মুকুন্দরাম রায়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মুকুন্দরাম রায়
রাজা
মৃত্যু১৫৯৯ খ্রীস্টাব্দ
মৃত্যুস্থানগোপালগঞ্জ জেলা, মুঘল, ভারত (বর্তমানে বাংলাদেশ)
সন্তানাদিসত্রাজিৎ রায়
ধর্মবিশ্বাসহিন্দু
যে সিরিজের অংশ সেটি হল
বাংলার ইতিহাস
Atisha.jpg
প্রাচীন বাংলা
 বৈদিক যুগ 
বাংলার প্রাচীন জনপদসমূহ
গঙ্গারিডাই, বঙ্গ,
পুণ্ড্র, সুহ্ম,
অঙ্গ, হরিকেল

মৌর্যযুগ
ধ্রুপদী বাংলা
ধ্রুপদী যুগ
শশাঙ্ক
সাম্রাজ্যের যুগ
পাল সাম্রাজ্য, সেন সাম্রাজ্য
মধ্যযুগীয় বাংলা
ইসলামের আগমন
বাংলা সুলতানী, দেব রাজ্য
বখতিয়ার খিলজি, রাজা গণেশ, জালালউদ্দিন মুহাম্মদ শাহ, হুসেন শাহী রাজবংশ

মুঘল যুগ
কন্দর্প রায়, প্রতাপাদিত্য, রাজা সীতারাম রায়
বাংলার নবাব, বারো ভুঁইয়া, রাণী ভবাণী

আধুনিক বাংলা
কোম্পানি রাজ
পলাশীর যুদ্ধ, জমিদারী ব্যবস্থা, ছিয়াত্তরের মন্বন্তর
ব্রিটিশ ভারত
বাংলার নবজাগরণ
ব্রাহ্মসমাজ
স্বামী বিবেকানন্দ, জগদীশচন্দ্র বসু,
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুভাষচন্দ্র বসু

উত্তর-সাম্রাজ্য যুগ
বঙ্গভঙ্গ (১৯৪৭), বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ
শেখ মুজিবুর রহমান, জ্যোতি বসু, বিধানচন্দ্র রায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা

এছাড়াও দেখুন
বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ

বারো ভুঁইয়াদের অন্যতম রাজা মুকুন্দ রাম রায় ছিলেন ভূষণা রাজ্যের একজন প্রভাবশালী হিন্দু জমিদার ।

ভূষণা দখল[সম্পাদনা]

মুকুন্দরামের ভূষণা রাজ্য আজকের মাগুরা জেলার মধুখালী উপজেলা, বৃহত্তর ফরিদপুর ও যশোর জেলার বেশ কিছু অংশ নিয়ে ছিল । মোগল আমলে ভূষণা ছিল সাতৈর পরগনার অধীনে। সম্রাট আকবরের রাজত্বের শেষকালে মীর্জা আজিজ কোকা ও রাজা টোডরমল বাংলাদেশে আসেন বিদ্রোহ দমন করতে । এ সময় মুকুন্দরাম ভূষণা জয় করে নেন। ১৫৮২ সালে রাজা টোডরমল তাকে ভূষণার জমিদার বলে মেনে নেন। পরে তিনি নিজেকে স্বাধীন বলে ঘোষণা করেন। তিনি শুধু নামে কিছু কর পাঠাতেন।আর অধীনতার ভান করতেন।তিনি আসলে স্বাধীন ছিলেন।আকবরের রাজত্বের দিকে তিনি অন্যান্য ভুইয়াদের সাথে যোগ দিয়ে বিদ্রোহ গড়ে তোলেন।

মোঘলদের সাথে যুদ্ধ ও মৃত্যু[সম্পাদনা]

প্রথমে তিনি মোঘলদের বশ্যতা স্বীকার করেন এবং তিনি তাদের কর দেয়া বন্ধ করেন।এরপর মোঘলদের সংগে যুদ্ধে লিপ্ত হন। প্রতাপাদিত্য বা কেদার রায়ের রাজত্ব সেশ হলেও তিনি দমেন নি।মোঘলদের বিরুদ্ধে তিনি প্রায় সারা জীবন যুদ্ধ করেছেন।

১৫৯৪ খ্রীস্টাব্দে সম্রাট আকবর বাংলার সুবেদার হিসাবে রাজা মানসিংহকে ।সঙ্গে দিয়েছিলেন পাঁচ হাজার সৈন্য। তিনি রাজধানী পৌঁছে বাংলার চর্ত‌ুদিকে সৈন্য পাঠান।  এ সময় সুবেদার মানসিংহের ছেলে হিম্মত সিংহ বিদ্রোহীদের দমন করতে অগ্রসর হয়। ১৫৯৫ খ্রীস্টাব্দের এপ্রিল মাসে ফরিদপুরের ভূষণা দখল করেন। ১৫৯৯ খ্রীস্টাব্দে পুনরায় রাজা মানসিংহ সেনাপতি হিম্মত সিংহকে রাজা মুকুন্দ রাম রায়ের সাথে খিজিরপুর যুদ্ধের সময় পাঠান। বর্তমানে গোপালগঞ্জ জেলার ফতেহজিৎপুরে(বর্তমান মুকসুদপুর উপজেলাধীন) তাদের ভীষণ লড়াই হয়। এ যুদ্ধে রাজা মুকুন্দরাম রায় মৃত্যুবরণ করেন।

পুত্র ও বংশ[সম্পাদনা]

মুকুন্দ রায়ের পুত্র রাজা সত্রাজিৎ রায় ।মোগলদের করা ষড়যন্ত্রে রাজা সত্রাজিৎ রায় প্রাণদন্ডে মারা যান। তার বংশের রাজ গৌরব ও স্বাধীনতা বিলুপ্ত হয় তার মৃত্যুতে।[১]

মুকুন্দরামের স্মৃতি বিজড়িত স্থান[সম্পাদনা]

মথুরাপুর দেউল- ফরিদপুর জেলার মধুখালী শহরে অবস্থিত ।এটি মূলভূমি থেকে প্রায় ৮০ ফুট উচু। এর উপরের অংশটি চাপা।এটি ১২ কোণ ও এক কোঠা বিশিষ্ট । বর্গ আকার ভূমির মাঝখানে এটি অবস্থিত । দেউলের আশেপাশের দেয়াল যুক্ত হয়ে বর্গাকৃতি তৈরি ক্রেছে।এটি ইট নির্মিত।এর গায়ে বিভিন্ন অলংকার, দেব-দেবী, জীব-জন্তুর ছবি অঙ্কিত আছে।এর নির্মাণ কাজ নান্দনিক। দেউলের ভেতরে্র প্রকোষ্ঠ আছে।সেখানে যাবার দু’টি পথ। একটি পশ্চিমে ও অন্যটি দক্ষিণে । দক্ষিণের পথটি সাধারণত তালা মারা থাকে। রাজা মানসিংহ হিম্মত সিংহের শেষ স্মৃতি ও মুকুন্দরামকে স্মরণীয় করতে এই দেউল নির্মাণ করেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

"কালের নীরব সাক্ষী মথুরাপুর দেউল"The Daily Sangram। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৩-০৪ </ref>

  1. "মাগুড়া জেলার পর্যটন অঞ্চল/দর্শনীয় স্থান সমূহ - Golden Bangladesh"www.goldenbangladesh.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৩-০৪