জালিয়া কৈবর্ত

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মীননাথ
VISHWAYOGI SWAMI MACHINDRANATH
বিশ্বযোগী স্বামী মৎসেন্দ্রনাথ

জালিয়া কৈবর্ত বা জেলে কৈবর্ত হচ্ছে তপশিলীভুক্ত একটি জাতি যা সংস্কৃতায়নের মাধ্যমে হিন্দু বর্ণ বা সম্প্রদায়ে রূপান্তরিত হয়। সাধারণত এদের গতানুগতিক প্রধান পেশা ছিল মাছ ধরা এবং মূলত আসাম, উত্তর পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও পূর্ব বিহার এবং এর সাথে বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও অন্যান্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতেই এদের বসবাস। চর্যাপদের প্রথম পাণ্ডুলিপি একজন বৌদ্ধ পুরোহিত লুই পা লিখেছিলেন, যিনি কৈবর্ত সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন ‌। তিনি শৈব নাথপন্থীদের আদি গুরু মীননাথ(বা মৎস্যেন্দ্রনাথ) এবং উপমহাদেশের বিভিন্ন জায়গায় পূজিত হন।[১][২]

নাম রহস্য[সম্পাদনা]

কিম্বর্ত দেশীয় রাজন্য বা কৃষিকার জাতিকে কৈবর্ত বলে। অন্যমতে, কৈবর্ত শব্দটির উৎপত্তি ' কা ' ও ' বর্ত্য ' থেকে। কা শব্দের অর্থ জল আর বর্ত্য শব্দের অর্থ হল জীবন যাপন অর্থাৎ জলকে কেন্দ্র করে জীবনযাপন।

প্রকারভেদ[সম্পাদনা]

কৈবর্ত দুই প্রকার। (১) ক্ষত্রবীর্যেণ বৈশ্যায়াং কৈবর্তঃ পরিকীর্তিতঃ। (ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ, ব্রহ্মখণ্ড ১০ অধ্যায়) অর্থাৎ, ক্ষত্রিয়ের পরিণীতা বৈশ্যা পত্নীর সন্তানের নাম কৈবর্ত বলে পরিগণিত হয়েছে। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণের এই কৈবর্তগণই যাজ্ঞবল্ক্যাদি সংহিতায় মাহিষ্য নামে উল্লেখ করা আছে। মনুসংহিতা অনুযায়ী, এদের পেশা হয় জ্যোতির্বিদ্যা, সঙ্গীতচর্চা, নৃত্যশিল্প ও ফসলাদির রক্ষা করা । মাতা-পিতা-বৃত্তি-সমতায় মাহিষ্য ও ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণের ক্ষত্রবৈশ্যাজাত কৈবর্ত একই জাতি।

(২) নিষাদো মার্গবং সূতে দাশং নৌকর্মজীবিনম্। কৈবর্তমিতি যং প্রাহুরার্যাবর্ত-নিবাসিনঃ।। (মনু, ১০ অধ্যায়) নিষাদজাতীয় পুরুষ অয়োগবীজাতীয়া স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়ে যে সন্তান উৎপাদন করে তাদেরকে মার্গব বা দাশ বলে। আর্যাবর্তবাসিগণ এ জাতিকে কৈবর্ত নামেও অভিহিত করে থাকে। তারা নৌ-কর্মজীবি অর্থাৎ নৌকাকে অবলম্বন করে মাছ শিকার করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। তারা সমাজে জেলে কৈবর্ত নামে অভিহিত হন।

প্রথমদিকে কৈবর্তদের একক সম্প্রদায় হিসেবে গণনা করা হলেও পরবর্তীতে দুইভাগ হয়ে যায়। বাংলাতে যাদেরকে জালিয়া এবং হালিয়া বলা হয়। জালিয়াদেরকে নির্ধারিত কৈবর্ত সম্প্রদায়ের অংশ মনে করা হলেও হালিয়ারা তা নয়।[৩][৪] জালিয়ারা আসামে কেয়ত বা জাল কেয়ত নামে একক সম্প্রদায়ভুক্ত।

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Dasgupta, Shashibhushan (1946). Obscure Religious Cults, Calcutta University Press, Calcutta, p. 384-385, Internet Archive copy; third edition: Firma KLM Private Limited, Calcutta 1960, Internet Archive copy; fifth edition: Firma KLM Private Limited, Calcutta 1995, আইএসবিএন ৮১-৭১০২-০২০-৮
  2. Ayyappapanicker, K. & Akademi, Sahitya (1997). Medieval Indian literature: an anthology, Volume 3. Sahitya Akademi. আইএসবিএন ৮১-২৬০-০৩৬৫-০, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-২৬০-০৩৬৫-৫, [১] (accessed: Friday March 5, 2010)
  3. Atal, Yogesh (১৯৮১)। Building A Nation (Essays on India)। Diamond Pocket Books (P) Ltd.। পৃষ্ঠা 118। আইএসবিএন 978-8-12880-664-3 
  4. Venkatesh Salagrama; Food and Agriculture Organization of the United Nations (৩০ ডিসেম্বর ২০০৬)। Trends in Poverty and Livelihoods in Coastal Fishing Communities of Orissa State, India। Food & Agriculture Org.। পৃষ্ঠা 80। আইএসবিএন 978-92-5-105566-3। সংগ্রহের তারিখ ১৮ এপ্রিল ২০১২ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]