প্রাচীন গ্রিক জ্যোতির্বিদ্যা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
অ্যান্টিকাইথেরা প্রযুক্তি হল ১৫০-১০০ খ্রিষ্টপূর্বে তৈরি এনলগ কম্পিউটার। এটি মহাকাশীয় বস্তুসমূহের অবস্থান নির্ণয়ের জন্য নির্মিত

প্রাচীন গ্রিক জ্যোতির্বিদ্যা হল পুরাকালীন গ্রিক ভাষায় লিখিত জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক শাস্ত্র। গ্রিক জ্যোতির্বিদ্যা প্রাচীন গ্রীক, হেলেনীয়, গ্রেকো-রোমান এবং উত্তর-পুরাকালীন যুগ ধারণ করে। উল্লেখ্য, এই শাস্ত্রের বিস্তার শুধু গ্রীস রাষ্ট্র বা গ্রিক জাতিতে সীমিত নয়, কারণ আলেকজান্ডারের রাজ্যবিস্তারের মাধ্যমে সমগ্র হেলেনীয় বিশ্বে গ্রিক ভাষা বিদ্যাচর্চার মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এসব অঞ্চলের বিদ্যার্থীরা গ্রিক বিদ্যাচর্চায় যুক্ত হয়েছিলেন। গ্রিক জ্যোতির্বিদ্যার এই পর্যায় হেলেনীয় জ্যোতির্বিদ্যা নামেও পরিচিত, এবং প্রাক-হেলেনীয় পর্যায়কে বলা হয় ক্লাসিকাল গ্রিক জ্যোতির্বিদ্যা। হেলেনীয় এবং রোমান যুগে গ্রিক এবং অ-গ্রিক জ্যোতির্বিদগণের অনেকেই টলেমীয় মিশরে আলেকজান্দ্রিয়ার গ্রন্থাগার এবং আলেকজান্দ্রিয়ার মিউজিয়নে কর্মরত ছিলেন।

ইতিহাসবেত্তাদের মতে গ্রিক এবং হেলেনীয় জ্যোতির্বিদদের হাতে জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিকাশ, জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাসের একটি গুরুতর পর্যায়। গ্রিক জ্যোতির্বিদ্যার প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল মহাকাশীয় ঘটনাবলীর জন্য একটি বাস্তবিক, যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যার অন্বেষণ করা।[১] উত্তর গোলার্ধের অধিকাংশ নক্ষত্রমণ্ডলীর গঠন গ্রিক জ্যোতির্বিদ্যা থেকেই উদ্ভূত,[২] এমনকি বেশিরভাগ সৌরজাগতিক গ্রহের নাম, এবং বেশ কিছু নক্ষত্র এবং গ্রহাণুর নামও। গ্রিক জ্যোতির্বিদগণ মিশরীয় এবং ব্যাবিলনীয় জ্যোতির্বিদ্যা দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। অপরপক্ষে গ্রিক জ্যোতির্বিদ্যার প্রভাব লক্ষ্য করা যায় ভারতীয়, আরব-ইসলামিক এবং পশ্চিম-ইউরোপীয় জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চায়।

পৌরাণিক গ্রিক জ্যোতির্বিদ্যা[সম্পাদনা]

গ্রিক সাহিত্যের সর্বপ্রাচীন নিদর্শন হোমার এব হেসিয়দ এর লেখায় বাস্তব নক্ষত্র এবং নক্ষত্রপুঞ্জের প্রসঙ্গ পাওয়া যায়। ইলিয়াড এবং ওডিসি-তে হোমার সূর্যগ্রহণ সহ একাধিক মহাকাশীয় ঘটনা বিবরণ করেছেন, এমনকি এদের মাধ্যমে কাহিনীগুলোর আনুমানিক সময়কালও নির্ণয় করা সম্ভব যেতে পারে।

ইলিয়াড এবং ওডিসি-তে নিম্নলিখিত মহাকাশীয় বস্তুর কথা পাওয়া গেছে:

আনাক্সিমান্দ্রোস

হেসিয়দ (৭ম শতক) তাঁর দিবস ও কর্ম কাব্যিক দিনপঞ্জিতে স্বাতি তারকা অন্তর্ভূক্ত করেছিলেন। হোমার কিংবা হেসিয়দ কেউই বৈজ্ঞানিক গবেষক ছিলেন না; মহাজাগতিক গঠন সম্পর্কে তাঁদের একটি প্রাথমিক ধারণা ছিল: পৃথিবীর গঠন সমতল এবং তা অকিয়ানোস মহানদে বেষ্টিত, তারাগুলো মহানদ থেকে জেগে ওঠে ও পুনরায় ডুবে যায় এবং কিছু তারা সর্বদা বিদ্যমান থাকে, এবং বছরের নির্দিষ্ট সময় নির্দিষ্ট কিছু তারা সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তকালে ওঠে বা নিমজ্জিত হয়।

খ্রীষ্টপূর্ব ৬ষ্ঠ এবং ৭ম শতকে প্রাক-সক্রেতীয় দর্শন থেকেই মহাবিশ্ব নিয়ে আলোচনার প্রচলিত ছিল। আনাক্সিমান্দ্রোস (আনুমানিক খ্রী.পূ. ৬১০–খ্রী.পূ. ৫৪৬) মহাবিশ্বের কেন্দ্রে অগ্নিচক্রব্যুহ বেষ্টিত চক্রাকার পৃথিবীর বর্ণনা করেন। ফিলোলাউস (আনুমানিক খ্রী.পূ. ৪৮০–খ্রী.পূ. ৪০৫) এর মহাবিশ্বের বর্ণনা অনুযায়ী তারকারাজি, গ্রহমণ্ডলী, সূর্য, চাঁদ, পৃথিবী, এবং একটি প্রতি-পৃথিবী (অ্যান্টিক্‌থন)—সর্বমোট দশটি বস্তু—একটি কেন্দ্রীয় অগ্নির চারপাশে ঘূর্ণায়মান। এধরণের বর্ণনা থেকে জানা যায়, যে প্রাচীন গ্রিকরা পৃথিবী ছাড়াও অন্যান্য‌ গ্রহ সম্পর্কে অবগত ছিল এবং মহাবিশ্বের গঠন নিয়ে চিন্তা করত। এছাড়া খ্রীষ্টপূর্ব পঞ্চম শতকের অর্ফিকীয় ধারণায় মহাজাগতিক বস্ত এবং গঠনের আরও বিশদ আলোচনা রয়েছে। অর্ফিকীয় কাব্যে আশ্চর্যজনক উন্নত তথ্য নিহিত আছে, যেমন গোলাকার পৃথিবীর ধারণা, আহ্নিক গতি, সৌর আকর্ষণ (যদিও তা চৌম্বক আকর্ষণ হিসাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে) ইত্যাদি।[৩]

প্রারম্ভিক গ্রিক জ্যোতির্বিদ্যায় গ্রহসমূহ[সম্পাদনা]

"গ্রহ" শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ "planet", গ্রিক πλανήτης - planētēs থেকে আগত, যার অর্থ বিক্ষিপ্তভাবে পরিভ্রমনকারী। প্রাচীন জ্যোতির্বিদগণ আকাশে গ্রহগুলোকে কিছু নির্দিষ্ট আলোক হিসেবে দেখতে পান, এবং অন্যান্য তারার সাপেক্ষে এদের ইতস্তত ভ্রমণপথের জন্যই এরূপ নামকরণ করেছেন। রাতের আকাশে খালি চোখে পাঁচটি গ্রহ দেখা যায়, বুধ, শুক্র, মঙ্গল, বৃহস্পতি, এবং শনি, এদের গ্রিক নাম যথাক্রমে হার্মিজ, আফ্রোদিতি, আরিজ, জিউস এবং ক্রোনাস। কখনও কখনও জ্যোতিষশাস্ত্রের সূর্য এবং চন্দ্রকেও এই তালিকায যুক্ত করে মোট সাত সদস্য পূর্ণ করা হত। উল্লেখ্য, গ্রহসমূহ সূর্যের নিকটবর্তী অবস্থানে থাকলে খালি চোখে তাদের চিহ্নিত করা কষ্টসাধ্য (বিশেষত শুক্র গ্রহের জন্য এ সমস্যা প্রকট)। প্রথমদিকে গ্রিকরা ভোর এবং সন্ধ্যায় শুক্রের অবস্থানকে দুটি ভিন্ন বস্তু হিসেবে দেখত: সন্ধ্যার পশ্চিম আকাশে হেসপেরাস ("evening-star") এবং ভোরে পূর্বাকাশে ফসফরাস ("light-bringer")। তবে পরবর্তীতে আবিষ্কৃত হয় যে এরা একই গ্রহ; অনুমান করা হয় সম্ভবত পিথাগোরাস এ তথ্যের আবিষ্কর্তা।

ইউদোক্সীয় জ্যোতির্বিদ্যা[সম্পাদনা]

ক্লাসিকাল গ্রীসে জ্যোতির্বিদ্যা গণিতের শাখা হিসেবে গণ্য হত; জ্যোতির্বিদগণ মহাকাশীয় গতি ব্যাখ্যার জন্য জ্যামিতিক মডেল গঠনের চেষ্টা করতেন। এই ঐতিহ্য শুরু হয় পীথাগোরাসের শিষ্যদের মাধ্যমে। এঁরা জ্যোতির্বিদ্যাকে গণিতের চতুর্শিল্পের অন্তর্গত করেছিলেন: পাটীগণিত, জ্যামিতি, সঙ্গীত এবং জ্যোতির্বিদ্যা। এই চার বিদ্যার সমষ্টি কোয়াড্রিভিয়াম নামাঙ্কিত হয়।

পরবর্তীতে প্লেটো (খ্রী.পূ. ৪২৭-খ্রী.পূ. ৩৪৭) তাঁর দার্শনিক শিক্ষা রিপাবলিক এর ভিত্তিমূলে এই কোয়াড্রিভিয়াম অন্তর্গত করেছিলেন, যদিও তিনি দক্ষ গণিতজ্ঞ ছিলেন না। তিনি ইউদোক্সাস (আনুমানিক খ্রী.পূ. ৪১০–খ্রী.পূ. ৩৪৭ ) নামের এক তরুণ গণিতবিদকে পদ্ধতিগত গ্রিক জ্যোতির্বিদ্যার বিকাশে অনুপ্রাণিত করেন। আধুনিকযুগের বিজ্ঞান ইতিহাসবিদ ডেভিড লিন্ডবার্গের মতে:

"তাঁদের কাজের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে আমরা দেখতে পাই: (১) নক্ষত্রমণ্ডল থেকে গ্রহমণ্ডলের দিকে চিন্তাধারা বদল, (২) মহাকাশীয় ঘটনাবলীর ব্যাখ্যার জন্য জ্যামিতিক মডেল, "দ্বি-গোলক মডেল", উদ্ভাবন, এবং (৩) জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ব্যাখ্যাকারী তত্ত্বসমূহের পরিচালনামূলক মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা।"[৪]

দ্বি-গোলক মডেল হল পৃথিবীকেন্দ্রিক একটি বিশ্বতত্ত্ব, যা মহাবিশ্বকে দুটি অঞ্চলে ভাগ করেছে: কেন্দ্রে স্থিরাবস্থায় বিদ্যমান গোলাকার পৃথিবী, এবং একে বেষ্টন করে গোলাকার অন্তরীক্ষ অঞ্চল, যাতে রয়েছে একাধিক ঘূর্ণায়মান এথার গোলক।

রেঁনেসা যুগের কাঠখোদাইয়ে দ্বি-গোলক মডেল

প্লেটোর দুটি বই টাইমিয়াস এবং রিপাবলিক এ বিশ্বতত্ত্ব নিয়ে আলোচনা রয়েছে। সেখানে তিনি দ্বি-গোলক মডেলের বর্ণনা করে বলেছেন এতে আটটি গোলাকার বা চক্রাকার অঞ্চল রয়েছে যারা সাতটি গ্রহ এবং স্থির তারকাসমূহ ধারণ করে। রিপাবলিক-এ লিখিত "ইর পুরাণ" মতে, বিশ্বজগত "আবশ্যকতার মাকু" ("Spindle of Necessity") দ্বারা আবদ্ধ, এবং মৈরাই বা নিয়তিদেবী একে চরকা কাটাচ্ছেন।

ষষ্ঠ শতকে সিলসিয়াস্থ সিম্পলিকাসের বর্ণনা থেকে জানা যায়, প্লেটো আকাশে গ্রহগুলোর আপাত লক্ষহীণ চলাচল ব্যাখ্যা করার জন্য প্রস্তাব করেছিলেন যে পৃথিবীর গোলাকার এবং গ্রহসমূহ তার চারপাশে চক্রাকার পথে ভ্রমণশীল, (লয়েড ১৯৭০, পৃ. ৮৪), যা ছিল তৎকালের জন্য একটি অভুতপূর্ব ধারণা। ইউদোক্সাস প্লেটোর এ অনুমানকে শক্ত করার পরিকল্পনা করেন। তিনি প্রতিটি গ্রহের নিজস্ব চক্রাকার কক্ষপথ নির্ধারণ করেন। পরে গ্রহগুলোর ঘূর্ণনের বেগ এবং কক্ষপথের অক্ষের কৌণিক পরিবর্তন করে আকাশের গ্রহগুলোর বাস্তব যাত্রাপথের কাছাকাছি অবস্থায় উপনীত হতে সক্ষম হন।

ইউদোক্সাসের স্বলিখিত কোন রচনাই পাওয়া যায় নি, তবে তাঁর গতি সম্বন্ধে রচনাটির সারাংশ পাওয়া যায় এরিস্টটলের মেটাফিজিক্স ১২, ৮ পর্বে, এবং দি কায়লো হতে। অ্যারাস্টাস ইউদোক্সাসের কাজের ভিত্তি জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ে একটি কাব্য রচনা করেন। এছাড়া থিওডোসিয়াস এর লিখিত স্ফেয়ারিক্স গ্রন্থটিও ইউদোক্সাসের কার্যক্রম নির্ভর করে লিখিত বলে ধারণা করা হয়।

চতুর্থ শতকের গ্রিক জ্যোতির্বিদ ক্যালিপ্পাস ইউদোক্সাসের গোলক মডেলের মৌলিক ২৭ টির সঙ্গে আরও সাতটি গোলক সংযুক্ত করেন। এরিস্টটল দুটি প্রক্রিয়াই বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি গোলকগুলির মাঝে পার্থক্যকারী "প্রতিঘূর্ণন" গোলক যুক্ত করেছেন, কেন না তিনি পদ্ধতিটির বাস্তবিক গঠন নিয়ে চিন্তিত ছিলেন, এবং মনে করেছিলেন, এসব প্রতিঘূর্ণন গোলক যুক্ত না করলে একটি মূল গোলকের গতি অন্যটিকে প্রভাবিত করবে।

হেলেনীয় জ্যোতির্বিদ্যা[সম্পাদনা]

গ্রহপুঞ্জের মডেল এবং পর্যবেক্ষণমূলক জ্যোতির্বিজ্ঞান[সম্পাদনা]

ইউদোক্সাসের তত্ত্বে একাধিক গুরুতর ত্রুটি ছিল। তাঁর বিশ্বমডেলের মূলকথা হল, গ্রহসমূহ পৃথিবীকেন্দ্রিক একেকটি আনুক্রমিক গোলাকাকৃতির কক্ষপথে অবস্থিত। কিন্তু এই স্বীকার্যের সাপেক্ষে মডেলটি গ্রহসমূহের বাস্তব গতিপথ নিখুঁতভাবে বর্ণনা করতে পারতো না। তাছাড়া, গ্রহসমূহের আপাত দ্রুতি পরিবর্তনেরও কোন ব্যাখ্যা এ তত্ত্বে পাওয়া যায় না। এবং গ্রহসমূহের উজ্জ্বলতার পরিবর্তনের ব্যাখ্যাও তত্ত্বটিতে নেই। আউটোলাইকাস (আনু. খ্রী.পূ. ৩১০) এই ত্রুটিসমূহ প্রাচীনকালেই চিহ্নিত করে গেছেন। ক্যালিপ্পাস এই ত্রুটি নিরসনে কাজ করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়।

পের্গাবাসী অ্যাপোলোনিয়াস (আনু. খ্রী.পূ. ২৬২-আনু. খ্রী.পূ. ১৯০) উল্লিখিত সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে ইউদোক্সীয় মডেলে দুটি নতুন প্রণালী যুক্ত করেন যাদের মাধ্যমে গ্রহসমূহের গতি এবং দূরত্ব পরিবর্তন ব্যাখ্যার সুযোগ তৈরি হয়: উৎকেন্দ্রিক শীঘ্রবৃত্ত, এবং শীঘ্রবৃত্ত-মন্দবৃত্তশীঘ্রবৃত্ত (ইংরেজিতে deferent; গ্রিক fero φέρω "বহন করা", এবং ল্যাটিন ferro, ferre, "বহন করা", শব্দের সমন্বয়) হল পৃথিবীর চারদিকে গ্রহকে বহনকারী চক্রাকার পথ। উৎকেন্দ্রিক শীঘ্রবৃত্ত প্রণালীতে কক্ষপথগুলোর কেন্দ্র পৃথিবী থেকে একটু সরে অবস্থিত। শীঘ্রবৃত্ত-মন্দবৃত্ত ব্যবস্থায় শীঘ্রবৃত্ত সরাসরি গ্রহ বহন করে করে না, বরং একটি ক্ষুদ্রতর চক্রাকার পথ, মন্দবৃত্ত (ইংরেজিতে epicycle), ধারণ করে, এবং এই মন্দবৃত্ত গ্রহকে ধারণ করে। অর্থাৎ পৃথিবীর চারপাশে একটি বৃহৎ গোলাকার কক্ষপথে চলমান একটি ক্ষুদ্রতর চক্রে গ্রহসমূহ ঘূর্ণায়মান থাকে। এই ব্যবস্থা উৎকেন্দ্রিক মডেলের অনুরূপ ফলাফল দিতে সক্ষম, যা অ্যাপোলোনিয়াসের উপপাদ্য দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে। এটি আপাত পতীপগতির (রাশিচক্রে লক্ষিত গ্রহসমূহের ক্ষণকালীন বিপরীতমুখী গতি) ব্যাখ্যাও দিতে পারে। তবে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের মতে, ইউদোক্সাসের মডেলে পতীপগতির ব্যাখ্যা ছিল অসূক্ষ্ম এবং তা সবগুলো গ্রহের এরূপ গতির ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম ছিল না।

খ্রীষ্টপূর্ব ২য় শতকে হিপ্পার্কাস গ্রিক জ্যোতির্বিজ্ঞানকে ব্যাবিলনীয় জ্যোতির্বিদ্যার অনুরূপ ত্রুটিহীন করতে সচেষ্ট হন। ব্যবিলনীয় জ্যোতির্বিদগণ গ্রহসূমহের গতিপথের অত্যন্ত নিখুঁত পূর্বাভাস দিতে সক্ষম ছিলেন। কোনভাবে হিপ্পার্কাস তাঁদের পর্যবেক্ষণ এবং পূর্বাভাসের তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। এই অর্জিত তথ্যেের সাহায্যে তিনি উন্নততর জ্যামিতিক বিশ্বতত্ত্ব গঠন করার চেষ্টা করেন। বিষুবীয় পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সূর্যের জন্য একটি সরল উৎকেন্দ্রিক মডেল ব্যবহার করেন, যা সূর্যের গতিপরিবর্তন এবং ঋতুগুলোর দৈর্ঘ্যের পার্থক্যের কারণ ব্যাখ্যা করতে পারত। এবং চাঁদের জন্য তিনি একটি শীঘ্রবৃত্ত-মন্দবৃত্ত মডেল ব্যবহার করেন। তবে অন্যান্য গ্রহগুলোর জন্য তিনি কোন কার্যকর মডেল উদ্ভাবন করতে পারেননি।

হিপ্পার্কাস একটি তারা তালিকা সংকলন করেছিলেন। প্লিনির বর্ণনামতে, হিপ্পার্কাস একটি নোভা (নতুন তারা) অবলোকন করেছিলেন। হিপ্পার্কাস তারাগুলোর অবস্থান এবং উজ্জ্বলতাও নথিভুক্ত করেছিলেন, যেন পরবর্তী প্রজন্ম তারার জন্ম, ধ্বংস, অবস্থান ও উজ্জ্বলতা পরিবর্তন শনাক্ত করতে পারে। হিপ্পার্কাস এই তারা তালিকার সহায়তায় অক্ষীয় অয়নচলন আবিষ্কার করেছিলেন, যা টলেমীর বর্ণনা থেকে জানা যায়।

সৌরকেন্দ্রিকতা এবং মহাজাগতিক পরিমাপ[সম্পাদনা]

খ্রীষ্টপূর্ব ৩য় শতকে অ্যারিস্টার্কাস সূর্য (সর্ববামে), চাঁদ, ও পৃথিবীর আপেক্ষিক আকার গণনা করেন। ১০ম শতকের গ্রিক অনুলিপি হতে নেয়া।

খ্রীষ্টপূর্ব ৩য় শতকে অ্যারিস্টার্কাস একটি বিকল্প বিশ্বতত্ত্ব উত্থাপন করেন, যা ছিল সৌরকেন্দ্রিক, অর্থাৎ পৃথিবীর পরিবর্তে সূর্যকে সৌরজগতের কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল। এ কারণে তাঁকে কখনও কখনও "গ্রিক কোপার্নিকাস" নামে ডাকা হয়। তবে তাঁর এ তত্ত্ব তৎকালে দৃঢ় সমর্থন অর্জন করতে সক্ষম হয়নি, এবং এর সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায় না। অ্যারিস্টার্কাসের অন্তত একজন অনুসারীর নাম জানা যায়, সেলুসিয়ার সেলিউকাস

অ্যারিস্টার্কাসের একটিমাত্র রচনা এখনও টিকে রয়েছে, যার শিরোনাম চন্দ্র এবং সূ্র্যের আকার এবং দূরত্ব বিষয়ক। এতে তিনি পৃথিবীর আকারের সাপেক্ষে সূর্য এবং চাঁদের আকার ও পৃথিবী হতে দূরত্ব গণনা করার চেষ্টা করেছেন। এর কিছুকাল পরেই এরাস্টোথেনিস প্রায় নিখুঁতভাবে পৃথিবীর আকার গণনা করেন, যা অ্যারিস্টার্কাসের গণনায় বসিয়ে তাঁর প্রাপ্ত দূরত্বের সাংখ্যিক মান অনুমান করা যেতে পারে। এছাড়া একই বিষয়ে হিপ্পার্কাস আর একটি রচনা করেছিলেন, যা হারিয়ে গিয়েছে। অবশ্য হিপ্পার্কাস এবং অ্যারিস্টার্কাস উভয়ে পৃথিবী হতে সূর্যের দূরত্ব গণনায় অতিশয় ভুল করেছেন, কেননা তাঁরা সূর্যের বাস্তবিক আকার সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।

গ্রেকো-রোমান এবং উত্তর-পুরাকালীন যুগে জ্যোতির্বিজ্ঞানচর্চা[সম্পাদনা]

হিপ্পার্কাস গ্রিক জ্যোতির্বিদদের মধ্যে অন্যতম বলে গণ্য, কারণ তিনি জ্যোতির্বিজ্ঞানে নিখুঁত পূর্বাভাসের ধারণাটি এনেছেন। তিনি টলেমী-পূর্বযুগের সবচেয়ে সৃজনশীল জ্যোতির্বিদ ছিলেন। ক্লডিয়াস টলেমী ছিলেন ২য় শতকে আলেকজান্দ্রিয়ায় কর্মরত একজন গণিতবিদ। টলেমীর জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ক কাজের মধ্যে রয়েছে অ্যালমাজেস্ট, গ্রহ তত্ত্ব, এবং টেট্রাবিবলোস, এছাড়াও রয়েছে, হস্ত সারণী, ক্যানবিক অন্তর্লিপি, এবং অন্যান্য অনুল্লেখ্য রচনা।

টলেমীয় জ্যোতির্বিজ্ঞান[সম্পাদনা]

পশ্চিমা জ্যোতির্বিদ্যাচর্চায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পুস্তক ক্লডিয়াস টলেমীর লিখিত অ্যালমাজেস্ট। এ পুস্তকে ইকুয়্যান্ট (equant) নামক একটি জ্যামিতিক ধারণা প্রয়োগ করে গ্রহসমূহের গতিবিধির ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অ্যালমাজেস্ট গ্রন্থটিতে জ্যোতির্বিদ্যার বিশদ আলোচনা রয়েছে, এবং বহু উপপাদ্য, মডেল, এবং পূর্বকালীন জ্যোতির্বিদগণের পর্যবেক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। টলেমী এ পুস্তকে গ্রহগুলোকে নিম্নলিখিত অনুক্রমে সাজিয়েছেন (যা টাইকো ব্রাহে এবং কোপার্নিকাসের নির্মিত সৌরকেন্দ্রিক মডেলের বিকাশের আগ পর্যন্ত অবিকৃত ছিল):

  1. চাঁদ
  2. বুধ
  3. শুক্র
  4. সূর্য
  5. মঙ্গল
  6. বৃহস্পতি
  7. শনি
  8. স্থিত তারকারাজি

ঊনবিংশ শতক থেকেই অন্যান্য গণিতজ্ঞদের কাজের (বিশেষত হিপ্পার্কাসের তারা তালিকা) ওপর টলেমীর নির্ভরতা প্রশ্নবিদ্ধ। ১৯৭০ এর দশকে রবার্ট আর নিউটন দ্যা ক্রাইম অফ ক্লডিয়াস টলেমী রচনায় একটি বিতর্কিত মতপ্রকাশ করেন যে, টলেমী তাঁর পর্যবেক্ষণে বানানো তথ্য যোগ করেছেন, এবং হিপ্পার্কাসের তারা তালিকাকে নিজের কাজ বলে প্রচার করেছেন। তবে এই মত অধিকাংশ জ্যোতির্বিজ্ঞান-ইতিহাসবিদগণই গ্রহণ করেননি।

টলেমী তথ্য সংগ্রহের জন্য জাদুঘর, পাঠাগার এবং বিদ্যালয়ে কাজ করেছেন। তিনি পূর্ববর্তী জ্যোতির্বিদদের ধারণার সম্মেলনে একটি বিশদ বিশ্বতত্ত্ব গঠন করেন, যা তিনি অ্যালমাজেস্ট এর ১৩ খণ্ডে সংকলন করেছেন। তাঁর মডেলে মন্দবৃত্ত ধারণাটি যুক্ত করেছেন, যারা ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে নির্দিষ্ট গতিতে ঘূর্ণায়মান। গ্রহসমূহের ভিতর মঙ্গল, বৃহস্পতি ও শনির গতিবিবরণ সম্পূর্ণভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য তিনি ইকুয়্যান্ট বিন্দু সহ একটি জটিল প্রণালী গঠন করেন। টলেমী দেখতে পান যে অন্য দুটি গ্রহ বুধ এবং শুক্রের গতিবিবরণ পর্যবেক্ষণের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ করতে হলে তাদেরকে সবসময়ই সূর্যের সঙ্গে সমরৈখিক অবস্থানে রাখতে হবে। (বোলার, ২০১০, পৃ. ৪৮)

টলেমীয় মডেলে পৃথিবীকে মহাবিশ্বের কেন্দ্রে রেখে পাঁচটি গ্রহ, সূর্য, চাঁদ এবং সবশেষে তারাসমূহু এক-একটি গোলাকার ক্ষেত্রে ঘূর্ণায়মান ছিল। চাঁদ বাহক ক্ষেত্রটিকে নশ্বর মানবজগত এবং অবিনশ্বর স্বর্গীয় জগতের সীমারেখা বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল (বোলার, ২০১০, পৃ. ২৬)। স্বর্গীয় অঞ্চলকে অপরিবর্তনীয় এবং শুদ্ধ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। এরকম ধারণা মূলত তৎকালীন ধর্মীয় এবং দার্শনিক ভাবধারা থেকে আগত। স্বর্গীয় অঞ্চলের গঠনের উপাদান অজানা, তাই প্রচলিত দার্শনিক তত্ত্ব থেকে এথারের ধারণাটি অ্যালমাজেস্টে অঙ্গীভূত করা হয়।

অ্যালামজেস্টে পৃথিবীর গোলকীয় আকারের পক্ষে পর্যবেক্ষণগত এবং দার্শনিক দু ধরনের যুক্তি দেখানো হয়। বৃত্ত এবং গোলক অন্যান্য জ্যামিতিক আকার থেকে বিশুদ্ধ বলে বিশ্বাস করা হত। এ কারণে স্বর্গীয় অঞ্চলের আকার গোলকীয় বলে যুক্তি দেখানো হয়, এবং একই ভাবে পৃথিবীর আকারও গোলাকার বলে মত দেয়া হয়।

এছাড়া, অঞ্চলভেদে সময়ের পার্থক্য পর্যবেক্ষণ করে টলেমী "পৃথিবী গোলাকার", এ সিদ্ধান্তে উপনীত হন। তিনি দেখান যে, বিভিন্ন অঞ্চলের একে-অপরের দূরত্বের সাপেক্ষে একটি নির্দিষ্ট হারে সময়ের পার্থক্য ঘটতে দেখা যায়, যে হার গোলাকার পৃষ্ঠের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। সূর্য- এবং চন্দ্রগ্রহণের পর্যবক্ষণের মাধ্যমে টলেমীর যুক্তি দৃঢ়তর হয়।

টলেমী তাঁর বিশ্বতত্ত্বে পৃথিবীকে মহাজগতের কেন্দ্রে রেখেছেন, এবং প্রমাণ হিসেবে দেখিয়েছেন, রাশিচক্রের ভিতর সবসময়ই ছয়টি চিহ্ন একইসাথে রাতের আকাশে দেখা যায়, এবং অন্য চিহ্নগুলো সেসময় দৃশ্যমান থাকে না, যা পৃথিবী মহাবিশ্বের কেন্দ্রে থাকলেই কেবল সম্ভব। (বোলার, ২০১০, পৃ. ৫৭) এছাড়া রাত-দিনের পরিবর্তন এবং দিনের আলোর পরিমাণের নিয়মিত কম-বেশি হওয়াকে মহাবিশ্বের কেন্দ্রে পৃথিবীর অবস্থানের পক্ষের যুক্তি বলে তুলে ধরা হয়েছে।

যদিও টলেমীর সংগঠিত ধারণায় পরবর্তীতে গুরুতর ত্রুটি প্রকাশিত হয়, তথাপি মহাবিশ্বের গঠন পর্যালোচনা শুরু করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছইল। মহাবিশ্বের গঠনের পরবর্তী যুগান্তকারী পরিবর্তন আসে কোপার্নিকাসের হাত ধরে, যিনি বিশ্ব এবং ঈশ্বর বিষয়ক নিজস্ব জ্ঞান এবং অনুমান থেকে তাঁর গঠনবর্ণনা তৈরি করেছিলেন।

পুরাকালের শেষভাগের কিছু গণিতবিদ অ্যালমাজেস্ট নিয়ে পর্যালোচনা লিখেছেন, বিশেষত আলেকজান্দ্রিয়া প্যাপ্পাস, এবং থিওন ও তাঁর কন্যা হাইপেশিয়া। অনুমান করা হয় ষোড়শ শতক পর্যন্ত পশ্চিম ইউরোপ এবং ইসলামী জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চা টলেমীয় জ্যোতির্বিদ্যা ভিত্তিতেই চলেছে। ষোড়শ শতক পরবর্তীকালে মারাঘীয় পর্যবেক্ষণ এবং টাইকো ব্রাহের প্রস্তাবিত সৌরকেন্দ্রিক মডেল টলেমীয় ধারণাকে স্থানচ্যুত করে। অবশ্য অধুনা-আবিষ্কৃত প্রাচীন পাণ্ডুলিপি থেকে প্রমাণ পাওয়া যায়, পুরকালের গ্রিক জ্যোতিষীগণ প্রাক-টলেমীয় পদ্ধতিসমূহেরও ব্যবহার অব্যহত রেখেছিলেন (অ্যাবো, ২০০১)।

প্রাচীন গ্রিক জ্যোতির্বিদ্যার বিকাশ
প্রাচীন গ্রিক জ্যোতির্বিদ্যার বিকাশের ধারা

ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানে প্রভাব[সম্পাদনা]

খ্রীষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকে ভারতের নিকটবর্তী গ্রেকো-ব্যাক্ট্রিয় রাজ্যের আই-খানুম শহরে হেলেনীয় জ্যোতির্বিদ্যার প্রচলন ছিল। সেখানে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে বেশ কিছু সূর্যঘড়ি পাওয়া গেছে, যার মধ্যে একটি নীরক্ষীয় সূর্যঘড়ি উজ্জয়িনী শহরের অক্ষাংশ অনুযায়ী স্থাপিত।[৫] মৌর্য সাম্রাজ্যের সঙ্গে গ্রিক সম্পর্ক স্থাপন এবং পরবর্তীতে ইন্দো-গ্রিক সাম্রাজ্যের বিস্তারের ফলে সে সময়ে দুই অঞ্চলে জ্ঞানচর্চার আদান-প্রদান ঘটেছিল।[৬]

গ্রিক নিরক্ষরৈখিক সূর্যঘড়িআই-খানুম, আফগানিস্তান, খ্রীষ্টপূর্ব ৩য়-২য় শতক।

প্রথম শতাব্দী সময়কাল হতে শুরু করে একাধিক গ্রেকো-রোমান রচনা ভারতে প্রবেশ করে। দ্বিতীয় শতকে পশ্চিমা সত্রপ এর শাক্য রাজা প্রথম রুদ্রদমন এর অর্থায়নে যবনেশ্বর যবনজাতক বইটিতে গ্রিক ভাষার বিভিন্ন বচন সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ করেন ("যবন" শব্দটি গ্রিক জাতিকে নির্দেশ করে)। রুদ্রদমনের রাজধানী উজ্জয়িনী, ভারতীয় জ্যোতির্বিদদের তীর্থস্থানে পরিণত হয়, কারণ রুদ্রদমন এবং তাঁর বংশধরেরা গ্রিক জ্যোতিষচর্চা এবং জ্যোতির্বিদ্যা উভয়েরই ভারতে প্রসারে প্রচুর প্রণোদনা প্রদান করেছেন।[৭]

ষষ্ঠ শতকে রোমকসিদ্ধান্ত (রোমান উপদেশাবলী), এবং পৌলিস্য সিদ্ধান্ত (পৌলাস আলেকজান্দ্রিনাস —পৌলস্য মুনি— এঁর উপদেশাবলী) ভারতীয় জ্যোতির্বিদ্যার পাঁচটি মৌলিক শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা বরাহমিহির তাঁর পঞ্চসিদ্ধান্তিকা গ্রন্থে সংকলিত করেন।[৮]বৃহৎসংহিতায় বরাহমিহিরের লেখনীতে:

ম্লেচ্ছা হি যবনাঃ তেষু সম্যক্ শাস্ত্রমিদং স্থিতম্
ঋষিবত্ তেঽপি পূজ্যন্তে কিং পুনঃ দৈববিদ্ দ্বিজঃ .. ..
(বৃহৎসংহিতা ২.১৪)[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

অর্থাৎ, "কেননা, যবন জাতি বিদেশাগত। তাঁদের অন্তরে বিদ্যা সুপ্রতিষ্ঠিত। তাঁরা ঋষিরূপে সম্মানিত, তথাপি দৈবজ্ঞানসম্পন্ন দ্বিজগণ ততোধিক সম্মানীয়।"

গ্রিক জ্যোতির্বিদ্যার উৎস[সম্পাদনা]

গ্রিক জ্যোতির্বিদ্যার বহু পুস্তকের ক্ষেত্রে কেবল নামই পাওয়া গেছে, এবং কয়েকটির কিছু বর্ণনা বা আংশিক উক্তিমাত্র; মূল রচনাটি উদ্ধার করা যায় নি। যেসব মৌলিক কাজ এখনও সংরক্ষিত রয়েছে, সেগুলো মূলত অগাণিতিক ধারার ছিল এবং বিদ্যালয়ে ব্যবহৃত হত। এধরণের পুস্তকের মধ্যে রয়েছে ইউক্লিডের ফেনোমেনা, অটোলাইকাসের দুটি রচনা, টলেমী-পূর্বকালের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পুস্তক যেগুলোর রচয়িতা ক্লিওমেডিস, জেমাইনাস, এবং স্মির্নার থিওন, ইত্যাদি। এছাড়াও প্লিনী এবং ভিট্রুভিয়াস প্রমুখ রোমান লেখকদের রচনাতে গ্রিক জ্যোতির্বিদ্যার কিছু নিদর্শন পাওয়া যায়। তবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক উৎস হচ্ছে টলেমীর লিখিত অ্যালমাজেস্ট, যেখানে তিনি তাঁর পূর্বসুরীদের বিভিন্ন কাজ বারংবার উল্লেখ এবং উদ্ধৃতি করেছেন। (এভান্স ১৯৯৮, পৃ. ২৪)

পুরাকালের উল্লেখযোগ্য জ্যোতির্বিদগণ[সম্পাদনা]

এই নিবন্ধে উল্লিখিত জ্যোতির্বিজ্ঞানীগণের পাশাপাশি নিম্নলিখিত ব্যক্তিত্বদের গাণিতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান জনিত কাজ পাঠকের আগ্রহজনক হতে পারে।

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Krafft, Fritz (২০০৯)। "Astronomy"। Cancik, Hubert; Schneider, Helmuth। Brill's New Pauly 
  2. Thurston, H., Early Astronomy. Springer, 1994. p.2
  3. I. Passas, K. Hasapis, Ορφικά. Encyclopedia Helios, 1984
  4. David C. Lindberg (২০১০)। The Beginnings of Western Science: The European Scientific Tradition in Philosophical, Religious, and Institutional Context, Prehistory to A.D. 1450 (Second সংস্করণ)। University of Chicago Press। পৃষ্ঠা 86। আইএসবিএন 978-0-226-48204-0 
  5. "Afghanistan, les trésors retrouvés", p269
  6. "Les influences de l'astronomie grecques sur l'astronomie indienne auraient pu commencer de se manifester plus tot qu'on ne le pensait, des l'epoque Hellenistique en fait, par l'intermediaire des colonies grecques des Greco-Bactriens et Indo-Grecs" (French) Afghanistan, les trésors retrouvés", p269. অনুবাদ: "ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞান গ্রিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের সংস্পর্শে এসেছিল সম্ভবত প্রচলিত অনুমিত সময়ের অনেক আগেই, হেলেনীয় যুগে, গ্রেকো-ব্যাক্ট্রিয় এবং ইন্দো-গ্রিক সাম্রাজ্যস্থিত গ্রিক কলোনীর মাধ্যমে।"
  7. Pingree, David (১৯৬৩)। "Astronomy and Astrology in India and Iran"। Isis54 (2): 229–246। doi:10.1086/349703জেস্টোর 228540 
  8. "পঞ্চসিদ্ধান্তিকা হল গ্রিক, মিশরীয়, রোমান এবং ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানের সংকলন। পশ্চিমা জ্যোতির্বিদ্যা সম্পর্কে বরাহমিহির-এর অগাধ দক্ষতা ছিল। তাঁর এই তাৎপর্যপূর্ণ গ্রন্থটি ৫ খণ্ড পরিসরে ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞান থেকে শুরু করে পশ্চিমা জ্যোতির্বিজ্ঞানের দুটি শাস্ত্রের আলোচনায় শেষ হয়। এতে গ্রিক এবং আলেকজান্দ্রীয় পর্বেক্ষণভিত্তিক গণনা এবং টলেমীর সম্পুর্ণ গাণিতিক তালিকা এবং সারণীও অন্তর্ভুক্ত আছে। Encyclopædia Britannica Source

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]

বহি:সংযোগ[সম্পাদনা]