বিষয়বস্তুতে চলুন

বিড়ি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বিড়ির প্যাকেট

বিড়ি (অন্য বানানে বিডি বা বিড়ি) একটি সরু সিগারেট বা ক্ষুদ্র সিগার, যা তামাক কুঁড়া দ্বারা পূর্ণ থাকে এবং সাধারণত টেন্ডু (ডাইওস্পাইরোস মেলানোক্সাইলন) অথবা পিলিওস্টিগমা রেসেমোসুম পাতায় মোড়ানো হয়, এক প্রান্তে সুতা বা আঠা দিয়ে বাঁধা থাকে। এর উৎপত্তি ভারতীয় উপমহাদেশে। এর নামটি মারোয়ারি শব্দ বিডা থেকে এসেছে—যা হলো পানের পাতা, সুপারি, মসলা ইত্যাদি দিয়ে তৈরি এক ধরনের মোড়ানো খাবার। এটি দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অঞ্চলে প্রচলিত একটি ঐতিহ্যবাহী তামাক সেবনের উপায়, যেখানে বিড়ি ব্যাপক জনপ্রিয় ও সস্তা। ভারতে, ২০০৮ সালে প্রচলিত হিসাব অনুযায়ী, বিড়ি সেবনের পরিমাণ সাধারণ সিগারেটের তুলনায় অনেক বেশি, যেখানে তামাক ব্যবহারের ৪৮% অংশ বিড়ি দ্বারা আসে। বিড়ি হাতে তৈরি এক ধরনের সস্তা সিগারেট। দাম কম এবং হাতে বানান যায় বলে গ্রামের কৃষক শ্রমিকের কাছে খুবই জনপ্রিয় ধূমপান সামগ্রি। শুকনো তামাক পাতা সরাসরি কাগজে বা সুপারির পাতার ভিতরে পাতলা অংশে মুড়ে পান করা হয়। সরাসরি তামাক পাতা থাকায় ও ফিল্টার না থাকার কারণে এর ক্ষতিকর প্রভাব বেশি। বিড়ির কাঁচামাল তামাক উৎপাদনের জন্য পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া, পুরুলিয়া; মেদিনীপুর এর আশেপাশের অঞ্চল এবং বাংলাদেশের রংপুর অঞ্চল বিখ্যাত। এজন্য এসব অঞ্চলে বিড়ি শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে।

চান্দেরিতে মহিলারা তৈরি বিড়ি তৈরি করছেন

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

ভারতে তামাক চাষ শুরু হওয়ার পর, ১৭শ শতকের শেষ দিকে বিড়ির আবিষ্কার হয়। প্রথমে তামাকশ্রমিকেরা অবশিষ্ট তামাক নিয়ে পাতা দিয়ে বিড়ি তৈরি করতেন।

ভারতে বাণিজ্যিকভাবে বিড়ি শিল্পের দ্রুত বৃদ্ধি ঘটে ১৯৩০-এর দশকে, যার পেছনে তামাক চাষের বিস্তার এবং গান্ধীর দেশীয় শিল্প ও দেশীয় পণ্যের প্রতি সমর্থনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এজন্য, সেই সময়ের শিক্ষিত শ্রেণির মধ্যে বিড়ির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়, যদিও বর্তমানে সেই প্রবণতা নেই। অনেক সময় মুসলিম নেতারাও বিদেশি পণ্যবিরোধী অবস্থান থেকে বিড়িকে সমর্থন করেছেন।

২০শ শতকের মধ্যভাগে, বিড়ি উৎপাদন একটি প্রতিযোগিতামূলক এবং লাভজনক শিল্পে পরিণত হয়। এই পর্যায়ে অনেক নতুন বিড়ি ব্র্যান্ড তৈরি হয় এবং কারখানাগুলোতে প্রধানত পুরুষ শ্রমিকদের দ্বারা শতাধিক শ্রমিক নিয়ে উৎপাদন চলতো।

পরবর্তীতে, ১৯৪০, ১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকে বিধিনিষেধ ও নিয়ন্ত্রণ বাড়ার ফলে কারখানা-ভিত্তিক বিড়ি উৎপাদন কমে যায় এবং এটি কুটির শিল্পে পরিণত হয়। এই পর্যায়ে গৃহভিত্তিক নারী শ্রমিকদের মাধ্যমে মূলত বিড়ি মোড়ানোর কাজ করা হয়। অন্যদিকে, পুরুষেরা বিড়ি উৎপাদনের অন্যান্য কাজে নিযুক্ত থাকেন।

বিড়ি ধূমপান সাধারণত নিম্নবিত্তের সঙ্গে যুক্ত, কারণ এসব তামাক ভর্তি পাতার দাম সাধারণ সিগারেটের তুলনায় অনেক কম। উচ্চবিত্তের কেউ বিড়ি সেবন করলেও সাধারণত প্রকাশ্যে নয়; যদিও সাম্প্রতিক কালে এই প্রবণতায় কিছুটা পরিবর্তন এসেছে।

উৎপাদন

[সম্পাদনা]
কারখানার শ্রমিকরা ধাতব ছাঁচ ও কাঁচি দিয়ে পাতা কেটে নেন। পর্যাপ্ত মোড়ক প্রস্তুত হলে, প্রতিদিন গড়ে এক হাজার বিড়ি তৈরি করেন।

ভারতে ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ বিড়ি উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত, যা একটি কুটির শিল্প, সাধারণত নারীরা বাড়িতে বসেই করেন। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, লাভ বাড়লেও শ্রমিকদের মজুরি কমেছে এবং নারী শ্রমিকরা পুরুষদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম পারিশ্রমিক পান।

শ্রমিকেরা প্রতিদিন গড়ে ৫০০–১০০০টি বিড়ি মোড়ান, এতে ২২৫–৪৫০ গ্রাম তামাক ব্যবহার হয়। তামাক স্পর্শ করা এবং এর ধোঁয়া শ্বাস নেওয়া বিড়ি শ্রমিকদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি, যেমন—জিনগত পরিবর্তনজনিত সমস্যা দেখা গেছে।

বাংলাদেশেও বিড়ি উৎপাদন জনপ্রিয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিউরো অব ইন্টারন্যাশনাল লেবার অ্যাফেয়ার্স-এর ২০১৪ সালের শিশু ও জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের তালিকা অনুযায়ী, এসব দেশে গ্রামীণ খাতে শিশু শ্রমিক দিয়ে বিড়ি উৎপাদন হয়, যা ক্রেতাদের চাহিদার কারণে ঘটে।

অনানুষ্ঠানিক খাতে বিড়ি তৈরি হচ্ছে।

টেন্ডু পাতা

[সম্পাদনা]

টেন্ডু (ডাইওস্পাইরোস মেলানোক্সাইলন) পাতা বিড়ির মোড়ক হিসেবে খুবই উপযোগী, এবং বিড়ির সাফল্যের পেছনে এই পাতার ভূমিকা অনেক। তামাক ফসল শুকিয়ে নেওয়ার পর এই পাতার প্রাচুর্য থাকে বলে বিড়ি তৈরির জন্য প্রস্তুত রাখা যায়। গ্রীষ্মকালে সংগ্রহ করা পাতা রোদে ৩ থেকে ৬ দিন শুকিয়ে মোড়ক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা

[সম্পাদনা]

বিড়ি, সাধারণ সিগারেটের মতো নয়, বারবার টানতে হয় যেন জ্বলে থাকে, এবং এতে কিছুটা বাড়তি কষ্ট হয়।

প্যাকেট

[সম্পাদনা]

দামের উপর নির্ভর করে বিভিন্ন ধরনের বিড়ির প্যাকেট বাজারে পাওয়া যায়। যেমন, পাঁচ টাকার ছোটো প্যাকেট এবং দশ টাকার বড় প্যাকেট


তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]