একটি খুনের স্বপ্ন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
একটি খুনের স্বপ্ন
একটি খুনের স্বপ্ন উপন্যাসের প্রচ্ছদ
প্রচ্ছদ
লেখকহুমায়ুন আজাদ
মূল শিরোনামএকটি খুনের স্বপ্ন
প্রচ্ছদ শিল্পীসমর মজুমদার
দেশবাংলাদেশ
ভাষাবাংলা
বিষয়প্রেম
ধরনউপন্যাস
পটভূমি১৯৬০-এর দশক
প্রকাশিতফেব্রুয়ারি ২০০৪
প্রকাশকআগামী প্রকাশনী
মিডিয়া ধরনছাপা (শক্তমলাট)
পৃষ্ঠাসংখ্যা১১২ (প্রথম প্রকাশ)
আইএসবিএন984-7-000-60773-4
ওসিএলসি55684555
পূর্ববর্তী বইপাক সার জমিন সাদ বাদ (২০০৪) 

একটি খুনের স্বপ্ন হুমায়ুন আজাদ রচিত একটি উপন্যাস। ফেব্রুয়ারি ২০০৪ সালে[১] (ফাল্গুন, ১৪১০ বঙ্গাব্দ) একুশে গ্রন্থমেলায় বাংলাদেশের আগামী প্রকাশনী, ঢাকা থেকে এটি গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশিত হয়। এটি হুমায়ুন আজাদ রচিত শেষ উপন্যাস। ১৯৬০-এর দশকের এক যুবকের প্রেমের মর্মান্তিক যন্ত্রণার অসামান্য উপন্যাস হুমায়ুন আজাদের একটি খুনের স্বপ্ন এবং তিনি এই উপন্যাস উৎসর্গ করেছেন "১৯৬৪-১৯৬৮" পর্যন্ত কাটানো তার অতীত-সময়কালকে।[২]

কাহিনীসংক্ষেপ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের এক ভগ্নহৃদয়ের প্রেমিক এক গভীর রাতে ঢাকার পলাশী এলাকায় বের হয়, হঠাৎ সে তার প্রেয়সী সুফিয়ার বাড়ির সামনে এসে পড়ে, সুফিয়ার প্রতি তার মনে মনে ক্ষোভ থাকা সত্ত্বেও সে আর সুফিয়ার বাড়িতে ঢোকেনা, ফিরে চলে আসে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে অধ্যয়ন করছে; তরুণটির প্রেমকাহিনী পেছন দিকে ফ্ল্যাশব্যাক হতে থাকে।

গ্রামে এক কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া এই তরুণটি কখনো নারীসঙ্গ পায়নি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠিনী সুফিয়াই তার জীবনের প্রথম নারীসঙ্গ যার দিকে সে তাকাতো অনেক আগে থেকেই কিন্তু কথা বলতে পারতোনা, সুফিয়া একদিন নিজেই তার সঙ্গে নিজ থেকে কথা বলে, প্রথম কথাতেই তারা স্কুটার এবং রিকশা ভ্রমণে যায় এবং পরের দিন ক্লাস শুরু হওয়ার আগে তরুণটি সুফিয়াকে বলে যে সে তার প্রেমে পড়েছে তবে সুফিয়া প্রেমে পড়েছে কি পড়েনি সেটা জানেনা বলে, এই দিনই বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পরিত্যক্ত কামরায় সুফিয়া তরুণটিকে নিয়ে যায় যেখানে পরে শমশের এবং সাবিহা নামের প্রেমিকযুগল চলে আসে, তাদের আলিঙ্গন দেখে সুফিয়ার মন বদলে যায়, যেটা সুফিয়ার প্রেমিক তরুণটি ভালো করেই বুঝতে পারে।

এই ঘটনার পরে দুই দিন ধরে সুফিয়া ক্লাস করতে আসেনা, তরুণটি দুই দিনে সুফিয়াকে নিয়ে অনেক চিন্তা করে যে সে কেন আসলোনা। তৃতীয় দিনে সুফিয়ার সঙ্গে তরুণটির দেখা হয় এবং তরুণটি সুফিয়াকে না আসার কারণ জিজ্ঞেস করলে সুফিয়া বলে যে সে এমনিতেই আসেনি। পরের দিন ক্লাসে এলেও সুফিয়া তরুণের দিকে তাকায় না; আর তার পরের দিন সুফিয়া নিজ থেকেই তরুণটিকে তার কাছে ডাকে, এবং কথা বলতে বলতে সুফিয়া তাকে তাদের বাসার ঠিকানা দেয় এবং এইবারও সুফিয়া তরুণটির প্রেমে পড়েছে কিনা জিজ্ঞেস করা হলে সুফিয়া আবারো আগের মত বলে যে সে জানেনা। বুধবার বিকেলে সুফিয়াদের বাসায় যাওয়ার পর আড্ডা দিয়ে তরুণটিকে সন্ধ্যায় ছাদে নিয়ে যায় সুফিয়া এবং সুফিয়া তারপর এক পর্যায়ে তরুণটিকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়, কিন্তু পরে সুফিয়া নিজেই বলে যে তরুণটি বেকার, তরুণটির পক্ষে সুফিয়ার দেখভাল করা সম্ভব নয়, এরপরে দেখা করার জন্য সুফিয়া বাসায় আসতে নিষেধ করে এবং শুক্রবারে রিকশায় ঘুরবে বলে দেয়। শুক্রবার লাইব্রেরির গেটে যেখানে সুফিয়া অপেক্ষা করতে বলেছিলো সেখানে তরুণটি বিকেলে অপেক্ষা করেও সুফিয়াকে পায়না এবং পরে এর জন্য তার অনেক মনঃক্ষুণ্ণ হয়।

ঐ দিনই রাত দশটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিন্নাহ হলের বন্ধু নিজামের কাছে যায় তরুণটি এবং নিজাম তরুণটিকে বিদেশি সাময়িকী দেখায়। পরে নিজের হলে এসে সারারাত তরুণটি ঘুমাতে পারেনা সুফিয়ার দুশ্চিন্তায়। এরপরের কয়েক মাস সুফিয়ার সঙ্গে তরুণটির দেখাসাক্ষাৎয়ের বিবরণ সে ব্যক্তিগত ডায়েরিতে লিখে রাখে 'মধু' এবং 'বিষ' উল্লেখ করে, ১২ই ডিসেম্বর শুরু করে এবং ২১শে ফেব্রুয়ারি শেষ করে; মাঝখান দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক গোলমালের কারণে তরুণটিকে তার হল ছাড়তে হয় এবং সে গ্রিনরোডে তার মামাতো ভাই তোফাজ্জলের বাসায় গিয়ে ওঠে, নিজের গ্রামের বাড়িও যায় এবং গ্রামে দশম শ্রেণির এক মেয়ের প্রেম প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। তরুণটির মন গ্রামে টেকেনা, সে গ্রামে যাওয়ার আগেই সুফিয়ার নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তাদের বাসায় গিয়েছিলো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝামেলা শেষ হওয়ার আগেই সে আবার ঢাকায় এসে সুফিয়ার বাসায় যায়, আবার সুফিয়া তরুণটিকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় এবং তরুণটি নিজের বেকারত্বের কথা নিজেই সুফিয়াকে বলে।

এরপর অনেকদিন তরুণটি সুফিয়াদের বাড়ি যায়না, বিষণ্ণ থাকে তার মন, সুফিয়াও তাকে ডাকেনা, তোফাজ্জল ভাইয়ের বাসায় টেলিভিশন আছে, রেকর্ডপ্লেয়ার আছে, তরুণটি টেলিভিশন দেখা বা রেকর্ডপ্লেয়ারে গান শোনা কোনোটাতেই মন বসাতে পারেনা নিজের বিষণ্ণতার কারণে। মার্চের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শুরু হয়ে যায় এবং তরুণটি আবার তার নিজের হলে ফিরে যায়, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেয় কিন্তু তার মন থেকে বিষাদ যায়না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝামেলার পর প্রথম ক্লাসে সুফিয়া আসেনা, বিকেলে লাইব্রেরি থেকে বের হয়ে ক্যান্টিনে যাওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়েরই সহপাঠিনী রহিমার সঙ্গে দেখা হয়, রহিমা তরুণটিকে বাধ্য করে রিকশায় উঠতে এবং রহিমা তরুণটিকে রমনা রেস্টুরেন্টে নিয়ে যায়, তারা নান আর বটি কাবাব খায়। রহিমার সঙ্গে খাওয়াদাওয়া করে তরুণটি সুফিয়াকে অনুভব করে। পরের দিন সকালের ক্লাসে তরুণটি না গিয়ে পরের ক্লাসে যায় দেরি করে এবং সুফিয়াকে দেখে বন্ধুবান্ধবীদের সঙ্গে, তরুণটির সঙ্গে সুফিয়াই আগে থেকে কথা বলে। তরুণটি একটি রেস্টুরেন্টে সুফিয়াকে নিতে চাইলে সুফিয়া বিকেলে তাদের বাসায় আসতে বলে। বাসায় আবার সুফিয়া তরুণটিকে পরোক্ষভাবে বিয়ের কথা বলে। এরপর বেশ কয়েকদিন সুফিয়ার সঙ্গে তরুণটির দেখা হয়না।

একদিন সুফিয়া বেড়াতে চাইলে গ্রিনরোডের তোফাজ্জল ভাইয়ের বাসায় তরুণটি সুফিয়াকে নিয়ে যায়। দুই দিন পর তোফাজ্জল ভাইয়ের দেওয়া শাড়ি সুফিয়া তরুণটিকে দেখায়, যেটা দেখে তরুণটি মনে মনে রাগ করে। ঐদিন তরুণটি বিভিন্ন চিন্তা করতে করতে রাতে ঘুমাতে পারেনা এবং সকালে ক্লাসে যায়না। পরের দিন আবার তরুণটি সুফিয়াদের বাসায় যায় এবং নিজেই সুফিয়াকে বিয়ে করবে বলে আর সুফিয়া এখন সম্ভব নয় বলে। পরের দিন আবার তরুণটি সুফিয়ার বাসায় যায় এবং সুফিয়ার মা বলে যে সুফিয়া বাইরে গেছে এক বান্ধবীর কাছে, সুফিয়া ফিরে আসলে তাকে তোফাজ্জল ভাইয়ের দেওয়া শাড়ি পরিহিত অবস্থায় দেখতে পায় তরুণটি। কালকে বেড়াতে যাবে দুজন এরকম ঠিক হয়, কিন্তু সুফিয়ার জন্য অপেক্ষা করেও তরুণটি সুফিয়াকে পায়না, তরুণটি রিকশায় করে গ্রিনরোডে তোফাজ্জল ভাইয়ের বাসার দিকে যায়, ঐ বাসার সামনে আসলে তোফাজ্জলের কাজের ছেলেটিকে বাসার নিচে খেলতে দেখতে পায়, আর তরুণটিকে দেখে ঘরের চাবি দিয়ে দেয় এবং তরুণটি বাসার চাবি খুলে দেখে যে বিছানায় সুফিয়া এবং তোফাজ্জল ভাই নগ্ন হয়ে ঘুমিয়ে আছে।

আমি নিঃশব্দে ভেতরে ঢুকে প্রথমে অন্ধ হয়ে যাই, তারপর আমার চোখে আলো জ্বলে ওঠে, অন্ধকার থেকেও যা উজ্জ্বল, মহাবিশ্ব ভেঙে পড়ার পর দেখা যাবে যে-আলো, আমি তাদের কাছে এগিয়ে যাই; বিকট সিল মাছের মত কালো নগ্ন তোফাজ্জল ভাইয়ের আবর্জনাস্তূপের মতো দেহের উপর একটি পা রেখে নগ্ন সুফিয়া ঘুমিয়ে আছে, সিলটি পড়ে আছে লাশের মত সুফিয়ার মুখটি পূর্ণিমার চাঁদের মত জ্বলছে, সরস্বতী ও অসুর জড়িয়ে আছে একে অন্যকে, দুজনেই গভীর ঘুমে নিমজ্জিত, হয়তো একাধিক সঙ্গমে তারা ক্লান্ত সুখনিদ্রায় লুপ্ত হয়ে আছে, জেগে উঠে আবার সঙ্গম করবে পশু ও সুন্দরী

এটি দেখে তরুণটি তার সবচেয়ে প্রিয় মানুষকে পরপুরুষের সঙ্গে নগ্ন দেখে রাগের মাথায় সুফিয়ার মুখে তালা ছুঁড়ে মারে এবং সুফিয়ার আর তোফাজ্জলের ঘুম ভেঙে যায়; তরুণটি তারপরেও অবচেতন মনে সুফিয়াকে ভালোবাসতে থাকে এবং মুখে-মাথায় আঘাত পাওয়ার জন্য তাকে হাসপাতালে নিতে চায় কিন্তু সুফিয়া যেতে চায়না। তরুণটি এরপর ঐ বাসা থেকে ভগ্ন হৃদয়ে বের হয়। তরুণ যাকে খুনের স্বপ্ন দেখে সে উপন্যাসের প্রধান নায়িকা সুফিয়াই কারণ সে অন্য একজনের সঙ্গে নগ্ন হয়ে ঘুমায়, তবে নায়ক কাকে খুন করতে হবে সেটা সে নিজেও জানেনা, শুধু খুন করার ইচ্ছে তার চিন্তা-চেতনায় আসে।

পটভূমি

আমার আরো একটি উপন্যাস বেরিয়েছে যেটি শৈল্পিক দিক থেকে অনেক উৎকৃষ্ট। সেটি হচ্ছে একটি খুনের স্বপ্ন। এ-উপন্যাসে জীবনের কিছু অংশ বর্ণনা করা হয়েছে, সেখানে কত যন্ত্রণা থাকতে পারে শারীরিক, মানসিক, যৌনযন্ত্রণা এর শিল্পিত বিবরণ রয়েছে একটি খুনের স্বপ্ন-এ। বাঙালি কতটা অশ্লীলভাবে যৌনকাতর, কতটা কামুক, কতটা কামরুগ্ন, তা আমি জানি। আমি জীবনের সম্পূর্ণ রূপ সৌন্দর্য-কদর্য-অসৌন্দর্যের রূপ চিত্রন করতে চাই। সেটা আমার কবিতায় রয়েছে, উপন্যাসে রয়েছে, প্রবন্ধে রয়েছে।

— হুমায়ুন আজাদ, দৈনিক ভোরের কাগজ, ২০০৪

ষাটের দশকের প্রেক্ষাপট নিয়ে লেখা উপন্যাসটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল (এসএম হল) ছাত্রাবাসের এক তরুণের ভালোবাসার কাহিনী নিয়ে; বেনামী এক তরুণের প্রেমকথা লেখক হুমায়ুন আজাদ কাব্যগদ্য শৈলী দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন। তৎকালীন বাংলাদেশ তথা পূর্ব পাকিস্তানের সমাজ অনেক রক্ষণশীল ছিলো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠিনীদের সঙ্গেও ছেলে শিক্ষার্থীদের 'আপনি' সম্বোধন করে কথা বলতে হতো, কারো সঙ্গে প্রেম হলে তখন 'তুমি' ব্যবহৃত হতো; উপন্যাসটির মূল ছেলে চরিত্রটিকে সহপাঠিনী সুফিয়ার সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রে প্রথমে আপনি করে বলতেই দেখা যায়, এছাড়াও আরেক সহপাঠিনী রহিমা যার সঙ্গে উপন্যাসের প্রধান নায়ক খাওয়া-দাওয়া করে তার সঙ্গেও কথোপকথনে একে অপরের ক্ষেত্রে 'আপনি' সর্বনাম ব্যবহৃত হয়েছে এবং নায়কের বন্ধু নিজামও সুফিয়াকে আপনি করেই বলে।

লেখা ও প্রকাশের দিক থেকে এটি হুমায়ুন আজাদ রচিত সর্বশেষ উপন্যাস, একটি তরুণের একতরফা প্রেমের এই কাহিনী লেখক হুমায়ুন আজাদের নিজের জীবনেরই একটি ছোটো অংশ, অলৌকিক ইস্টিমার কাব্যগ্রন্থে তিনি কয়েকটি কবিতা দ্বারা এটির একধরনের পরোক্ষ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যদিও ২০০৪ সালে তার উপরে হামলা হবার পর তিনি এই উপন্যাস নিয়ে কোনো বিশেষ সাক্ষাৎকার দেননি, অসুস্থ হুমায়ুন আজাদ থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকার এক সাংবাদিক তাকে তার শেষ রচনাগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, হুমায়ুন আজাদ তখন 'একটি খুনের স্বপ্ন' সম্পর্কে একটি উক্তি করেছিলেন- যদিও অনেক সংক্ষিপ্ত, কিন্তু তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন উপন্যাসের ভিত্তিটি।

উপন্যাসটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ছাত্রাবাস ঢাকা হল (এখন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল) এবং জিন্নাহ হলের (বর্তমানে মাস্টারদা সূর্যসেন হল) কথা বর্ণিত আছে, রয়েছে ছাত্রসংগঠন এনএসএফ (ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ফেডারেশন) সহ পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (ইস্ট পাকিস্তান স্টুডেন্টস ইউনিয়ন বা সংক্ষেপে এপসু) এর কথা। এছাড়াও উপন্যাসটিতে ঢাকার তৎকালীন যানবাহন স্কুটার (একধরনের অটোরিকশা), ষাটের দশকের উর্দু চলচ্চিত্র অভিনেত্রী নীলুর কথা, ঢাকার তৎকালীন 'গুলিস্তান', 'নাজ' চলচ্চিত্র প্রেক্ষাগৃহ, ঢাকার প্রথম চাইনিজ রেস্তোরাঁ চৌ চিন চৌ এবং নভেরার ভাস্কর্যর কথার উল্লেখ রয়েছে।

চরিত্র

  • সুফিয়া - ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী, উপন্যাসের প্রধান নায়িকা; একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি তরুণ তার প্রতি একধরনের একতরফা প্রেমে পাগল থাকে যে উপন্যাসের প্রধান নায়ক এবং উপন্যাসের কাহিনী বর্ণনাকারী (উপন্যাসের প্রধান নায়কের নাম কখনোই লেখক উল্লেখ করেননি)
  • তোফাজ্জল - উপন্যাসের নায়কের মামাতো ভাই, নায়কের চেয়ে দশ বছরের বড়, চাকরিজীবী, বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে, নায়কই সুফিয়ার সঙ্গে তোফাজ্জলের পরিচয় করিয়ে দেয়, এই ব্যক্তির সঙ্গে সুফিয়া দৈহিক মিলন করে নগ্ন হয়ে ঘুমিয়ে থাকে যেটা দেখে নায়কের মন একেবারে ভেঙে যায়
  • সাবিহা সরদার - ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী যে সুফিয়া এবং নায়কের পরিচিত
  • শমশের আলি - সাবিহার প্রেমিক, এনএসএফের (ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ফেডারেশন) সদস্য
  • মোহাম্মাদ আহমদউল্লাহ মিয়া - ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক যে উপন্যাসের মূল নায়ক এবং সুফিয়াদের ক্লাস নেয়, নায়ককে প্রেম না করতে উপদেশ দেয় এই শিক্ষক
  • রহিমা - এক তরুণী যে উপন্যাসের প্রধান নায়কের সঙ্গে একবার রমনা রেস্টুরেন্টে খাওয়া দাওয়া করে
  • নিজাম - নায়কের বন্ধু, এনএসএফের সদস্য যে জিন্নাহ হলে থাকে
  • রফিক - বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এবং মেয়েদের নগ্ন চিত্র অঙ্কনকারী নায়কের বন্ধু
  • রহমান - সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের পুবভবনের প্রধান কৌতুকশিল্পী যে নবম শ্রেণী পড়ুয়া এক মেয়েকে বিয়ে করে
  • রাজিয়া - নায়ক নিজের গ্রামের বাড়ি গেলে দশম শ্রেণীর যে মেয়েটি তার কাছে পড়তে আসে এবং তার সঙ্গে প্রেম করার উদ্দেশ্যে একটি চিঠি লিখে বইয়ের ভেতরে রেখে নায়ককে দেয়

আরো দেখুন

তথ্যসূত্র

  1. মুহম্মদ সাইফুল ইসলাম (২০১২)। "আজাদ, হুমায়ুন"। ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিআইএসবিএন 9843205901ওসিএলসি 883871743 
  2. আজাদ, হুমায়ুন (ফেব্রুয়ারি ২০০৪)। একটি খুনের স্বপ্নআগামী প্রকাশনী। পৃষ্ঠা ৫। 

বহিঃসংযোগ