লাইটার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
একটি প্রজ্জ্বলিত লাইটার

লাইটার মূলত আগুনের শিখা তৈরীতে ব্যবহৃত হয় এবং এটি সহজে বহনযোগ্য। গ্যাসের চুলা, আতসবাজি, মোমবাতি, সিগারেট, কিংবা বিভিন্ন দাহ্য পদার্থ জ্বালানোর জন্য লাইটার ব্যাবহৃত হয়। এটি সাধারনত ধাতু ও প্লাষ্টিকের সমন্বয়ে তৈরী। লাইটারে থাকা দহন যোগ্য তরলই অগ্নি শিখা উৎপাদনের উপায়। অগ্নি শিখা নিভানোর জন্য কিছু নিয়ম থাকে। তাছাড়াও একটি লাইটার বিদ্যুৎ দ্বারা প্রজ্বলন করা যায়। বৈদ্যুতিক চাপ কিংবা গরম করার উপাদান ব্যবহার করে শিখা প্রজ্বলন করা যায়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

জার্মান রসায়নবিদ জোহান উলফগ্যাং ডোবেরিয়েনার ১৮২৩ সালে প্রথম লাইটার আবিষ্কার করেন। সে সময় এটিকে ডোবেরিয়েনারের চেরাগ বলা হতো।[১] লাইটার সাধারনত হাইড্রোজেনের সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে অগ্নি শিখা উৎপন্ন করে।[১] লাইটারে থাকা প্লাটিনাম ধাতুর অনুঘটককে ঘুরিয়ে সাময়িক তাপ ও আলোর সৃষ্টি করা হয়।

১৯০৩ সালে Carl Auer Von Welsbach আধুনিক লাইটার আবিষ্কারে সক্ষম হন। তাঁর আবিষ্কৃত লাইটার টি অধিকতর উজ্জল আলো দিতে সক্ষম তাছাড়াও এটি দামে সস্তা ও পূনরায় ব্যবহার যোগ্য। Carl Auer Von Welsbach এর আবিষ্কৃত লাইটারটি Ronson এর মতো কোম্পানি বাস্তবে ব্যাবহারযোগ্য করে তুলে। ১৯১০ সালে Ronson প্রথম Pist-O-Liter মুক্তি দেয় এবং ১৯১৩ সালে কোম্পানি তাদের প্রথম লাইটারটি উন্নত করে যাকে “Wonderlit” বলা হতো, এটি লাইটারের স্থায়ী গঠন ছিল। George G. Blaisdell ১৯৩২ সালে Zippo লাইটার এবং এর কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। Zippo-তে প্রথম জ্বলানী হিসেবে ন্যাপ্থা ব্যবহৃত হয়। ১৯৫০ সালে ন্যাপ্থা এর পরিবর্তে কম গন্ধ যুক্ত বিউটন জ্বলানির ব্যাবহার শুরু হয়। আধুনিক বিশ্বের অধিকাংশ লাইটার মার্কিন যুক্তরাষ্ট, চীন এবং থাইল্যান্ডে উৎপাদিত হয়।

ক্রিয়াকলাপ[সম্পাদনা]

ন্যাপ্থা (পেট্রোলিয়াম জাতীয়) ভিত্তিক লাইটারে তরল শোষন এবং লিক প্রতিরুধ করার জন্য একটি পরিপূর্ন কাপড় এবং ফাইবার পেঁচানো থাকে। এর উদ্বায়ী পদার্থ উবে যাওয়া প্রতিরুধ করতে এবং প্রয়োজনে শিখা নিভিয়ে দিতে উপরিভাগে বিশেষ ব্যাবস্থা আছে। বিউটন টাইপ লাইটারের ভালব লাগানো ছিদ্রে একটি মিটার থাকে গ্যাস মাপার জন্য।

পাথরের সাথে ধাতুর ঘর্ষনের ফলে অগ্নি স্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি হয়, অথবা বোতাম টিপে Piezoelectric স্ফটিক (Piezo ইগনিশন) সংকোচিত করে চাপ সৃষ্টি করে বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গ তৈরী করা হয়। লাইটারের ন্যাপ্থা জ্বালানী উদ্ধায়ী পদার্থ হওয়ায় লাইটারের উপরের অংশ খুলা হলেই উপরে চলে আসে। বিউটেন টাইপ লাইটার উপরের অংশ ও গ্যাস ছাড়ার ভালব এক সাথে কাজ করে। উপরিভাগ খুলে অগ্নিশিখা জ্বলানোর পর উপরিভাগ বন্ধ না করা পর্যন্ত জলতে থাকে ন্যাপথার জ্বলানি, ভালব বন্দ না করা পর্যন্ত জ্বলতে থাকে বিউটন জ্বলানি।

সাধারনত বাতাস বের হওয়ার অংশটি ধাতব পদার্থ দ্বারা ঘেরা থাকে এবং লাইটারটির জ্বালানি ও বাতাসের সংমিশ্রনে সংবেদনশীলতা কমাতে পারে এমন ভাবে সাজানো হয়েছে।

অন্যান্য ধরনের[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Roald Hoffmann। "Roald Hoffmann, "Döbereiner's Feuerzeug", American Scientist, 86, no. 4 (August 1998)"। American scientist.org। ডিওআই:10.1511/1998.4.326। সংগৃহীত ২০১০-০৫-২১ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

  • উইকিঅভিধানে Lighter-এর আভিধানিক সংজ্ঞা