সতীশচন্দ্র সামন্ত

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

সতীশচন্দ্র সামন্ত (১৫ই ডিসেম্বর, ১৯০০ – ৪ঠা জুন, ১৯৮৩, মহিষাদল) ছিলেন একজন ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামীলোকসভা-সদস্য (১৯৫২-৭৭)। মাত্র পনেরো বছর বয়সে গুরু স্বামী প্রজ্ঞানানন্দ সরস্বতীর অনুপ্রেরণায় ব্রহ্মচর্য ব্রত গ্রহণ করে দেশ ও জাতির সেবায় আত্মনিয়োগ করেছিলেন এই মণীষী।

জীবনী[সম্পাদনা]

শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় সতীশচন্দ্র পাঠ অসমাপ্ত রেখেই ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে। লক্ষ্য ছিল দেশ থেকে বিদেশি ব্রিটিশ শাসনের উচ্ছেদ সাধন। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের স্থানীয় শাখার মাধ্যমে তিনি বিপ্লবাত্মক কাজকর্ম সংগঠিত করতে থাকেন। পরে তিনি তমলুক কংগ্রেস কমিটির সভাপতি হন এবং কয়েক দশক ধরে কংগ্রেসের সক্রিয় সদস্য থাকেন। তার সুদক্ষ নেতৃত্ব ও অন্যান্য গঠনমূলক কাজের জন্য তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। তার নেতৃত্বের দক্ষতার পরিচয় পাওয়া যায় ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় তমলুকে স্থাপিত "তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার" নামে এক সমান্তরাল সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে। ১৯৪২ সালের ১৭ই ডিসেম্বর এই সরকার গঠিত হয়েছিল। ১৯৪৩ সালের জুন মাসে গ্রেফতারবরণের পূর্বাবধি সতীশচন্দ্র এই সরকার পরিচালনা করেছিলেন। ১৯৪৪ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সফলভাবে কাজ করেছিল তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার। ঘূর্ণিঝড়-বিধ্বস্ত এলাকায় ত্রাণকার্য, বিদ্যালয় অনুদান প্রদান ও বিদ্যুৎ বাহিনী নামে একটি সশস্ত্র বাহিনী গঠন ছিল এই সরকারের প্রধান উল্লেখযোগ্য কীর্তি।[১]

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সতীশচন্দ্র গণস্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টির কাজেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিলেন। ম্যালেরিয়া রোগ নিবারণে রাস্তাঘাট পরিষ্কার করা, কলেরা রোগীদের শুশ্রুষার ব্যবস্থা করা, বিনামূল্যে স্বাস্থ্যশিবির আয়োজন করা, অনগ্রসর এলাকায় শিক্ষা ও সাক্ষরতার প্রসারে স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষিত করে তোলার কাজে তিনি ছিলেন নিরলস। স্বাধীনতার পর তিন দশকেরও বেশি সময় তিনি থেকেছেন লোকসভার সদস্য। ১৯৫২ সালে প্রথম লোকসভায় তমলুক কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন সতীশচন্দ্র। এরপর ১৯৫৭, ১৯৬২, ১৯৬৭ ও ১৯৭১ সালেও একই কেন্দ্র থেকে পুনর্নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।[২]

দ্রষ্টব্য[সম্পাদনা]

  1. Chandra, Bipan and others (1998). India's Struggle for Independence, New Delhi:Penguin, আইএসবিএন ০-১৪-০১০৭৮১-৯, p.466
  2. "Stamps issued in 2001"Satis Chandra Samanta। ২০০৯-০৮-০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০৮-২২ 

বিস্তারিত তথ্যের জন্য দেখুন[সম্পাদনা]