ঠা 158। 
  18. Bhowmik, Arindam। Medinikatha - Purba Medinipur (Midnapore), Tourism & Archaeology (মেদিনীকথা - পূর্ব মেদিনীপুর, পর্যটন ও পুরাকীর্তি): Combination of History, Heritage, Tourism, Culture of East Midnapore.। Arindam Bhowmik। পৃষ্ঠা ২৯। আইএসবিএন 978-81-931892-3-8 
  19. Bhowmik, Arindam। Medinikatha - Purba Medinipur (Midnapore), Tourism & Archaeology (মেদিনীকথা - পূর্ব মেদিনীপুর, পর্যটন ও পুরাকীর্তি): Combination of History, Heritage, Tourism, Culture of East Midnapore.। Arindam Bhowmik। পৃষ্ঠা ২৭–৩১। আইএসবিএন 978-81-931892-3-8 
  20. SIRCAR, D. C. (১৯৫৯)। STUDIES IN THE SOCIETY AND ADMINISTRATION OF ANCIENT AND MEDIEVAL INDIA VOL. 1। FIRMA K. L. MUKHOPADHYAY, CALCUTTA। পৃষ্ঠা ১১৮। 
  21. Roy, Nihar Ranjan। Bangalir itihas adiparba। Dey's Publishing। পৃষ্ঠা 38। 
  22. Sengupta, Nitish (২০১১)। Land of Two Rivers। পৃষ্ঠা 30। 
  23. Roy, Samaren (১৯৯৯)। The Bengalees: Glimpses of History and Culture (ইংরেজি ভাষায়)। Allied Publishers। পৃষ্ঠা 39, 42। আইএসবিএন 978-81-7023-981-9 
  24. Majumdar, Ramesh Chandra। Bangladesher Itihas। পৃষ্ঠা 178। 
  25. সুর, অতুল (২০০০)। বাঙালির নৃতাত্ত্বিক পরিচয়। কলকাতা: জিঞ্জাসা এজেন্সিস লিমিটেড। পৃষ্ঠা ৩৮–৩৯। 
  26. ইসলাম, এস. এম. রফিকুল। প্রাচীন বাংলার সামাজিক ইতিহাস:সেনযুগ। ঢাকা: বাংলা একাডেমি। পৃষ্ঠা ৬১। 
  27. Furui, Ryosuke (২০১৯-০৭-০২)। Land and Society in Early South Asia: Eastern India 400–1250 AD (ইংরেজি ভাষায়)। Taylor & Francis। পৃষ্ঠা 228। আইএসবিএন 978-1-000-08480-1 
  28. SIRCAR, D. C. (১৯৫৯)। STUDIES IN THE SOCIETY AND ADMINISTRATION OF ANCIENT AND MEDIEVAL INDIA VOL. 1। FIRMA K. L. MUKHOPADHYAY, CALCUTTA। পৃষ্ঠা ১১৩। 
  29. Majumdar, Ramesh Chandra (১৯৫৭)। Bangla desher itihash। S.C. Das। পৃষ্ঠা ১৮৬। 
  30. MAJUMDAR, R. C. (১৯৭১)। HISTORY OF ANCIENT BENGAL। G. BHARADWAJ , CALCUTTA। পৃষ্ঠা 422। 
  31. Nicholas, Ralph W (২০০৩)। Fruits of Worship: Practical Religion in Bengal। Orient Longman Ltd। পৃষ্ঠা 53। আইএসবিএন 978-8180280061 
  32. Shah, Ghanshyam (২০০৪)। Caste and Democratic Politics in India। Orient Blackswan। পৃষ্ঠা 114। আইএসবিএন 978-8-178-24095-4 
  33. Sarma, Jyotirmoyee (১৯৮০)। Caste Dynamics Among the Bengali Hindus (ইংরেজি ভাষায়)। Firma KLM। আইএসবিএন 978-0-8364-0633-7 
  34. Chakrabarty, Bidyut (১৯৯৭)। Local Politics and Indian Nationalism, Midnapur, 1919-1944 (ইংরেজি ভাষায়)। Manohar Publishers & Distributors। আইএসবিএন 978-81-7304-158-7 
  35. Sarma, Jyotirmoyee (১৯৮০)। Caste Dynamics Among the Bengali Hindus (ইংরেজি ভাষায়)। Firma KLM। পৃষ্ঠা 118–120। আইএসবিএন 978-0-8364-0633-7 
  36. MITRA, A. (১৯৫১)। THE TRIBES AND CASTES OF WEST BENGAL। Alipore, West Bengal: LAND AND LAND REVENUE DEPARTMENT। পৃষ্ঠা 22,32,65। 
  37. Sharma, Jyotirmoyee (১৯৮০)। CASTE DYNAMICS AMONG THE BENGALI HINDUS। Calcutta: Firma KLM Pvt. LTD.। পৃষ্ঠা 117,118,119,120। 
  38. Majumdar, rameshchandra (১৯৪৫)। Bangla Desher Itihas। পৃষ্ঠা 178। 
  39. MAJUMDAR, R. C. (১৯৭১)। HISTORY OF ANCIENT BENGAL। G. BHARADWAJ , CALCUTTA। 
  40. Thapar, Romila (২০১৩-১০-১৪)। The Past Before Us (ইংরেজি ভাষায়)। Harvard University Press। পৃষ্ঠা 501। আইএসবিএন 978-0-674-72651-2 
  41. Roy, Nihar Niranjan। Bangalir Itihas Aadi parba। পৃষ্ঠা 259। 
  42. Ray, Rajat Kanta; Ray, Professor and Head of the Department of History Rajat Kanta (১৯৮৪)। Social Conflict and Political Unrest in Bengal, 1875-1927 (ইংরেজি ভাষায়)। Oxford University Press। আইএসবিএন 978-0-19-561654-5 
  43. Maẏamanasiṃhera jībana o jībika, 1787-1987। Jelā Dviśatabārshikī Udyāpana, Byabasthāpanā, o Samanvaẏa Kamiṭira pakshe Jelā Praśāsana। ১৯৮৭। পৃষ্ঠা ৫৯। 
  44. Singh, K. S.; India, Anthropological Survey of (১৯৯৮)। India's Communities (ইংরেজি ভাষায়)। Oxford University Press। আইএসবিএন 978-0-19-563354-2 
  45. Lessinger, Johanna M. (১৯৮২)। "The New Vaishyas.": 920–924। ডিওআই:10.1086/452603 
  46. Timberg, Thomas A. (১৯৭৮)। The Marwaris, from Traders to Industrialists (ইংরেজি ভাষায়)। Vikas। আইএসবিএন 978-0-7069-0528-1 
  47. Others (১৯৯১)। Reader In Urban Sociology (ইংরেজি ভাষায়)। Orient Blackswan। আইএসবিএন 978-0-86311-152-5 
  48. ".:: Legacy of Midnapore(Medinipur,Midnapur,Purba Medinipur, Paschim Medinipur,East Midnapore,West Midnapore)::."www.midnapore.in। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-১২-২২ 
  49. Maity, Sachindra (১৯৭৫)। Freedom Movement in Midnapore। Firma, K.L.। 
  50. Desk, Developer (২০২০-১০-২৬)। "মেদিনীপুরের মুকুটহীন সম্রাট 'দেশপ্রাণ' বীরেন্দ্র শাসমল : ১৪০ তম জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি"The Bengal Post (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৮-০১ 
  51. Sarkar, Sumit (১৯৮৯-০১-২৪)। Modern India 1885–1947 (ইংরেজি ভাষায়)। Springer। আইএসবিএন 978-1-349-19712-5 
  52. N.A (১৯৮২)। SARBADHINAYAK VOL.1 সর্বাধিনায়ক খণ্ড.১। TAMRALIPTA SWADHINATA SANGRAM ITIHAS COMMITTEE। 
  53. Maity, Sachindra (১৯৭৫)। Freedom Movement in Midnapore। Calcutta: Firma, K.L.। 
  54. "Seventh Report: WB Commission for Backward Classes"। www.google.com। ১৯৮৪। 
  55. "Central List of OBCs for the State of West Bengal"। www.google.com 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]