গ্রাহাম স্টিভেনসন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
গ্রাহাম স্টিভেনসন
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামগ্রাহাম ব্যারি স্টিভেনসন
জন্ম(১৯৫৫-১২-১৬)১৬ ডিসেম্বর ১৯৫৫
অ্যাকওয়ার্থ, ইয়র্কশায়ার ওয়েস্ট রাইডিং, ইংল্যান্ড
মৃত্যু২১ জানুয়ারি ২০১৪(2014-01-21) (বয়স ৫৮)
ডাকনামমুনবীম
উচ্চতা৬ ফুট ০ ইঞ্চি (১.৮৩ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি মিডিয়াম
ভূমিকাবোলার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৪৮৫)
১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৮০ বনাম ভারত
শেষ টেস্ট২৭ মার্চ ১৯৮১ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ৫৩)
১৪ জানুয়ারি ১৯৮০ বনাম অস্ট্রেলিয়া
শেষ ওডিআই২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৮১ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৭৩ - ১৯৮৬ইয়র্কশায়ার
১৯৮৭নর্দাম্পটনশায়ার
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ১৮৮ ২২৫
রানের সংখ্যা ২৮ ৪৩ ৩,৯৬৫ ১,৭৯৪
ব্যাটিং গড় ২৮.০০ ৪৩.০০ ২০.৩৩ ১৩.০০
১০০/৫০ –/– –/– ২/১৬ –/২
সর্বোচ্চ রান ২৭* ২৮* ১১৫* ৮১*
বল করেছে ৩১২ ১৯২ ২৬,৬৬৮ ১০,১৯১
উইকেট ৪৮৮ ৩০৭
বোলিং গড় ৩৬.৬০ ১৭.৮৫ ২৮.৮৪ ২৩.০৭
ইনিংসে ৫ উইকেট ১৮
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৩/১১১ ৪/৩৩ ৮/৫৭ ৫/২৭
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং –/– ২/– ১৮/২ ৪/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২৭ আগস্ট ২০২০

গ্রাহাম ব্যারি স্টিভেনসন (ইংরেজি: Graham Stevenson; জন্ম: ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৫৫ - মৃত্যু: ২১ জানুয়ারি, ২০১৪) ইয়র্কশায়ার ওয়েস্ট রাইডিংয়ের অ্যাকওয়ার্থ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৮০-এর দশকের সূচনালগ্নে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।[১]

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নর্দাম্পটনশায়ার ও ইয়র্কশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি মিডিয়াম বোলার হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন ‘মুনবীম’ ডাকনামে পরিচিত গ্রাহাম স্টিভেনসন

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

ইয়র্কশায়ার ওয়েস্ট রাইডিংয়ের অ্যাকওয়ার্থ এলাকায় গ্রাহাম স্টিভেনসন জন্মগ্রহণ করেছিলেন।[২] মিনথর্প হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ডানহাতি ফাস্ট বোলার হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটান। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং করে মাঝেমধ্যেই সফলতার স্বাক্ষর রাখতেন। পাশাপাশি, মাঝেমধ্যে উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন তিনি।

১৯৭৩ সাল থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত গ্রাহাম স্টিভেনসনের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। শুরুতে ইয়র্কশায়ারের পক্ষে দীর্ঘদিন খেলার পর নর্দাম্পটনশায়ারের পক্ষে খেলেন। ক্রিকেটবোদ্ধাদের অভিমত, তিনি সহজাত ক্রিকেটীয় প্রতিভা নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ইয়র্কশায়ারের পর্যবেক্ষকদের মতে, তিনি ইয়ান বোথামের চেয়েও সেরা ছিলেন। কিন্তু, ইয়ান বোথাম ইংল্যান্ডের পক্ষে সফলতার সাথে খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করলেও গ্রাহাম স্টিভেনসনের পক্ষে তা ঘটেনি। কেবলমাত্র দুইটি টেস্ট ও চারটি একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা লাভ করতে পেরেছেন তিনি।

স্বর্ণালীয় সময়[সম্পাদনা]

১৯৭৩ থেকে ১৯৮৬ সময়কালে ইয়র্কশায়ারের পক্ষে দীর্ঘদিন খেলার পর ১৯৮৭ সালে নর্দাম্পটনশায়ারের পক্ষে খেলেন। সবমিলিয়ে ১৮৮টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ২৮.৮৪ গড়ে ৪৮৮টি উইকেট ও একদিনের খেলায় ৩৯৭ উইকেট দখল করেন। দুইটি প্রথম-শ্রেণীর শতরানের ইনিংস খেলেছেন। সর্বোচ্চ করেছেন অপরাজিত ১১৫ রান। ঐ ইনিংসে তিনি ১১ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামেন ও অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে শতরানের অধিকারী হন। ১৯৮২ সালে এজবাস্টনে ওয়ারউইকশায়ারের বিপক্ষে জিওফ্রে বয়কটের সাথে ১৪৯ রানের জুটিতে এ কৃতিত্ব গড়েন। অদ্যাবধি ইয়র্কশায়ারের সর্বকালের রেকর্ড দশম উইকেটে এটি সেরার স্বীকৃতি পাচ্ছে।[৩]

১৯৮০ সালে হেডিংলিতে নর্দাম্পটনশায়ারের বিপক্ষে প্রথম আট উইকেট লাভে তিনি ৫৭ রান খরচ করেছিলেন। টিম ল্যাম্ব ও জিম গ্রিফিথস কেবল তার শিকারের বাইরে থাকেন। ঘামের কারণে শার্ট পরিবর্তনে মাঠ ত্যাগ করায় তিনি সবগুলো উইকেট পাননি বলে দলীয় ব্যবস্থাপক রেমন্ড ইলিংওয়ার্থ মনে করেন।

মে, ১৯৮২ সালে এজবাস্টনে ওয়ারউইকশায়ারের বিপক্ষে ব্যাট হাতে দূর্দান্ত খেলেন। শেষ উইকেটে জিওফ্রে বয়কটের সাথে ১৪৯ রানের নতুন রেকর্ড জুটি গড়েন। শেষ ব্যক্তি হিসেবে মাঠে নেমে ১১৫ রানে অপরাজিত থাকেন। ঐ পর্যায়ে ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে সর্বোচ্চ অপরাজিত ইনিংস ছিল এটি। এরপর বয়কট মন্তব্য করেন যে, এ ঘটনাটি আমার মস্তিষ্ক ও অভিজ্ঞতা এবং গ্রাহামের কৌশল গ্রহণের কারণে সম্ভব হয়েছে। ইয়র্কশায়ারের ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে ঐ সময়ে সুন্দর খেলা প্রদর্শন করেছেন। ১৯৮০-এর দশকে বিবর্ণ সময় অতিবাহিত করলেও ইয়র্কশায়ারের ব্যাটিংয়ের গভীরতা ও ফিল্ডিংয়ের মান কমতি ছিল না।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে দুইটিমাত্র টেস্টে ও চারটিমাত্র একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশগ্রহণ করেছেন গ্রাহাম স্টিভেনসন। ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮০ তারিখে মুম্বইয়ে স্বাগতিক ভারত দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। এরপর, ২৭ মার্চ, ১৯৮১ তারিখে সেন্ট জোন্সে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

ইংল্যান্ড দলের সাথে বিদেশ সফরেই গ্রাহাম স্টিভেনসনের সবগুলো আন্তর্জাতিক খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৭৯-৮০ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া ও ভারত গমন করেন। এরপর, ১৯৮০-৮১ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজে যান। অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব সিরিজ কাপে তার ওডিআই অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। চার উইকেট লাভের পাশাপাশি ২৮ রানের অপরাজিত ইনিংস উপহার দিয়ে দলের বিজয়ে ভূমিকা রাখেন।[১]

আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবন সংক্ষিপ্তকালের হলেও ১৯৮০ সালে সিডনিতে অনুষ্ঠিত অভিষেক ওডিআইয়ে অনিন্দ্যসুন্দর খেলা উপহার দেন। ২৫ বছর বয়সী গ্রাহাম স্টিভেনসন কাউন্টি ক্রিকেটে চমৎকার মৌসুম অতিবাহনের পর ঐ খেলায় ৪/৩৩ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। রড মার্শ, ডেনিস লিলি, গ্রেগ চ্যাপেললেন পাস্কোকে আউট করে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া দলকে ১৬৩ রানে গুটিয়ে দিতে প্রভূতঃ ভূমিকা রাখেন। ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ১২৯/৮ থাকা অবস্থায় ইয়র্কশায়ারের সাবেক দলীয় সঙ্গী ডেভিড বেয়ারস্টো’র সাথে জুটি গড়েন। এরপর তারা এক ওভার বাকী থাকতেই দলকে জয় এনে দেন। স্টিভেনসন ১৮ বল থেকে ২৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন।

পরের মাসে মুম্বইয়ে স্বাগতিক ভারত দলের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয় তার। খেলাটি বিসিসিআইয়ের সূবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানকে ঘিরে অনুষ্ঠিত হয়। তবে, এরপর তিনি আর মাত্র একটি টেস্টে অংশ নিতে পেরেছিলেন। পরবর্তী শীতকালে অ্যান্টিগুয়ায় স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হন তিনি। তাসত্ত্বেও, দিলীপ বেঙ্গসরকার, গর্ডন গ্রীনিজক্লাইভ লয়েডসহ মোট পাঁচজনকে টেস্টে আউট করেছিলেন।

মূল্যায়ন[সম্পাদনা]

কেবলমাত্র আঘাতের কারণেই স্টিভেনসনের প্রতিভা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়নি। একই সাথে সহজেই আউট হওয়া ও মনোযোগের অভাবও দায়ী ছিল। ইয়র্কশায়ার ক্রিকেটের অগোছালো যুগে অংশ নিলেও তিনি ভদ্র, সদালাপী ও সহজ-সরল হৃদয়ের অধিকারী ছিলেন। তিনি কখনও রাজনীতিতে সময় ব্যয় করতেন না। এরফলে, তিনি ‘মুনবীম’ ডাকনামে ভূষিত হন। জিওফ্রে বয়কট বেশ কয়েকবার তার অন্যতম প্রিয় ক্রিকেটার হিসেবে তাকে উল্লেখ করেছেন।

চমৎকার সিম বোলার হিসেবে তিনি প্রতিকূলতার মাঝেও বলকে উভয় দিক দিয়েই ঘুরাতে পারতেন। নিচেরসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে বলকে উপরের দিকে তুলে মারতেন। এক্সট্রা কভার অঞ্চলে ফিল্ডার হিসেবে খেলতেন।

২১ জানুয়ারি, ২০১৪ তারিখে ৫৮ বছর বয়সে মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণে গ্রাহাম স্টিভেনসনের দেহাবসান ঘটে।[৪]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Player Profile: Graham Stevenson"। CricInfo। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মে ২০০৯ 
  2. Bateman, Colin (১৯৯৩)। If The Cap Fits। Tony Williams Publications। পৃষ্ঠা 162আইএসবিএন 1-869833-21-X 
  3. Warner, David (২০১১)। The Yorkshire County Cricket Club: 2011 Yearbook (113th সংস্করণ)। Ilkley, Yorkshire: Great Northern Books। পৃষ্ঠা 299। আইএসবিএন 978-1-905080-85-4 
  4. "Graham Stevenson: Former Yorkshire and England player dies"BBC Sport। BBC। ২২ জানুয়ারি ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০১৪ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]