চিতাবাঘ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

চিতাবাঘ
সময়গত পরিসীমা: অন্ত্য প্লায়োসিন বা আদি প্লাইস্টোসিন থেকে বর্তমান
African leopard, Panthera pardus pardus, near Lake Panic, Kruger National Park, South Africa (19448654130).jpg
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ: Animalia
পর্ব: কর্ডাটা
শ্রেণী: Mammalia
বর্গ: মাংশাশী
পরিবার: Felidae
গণ: Panthera
প্রজাতি: P. pardus
দ্বিপদী নাম
Panthera pardus
(Linnaeus, 1758)
Leopard distribution.gif
চিতাবাঘের বৈশ্বিক বিস্তৃতি, অতীত[কখন?](লাল), বর্তমান (সবুজ), এবং অনিশ্চিত (হলুদ)
প্রতিশব্দ

Felis pardus Linnaeus, 1758

চিতাবাঘ (Panthera pardus) বা গুলবাঘ ফেলিডি গোত্রের অন্তর্গত এক প্রজাতির শ্বাপদ। সাব-সাহারান আফ্রিকার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে চমৎকার এ প্রাণীটি দেেখা যায়। আবাসস্থল ধ্বংস, শিকারের অভাব আর চোরাশিকারের ফলে সারা দুনিয়ায় প্রজাতিটি আশঙ্কাজনক হারে কমে আসছে। সে কারণে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিষয়ক সংস্থা আইইউসিএন চিতাবাঘকে প্রায়-বিপদগ্রস্ত বলে ঘোষণা করেছে। হংকং, সিঙ্গাপুর, কুয়েত, সিরিয়া, লিবিয়াতিউনিসিয়ায় চিতাবাঘ আজ আঞ্চলিকভাবে বিলুপ্ত।[১] প্যানথেরা গণের মোট চারটি বড় বিড়ালের মধ্যে চিতাবাঘই সবচেয়ে ছোট; অন্য তিনটি হল বাঘ, সিংহজাগুয়ার।।

বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের তফসিল-১ অনুযায়ী এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত।[২]

বর্ণনা[সম্পাদনা]

পায়ের ছাপ, জয়ন্তী, বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প, ভারত

বৃহদাকার ও বলিষ্ঠ এই বিড়াল জাতীয় প্রাণিটির দেহ সরু, লেজ দীঘল এবং পদচতুষ্টয় হ্রস্বাকৃতির হয়ে থাকে। মাথাসহ দেহের দৈর্ঘ্য ১৬০ সেন্টিমিটার ও লেজ ১০০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। পুরুষ চিতাবাঘের শরীর মাদী চিতাবাঘের তুলনায় বৃহদাকার। পুরুষ চিতাবাঘের ওজন ১৭ থেকে ৫৮ কিলোগ্রাম এবং মাদী চিতাবাঘের ওজন ৩১ থেকে ৬৫ কিলোগ্রাম অবধি পাওয়া গেছে। চিতাবাঘের কান গোলাকৃতি। কানের পশ্চাৎদেশ কৃষ্ণাভ যাতে সাদা ছোপ রয়েছে। মস্তক তুলনামূলকভাবে ক্ষুদ্রকার, উত্তল। পিষ্ঠদেশ খাটো, কোমল। এর লোম মসৃণ, খাটো। রঙ স্বর্ণাভ থেকে পিঙ্গল কিংবা কমলা-তামাটে হয়ে থাকে। দেহপার্শ্বের তুলনায় পশ্চাৎদেশ কিছুটা কালচে। সারা শরীরে কালো ছোপ থাকায় একে চিত্রল দেখায়। দেহতল এবং পদদেশ সাদাটে। চিতাবাঘের গাত্রবর্ণে কালচে ভাব থাকলেও অধিকাংশ এলাকা বাদামী।[৩][৪][৫]

চিতাবাঘের বৈজ্ঞানিক নাম Panthera pardus (Linnaeus, 1758) আর চিতার বৈজ্ঞানিক নাম Acinonyx jubatus (Schreber, 1775)। ব্যতিক্রম প্রজাতি ছাড়াও দু’টি প্রাণীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্টগত পার্থক্য হচ্ছে চিতার গায়ে কালো ছোপ থাকে, আর চিতাবাঘের গায়ে কালো ছোপ থাকলেও তা অনেকটা বলায়াকৃতির। অধিকন্তু চিতা রোগা ও লম্বাটে আর চিতাবাঘ বাঘের ন্যায় তুলনামূলকভাবে মোটাসোটা শরীরের।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Henschel, P., Hunter, L., Breitenmoser, U., Purchase, N., Packer, C., Khorozyan, I., Bauer, H., Marker, L., Sogbohossou, E., Breitenmoser-Würsten, C. (২০০৮)। "Panthera pardus"বিপদগ্রস্ত প্রজাতির আইইউসিএন লাল তালিকা। সংস্করণ 2012.2প্রকৃতি সংরক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক ইউনিয়ন 
  2. বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, জুলাই ১০, ২০১২, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, পৃষ্ঠা-১১৮৪৯৫
  3. Panthera pardusleopard
  4. Panthera pardus
  5. Leopard

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

  1. সিংহ
  2. বাঘ
  3. বিড়াল

বহি:সংযোগ[সম্পাদনা]