ব্রায়ান স্ট্র্যাং

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ব্রায়ান স্ট্র্যাং
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামব্রায়ান কলিন স্ট্র্যাং
জন্ম (1972-06-09) ৯ জুন ১৯৭২ (বয়স ৪৮)
বুলাওয়ে, রোডেশিয়া
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনবামহাতি মিডিয়াম
ভূমিকাবোলার
সম্পর্করোনাল্ড স্ট্র্যাং (পিতা), পল স্ট্র্যাং (ভ্রাতা)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ২৬)
৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৫ বনাম পাকিস্তান
শেষ টেস্ট২৭ জুলাই ২০০১ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ৪০)
২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৫ বনাম পাকিস্তান
শেষ ওডিআই১ জুলাই ২০০১ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ২৬ ৪৯ ৭৪ ৭৮
রানের সংখ্যা ৪৬৫ ৯২ ১,২৬৭ ২৩৭
ব্যাটিং গড় ১২.৯১ ৫.১১ ১৪.৯০ ৮.৪৬
১০০/৫০ ০/১ ০/০ ০/৫ ০/১
সর্বোচ্চ রান ৫৩ ১৮ ৭৩ ৬১
বল করেছে ৫,৪৩৩ ২,৪৯৪ ১৫,১৭৪ ৪,০১৮
উইকেট ৫৬ ৪৬ ২৫২ ৮১
বোলিং গড় ৩৯.৩৩ ৩৭.৩৪ ২৫.৪০ ৩২.৮৫
ইনিংসে ৫ উইকেট ১৪
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৫/১০১ ৬/২০ ৭/২০ ৬/২০
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১১/– ১৫/– ২২/– ২৫/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ব্রায়ান কলিন স্ট্র্যাং (ইংরেজি: Bryan Strang; জন্ম: ৯ জুন, ১৯৭২) বুলাওয়ে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক জিম্বাবুয়ীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৯৫ থেকে ২০০১ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে ম্যাশোনাল্যান্ড এবং ম্যাশোনাল্যান্ড কান্ট্রি ডিস্ট্রিক্টস দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ বামহাতি মিডিয়াম বোলার হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন ব্রায়ান স্ট্র্যাং

শৈশবকাল[সম্পাদনা]

ব্রায়ান স্ট্র্যাংয়ের সহোদর পল স্ট্র্যাং জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ভাইয়ের সাথে একযোগে টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। তাদের বাবা রোনাল্ড স্ট্র্যাং প্রথম-শ্রেণীর আম্পায়ার ছিলেন ও ১৯৯৪ সালে একটি ওডিআইয়ে আম্পায়ারের দায়িত্ব পালনসহ ১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে জিম্বাবুয়ের দুইটি টেস্ট খেলায় টিভি আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেছেন।

ক্রিকেটের প্রতি তার সুগভীর অনুরাগ লক্ষ্য করা যায়। জ্যেষ্ঠ অনুজ পল স্ট্র্যাং জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন ও বর্তমানে কিউই ঘরোদা ক্রিকেটে অকল্যান্ডের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৯৪-৯৫ মৌসুম থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ব্রায়ান স্ট্র্যাংয়ের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। সুনিয়ন্ত্রিত পন্থায় সিম বোলিং করতেন। একদিনের ক্রিকেটে পেসবিহীন খুঁতখুঁতে নিখুঁতভাব বজায় রাখতেন। ফলে তার বোলিং সনাক্ত করা বেশ দূরূহ বিষয় ছিল। এক সময় তাকে ‘বিশ্বের সর্বাপেক্ষা বিরক্তিকর বোলার’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছিল। ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার ক্লাব ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

২০০১ সালে মাতাবেলেল্যান্ড দলকে মাত্র ১৯ রানে গুটিয়ে সর্বনিম্ন দলীয় রান সংগ্রহের জাতীয় রেকর্ড গড়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। ঐ ইনিংসে তিনি ৫/৬ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েছিলেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ছাব্বিশটি টেস্ট ও ঊনপঞ্চাশটি একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশগ্রহণ করেছেন ব্রায়ান স্ট্র্যাং। ৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৫ তারিখে বুলাওয়েতে সফরকারী পাকিস্তান দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ২৭ জুলাই, ২০০১ তারিখে হারারেতে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

১৯৯৭ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৬/২০ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েছিলেন। এ পরিসংখ্যানটি জিম্বাবুয়ের জাতীয় রেকর্ডরূপে স্বীকৃতি পেয়ে আসছে। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে পাকিস্তান সফরে যায় জিম্বাবুয়ে দল। শেখুপুরায় অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে নবম উইকেট জুটিতে ভাইয়ের সাথে জুটি গড়ে ৮৭ রান তুলেন। তবে, ওয়াসিম আকরামের অপরাজিত ২৫৭ রানের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয় ও তার সাফল্য ঢাকা পড়ে যায়।[১] বামহাতি মিডিয়াম বোলার ছিলেন ব্রায়ান স্ট্যাং। তবে, বলে নিখুঁততার স্বাক্ষর রাখতে না পারায় ওডিআইয়ে অন্তর্ভূক্তি বেশ দুরূহ হয়ে দাঁড়ায়। খেলোয়াড়ী জীবনে তিনি ওভারপ্রতি ৪.১৩ গড়ে রান দিয়েছিলেন।

জাতীয় দলে প্রত্যাখ্যান[সম্পাদনা]

জুলাই, ২০০১ সালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে সর্বশেষ খেলায় অংশ নেন। ২০০২ সালে চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে দক্ষিণ আফ্রিকায় চলে যান। জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটের তুখোড় সমালোচক তিনি। ২০০৩ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ চলাকালে তিনি বলেন যে, বিশ্বকাপের খেলা আয়োজনে তিনি প্রতিবন্ধকতার পরিবেশ সৃষ্টি করবেন। ফলশ্রুতিতে, ২০০৩-০৪ মৌসুমে খেলার জগতে ফিরে আসার চেষ্টাকালে জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেট ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষ তার উপর নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে।

২০০৫ সালে তার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। ২০০৫ সালে তিনি খেলার জগতে ফিরে আসেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে জিম্বাবুয়ে এ দলের খসড়া তালিকায় রাখা হয়। পরের বছর দলটি পাকিস্তান এ দলের বিপক্ষে জয়ী হয়। এছাড়াও, ২০০৫ সালে নিউজিল্যান্ড ও ভারত সফরকে ঘিরে প্রশিক্ষণ শিবিরে তাকে নেয়া হয়েছিল। পরে তিনি জানতে পারেন যে, তাকে দলে রাখা হবে না।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

নিউক্যাসল আপোন টাইন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্রীড়া বিজ্ঞান বিষয়ে সম্মানসূচক ডিগ্রি প্রাপ্ত হন। ফলশ্রুতিতে জুলাইয়ে এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে খেলার জন্যে বিশ্ববিদ্যালয় দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। জিম্বাবুয়েতে ফিরে আসার পর লিফোর্ডিয়া স্কুল ও হারারেভিত্তিক সেন্ট জর্জেস কলেজে প্রশিক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন।

২০০৯ সালে তিনি জেসিতে যুক্ত হবার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন। সেন্ট জন্স প্রেপ স্কুলের ক্রীড়া বিভাগের সাথে যুক্ত হন। লিফোর্ডিয়া স্কুলে প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। এ বিদ্যালয়ে অ্যালিস্টেয়ার ক্যাম্পবেল ও তার পিতা যুক্ত রয়েছেন। অক্টোবর, ২০০৯ সালে তিনি বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। নভেম্বর / ডিসেম্বর, ২০০৯ সালে লোগান কাপে ম্যাশোনাল্যান্ড ঈগলসের পক্ষে খেলবেন। বোর্ড থেকে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবার পরই তিনি এ সুযোগ লাভ করবেন।

বর্তমানে জিম্বাবুয়েতে যোগসাধকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেছেন যে, যোগসাধন তার জীবনের আমূল পরিবর্তন সাধন করেছে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]