গ্রহাণু

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

গ্রহাণু হল প্রধানত পাথর দ্বারা গঠিত বস্তু যা তার তারাকে কেন্দ্র করে আবর্তন করে। আমাদের সৌরজগতে গ্রহাণুগুলো ক্ষুদ্র গ্রহ (Minor planet অথবা Planetoid) নামক শ্রেণীর সবচেয়ে পরিচিত বস্তু। এরা ছোট আকারের গ্রহ যেমন বুধের চেয়েও ছোট। বেশিরভাগ গ্রহাণুই মঙ্গল এবং বৃহস্পতি গ্রহের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত গ্রহাণু বেল্টে থেকে নির্দিষ্ট উপবৃত্তাকার কক্ষপথে সূর্যকে আবর্তন করে। ধারণা করা হয় গ্রহাণুগুলো ভ্রূণগ্রহীয় চাকতির (Protoplanetary disc) অবশিষ্টাংশ। বলা হয় গ্রহাণু বেল্টের অঞ্চলে সৌরজগতের গঠনের প্রাথমিক সময় যেসকল ভ্রূণগ্রহ সৃষ্টি হয়েছিলো তাদের অবশিষ্টাংশ বৃহস্পতির আবেশ দ্বারা সৃষ্ট মহাকর্ষীয় অক্ষ বিচলনের কারণে গ্রহের সাথ মিলিত হবার সুযোগ পায়নি। আর এই অবশিষ্টাংশই গ্রহাণু বেল্টের উৎপত্তির কারণ। কিছু গ্রহাণুর চাঁদও রয়েছে।

Asteriod Belt কী[সম্পাদনা]

এটি হলো মঙ্গলবৃহস্পতির মধ্যবর্তী একটি জায়গা যেখানে আমাদের সৌর জগতের বেশিরভাগ গ্রহাণু সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। Asteriod Belt সম্ভবত কয়েক মিলিয়ন গ্রহাণু বহন করে।

গ্রহাণু এবং ধুমকেতুর মধ্যে পার্থক্য কী[সম্পাদনা]

গ্রহাণু এবং ধুমকেতুর মধ্যে মূল পার্থক্য হলো তাদের গঠন। অর্থাৎ, তারা কী উপাদন দিয়ে গঠিত। সাধারণত গ্রহাণু তৈরী হয় পাথুরে/ শিলাময় উপাদান দিয়ে। অন্যদিকে ধুমকেতু তৈরী হয় বরফ, ধুলাবালি এবং কিছু পাথুরে পদার্থ দিয়ে। উভয় গ্রহাণু এবং ধুমকেতু আমাদের সোলার সিস্টেমের শুরুর দিকে অর্থাৎ, ৪.৫ বিলিওন বছর পূর্বেই গঠিত হয়েছিল। গ্রহাণুগুলো সূর্যের কাছাকাছি তৈরী হয়েছিল। যা গ্রহাণুগুলোর বরফকে গলিয়ে দিতে যথেষ্ট ছিল। অন্যদিকে ধুমকেতুগুলো সূর্য থেকে বহু দূরে গঠিত হয়েছিল। এতে করে ধুমকেতুর বরফগুলো গলে যায়নি। আবার কিছু কিছু ধুমকেতু আছে যেগুলো সূর্যের কাছাকাছি চলে আসে। সূর্যের কাছাকাছি আসার ফলে এরা এদের উপাদান হারিয়ে ফেলে কেননা সূর্যের তাপে এরা উত্তপ্ত হয়ে বাস্পীভূত হয়ে যায়।

গ্রহাণুদের কি চাঁদ বা উপগ্রহ থাকতে পারে?[সম্পাদনা]

হ্যাঁ, গ্রহাণুগুলোর উপগ্রহ থাকতে পারে। আমাদের সৌরজগতের কিছু বড় বড় গ্রহগুলোর চাঁদ আছে। ১৯৯৩ সালে Ida গ্রহাণুর একটি ছোট উপগ্রহ আবিষ্কৃত হয়েছিল যার নাম ছিল Dactyl (বাংলাঃ ছন্দ ) । Dactyl মাত্র ১মাইল বিস্তীর্ন। যেখানে Ida’র বিস্তার প্রায় ১৯মাইল। তখন থেকেই উপগ্রহগুলো আবিষ্কৃত হতে শুরু করলো যারা গ্রহাণুকে প্রদক্ষিণ করে। ১৯৯৯ সালে ৮মাইল বিস্তীর্নবিশিষ্ট্য একটি উপগ্রহ আবিষ্কার হয়েছিল যার নাম ছিল Petit-Prince (বাংলাঃ ক্ষুদে রাজপুত্র :3 )। Petit-Prince উপগ্রহটি ১৩৫ মাইল বিস্তীর্ণ গ্রহাণু Eugenia-কে প্রদক্ষিণ করছিল। ২০০০ সালে ৯০মাইল বিস্তীর্ন গ্রহাণু Pulcova’র উপগ্রহ আবিষ্কৃত হয়েছিল যার বিস্তৃতি ছিল ৯মাইল। তাছাড়া এখন পর্যন্ত প্রায় ২ ডজনেরও বেশি গ্রহাণুর উপগ্রহ আবিষ্কৃত হয়েছে।

কোনো মহাকাশযান কি এখন পর্যন্ত কোনো গ্রহাণুতে নেমেছে[সম্পাদনা]

হ্যাঁ, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০০১ সালে নাসা’র NEAR নামক একটি মহাকাশযান Eros (বাংলাঃ মন্তব্য। মূলতঃ গ্রীক প্রেমদেবতা )নামক একটি গ্রহাণুতে নেমেছিল। NEAR-ই সর্বপ্রথম কোনো গ্রহাণুর পৃষ্ঠে অবতরণ করেছিল। NEAR নামক মহাকাশযানটি প্রায় ১ বছর ধরে (২০০০সালের ১৪ফেব্রুয়ারী থেকে) Eros নামক গ্রহাণুটিকে প্রদক্ষিণ করেছিল। NEAR গ্রহাণুটিতে অবতরণ করার আগের মুহূর্তে Eros এর কিছু ছবি নিয়েছিল এবং এর আয়তন এবং আকৃতি মেপেছিল।

সবচেয়ে বড় গ্রহাণু কোনট[সম্পাদনা]

সবচাইতে বড় গ্রহাণুর নাম হলো Ceres (গ্রীক দেবি ডিমিটারের রোমান নাম)। এটি চাঁদের আয়তনের প্রায় ১/৪ ভাগ। এটি মঙ্গল এবং বৃহস্পতি গ্রহের মাঝামাঝি একটি এলাকার মধ্যে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। এলাকাটির নাম Asteriod Belt। Ceres গোলাকৃতির একটি গ্রহাণু। ১৮০১ সালে Ceres নামক উপগ্রহটি প্রথম আবিষ্কৃত হয়েছিল। এর আবিষ্কারক হলো ইতালিয়ান জ্যোতির্বিজ্ঞানী Giuseppe Piazzi। এটিই হলো প্রথম আবিষ্কৃত গ্রহাণু। ১৮০১ সালে এটি আবিষ্কৃত হয়েছিল। এটি একটি বামন গ্রহ বা মোটামুটি ক্ষুদে গ্রহ।

গ্রহাণু কি আমাদের পৃথিবীকে আঘাত করবে[সম্পাদনা]

এটা সম্ভব যে কোনো একটি গ্রহাণু একদিন আমাদের পৃথিবীকে আঘাত করবে। কিন্তু এর সম্ভাবনা খুবই কম। বেশিরভাগ গ্রহাণুই মঙ্গল এবং বৃহস্পতি গ্রহের মাঝামাঝি এলাকায় অর্থাৎ, Asteroid Belt এ অবস্থান

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]