বিভিন্ন ধর্মে সমকামিতা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন ধর্মে মানবীয় নৈতিকতার বিচারে সমকামিতা একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে।যেখানে আব্রাহামিক ধর্মে সমকামিতাকে যৌনবিকৃতি হিসেবে নেতিবাচকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে| অপরদিকে ভারতীয় ধর্মসমূহে সমকামীর প্রতি উদারতা এবং অনেক ক্ষেত্রে মান্যতা দেখা যায়।।আরো বেশ কিছু ধর্মে বিপরীতকামিতার মত সমকামিতাকেও স্বাভাবিক বা দ্ব্যর্থক এবং উপরন্তুভাবে প্রাচীন পান্ডুলিপিতে এবং সাম্প্রতিককালের সংষ্কারবাদী আন্দোলনের মাধ্যমে কিছু ধর্মে ইতিবাচকভাবেও একে উল্লেখ করা হয়েছে| তবে সাম্প্রতিককালের দশকগুলোতে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় থেকে রক্ষণশীল সমকামিতা-বিরোধী আন্দোলন এবং সংষ্কারবাদী সমকামিতা-সমর্থন উভয় প্রকার আন্দোলন লক্ষ করা গেছে|

ইব্রাহিমীয় ধর্ম[সম্পাদনা]

ইব্রাহিমীয় ধর্মের সকল শাখাতেই সমকামিতাকে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে| এর প্রধান তিনটি শাখার প্রধান ধর্মগ্রন্থসমূহে এবং ধর্মীয় পান্ডুলিপিগুলোতে লট বা লূত নামক প্রাচীন নবীর সম্প্রদায়ের সমকামী আচরণের নিন্দা করা হয়েছে এবং উক্ত সম্প্রদায়কে ঐশী বিপর্যয়ের মাধ্যমে ধ্বংস করার ইতিহাস বর্ণনার মাধ্যমে স্বীয় অনুসারীদেরকে সতর্ক করা হয়েছে|

ইসলাম[সম্পাদনা]

ইসলামে সমলিঙ্গীয় যৌনতা নিষিদ্ধ। কুরআন ও হাদীসে পূর্ববর্তী ইব্রাহিমীয় ধর্মের মতই কওমে লুতের সমকামিতা ও পুংমৈথুনের ইতিহাস বর্ণিত হয়েছে যেখানে সমকামিতা ত্যাগ না করার চূড়ান্ত পরিণতিতে শাস্তি হিসেবে ঐশী বিপর্যয়ের মাধ্যমে তাদের ধ্বংস হওয়ার কথাও উঠে এসেছে। এছাড়া হাদীসে সডোমি অর্থাৎ পুংমৈথুনকারী বা পুংপায়ুকামী ও সমকামী ব্যক্তিদেরকে হত্যা করার নির্দেশ এসেছে।

খৃষ্টধর্ম[সম্পাদনা]

ইহুদি ধর্ম[সম্পাদনা]

বাহাই ধর্ম[সম্পাদনা]

হিন্দু ধর্ম[সম্পাদনা]

হিন্দু ধর্মের প্রধান ধর্মগ্রন্থ বেদ।। বেদ এ মোট ২০০০০ মন্ত্র রয়েছে যেখানে সমকামীতার কোনো শাস্তি নেই।।

কিন্তু পৌরাণিক ইতিহাসে কামক্রিয়ার অস্বাভাবিকতার উপস্থিতি প্রচ্ছন্নভাবে দেখা যায় যাতে বিভিন্ন সময় সমকামীতার মতো বা সাদৃশ্য যৌনাবৃত্তিক বর্ণনা থাকে।।হিন্দু ধর্মে পুরাণগুলি তিনভাগে বিভক্ত - সাত্বিক, রাজসিক ও তামসিক। তামসিক পুরাণগুলিতে সাধারণত কামকে (যৌনতাকে) সৃষ্টিরহস্যের এক অভুতপুর্ব নিদর্শন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছ। তবে হিন্দুধর্মে বেদ,উপনিষদ,পুরাণ,রামায়, মহাভারত কোথাও সমকামীতার শাস্তি নেই।। কেবল মাত্র কিছু ব্যক্তিগণ মনুসংহিতাকে সমকামীতার বিরূদ্ধে বলেন।।

মনুসংহিতার অষ্টম অধ্যায়ের ৩৬৯ এবং ৩৭০ নম্বর শ্লোকে এবং ১১ অধ্যায়ের ১৭৫ নং শ্লোকে সমকামীতার শাস্তি রয়েছে।।

যা পুরোপুরি ভুল কারণ অধ্যায় ৩ এর শ্লোক ৩৬৯ ও ৩৭০ এরূপঃ কনৈব কন্যাং যা কুর্যাৎ তস্যাৎ দ্বিশতো দমঃ। শুল্কঞ্চ দ্বিগুণাং দদ্যাচ্ছিফাশ্চৈবাপ্নুয়াদ্দশ।।(৩৬৯) যা তু কন্যাং প্রকুর্যাৎ স্ত্রী সদ্যো মৌন্ড্যমর্হতি। অঙ্গুল্যোরেব চ ছেদং খরেণোদ্বহনং তথা।।(৩৭০)

বাংলাঃ যদি কোনো কন্যা অন্য কন্যার যোনিতে আঙ্গুল প্রবেশের দ্বারা তার কন্যাত্ব নষ্ট করে,তাহলে তার দুই শত পণ অর্থদন্ড বা দ্বিগুণ শুল্ক হবে অথবা তাকে দশঘা চাবুক মারতে হবে।।(৩৬৯)

যদি কোনো কন্যার কন্যাত্ব কোনো স্ত্রীলোক(বিবাহিত) নষ্টকরে তবে তারা মাথা মুড়িয়ে দিতে হবে নাহলে,আঙ্গুল কেটে দিতে হবে।।(৩৭০) দেখুন একটু চিন্তা করলে বোঝা যায় ৩৬৯ শ্লোক যাতে সমাজে কোনো মেয়ের সতীচ্ছদ পর্দা কেও আঙ্গুল দ্বারা নষ্টনা করে তা রোধ করার জন্যই বোঝানো হয়েছে।।

আর ৩৭০ শ্লোক কোনো কন্যার সাথে বিবাহিত স্ত্রী সম্পর্ক করতে নিষেধ করতে মনু বলেছেন।(সমবয়সীর কথা বলেনি "কন্যা প্রকুর্যাৎ স্ত্রী" অর্থাৎ কন্যা স্ত্রীর সাথে করলে শাস্তি হবে।।

এরপর অধ্যায় ১১ শ্লোক ১৭৫ এ

মৈথুনং তু সমাসেব্য পুংসি যোষিতি বা দ্বিজঃ। গোযানেহপ্সু দিবা চৈব সবাসাঃ স্নানমাচরেৎ

অর্থাৎঃ কেও যদি গোযান-আদির উপরে,দিবা বা দিনের বেলায় পুরুষ বা নারীর সাথে মৈথুন করে তাহলে তাকে সেই কাপড় পড়ে স্নান করতে হবে।। এই শ্লোক আদোও কোনো শাস্তিই নয় শুধু পরিচর্যা।।

অর্থাৎ বোঝাই যায় এসব শ্লোকে সমবয়সী দুজন নারী বা পুরুষ স্বেচ্ছায় সমকামীতা করলে তার শাস্তি নেই।।

বাস্তবে ভারতীয় দর্শন বা বিশ্বাস সমূহ হিন্দু,বৌদ্ধ,জৈন বা শিখ কোনো ধর্মেই সমকামীতার শাস্তি নেই।।

বৌদ্ধ ধর্ম[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]