মার্টিন মক্সন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মার্টিন মক্সন
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামমার্টিন ডগলাস মক্সন
জন্ম (1960-05-04) ৪ মে ১৯৬০ (বয়স ৫৯)
স্টেয়ারফুট, বার্নসলে, ইয়র্কশায়ার, ইংল্যান্ড
ডাকনামফ্রগ
উচ্চতা৬ ফুট ১ ইঞ্চি (১.৮৫ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি মিডিয়াম
ভূমিকাব্যাটসম্যান
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৫২০)
২৪ জুলাই ১৯৮৬ বনাম নিউজিল্যান্ড
শেষ টেস্ট১০ আগস্ট ১৯৮৯ বনাম অস্ট্রেলিয়া
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ৭৯)
২৩ জানুয়ারি ১৯৮৫ বনাম ভারত
শেষ ওডিআই১৯ মার্চ ১৯৮৮ বনাম নিউজিল্যান্ড
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৮১–১৯৯৭ইয়র্কশায়ার
১৯৮২–১৯৮৪গ্রিকুয়াল্যান্ড ওয়েস্ট
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ১০ ৩১৭ ২৫৬
রানের সংখ্যা ৪৫৫ ১৭৪ ২১১৬১ ৭৮১৩
ব্যাটিং গড় ২৮.৪৩ ১০.০০ ৪২.৮৩ ৩৪.৪১
১০০/৫০ –/৩ –/১ ৪৫/১১৬ ৭/৫১
সর্বোচ্চ রান ৯৯ ৭০ ২৭৪* ১৪১*
বল করেছে ৪৮ ২৬৫০ ১৫০০
উইকেট ২৮ ৩৪
বোলিং গড় ৫২.৮৯ ৩৫.৮৫
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট - -
সেরা বোলিং ৩/২৪ ৫/৩১
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১০/– ৫/– ২১৮/– ৮৮/–
উৎস: ক্রিকইনফো, ৭ আগস্ট ২০১৮

মার্টিন ডগলাস মক্সন (ইংরেজি: Martyn Moxon; জন্ম: ৪ মে, ১৯৬০) ইয়র্কশায়ারের বার্নসলে এলাকার স্টেয়ারফুটে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ও সাবেক ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা। ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৯ সময়কালে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও, ডানহাতি মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন ‘ফ্রগ’ ডাকনামে পরিচিত মার্টিন মক্সন

খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর নেয়ার পর ৮ মে, ২০০৭ তারিখে জানা যায় যে, ইয়র্কশায়ারে পেশাদার ক্রিকেট পরিচালকের দায়িত্ব ভার গ্রহণ করেন।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সময়কালে সর্বমোট সতেরো মৌসুম ইয়র্কশায়ারের পক্ষে খেলেছেন তিনি।[১] এ সময়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২১,০০০-এর অধিক রান তুলেছিলেন। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের আয়োজক দলের প্রথম দুই খেলায় সেঞ্চুরির মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেন তিনি। ফলশ্রুতিতে, ইংল্যান্ড দলে খেলার জন্য আমন্ত্রণ পেতে খুব বেশী সময় লাগেনি তার।

অ্যাশলে মেটকাফের সাথে বিশ্বস্ত উদ্বোধনী জুটি গড়ে তুলেন ও পরবর্তীতে কাউন্টি দলের অধিনায়কত্ব করার সম্মাননা লাভ করেন।[২]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ১০টি টেস্ট ও ৮টি একদিনের আন্তর্জাতিকে আন্তর্জাতিকে অংশ নিয়েছেন মার্টিন মক্সন। আঘাতের কারণেই মূলতঃ দশ টেস্টে অংশ নিতে পেরেছেন তিনি। ১৯৮৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাকে খেলানোর জন্য মনোনয়ন দেয়া হয়। কিন্তু হাত ভেঙে যাবার প্রেক্ষিতে অভিষেকের বিলম্ব ঘটে।

পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয় মার্টিন মক্সনের। ১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে ইংল্যান্ড দল ভারত ও শ্রীলঙ্কা গমন করে। পিতার আকস্মিক মৃত্যুতে শুরুরদিকের খেলাগুলোয় অনুপস্থিত ছিলেন। এ সময়ে গ্রেইম ফাওলারের উদ্বোধনী ব্যাটিং জুটি হিসেবে টিম রবিনসন দলে পাকাপোক্তভাবে অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সফরের শেষদিকে মার্টিন মক্সনের ওডিআই অভিষেক হয়।

টেস্ট ক্রিকেট[সম্পাদনা]

অবশেষে টেস্ট অভিষেকের সুযোগ পেলে মার্টিন মক্সন এ সুযোগটি বেশ ভালোভাবে কাজে লাগান। ঐ গ্রীষ্মে টেস্ট ও ওডিআইয়ে গ্রাহাম গুচের চতুর্থ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে জুটি গড়েন। এ পর্যায়ে মুখোমুখি হওয়া নিউজিল্যান্ড দলে রিচার্ড হ্যাডলির ন্যায় তারকা খেলোয়াড়ের উপস্থিতি বিদ্যমান ছিল। উইজডেন ক্রিকেট মান্থলি মক্সনের ব্যাটিংকে স্বল্প ভূমিকায় অবতর্ণকারী কিন্তু বেশ পরিচ্ছন্ন ছিলরূপে আখ্যায়িত করে। ৭৪ রানের ইনিংসটি হ্যাডলির অফ কাটারে শেষ হয়ে যায়। লর্ডসের দ্বিতীয় ইনিংস ও ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্টে মক্সন তার প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি। ফলশ্রুতিতে ওভাল টেস্টের পূর্বেই দলের বাইরে তাকে অবস্থান করতে হয়েছিল। সবমিলিয়ে প্রথম চার ইনিংসে ২৭.৭৫ গড়ে ১১১ রান তুলেছিলেন তিনি। ক্রিস ব্রডবিল অ্যাথের কারণে ১৯৮৭ সর্বশেষ টেস্টের পূর্ব-পর্যন্ত তাকে অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়েছিল।

‘৯৯ ক্লাবে’র সর্বাপেক্ষা দূর্ভাগ্যজনক খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিতি পেয়ে আসছেন। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এ রানটি সংগ্রহ করেছিলেন মার্টিন মক্সন। দৃশ্যতঃ মিড-অফ অঞ্চলে তিন রান সংগ্রহ করলেও আম্পায়ার লেগবাইয়ের সঙ্কেত দেন। মক্সন ৯৯ রানে আউট হলে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে আটজন ব্যাটসম্যানের অন্যতম হিসেবে ৯৯ রানকে শতরানে রূপান্তর করতে পারেননি।[৩]

জুন, ১৯৮৮ সালে লর্ডস টেস্টে অংশগ্রহণের জন্য মাইক গ্যাটিংয়ের স্থলাভিষিক্ত হন ও তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামেন। এ সময়ে টম গ্রেভেনির ন্যায় ধারাভাষ্যকারেরা মক্সনের খেলার কৌশল গ্রহণ সম্পর্কে খুঁত ধরেন। তিনি যখন সামনের দিকে খেলেন, তখন বাম হাঁটু ছোট্ট ফাঁক সৃষ্টি করে। ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ম্যালকম মার্শাল এ ফাঁকে তাকে বোল্ড করেছিলেন।

১৯৮৯ সালে ট্রেন্ট ব্রিজে নিজস্ব শেষ টেস্টে টেরি অল্ডারম্যানের সমীহ করা প্রায় অসম্ভব সুইং বল যথাযথভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হন ও ব্যাটের প্রান্তদেশ স্পর্শে কট আউটে বিদায় নেন। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে খুব নীচু বলে বোল্ড হন। পরবর্তীতে আর তাকে ইংল্যান্ডের পক্ষে খেলতে দেখা যায়নি।

জিওফ্রে বয়কটের খেলার ধরনের সাথে তার বেশ মিল ছিল। পেশাদারী ক্রিকেটের আদর্শ প্রতিরূপ ছিলেন তিনি। তবে, ১৯৮০-এর দশকের শেষার্ধ্বে ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি মার্টিন মক্সন।

অবসর[সম্পাদনা]

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর ইয়র্কশায়ারে কোচিং পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০০১ সালে ডারহামের কোচ হিসেবে মনোনয়ন পান। ১ মার্চ, ২০০৭ তারিখে এ দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন।[৪] এরপর ইয়র্কশায়ার কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের পেশাদার ক্রিকেট পরিচালকের পদ লাভ করেন।[৫] ২০০১ সালের পর ২০১৪ সালে প্রথমবারের মতো ইয়র্কশায়ারের চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।[৬]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Martyn Moxon"। www.cricketarchive.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৬-০৪ 
  2. Bateman, Colin (১৯৯৩)। If The Cap Fits। Tony Williams Publications। পৃষ্ঠা 124। আইএসবিএন 1-869833-21-X 
  3. "Another Wasim hat-trick"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ৪ মে ২০১৮ 
  4. "Moxon leaves Durham for Yorkshire"BBC News। ১ মার্চ ২০০৭। 
  5. The Club : The Yorkshire County Cricket Club Ltd
  6. Dobell, George (১২ সেপ্টেম্বর ২০১৪)। "'Something I will treasure for rest of my life'"ESPNcricinfo 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]