নলতা ইউনিয়ন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

এক নজরে[সম্পাদনা]

একনজরেঃ-

কালের স্বাক্ষীবহনকারী গড়ে উঠা কালিগঞ্জ উপজেলার একটি ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল হলো নলতাইউনিয়ন।কাল পরিক্রমায় আজ নলতা ইউনিয়ন শিক্ষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয়অনুষ্ঠান, খেলাধুলাসহ বিভিন্নক্ষেত্রে তার নিজস্বস্বকীয়তা আজও সমুজ্জ্বল।

ক) নাম– ৬নং নলতা ইউনিয়ন পরিষদ।

খ) আয়তন– 25.6 (বর্গকিঃমিঃ)

গ) লোকসংখ্যা– ৪১২৫০(প্রায়) (২০১১সালেরআদমশুমারি অনুযায়ী) পুরুষের সংখ্যা ২১৯৫৪জন। নারী ১৯২৯৬জন। জনসংখ্যার ৭৮% মুসলিম, ২২% হিন্দু।

ঘ) গ্রামের সংখ্যা– 23 টি।

ঙ) মৌজার সংখ্যা– ২০টি।

চ) হাট/বাজার সংখ্যা-৯টি।

ছ) উপজেলা সদর থেকে যোগাযোগ মাধ্যম– সিএনজি/বাস।

জ) শিক্ষারহার– ৮৮%।(২০১২ এর শিক্ষাজরীপঅনুযায়ী)

   সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়- ৯ টি,

   বে-সরকারী রেজিঃপ্রাঃবিদ্যালয়- ৪ টি,    

   উচ্চবিদ্যালয়ঃ ৪টি,

   মাদ্রাসা- ১৩টি।

  কলেজ- ১টি

ঝ) দায়িত্বরত চেয়ারম্যান–এস,এম আসাদুর রহমান সেলিম।

ঞ) গুরুত্বর্পূণ ধর্মীয়স্থান- ৫৯টি।

ট) ঐতিহাসিক/পর্যটনস্থান– ১টি।

ঠ) ইউপি ভবন স্থাপনকাল– ০৯/০৮/২০০৯ইং।

ড) নবগঠিত পরিষদের বিবরণ–

                                   ১) শপথ গ্রহণের তারিখ– ০১/০৩/২০১১ইং

                                   ২) প্রথম সভার তারিখ– ১২/০৮/২০১১ইং

                                  ৩) মেয়াদ উর্ত্তীনের তারিথ– ২৭/০৭/২০১৬ইং

ঢ) গ্রাম সমূহের নাম–

            খানজিয়া, সেহারা, শীতলপুর, মাঘুরালী, দুরদুড়ীয়া, ঘোনা, মাঘরী, কাশেমপুর, নলতা, বিশেলক্ষী, পুর্বনলতা, শীবপুর, ইন্দ্রনগর, ইছাপুর, কাজলা, কাশিবাটী, পাইকাড়া, নওয়াপাড়া, বিলদিঘা, বাবুরাবাদ, ঝ্যায়ামারী, ভাঙ্গানমারী, সন্ন্যাসীরচক।

ণ) ইউনিয়ন পরিষদ জনবল–

              ১) নির্বাচিত পরিষদ সদস্য– ১৩জন।

              ২) ইউনিয়ন পরিষদ সচিব– ১জন।

             ৩) ইউনিয়ন গ্রামপুলিশ– ১০জন।

ত) ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র-

                             ১) দায়িত্বরত উদ্যোক্তার সংখ্যা- ০২ জন।

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

নলতা শরীফ[সম্পাদনা]

প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

১। খান বাহাদুর আহসান উল্লাহ সরকারি কাজে নিযুক্ত থাকার সময় তিনি বিভিন্ন জেলা ও বিভাগে কাজ করেন। এসব স্থানে চাকরি করার সময় তার বিচিত্র অভিজ্ঞতা হয়। তিনি লক্ষ্য করেন, অবিভক্ত বাংলার শিক্ষকগণ অধিকাংশ হিন্দু হওয়ায় তারা মুসলমান ছাত্রদের পরীক্ষায় নম্বর কম দিত। ফলে মেধাবী মুসলমান ছাত্ররা প্রবেশিকা পরীক্ষায় ভালো ফল করতে না পেরে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি অনুসন্ধান করে দেখেন পরীক্ষার খাতায় পরীক্ষার্থীর নাম থাকার কারণেই এ সমস্যা হচ্ছে। তাই তিনিই সর্বপ্রথম পরীক্ষার খাতায় পরীক্ষার্থীর নাম লেখার রীতি বিলোপ করে শুধু রোল নম্বর লেখার রীতি প্রচলন করেন। এ রীতি প্রচলিত হলে পরীক্ষকদের পক্ষপাতিত্বের সুযোগ থাকে না। তিনি মাদ্রাসার পাঠ্যসূচিও যুগোপযোগী করেন এবং মাদ্রাসা পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের উচ্চ শিক্ষার পথ উন্মুক্ত করেন। খান বাহাদুর আহসান উল্লাহ স্বীয় চেষ্টায় উচ্চশিক্ষা লাভ করেন এবং বাঙালি মুসলমান যুবকদের জন্য উচ্চশিক্ষার পথ প্রশস্ত করে যান। তিনি অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। তিনি বাংলা একাডেমীর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন। শিক্ষা বিস্তারে তার অসাধারণ ভূমিকার জন্য তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার তাকে খান বাহাদুর উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯২৯ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিয়ে তিনি এক বিরাট কর্মযজ্ঞে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি ১৯৩৫ সালে সাতক্ষীরার নলতায় 'স্রষ্টার ইবাদত ও সৃষ্টির সেবা এই আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রতিষ্ঠা করেন আহছানিয়া মিশন। ১৯৬৪ সালে এর শাখা প্রতিষ্ঠা করেন ঢাকায়। প্রতিষ্ঠানটি আজ নিজ গুণে দেশ-বিদেশে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে। এ প্রতিষ্ঠান থেকে এখন আরও বহু সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের জন্ম হয়েছে। দিন দিন এর প্রসার ঘটছে। এদেশের আর্থ-সামাজিক ও শিক্ষা ক্ষেত্রে নীরবে অবদান রেখে চলেছে আহছানিয়া মিশন। খান বাহাদুর আহসান উল্লাহর চরিত্রে বহুগুণের সমন্বয় ঘটেছিল। তিনি একাধারে ছিলেন শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারক, সু-সাহিত্যিক, বাংলা ভাষার গভীর অনুরাগী, মানব সেবক ও ইসলামী চিন্তাবিদ। নারী জাতি ও অন্য সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি তার ছিল গভীর শ্রদ্ধাবোধ। তিনি জাগতিক কাজের পাশাপাশি ইহলৌকিক কাজেও জীবনের বহু সময় ব্যয় করেছেন। জীবনের শেষ দিকে তিনি কামেল পীর হিসেবে পরিচিত হন, তার সিদ্ধ জীবনের পরিচয় পেয়ে বহু মানুষ তার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। তার বহু হিন্দু ভক্তও দেখা যায়।

২। কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা গ্রামে ১৮৮৭ সালের মার্চ মাসে জন্মগ্রহন করেন। তিনি এই এলাকার একজন বিশিষ্ট সমাজসেবী ছিলেন। তার বদান্যতায় কুলিয়া নদীর ওপর লোহার ব্রীজ নির্মিত হয়্ তিনি কয়েকটি পাঠ্যপুস্তক রচনা করেন। এ অঞ্চলে মুসলিম জাগরণে তার ভুমিকা অনস্বীকার্য। বৃটিশ সরকার তাকে খানবাহাদুর উপাধিতে ভুষিত করেন।

ভাষা ও সংস্কৃতি[সম্পাদনা]

কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়ন একটি ঐতিহ্যবাহী ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নে অনেক প্রখ্যাত ব্যক্তিদের অবদানের অন্যতম হল এই ইউনিয়ন। এই এলাকায় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পালন করা হয়। যা অত্র এলাকার মানুষের বিনোদনের একমাত্র আনন্দ দায়ক এলাকা। প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারী আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবস পালন করার ফলে অত্র এলাকার ছোট শিশু থেকে সকল বয়সের মানুষ শ্রদ্ধা ভরে দিনটি পালন করে থাকে। প্রতিটি দেশের ভাষার মূলে থাকে তাদের নিজস্ব ভাষা তেমনি নলতা ইউনিয়ন বাসী তেমনি। ভাষাগত দিক থেকে নলতা ইউনিয়ন অনন্য। ভাষা ও সংস্কৃতি অত্র ইউনিয়নকে সমৃদ্ধি করেছে।

খাল ও নদী[সম্পাদনা]

অত্র ইউনিয়নের কিছু খাল ও কিছু নদী বিদ্যমান।

নদী-

১। খানজিয়া নদী

২। ইছামতি নদী।

খাল-

১। ঝাউতলী

২। নিমতলী

৩। গুল্লের খাল

৪। সন্নাসীর চক

৫। বালিয়া ডাঙ্গা

৬। জালাল তলার খাল

৭। সন্ধ্যার খাল

৮। ঝপঝুপিয়া

হাট-বাজার[সম্পাদনা]

১। নলতা হাট ও বাজার

এখানে প্রতিদিন বাজার এবং প্রতি শনি ও মঙ্গলবার হাট হয়।

২। খানজিয়া বাজার

৩। কা্শিবাটি হাট ও বাজার

৪। সন্ন্যাসীর চক হাট ও বাজার