জেমি হাউ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জেমি হাউ
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামজেমি মাইকেল হাউ
জন্ম (1981-05-19) ১৯ মে ১৯৮১ (বয়স ৪০)
নিউ প্লাইমাউথ, তারানাকি, নিউজিল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি মিডিয়াম
ভূমিকাউদ্বোধনী ব্যাটসম্যান
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ২৩২)
৯ মার্চ ২০০৬ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
শেষ টেস্ট২৬ মার্চ ২০০৯ বনাম ভারত
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ১৪৩)
৩১ ডিসেম্বর ২০০৫ বনাম শ্রীলঙ্কা
শেষ ওডিআই৮ মার্চ ২০১১ বনাম পাকিস্তান
টি২০আই অভিষেক
(ক্যাপ ২৮)
২৩ নভেম্বর ২০০৭ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
শেষ টি২০আই১৩ জুন ২০০৮ বনাম ইংল্যান্ড
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
২০০০/০১ - ২০১৪/১৫সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ১৯ ৪১ ১৩১ ১৬৫
রানের সংখ্যা ৭৭২ ১,০৪৬ ৭,৬৪৭ ৪,৮৫২
ব্যাটিং গড় ২২.৭০ ২৯.০৫ ৩৬.২৪ ৩১.৯২
১০০/৫০ ০/৪ ১/৭ ১৬/৩৯ ৫/৩১
সর্বোচ্চ রান ৯২ ১৩৯ ২০৭* ২২২
বল করেছে ১২ ২,৪১২ ৪৫৮
উইকেট ২৫
বোলিং গড় ৫১.৮৮ ৫২.৮৭
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৩/৫৫ ২/১৫
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১৮/– ১৯/– ১৫৩/– ৮৪/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৪ ডিসেম্বর ২০২০

জেমি মাইকেল হাউ (ইংরেজি: Jamie How; জন্ম: ১৯ মে, ১৯৮১) তারানাকির নিউ প্লাইমাউথ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক নিউজিল্যান্ডীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়কাল থেকে ২০১০-এর সূচনালগ্ন পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন জেমি হাউ

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

পালমারস্টোন নর্থ বয়েজ হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন তিনি।[১] ২০০০-০১ মৌসুম থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জেমি হাউয়ের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। নিউজিল্যান্ডীয় ঘরোয়া ক্রিকেটে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের পক্ষে খেলেন ও অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। নিয়মিতভাবে রান সংগ্রহে কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। ডানহাতে ব্যাটিং উদ্বোধনে নামতেন তিনি। এছাড়াও মাঝে-মধ্যে অফ স্পিন বোলিং করতেন।

২০০২-০৩ মৌসুম থেকে পরবর্তী তিন মৌসুম সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের পক্ষে ৭০৪, ৬৮২ ও ৫৯২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। নিজেকে বেশ ভালোমানের সংগঠিত উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিত করে তুলতে সচেষ্ট ছিলেন। দর্শনীয় ব্যাটিংয়ের তুলনায় রান সংগ্রহের দিকেই অধিক মনোনিবেশ ঘটিয়েছেন। বড় ধরনের রান সংগ্রহের দিকেই দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখতেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলতে নেমে ছন্দ খুঁজে পান। মার্চ, ২০০৩ সালে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসক্যান্টারবারির বিপক্ষে উপর্যুপরী অপরাজিত ১৬৩ ও ১৫৮ রানের ইনিংস খেলেন। পরের মৌসুমের শুরুতেই ওতাগোর বিপক্ষে ১৬৯ রান সংগ্রহ করেন।

স্বর্ণালী মুহূর্ত[সম্পাদনা]

২০০৯-১০ মৌসুমে নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া টুয়েন্টি২০ প্রতিযোগিতা এইচআরভি কাপে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের শিরোপা বিজয়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ২০১৩ সালে লিস্ট এ খেলায় নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের বিপক্ষে ১৩৮ বলে ২২২ রান তুলেন। এরফলে, লিস্ট এ ক্রিকেটের ইতিহাসে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন।[২]

২০১২ সালে টি২০ ক্রিকেটে পিটার ইনগ্রামের সাথে উদ্বোধনী জুটিতে রেকর্ড গড়েন। ১৮ জানুয়ারি, ২০১২ তারিখে নিউ প্লাইমাউথে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস বনাম ওয়েলিংটনের মধ্যকার খেলায় তারা ২০১ রান সংগ্রহ করেছিলেন।[৩][৪][৫]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ঊনিশ টেস্ট, একচল্লিশটি একদিনের আন্তর্জাতিক ও পাঁচটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশগ্রহণ করেছেন জেমি হাউ। ৯ মার্চ, ২০০৬ তারিখে অকল্যান্ডে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ২৬ মার্চ, ২০০৯ তারিখে নেপিয়ারে সফরকারী ভারত দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে সুন্দর খেলা প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপে দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষমতা দেখান। টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণের পূর্বেই নববর্ষের প্রাক্কালে ৩১ ডিসেম্বর, ২০০৫ তারিখে কুইন্সটাউনে সফরকারী শ্রীলঙ্কা দলের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম একদিনের আন্তর্জাতিকে অভিষেক ঘটে তার।[৬] দ্রুতলয়ে ৫৮ রানের ইনিংস খেলেন। এ পর্যায়ে আটটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন তিনি। খুব সহজে জয় পায় তার দর।

টেস্ট অভিষেক[সম্পাদনা]

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাকে টেস্ট খেলার জন্যে মনোনীত করা হয়। ৯ মার্চ, ২০০৬ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে তার অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেন তিনি।[৭] শুরুরদিকের খেলাগুলোয় তাকে বেশ হিমশিম খেতে দেখা যায়। প্রথম দশ ইনিংসের কোনটিতেই অর্ধ-শতরানের সন্ধান পাননি। ফলশ্রুতিতে, ২০০৬ সাল শেষে তাকে দলের বাইরে রাখা হয়। মার্চ, ২০০৮ সালে টেস্ট দলে ফিরে আসেন। ৯ মার্চ, ২০০৮ তারিখে হ্যামিল্টনে সফরকারী ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন তিনি। সেডন পার্কে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে ৯২ রানের মনোমুগ্ধকর ইনিংস খেলেন। এটিই তার প্রথম টেস্ট অর্ধ-শতরান ছিল।[৮] কয়েক মাস পর লর্ডস টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৮ রান করেন। এরফলে, ঐ টেস্টে নিউজিল্যান্ড দলের ড্র হওয়ার ভিত্তি গড়েন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম খেলায় ৬৬ রান তুলেন। নাথান অ্যাশলের সাথে ১৩৬ রানের জুটি গড়েন। তবে, পরবর্তী চারটি ওডিআইয়ে সর্বসাকুল্যে মাত্র ১৭ রান যুক্ত করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন টেস্টের সবকটিতেই তার অংশগ্রহণ ছিল।

দক্ষিণ আফ্রিকা গমন[সম্পাদনা]

মে, ২০০৬ সালে আঘাতগ্রস্ত পিটার ফুলটনের পরিবর্তে তাকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এক টেস্টে স্থলাভিষিক্ত করা হয়। জোহেন্সবার্গের ঐ টেস্টে দূরন্ত ছন্দে থাকা ডেল স্টেইনের বলে উভয় ইনিংসে খুব সহজেই বিদেয় নিতে বাধ্য হন। ২০০৭-০৮ মৌসুমেও তাকে জাতীয় পর্যায়ে চুক্তিতে রাখা হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে একদিনের খেলায় ৯০ ও ৭৬ রান তুলেন। এরপর, বাংলাদেশের বিপক্ষে ৮৮ ও ৭৪ রানের উপর্যুপরী ইনিংস খেলেন।

পরবর্তীতে নেপিয়ারে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দর্শনীয় শতরান করেন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেকে ফিরিয়ে আনেন। ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ তারিখে নেপিয়ারে সফরকারী ইংল্যান্ড দলের ৩৪০ রানের জয়ের লক্ষ্যে নেমে তিনি তার প্রথম ওডিআই শতরানের সন্ধান পান। ১১৬ বল মোকাবেলান্তে ১৩৯ রানের দূর্দান্ত ইনিংস উপহার দেন। সিরিজের চতুর্থ ওডিআইটিতে নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের এক বল বাকী থাকতে রান আউটের শিকার হন। ঐ খেলাটি টাইয়ে পরিণত হয়েছিল।[৯][১০][১১] তাসত্ত্বেও, টেস্ট অঙ্গনে তার খেলায় ধারাবাহিকতার ছাঁপ খুঁজে পাওয়া যায়নি। আইপিএলে ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র অংশগ্রহণের ফলে ইংল্যান্ড সফরের শুরুতে তিনি অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন।

১৭ ডিসেম্বর, ২০১৪ তারিখে নিজের অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন তিনি।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Worker set to be Palmerston North Boys' High's 16th New Zealand player"Stuff। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৪-১২ 
  2. "Jamie How blasts his way to 222"। stuff.co.nz। সংগ্রহের তারিখ ৬ মার্চ ২০১৩ 
  3. "Records | Twenty20 matches | Partnership records | Highest partnerships by wicket | ESPN Cricinfo"Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৫-০৪ 
  4. "Central Districts v Wellington at New Plymouth, Jan 18, 2012 | Cricket Scorecard | ESPN Cricinfo"Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৫-০৪ 
  5. "How, Ingram maul Wellington in big win"Cricinfo (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৫-০৪ 
  6. "1st ODI: New Zealand v Sri Lanka at Queenstown, Dec 31, 2005 | Cricket Scorecard | ESPN Cricinfo"Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৪-১২ 
  7. "1st Test: New Zealand v West Indies at Auckland, Mar 9-13, 2006 | Cricket Scorecard | ESPN Cricinfo"Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৪-১২ 
  8. "1st Test: New Zealand v England at Hamilton, Mar 5-9, 2008 | Cricket Scorecard | ESPN Cricinfo"Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৪-১২ 
  9. "4th ODI: New Zealand v England at Napier, Feb 20, 2008 | Cricket Scorecard | ESPN Cricinfo"Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৪-১২ 
  10. "England salvage incredible tie"Cricinfo (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৪-১২ 
  11. "New Zealand v England 2007-08"Cricinfo। ২০০৯-১১-০৪। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৪-১২ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]